জয়েন করুন

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার বাড়ছে: স্বপ্নের দেশ থেকে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বিদেশে বসবাস করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তাদের দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এই প্রবণতা…

Updated Now: November 13, 2024 12:54 PM

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বিদেশে বসবাস করার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তাদের দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। এই প্রবণতা বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের প্রথম দুই মাস পর্যন্ত মোট ২,৬০৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক তাদের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক নাগরিকত্ব ত্যাগ হয়েছে ২০২৪ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে, যা ৪৯৮ জন। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১২০ জন, যা ছিল সর্বনিম্ন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রবণতার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, অনেক উন্নত দেশ দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি দেয় না। ফলে বাংলাদেশিদের সেসব দেশের নাগরিকত্ব পেতে হলে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় অনেকে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান।

বিশ্বের ১০টি দেশ যেখানে নাগরিকত্ব পাওয়া অত্যন্ত কঠিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবিব বলেন, “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় অনেকে বিদেশে যাচ্ছেন। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন আর পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকাটা অস্বস্তিকর মনে হচ্ছে না অনেকের কাছে।”

যেসব দেশে বাংলাদেশিরা বেশি নাগরিকত্ব নিচ্ছেন তার মধ্যে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর ও ভারত অন্যতম। এছাড়াও বটসোয়ানা, নেপাল, ইতালি, ইউক্রেন, লিথুয়ানিয়া, শ্রীলঙ্কা, স্পেন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, বুলগেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, এস্তোনিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, নরওয়ে, জিম্বাবুয়ে, মায়ানমার, সাইপ্রাস ও ইরানেও কিছু বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়েছেন।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক জার্মানির নাগরিকত্ব নিতে তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন[3]। এটি একটি রেকর্ড সংখ্যা, যা দেখায় জার্মানি বাংলাদেশিদের কাছে কতটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান জানান, “যারা বিদেশে বসবাস করছেন, তারা সেই দেশের নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেন। সরকার যথাযথ যাচাই-বাছাই করে এসব আবেদন অনুমোদন করে।”

তবে এই প্রবণতা শুধু উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানের জন্যই নয়। অনেকে বিদেশি নাগরিকের সাথে বিয়ে করে সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান। আবার কেউ কেউ উন্নত জীবনযাত্রার আশায় নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন।

কলকাতায় সোনার দাম লাফিয়ে বাড়লো! ৭ নভেম্বর ২০২৪-এ Gold Rate কত?

এদিকে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে তিনি ১০-১২টি অভিযোগ পেয়েছেন যেখানে সংখ্যালঘুদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে[4]। এছাড়াও সংখ্যালঘুদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মীদের পদত্যাগের খবর যাচাই করে দেখা হচ্ছে। রানা দাশগুপ্ত বলেন, “এই মুহূর্তে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট বা মন্দিরে অগ্নিসংযোগের কোনো খবর নেই।”

এদিকে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অস্থির হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল, যদিও পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই ধরনের গুজব ও অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের এই প্রবণতা দেশের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ এতে করে দেশ তার মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি হারাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি রেমিট্যান্স আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

সরকারের উচিত এই বিষয়ে গভীর মনোযোগ দেওয়া এবং দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের এই প্রবণতা একটি জটিল সমস্যা। এর পিছনে রয়েছে নানা আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ। এই সমস্যা সমাধানে সরকার, সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবে এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক যে, স্বাধীন বাংলাদেশ হলেও অনেকেই এখানে থাকতে আগ্রহী নন। এই প্রবণতা পরিবর্তনের জন্য দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে এইচএসসি রুটিন ২০২৬: নির্দেশনা ও প্রস্তুতি গ্যাসের দামে আবার ধাক্কা? বাংলাদেশে ১২ কেজি LPG সিলিন্ডারের আপডেট ছুটির দিনে শপিংয়ের প্ল্যান? জেনে নিন uttara square shopping mall-এর খোলার সময়সূচি! নুরজাহান মার্কেট কোথায় — ঢাকার সবচেয়ে সস্তা শপিং ডেস্টিনেশনের পুরো গাইড (Nurjahan Market) Bangladesh Bank Eid Holidays 2026: ঈদুল ফিতর থেকে ঈদুল আযহা – সব তারিখ এক নজরে জানুন!