বিশ্বের এই ১০টি দেশে শিশুরা একবেলা সঠিক খাবারও পায় না – ২০২৫-এর ভয়াবহ চিত্র

বিশ্বের লক্ষ লক্ষ শিশু প্রতিদিন ক্ষুধায় কাতর হচ্ছে, যেখানে অনেকেই একবেলা ঠিকমতো খাবারও পাচ্ছে না। ২০২৫ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) অনুসারে, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং কংগো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো…

Riddhi Datta

 

বিশ্বের লক্ষ লক্ষ শিশু প্রতিদিন ক্ষুধায় কাতর হচ্ছে, যেখানে অনেকেই একবেলা ঠিকমতো খাবারও পাচ্ছে না। ২০২৫ সালের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) অনুসারে, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং কংগো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে শিশু অপুষ্টির হার চরম স্তরে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক সংকটের ফলে ঘটেছে। ইউনিসেফের সর্বশেষ জয়েন্ট চাইল্ড ম্যালনিউট্রিশন এস্টিমেটস (জেএমই) ২০২৫ রিপোর্টে জানা গেছে, বিশ্বে ১৫০.২ মিলিয়ন শিশু স্টান্টিং (দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি) এবং ৪২.৮ মিলিয়ন শিশু ওয়েস্টিং (তীব্র অপুষ্টি) -এর শিকার, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। এই নিবন্ধে আমরা এই ১০টি দেশের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরব, যাতে পাঠকরা সমস্যার গভীরতা বুঝতে পারেন এবং সমাধানের পথ খুঁজে পান।

শিশু ক্ষুধার বিশ্বব্যাপী সংকট: একটি সংক্ষিপ্ত ওভারভিউ

ক্ষুধা কোনো সাধারণ সমস্যা নয়; এটি শিশুদের ভবিষ্যত নষ্ট করে। ২০২৫ সালে, ইউনাইটেড নেশনসের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও) এবং ডব্লিউএইচও-এর যৌথ রিপোর্ট ‘দ্য স্টেট অফ ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ (এসওএফআই) অনুসারে, বিশ্বের ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার্ত, যার মধ্যে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষুধার হার বাড়ছে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় সামান্য হ্রাস পাওয়া গেছে।

শিশুদের ক্ষেত্রে, তীব্র অপুষ্টি (acute malnutrition) এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়। জিএইচআই ২০২৫-এর মতে, এই সূচকে চারটি মূল উপাদান বিবেচনা করা হয়: অপুষ্টির হার, শিশু স্টান্টিং, শিশু ওয়েস্টিং এবং শিশু মৃত্যুর হার। এই রিপোর্টে ১২৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যা দেখায় যে ‘অ্যালার্মিং’ বা ‘এক্সট্রিমলি অ্যালার্মিং’ স্তরের দেশগুলোতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ২০২৫-এ বিশ্বব্যাপী ৩৭.৭ মিলিয়ন শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার, যার মধ্যে ১৮ মিলিয়নেরও বেশি চরম অবস্থায়। এই সংকট শুধু শারীরিক নয়, অর্থনৈতিকও – বিশ্বব্যাঙ্কের অনুমানে, অপুষ্টি দেশের জিডিপির ৩-১০% ক্ষতি করে। নিচে আমরা টপ ১০ দেশের তালিকা দেখাব, যা জিএইচআই ২০২৫-এর ভিত্তিতে তৈরি।

ভারতে শিশুদের খর্বাকৃতির ভয়াবহ চিত্র: সরকারি তথ্যে ৩৭.৭৫% শিশু স্টান্টিং-এ আক্রান্ত

টপ ১০ দেশের তুলনামূলক টেবিল: শিশু ক্ষুধার হার

র‍্যাঙ্ক দেশ জিএইচআই স্কোর (২০২৫) শিশু অপুষ্টির মূল পরিসংখ্যান (২০২৪-২৫) সীবিয়ারিটি লেভেল
সোমালিয়া ৪২.৬ ১.৮৫ মিলিয়ন শিশু তীব্র অপুষ্টি অ্যালার্মিং
দক্ষিণ সুদান ৪১.৩ ২.৩ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টি অ্যালার্মিং
কংগো গণতন্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ৩৮.৫ ৪.৭৫ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টি (২০২৫ অনুমান) অ্যালার্মিং
মাদাগাস্কার ৩৬.৮ ৪০% শিশু দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি অ্যালার্মিং
হাইতি ৩৫.৭ ৫০% শিশু ক্রাইসিস লেভেল ক্ষুধা অ্যালার্মিং
চাদ ৩৪.৮ ২ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টি (২০২৪) সিরিয়াস
নাইজার ৩৩.৯ ৩.২ মিলিয়নের অর্ধেক শিশু ক্ষুধার্ত সিরিয়াস
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ৩৩.৪ ৪৮০,০০০ শিশু ক্রিটিক্যাল ক্ষুধা সিরিয়াস
নাইজেরিয়া ৩২.৮ ১.৩ মিলিয়ন শিশুর নিউট্রিশন সাপোর্ট বন্ধ সিরিয়াস
১০ পাপুয়া নিউ গিনি ৩১.০ ১ মিলিয়নের বেশি লোক ক্ষুধার্ত সিরিয়াস

সোর্স: গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স ২০২৫ এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড রিপোর্ট।

সোমালিয়া: যুদ্ধ ও খরার দ্বৈত আঘাতে শিশুরা কাতর

সোমালিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করছে, কিন্তু ২০২৫-এ পরিস্থিতি আরও খারাপ। এখানে ৩.৪ মিলিয়ন মানুষ (জনসংখ্যার ১৮%) তীব্র খাদ্য অসুরক্ষায়, যার মধ্যে ১.৮৫ মিলিয়ন শিশু ৫ বছরের নিচে তীব্র অপুষ্টির শিকার। জিএইচআই স্কোর ৪২.৬-এর সঙ্গে এটি ‘অ্যালার্মিং’ স্তরে, যা ২০০০ সালের থেকে সামান্য হ্রাস পেলেও এখনও ভয়াবহ।

দেশটির উত্তরাঞ্চলে খরা এবং দক্ষিণে সংঘর্ষ মূল কারণ। ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুসারে, সোমালিয়ায় শিশু মৃত্যুর হার ১০০০ জন্মে ৫৬, যা অপুষ্টির সঙ্গে যুক্ত। একজন মায়ের গল্প শুনলে হৃদয় কেঁপে ওঠে: “আমার মেয়ে দিনভর কাঁদে ক্ষুধায়, কিন্তু আমাদের কাছে শুধু এক মুঠো ডাল আছে।” এই অবস্থা শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে, কারণ অপুষ্ট শিশুরা স্কুলে মনোযোগ দিতে পারে না।

সরকারের সীমিত ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের অভাব সমস্যা বাড়িয়েছে। ২০২৫-এ, ইউএন-এর গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসে (জিআরএফসি) সোমালিয়াকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ১ মিলিয়নের বেশি শিশু সাহায্যের অপেক্ষায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা আরও ঘন ঘন হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন ৩০% কমিয়েছে।

দক্ষিণ সুদান: স্বাধীনতার পরও ক্ষুধার ছায়া

দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে স্বাধীন হয়, কিন্তু ২০২৫-এ এটি ক্ষুধার সবচেয়ে খারাপ দেশগুলোর একটি। জিএইচআই স্কোর ৪১.৩, এবং ৭.৭ মিলিয়ন মানুষ (জনসংখ্যার অর্ধেক) চরম ক্ষুধায়। শিশুদের কথা বললে, ২.৩ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টির শিকার, এবং দুটি জেলায় ফ্যামিনের ঝুঁকি।

যুদ্ধ, বন্যা এবং সুদানের সংকটের প্রভাব এখানে পড়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের ২০২৫ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৬৩ মিলিয়ন শিশু যুদ্ধের কারণে ক্ষুধায় পড়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণ সুদানের অংশ উল্লেখযোগ্য। শিশু ওয়েস্টিং হার এখানে বিশ্বের সর্বোচ্চ, যা শিশুদের জীবন বিপন্ন করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অপুষ্ট শিশুরা ৫ গুণ বেশি রোগাক্রান্ত হয়।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ফসল নষ্ট করছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য ২০২৫-এ ২০% কমেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। তবু, ইউএনআইসিইএফ-এর প্রোগ্রামে ৫ লক্ষ শিশুকে পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়েছে, যা একটি আশার আলো।

কংগো গণতন্ত্রিক প্রজাতন্ত্র: সংঘর্ষের মধ্যে লুকানো ক্ষুধা

আফ্রিকার এই বিশাল দেশে সংঘর্ষ পূর্বাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত, কিন্তু ক্ষুধা সারা দেশ জুড়ে। ২৮ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য অসুরক্ষায়, এবং ২০২৫-এ ৪.৭৫ মিলিয়ন শিশু অপুষ্টির ঝুঁকিতে। জিএইচআই স্কোর ৩৮.৫, যা ‘অ্যালার্মিং’।

জিআরএফসি ২০২৫ রিপোর্টে কংগোকে শীর্ষে রাখা হয়েছে, যেখানে ২৩.৪ মিলিয়ন মানুষ চরম ক্ষুধায়। শিশুরা এখানে স্টান্টিং-এর হার ৪২%, যা মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কারণ অপুষ্ট শিশুরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উৎপাদনশীলতা কম হয়।

পরিবারগুলো দিনে একবেলা খেয়ে কাটায়, যেমন একটি পরিবারের নাস্তা শেয়ার করে শিশুদের খাওয়ানো। সরকারের প্রচেষ্টা সীমিত, কিন্তু এনজিও-রা কাজ করছে।

মাদাগাস্কার: জলবায়ুর শিকার শিশুক্ষুধা

দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কারে খরা এবং ঘূর্ণিঝড় কৃষিকে ধ্বংস করেছে। ৪০% শিশু দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টিতে, এবং ১.২ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধায়। জিএইচআই ৩৬.৮।

দক্ষিণাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ, যেখানে বৃষ্টিপাতের অভাব ফসল ৫০% কমিয়েছে। ইউএনআইসিইএফ-এর তথ্যে, শিশু ওয়েস্টিং হার ৭%, কিন্তু সিজনাল স্পাইক ১৫%-এ পৌঁছায়। এটি শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়, ফলে মৃত্যুর হার বাড়ে।

জলবায়ু অভিযোজন প্রোগ্রাম চলছে, যেমন ড্রপ-রেজিস্ট্যান্ট ফসল চাষ। তবু, দারিদ্র্যের হার ৮০% এই সংকটকে গভীর করে।

হাইতি: রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিশুরা ভুখ্যা

ক্যারিবিয়ানের এই দেশে সহিংসতা এবং মুদ্রাস্ফীতি ক্ষুধা বাড়িয়েছে। ৫০% জনগণ ক্ষুধার্ত, এবং ৮,৫০০ শিশু ফ্যামিন-লাইক অবস্থায়। জিএইচআই ৩৫.৭।

বর্ষার অসমতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কৃষি ধ্বংস করেছে। পিএইচও/ডব্লিউএইচও রিপোর্টে হাইতিকে লাতিন আমেরিকার সর্বোচ্চ অপুষ্টির দেশ হিসেবে দেখা হয়েছে। শিশুরা এখানে স্কুল ছেড়ে কাজ করতে বাধ্য, যা তাদের ভবিষ্যত নষ্ট করে।

আন্তর্জাতিক সাহায্য বাড়ানো দরকার, যেমন ডব্লিউএফপি-এর স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম।

চাদ: সীমান্তবর্তী সংকটে শিশু অপুষ্টি

চাদে ২ মিলিয়ন শিশু অপুষ্ট, এবং সরকার খাদ্য জরুরি ঘোষণা করেছে। জিএইচআই ৩৪.৮। জলবায়ু পরিবর্তন এবং লাইভস্টক হারানো মূল কারণ।

শিশু স্টান্টিং হার ৩১%, যা IQ ১০ পয়েন্ট কমায়। ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কের ২০২৫ ফুড সিকিউরিটি আপডেটে চাদকে ‘নিউট্রিশন ইমার্জেন্সি’ বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ওজন পরীক্ষা করে শিশুদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।

নাইজার: মরুবর্তী ক্ষুধার চক্র

নাইজারে ৮০% জনগণ কৃষির উপর নির্ভরশীল, কিন্তু শুধু ১/৮ জমি চাষযোগ্য। ৩.২ মিলিয়নের অর্ধেক শিশু ক্ষুধার্ত। জিএইচআই ৩৩.৯।

জলবায়ু পরিবর্তন ফসল ২০% কমিয়েছে। ইউএনআইসিইএফ-এর তথ্যে, শিশু মৃত্যু ১০০০-এ ৮৬। স্থানীয় সম্প্রদায় ইরিগেশন প্রকল্প চালু করছে।

চিনি ও শিশুদের চঞ্চলতা: বৈজ্ঞানিক গবেষণা জনপ্রিয় বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করছে

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক: বাস্তুচ্যুতির ফলে ক্ষুধা

এখানে ২৫% মানুষ বাস্তুচ্যুত, এবং ২.২ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত। ৪৮০,০০০ শিশু ক্রিটিক্যাল। জিএইচআই ৩৩.৪।

হিউম্যানিটেরিয়ান ক্রাইসিস শিশুদের প্রভাবিত করেছে। একজন দাদির গল্প: অনাথ নাতনিকে খাওয়ানো।

নাইজেরিয়া: অসুরক্ষায় খাদ্য সংকট

নাইজেরিয়ায় ৩০.৬ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত, এবং ১.৩ মিলিয়ন শিশুর সাহায্য বন্ধ। জিএইচআই ৩২.৮।

বোকো হারাম এবং ফান্ডিং কাট শিশু অপুষ্টি বাড়িয়েছে। ইউএনআইসিইএফ বলছে, নাইজেরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ নিউট্রিশন ক্রাইসিসের একটি।

পাপুয়া নিউ গিনি: পরিবেশগত চ্যালেঞ্জে শিশু ক্ষুধা

৭.৫ মিলিয়ন জনগণের মধ্যে ১ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত। জিএইচআই ৩১.০। আয় অসমতা এবং পরিবেশ সমস্যা মূল।

শিশু ক্ষুধার মূল কারণসমূহ: একটি গভীর বিশ্লেষণ

ক্ষুধার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সংঘর্ষ: ২০২৫-এ ১১৮ মিলিয়ন শিশু যুদ্ধের কারণে ক্ষুধায়। দ্বিতীয়, জলবায়ু পরিবর্তন: খরা এবং বন্যা ফসল ধ্বংস করে। তৃতীয়, অর্থনৈতিক অস্থিরতা: মুদ্রাস্ফীতি খাবারের দাম বাড়ায়।

ইউএনআইসিইএফের জেএমই ২০২৫-এ দেখা গেছে, সাব-সাহারান আফ্রিকায় স্টান্টিং হার ৩৩%, যা ২০০০ সালের থেকে সামান্য হ্রাস পেয়েছে কিন্তু সংখ্যা বেড়েছে। মেয়েদের অপুষ্টি বেশি, কারণ লিঙ্গ অসমতা।

অর্থনৈতিক প্রভাব: বিশ্বব্যাঙ্ক বলছে, অপুষ্টি জিডিপি ৪% কমায়। শিশুরা অপুষ্ট হলে IQ কমে, যা দেশের মানবসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শিশু ক্ষুধার প্রভাব: শারীরিক থেকে মানসিক

অপুষ্টি শিশুদের শরীর ছোট করে (স্টান্টিং), যা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও থাকে। ওয়েস্টিং রোগের ঝুঁকি ৯ গুণ বাড়ায়। ডব্লিউএইচও-এর তথ্যে, ৪৫% শিশু মৃত্যু অপুষ্টির সঙ্গে যুক্ত।

মানসিক প্রভাব: অপুষ্ট শিশুরা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ে, যা দারিদ্র্যের চক্র তৈরি করে। ২০২৫-এ, ১৮৮ মিলিয়ন স্কুল-বয়স্ক শিশু ওভারওয়েট কিন্তু অনেকেই আন্ডারওয়েট।

বিশ্বব্যাপী প্রচেষ্টা: সমাধানের পথ

ইউএনআইসিইএফের ‘নো টাইম টু ওয়েস্ট’ প্ল্যান ২৬ মিলিয়ন শিশুকে সাহায্য করবে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) ২.২ অনুসারে, ২০৩০-এ অপুষ্টি হাল করতে হবে।

স্থানীয় উদ্যোগ: ভারতে পুস্তি আভিয়ান স্টান্টিং ১৫% কমিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফান্ডিং বাড়ানো দরকার – ২০২৫-এ ২৫% কাট হয়েছে।

কর্মের সময় এসেছে

এই ১০টি দেশের শিশুরা আমাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জ করছে। জিএইচআই ২০২৫ দেখায়, অগ্রগতি সম্ভব কিন্তু দ্রুত কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমরা সকলে সচেতন হয়ে সাহায্য করতে পারি – ডোনেশন দিয়ে বা সচেতনতা ছড়িয়ে। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যত; তাদের ক্ষুধা মিটাতে হবে।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।