২০২৬ সাল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে লগ্নিকারী—সবার নজর এখন Union Budget 2026-এর দিকে। প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি দেশের অর্থমন্ত্রী সংসদে বাজেট পেশ করেন। কিন্তু এ বছর ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ রাখতেই দেখা দিয়েছে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি পড়েছে রবিবার। সাধারণত রবিবার সংসদ বন্ধ থাকে। তাহলে কি এ বছর বাজেটের দিনক্ষণ পরিবর্তন হতে চলেছে? নাকি প্রথা মেনে ছুটির দিনেই বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন?
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া খবর এবং অতীতের নজির বিচার করে এই বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। পাশাপাশি, এ বারের বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য আয়করে বড় ছাড়ের সম্ভাবনা, রেল বাজেটে সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং শেয়ার বাজারের জন্য কী কী ঘোষণা থাকতে পারে—তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। Union Budget 2026 কেবল একটি আর্থিক বিবৃতি নয়, এটি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের উন্নয়নের রোডম্যাপ। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা বাজেট পেশের তারিখ, সময় এবং সম্ভাব্য ঘোষণাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১ ফেব্রুয়ারি রবিবারই কি বাজেট পেশ হবে? (Will Budget Be Presented on Sunday, Feb 1?)
এ বছর Union Budget 2026 নিয়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হল এর দিনক্ষণ। ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ছুটির দিনে কি সংসদ বসবে?
ঐতিহাসিকভাবে, বাজেট পেশের দিনক্ষণ নিয়ে ভারতের সংসদে নির্দিষ্ট কিছু প্রথা মেনে চলা হয়। ২০১৭ সালের আগে পর্যন্ত বাজেট পেশ করা হতো ফেব্রুয়ারির শেষ কর্মদিবসে। কিন্তু ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এই প্রথা পরিবর্তন করে ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করার নিয়ম চালু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, নতুন অর্থবর্ষ (১ এপ্রিল) শুরু হওয়ার আগেই যাতে সমস্ত আর্থিক বরাদ্দ এবং পরিকল্পনা পাস করানো সম্ভব হয়।
রবিবারে বাজেট পেশের ইতিহাস ও সম্ভাবনা
কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকার ১ ফেব্রুয়ারি তারিখেই বাজেট পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যদিও সেটি রবিবার। অতীতেও ছুটির দিনে বাজেট পেশ করার নজির রয়েছে।
-
২০১৫ ও ২০১৬ সাল: তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বাজেট পেশ করেছিলেন।
-
২০২৫ সাল: গত বছর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করেছিলেন, যা ছিল শনিবার।
সুতরাং, রবিবার বা ছুটির দিন হওয়াটা বাজেট পেশের ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নয়। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (Cabinet Committee on Parliamentary Affairs) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তবে বর্তমানে যা ইঙ্গিত মিলছে, তাতে ১ ফেব্রুয়ারি রবিবারই Union Budget 2026 পেশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন ১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ?
১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করার পিছনে সরকারের মূল লক্ষ্য হল সময়মতো তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করা। যদি বাজেট পেশ করতে দেরি হয়, তবে বিভিন্ন মন্ত্রক তাদের বরাদ্দ অর্থ পেতে এপ্রিল-মে মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়, যা বর্ষাকালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা পরিকাঠামোগত কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
| বিষয় | বিবরণ |
| বাজেট পেশের সম্ভাব্য তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার) |
| বাজেট পেশ করবেন | অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন |
| বাজেট সেশন শুরু | জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ (সম্ভাব্য) |
| অর্থবর্ষ | ২০২৬-২৭ |
| রবিবার বাজেট হওয়ার কারণ | ১ এপ্রিলের আগে আর্থিক বিল পাস করানোর তাগিদ |
Union Budget 2026: আয়কর নিয়ে মধ্যবিত্তের প্রত্যাশা (Expectations on Income Tax)
প্রতিটি বাজেটে সাধারণ চাকুরিজীবী ও মধ্যবিত্তের প্রধান আকর্ষণ থাকে আয়কর বা Income Tax-এর কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসছে কি না। Union Budget 2026-এ ‘নিউ ট্যাক্স রেজিম’ (New Tax Regime)-কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য বড়সড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।
১. করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি (Hike in Basic Exemption Limit)
বর্তমানে নিউ ট্যাক্স রেজিমে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত। শোনা যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে অর্থমন্ত্রী এই সীমা বাড়িয়ে ৪ লক্ষ বা ৫ লক্ষ টাকা করতে পারেন। এর ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের হাতে খরচ করার মতো বাড়তি টাকা থাকবে, যা পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
২. স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন বৃদ্ধি (Increase in Standard Deduction)
গত বাজেটে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ৫০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের বাজেটে চাকুরিজীবীদের দাবি, এটিকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হোক। বিশেষ করে মেট্রো শহরগুলিতে জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার কারণে এই দাবি অত্যন্ত জোরালো।
৩. নতুন বনাম পুরনো কর ব্যবস্থা (New vs Old Regime)
সরকার পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ধীরে ধীরে পুরনো কর ব্যবস্থা বা Old Tax Regime তুলে দিয়ে সবাইকে নতুন ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে চায়। তাই Union Budget 2026-এ পুরনো কর ব্যবস্থায় নতুন কোনো ছাড়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বরং নতুন কর কাঠামোর স্ল্যাব (Slab) পরিবর্তন করে তা আরও সহজ সরল করা হতে পারে।
| আয়ের স্ল্যাব (বর্তমান) | করের হার (বর্তমান) | সম্ভাব্য পরিবর্তন (প্রত্যাশা) |
| ০ – ৩ লক্ষ টাকা | ০% (Nil) | ০ – ৪/৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ০% |
| ৩ – ৭ লক্ষ টাকা | ৫% | ৫ – ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৫% |
| ৭ – ১০ লক্ষ টাকা | ১০% | ৮ – ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১০% |
| ১০ – ১২ লক্ষ টাকা | ১৫% | ১২ – ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১৫% |
| ১৫ লক্ষের বেশি | ৩০% | ২০ লক্ষের বেশি হলে ৩০% |
রেল বাজেট ২০২৬: সুরক্ষা ও বন্দে ভারত স্লিপার (Railway Budget Expectations)
আলাদা করে রেল বাজেট পেশ করার প্রথা উঠে গেলেও, কেন্দ্রীয় বাজেটের একটি বিশাল অংশ রেলের জন্য বরাদ্দ থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রেল দুর্ঘটনার কারণে Union Budget 2026-এ রেলের সুরক্ষাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হতে চলেছে।
কবচ প্রযুক্তির বিস্তার (Expansion of Kavach System)
রেল দুর্ঘটনা রুখতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কবচ’ (Kavach) সিস্টেম অত্যন্ত কার্যকর। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভারতের খুব কম রুটেই এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের বাজেটে এই প্রযুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হবে।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ঘোষণা (Vande Bharat Sleeper)
বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়, কিন্তু তা মূলত চেয়ার কার। দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক চলাচল শুরুর ঘোষণা এই বাজেটেই হতে পারে। রাজধানী এক্সপ্রেসের বিকল্প হিসেবে এই ট্রেনগুলিকে তুলে ধরা হবে।
সাধারণ বগি ও প্রবীণ নাগরিকদের ছাড়
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনে জেনারেল বগির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই বাজেটে সাধারণ যাত্রীদের জন্য ‘অমৃত ভারত’ ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা থাকতে পারে। এছাড়া, কোভিডের সময় বন্ধ হওয়া প্রবীণ নাগরিকদের টিকিটে ছাড় বা কনসেশন পুনরায় চালু করা হবে কি না, সেদিকেও সবার নজর থাকবে।
| রেল বাজেটের প্রধান বিষয় | সম্ভাব্য ঘোষণা |
| সুরক্ষা বরাদ্দ | ১.৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি (ঐতিহাসিক বৃদ্ধি) |
| নতুন ট্রেন | ৪০০টি নতুন বন্দে ভারত ও অমৃত ভারত ট্রেন |
| প্রযুক্তি | কবচ ৪.০ (Kavach 4.0) এর দ্রুত রূপায়ণ |
| পরিকাঠামো | নতুন ট্র্যাক ও স্টেশন আধুনিকীকরণ |
শেয়ার বাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য কী থাকছে? (Stock Market & Investors)
বাজেটের দিন শেয়ার বাজারের ভোলাটিলিটি বা ওঠানামা থাকে তুঙ্গে। বিনিয়োগকারীরা Union Budget 2026 থেকে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স (Capital Gains Tax) এবং অন্যান্য লগ্নির নিয়মে শিথিলতার আশা করছেন।
১. লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস (LTCG)
বর্তমানে ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস করমুক্ত। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি, এই সীমা বাড়িয়ে ২ লক্ষ টাকা করা হোক। তবে, করের হার (বর্তমানে ১২.৫%) কমার সম্ভাবনা কম।
২. পরিকাঠামো বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্টক
সরকার যদি রাস্তা, রেল, এবং প্রতিরক্ষা খাতে খরচ বাড়ায় (Capex Push), তবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সিমেন্ট, এবং স্টিল কোম্পানির শেয়ারে বড় উাল দেখা যেতে পারে। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T), আদানি এন্টারপ্রাইজ, এবং বিভিন্ন সরকারি ব্যাঙ্কের দিকে নজর রাখা জরুরি।
৩. গ্রিন এনার্জি ও ইভি (EV Sector)
ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তাই সোলার প্যানেল, উইন্ড এনার্জি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) সেক্টরে ভর্তুকি বা সাবসিডি অব্যাহত থাকতে পারে। টাটা পাওয়ার, আদানি গ্রিন এবং টাটা মোটরসের মতো শেয়ারগুলি ফোকাসে থাকবে।
| সেক্টর | প্রভাব | নজরে রাখার মতো শেয়ার |
| ব্যাঙ্কিং ও ফিন্যান্স | পজিটিভ | SBI, HDFC Bank, PFC |
| ইনফ্রাস্ট্রাকচার | অত্যন্ত পজিটিভ | L&T, UltraTech Cement |
| রেলওয়ে | পজিটিভ | IRFC, RVNL, IRCON |
| ডিফেন্স (প্রতিরক্ষা) | পজিটিভ | HAL, BEL, Mazagon Dock |
মহিলা, কৃষক ও যুব সমাজের জন্য বিশেষ প্রকল্প (Schemes for Women, Farmers & Youth)
ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে বাজেট কেবল অর্থনীতির হিসাব নয়, এটি সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার। Union Budget 2026-এ মহিলা, কৃষক এবং বেকার যুবকদের জন্য বেশ কিছু জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে।
মহিলাদের জন্য ‘লাখপতি দিদি’ ও অন্যান্য স্কিম
সরকার ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়াতে পারে। গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মাধ্যমে লোন পাওয়ার সুবিধা আরও সহজ করা হতে পারে। এছাড়া মহিলাদের নামে সম্পত্তি কিনলে স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড়ের মতো ঘোষণা রাজ্যগুলিকে উৎসাহিত করতে পারে।
কৃষকদের জন্য পিএম কিষান (PM Kisan)
বর্তমানে কৃষকরা বছরে ৬,০০০ টাকা পান। মুদ্রাস্ফীতির কথা মাথায় রেখে এই অঙ্ক বাড়িয়ে ৮,০০০ বা ৯,০০০ টাকা করার দাবি দীর্ঘদিনের। যদি এই ঘোষণা হয়, তবে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বা ‘রুরাল কনজাম্পশন’-এ বড় জোয়ার আনবে। এফএমসিজি (FMCG) কোম্পানিগুলি এর ফলে লাভবান হবে।
যুব সমাজ ও কর্মসংস্থান (Employment)
বেকারত্ব ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বাজেটে স্টার্টআপ (Startup) এবং এমএসএমই (MSME) সেক্টরের জন্য বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা থাকতে পারে। পাশাপাশি, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ মিশনের অধীনে এআই (AI) এবং ডিজিটাল স্কিল শেখার জন্য নতুন ফান্ডের ঘোষণা হতে পারে।
| টার্গেট গ্রুপ | সম্ভাব্য সুবিধা |
| মহিলা | সহজ ঋণ, গৃহলক্ষ্মী জাতীয় প্রকল্পের সহায়তা বৃদ্ধি |
| কৃষক | পিএম কিষান সম্মান নিধি বৃদ্ধি, সারের ভর্তুকি |
| যুবক-যুবতী | ইনটার্নশিপ স্কিম, স্টার্টআপে কর ছাড় |
| এমএসএমই (MSME) | ডিজিটাল ঋণের সুবিধা, কমপ্লায়েন্স সহজীকরণ |
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও ক্রিপ্টো কারেন্সি আপডেট (Digital India & Crypto)
ডিজিটাল পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI)-তে ভারত বিশ্বসেরা। Union Budget 2026-এ ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার আরও মজবুত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ক্রিপ্টো কারেন্সি (Cryptocurrency) বা ভার্চুয়াল ডিজিটাল অ্যাসেট নিয়ে বিনিয়োগকারীরা খুব একটা আশাবাদী নন। বর্তমানে ক্রিপ্টো থেকে আয়ের ওপর ৩০% কর এবং ১% টিডিএস (TDS) লাগু আছে। সরকারের মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে না যে এই কড়াকড়ি শিথিল করা হবে। বরং ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে।
বাজেটের দিনক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তি কেন? (Confusion regarding the Date)
অনেক সাধারণ মানুষ ভাবছেন, রবিবার তো সরকারি অফিস বন্ধ থাকে, তাহলে বাজেট কেন? আসলে সংসদীয় কার্যাবলি বা পার্লামেন্টারি সেশন বিশেষ পরিস্থিতিতে ছুটির দিনেও চলতে পারে। বাজেট পেশ করা একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব।
সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ (Article 112) অনুযায়ী, সরকারকে প্রতি অর্থবর্ষের জন্য তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব সংসদে পেশ করতে হয়। ১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি এখন একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। যদি ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ না হয়, তবে শেয়ার বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যা সরকার এড়াতে চায়। তাই রবিবার হলেও নির্মলা সীতারমন তাঁর রেকর্ড সংখ্যক বাজেট পেশ করতে প্রস্তুত।
পরিশেষে বলা যায়, Union Budget 2026 ভারতের অর্থনীতির জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে চলেছে। ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাজেট পেশ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, যা প্রমাণ করে যে মোদী সরকার তাদের কাজের ধারায় এবং ক্যালেন্ডারে কতটা অনড়।
মধ্যবিত্তের জন্য আয়করে স্বস্তি, রেল যাত্রীদের সুরক্ষা এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে ২০২৬-এর বাজেট। পাশাপাশি, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ (Viksit Bharat) গড়ার লক্ষ্যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং গ্রিন এনার্জিতে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণাও আশা করা হচ্ছে।
বাজেটের দিন সকালে সবার নজর থাকবে অর্থমন্ত্রীর ট্যাবের দিকে। তিনি কি সত্যিই মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন? নাকি রাজকোষের ঘাটতি (Fiscal Deficit) কমাতে গিয়ে রাশ টানবেন জনমোহিনী প্রকল্পে? উত্তর মিলবে ১ ফেব্রুয়ারি।
আপনার কী মনে হয়? ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার বাজেট পেশ হওয়া কি উচিত? কমেন্ট করে আমাদের জানান।











