ভোটের কালি কেন আঙুল থেকে সহজে মোছে না: বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের এক অমোচনীয় চিহ্ন

Why Voting Ink Doesn't Wash Off Easily: ভোটদানের পর আঙুলে লাগানো গাঢ় বেগুনি রঙের চিহ্ন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের একটি গর্বের প্রতীক। কিন্তু এই কালি এত শক্তিশালী কেন যে সাবান,…

Riddhi Datta

 

Why Voting Ink Doesn’t Wash Off Easily: ভোটদানের পর আঙুলে লাগানো গাঢ় বেগুনি রঙের চিহ্ন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের একটি গর্বের প্রতীক। কিন্তু এই কালি এত শক্তিশালী কেন যে সাবান, ডিটারজেন্ট, এমনকি পেট্রোল দিয়েও সহজে মোছে না? উত্তরটি লুকিয়ে আছে রসায়ন বিজ্ঞান এবং একটি বিশেষ রাসায়নিক যৌগের বৈশিষ্ট্যে। এই অমোচনীয় কালি বা ইন্ডেলিবল ইঙ্ক শুধুমাত্র একটি রঞ্জক পদার্থ নয়, এটি নির্বাচনী জালিয়াতি রোধে গণতন্ত্রের এক অপরিহার্য হাতিয়ার, যা নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিতে পারবে না ।

অমোচনীয় কালির রাসায়নিক গঠন

সিলভার নাইট্রেট: মূল উপাদান

ভোটের কালির প্রধান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সিলভার নাইট্রেট (AgNO₃)। নির্বাচনী মানের কালিতে সাধারণত ১০% থেকে ১৮% পর্যন্ত সিলভার নাইট্রেট থাকে । কিছু দেশে উচ্চমানের কালিতে এই ঘনত্ব ২০% পর্যন্ত হতে পারে । সিলভার নাইট্রেটের ঘনত্ব যত বেশি হয়, কালির দাগ তত দীর্ঘস্থায়ী এবং মানসম্পন্ন হয় ।

সিলভার নাইট্রেট মূলত একটি বর্ণহীন রাসায়নিক যৌগ, যা কঠিন অবস্থায় সাদা স্ফটিকের মতো দেখায় । এটি পানিতে অত্যন্ত দ্রবণীয় এবং যখন ত্বকে প্রয়োগ করা হয়, তখন এটি একটি জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী দাগ সৃষ্টি করে ।

অন্যান্য উপাদান

সিলভার নাইট্রেট ছাড়াও এই কালিতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে:

  • তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণের জন্য রঞ্জক পদার্থ: যা কালিকে বেগুনি বা গাঢ় রং দেয়, ফলে প্রয়োগের সাথে সাথেই দেখা যায়

  • দ্রাবক পদার্থ: সাধারণত অ্যালকোহল, যা কালি দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে

  • জীবাণুনাশক (বায়োসাইড): যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া স্থানান্তর রোধ করে

  • সুগন্ধী পদার্থ এবং অন্যান্য রাসায়নিক: যা কালির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করে

এই সমস্ত উপাদান একসাথে মিলে একটি পানি-ভিত্তিক দ্রবণ তৈরি করে, যা প্রয়োগের ৪০ সেকেন্ডের মধ্যেই ত্বকে এবং নখে প্রায় স্থায়ী ছাপ ফেলে ।

কীভাবে কাজ করে অমোচনীয় কালি

ত্বকের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া

যখন সিলভার নাইট্রেট যুক্ত কালি আঙুলে লাগানো হয়, তখন এটি মানুষের ত্বকের সাথে একটি জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। সিলভার নাইট্রেট ত্বকের কেরাটিন প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে একটি গভীর দাগ সৃষ্টি করে । এছাড়াও, যখন এটি অতিবেগুনি (UV) আলো এবং ত্বকের প্রাকৃতিক লবণের সংস্পর্শে আসে, তখন সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) নামক যৌগ তৈরি হয় ।

সিলভার ক্লোরাইড একটি কালো-ধূসর রঙের যৌগ যা পানিতে অদ্রবণীয় এবং অস্বচ্ছ । এই যৌগ ত্বকের উপরিভাগের এবং ভিতরের স্তরে প্রবেশ করে, যার ফলে সাবান, পানি, ডিটারজেন্ট, এমনকি পারফিউম দিয়েও এটি অপসারণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে ।

অতিবেগুনি আলোর ভূমিকা

সিলভার নাইট্রেট প্রাথমিকভাবে বর্ণহীন থাকলেও, সূর্যালোক সহ অতিবেগুনি আলোর সংস্পর্শে এলে এটি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে । এই ফটোসেন্সিটিভ বা আলোক-সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্যের কারণেই কালির দাগ সময়ের সাথে আরও গাঢ় হয়ে যায়। এই বৈজ্ঞানিক নীতি নিশ্চিত করে যে একবার প্রয়োগের পর, দাগটি সহজে মুছে ফেলা যায় না এবং বেশ কয়েক দিন পর্যন্ত স্পষ্ট থাকে।

কতদিন থাকে দাগ

গবেষণা এবং প্রকৃত ব্যবহার থেকে দেখা যায় যে এই কালির দাগ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত স্পষ্ট থাকে । তবে নখের কিউটিকল অঞ্চলে প্রয়োগ করা হলে, নতুন নখ গজানোর সাথে সাথে দাগ সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হতে ৪ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে । প্রথম ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই কালি সাবান, তরল পদার্থ, ঘরোয়া পরিষ্কারক এবং ডিটারজেন্টের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ প্রতিরোধী থাকে ।

দাগের স্থায়িত্ব নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ের উপর যেমন কালির রাসায়নিক গঠন, ব্যক্তির ত্বকের ধরন, এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম । কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দাগ কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও থাকতে পারে ।

ভারতে অমোচনীয় কালির ইতিহাস

১৯৬২: এক যুগান্তকারী আবিষ্কার

ভারতে অমোচনীয় কালির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে । তৎকালীন ভারতে নির্বাচনী জালিয়াতি একটি বড় সমস্যা ছিল, বিশেষ করে যেসব এলাকায় সবার কাছে সনাক্তকরণ নথিপত্র ছিল না। এই সমস্যার সমাধানে ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি (CSIR-NPL), নয়াদিল্লি এই বিশেষ কালি উদ্ভাবন করে ।

১৯৬২ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এই কালি ব্যবহার করা হয় এবং তারপর থেকে ভারতে যে কেউ ভোট দিয়েছে, তার আঙুলে এই অমোচনীয় কালির চিহ্ন লেগেছে । বর্তমানে ডক্টর নহর সিংহ, যিনি ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির একজন রসায়নবিদ, এই সঠিক ফর্মুলার রক্ষক ।

মহীশূর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড

১৯৬২ সালে NPL এই কালি তৈরির লাইসেন্স এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর করে মহীশূর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড (MPVL)-এ, যা কর্ণাটক সরকারের একটি সংস্থা । তারপর থেকে MPVL ভারতের নির্বাচন কমিশনের জন্য এই অমোচনীয় কালির একমাত্র অনুমোদিত প্রস্তুতকারক ।

MPVL শুধুমাত্র ভারতেই নয়, বিশ্বব্যাপী এই কালি সরবরাহ করে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য MPVL ২৬.৫ লক্ষের বেশি শিশি কালি সরবরাহ করেছিল । কোম্পানির এক্সপোর্ট ডেটা অনুসারে, গত ১২ মাসে তাদের মোট রপ্তানি মূল্য প্রায় ৩.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ।

বিশ্বব্যাপী ব্যবহার এবং রপ্তানি

ভারতে উদ্ভাবিত এই অমোচনীয় কালি এখন বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয় । কানাডা, ঘানা, নাইজেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আফগানিস্তান, কম্বোডিয়া এবং পাপুয়া নিউ গিনির মতো দেশগুলো তাদের নির্বাচনে এই কালি ব্যবহার করে ।

২৫টিরও বেশি দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে যে কোনো ব্যক্তি দুবার ভোট দিতে পারবে না এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সততা বজায় থাকবে । বিভিন্ন দেশে কালি প্রয়োগের পদ্ধতি ভিন্ন হওয়ায়, MPVL মার্কার পেনও তৈরি করেছে যা সহজে ব্যবহার করা যায় ।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্ব

নির্বাচনী জালিয়াতি রোধ

অমোচনীয় কালির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনী জালিয়াতি রোধ করা। একবার কালি লাগানোর পর, একজন ব্যক্তি আর একই নির্বাচনে দ্বিতীয়বার ভোট দিতে পারবে না । এটি একটি দৃশ্যমান প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারা সহজেই শনাক্ত করতে পারেন কে ইতিমধ্যে ভোট দিয়েছে ।

যেসব দেশে নাগরিকদের জন্য সনাক্তকরণ নথিপত্র সবসময় প্রমিত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগঠিত নয়, সেখানে এই কালির ব্যবহারিকতা আরও বেশি স্পষ্ট । এটি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি ভোট গণনা করা হয় এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার ন্যায্যতা বজায় থাকে।

গণতন্ত্রের প্রতীক

ভোটের পর আঙুলের বেগুনি দাগ শুধু একটি চিহ্ন নয়, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি শক্তিশালী প্রতীক । এই চিহ্ন প্রকাশ করে যে একজন নাগরিক তার মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করেছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নিয়েছে । অনেক ভোটার গর্বের সাথে তাদের কালি-রঞ্জিত আঙুল প্রদর্শন করেন, যা তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রমাণ ।

কালির দাগ সরানোর পদ্ধতি

কেন এত কঠিন

যদিও অমোচনীয় কালি সহজে মোছা যায় না, তবুও কিছু মানুষ বিভিন্ন রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করে দাগ সরানোর চেষ্টা করে, যা কালির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । তবে, কালির ডিজাইনই এমনভাবে করা যে এটি পানি, ডিটারজেন্ট, সাবান এবং অন্যান্য দ্রাবকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ।

সিলভার ক্লোরাইড হাইড্রক্সাইড দিয়ে সহজে অপসারণ করা যায়, তাই অতিরিক্ত ফটোসেন্সিটিভ রঞ্জক যোগ করা হয় । এথাইল অ্যালকোহল, পেট্রোল, সাবান, ব্লিচ, অ্যাসিটোন বা ব্রেক ফ্লুইড দিয়েও এই কালি মোছা যায় না ।

ধীরে ধীরে অপসারণের প্রাকৃতিক উপায়

প্রকৃতপক্ষে, এই দাগ শুধুমাত্র তখনই সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয় যখন বাহ্যিক ত্বকের কোষগুলো প্রতিস্থাপিত হয় । কিছু উপায়ে প্রক্রিয়াটি দ্রুত করা যেতে পারে:

  • রাবিং অ্যালকোহল: কালিতে ব্যবহৃত অ্যালকোহল দ্রাবক হওয়ায়, রাবিং অ্যালকোহল দাগ কিছুটা ম্লান করতে সাহায্য করতে পারে, তবে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে

  • এক্সফোলিয়েটিং স্ক্রাব: শারীরিক এক্সফোলিয়েন্ট ত্বকের প্রাকৃতিক পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পারে

  • হেয়ার রিমুভাল ক্রিম: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে এটি সবচেয়ে কার্যকর অপসারণ পদ্ধতি হতে পারে

তবে এগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, কারণ ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

রাসায়নিক নিরাপত্তা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণত নিরাপদ

১০-১৮% ঘনত্বে সিলভার নাইট্রেট ত্বকের জন্য সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয় । এই কালির দাগ ক্ষতিকারক নয় এবং বিভিন়ন কাজের জন্য উপযোগী । যখন সিলভার নাইট্রেট অন্যান্য রাসায়নিকের সাথে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইডে পরিণত হয়, তখন এটি একটি আধা-স্থায়ী, নীলাভ-কালো দাগ ছেড়ে যায়, যা সাধারণত ক্ষতিকারক নয় ।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

তবে কিছু ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:

  • ত্বকে জ্বালা: কম ঘনত্বেও হালকা ত্বকের জ্বালা, লালভাব বা হালকা জ্বলন্ত অনুভূতি হতে পারে

  • রাসায়নিক পোড়া: বেশি ঘন দ্রবণ আরও গুরুতর পোড়ার কারণ হতে পারে, যা রাসায়নিক পোড়ার মতো এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে

  • অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: কম সাধারণ হলেও, কিছু ব্যক্তির সিলভার নাইট্রেটের কারণে অ্যালার্জিক ডার্মাটাইটিস হতে পারে, যা চুলকানি, লালভাব এবং ত্বক ফুলে যাওয়া দ্বারা চিহ্নিত

সংবেদনশীল ত্বকে সিলভার নাইট্রেট ব্যবহার করা উচিত নয় । কালিতে থাকা বায়োসাইড ভোটারদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া স্থানান্তর রোধ করার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।

প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং ভবিষ্যৎ

মার্কার পেন প্রযুক্তি

ঐতিহ্যগত ডিপিং বোতল পদ্ধতি ছাড়াও, MPVL এখন মার্কার পেন তৈরি করে যাতে এই কালি থাকে । এই পেনগুলো ব্যবহার করা সহজ এবং আফগানিস্তানের মতো দেশে নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে । এই প্রযুক্তিগত উন্নতি নিশ্চিত করে যে কালি দ্রুত এবং আরও দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করা যায়।

গোপন ফর্মুলা

অমোচনীয় কালির সঠিক ফর্মুলা এখনও একটি সযত্নে সংরক্ষিত রহস্য । এই গোপনীয়তা নিশ্চিত করে যে কালির নকল তৈরি করা কঠিন এবং নির্বাচনী সততা বজায় থাকে। ন্যাশনাল রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NRDC), নয়াদিল্লি দ্বারা পেটেন্ট করা এই ফর্মুলা ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি গর্বের প্রতীক ।

পরিসংখ্যান এবং তথ্য

বিষয় তথ্য
প্রথম ব্যবহার ১৯৬২ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে
সিলভার নাইট্রেট ঘনত্ব ১০-১৮% (কিছু ক্ষেত্রে ২০% পর্যন্ত)
দাগের স্থায়িত্ব ১০-১৫ দিন (নখে ৪ মাস পর্যন্ত)
রপ্তানি দেশ ৩০টিরও বেশি দেশ
২০২৪ লোকসভা সরবরাহ ২৬.৫ লক্ষ শিশি
বার্ষিক রপ্তানি মূল্য প্রায় ৩.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
প্রতিরোধী সময় প্রথম ৭২ ঘণ্টা সম্পূর্ণ প্রতিরোধী
ভোটের কালি শুধুমাত্র একটি রাসায়নিক পদার্থ নয়, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সততা এবং স্বচ্ছতার একটি শক্তিশালী প্রতীক। সিলভার নাইট্রেটের বিশেষ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, যা ত্বকের কেরাটিনের সাথে বিক্রিয়া করে স্থায়ী সিলভার ক্লোরাইড গঠন করে, এই কালিকে প্রায় অপসারণযোগ্য করে তোলে। ১৯৬২ সাল থেকে ভারতে উদ্ভাবিত এবং মহীশূর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড দ্বারা উৎপাদিত এই কালি এখন বিশ্বব্যাপী ৩০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হয়, যা প্রমাণ করে এর কার্যকারিতা এবং নির্ভরযোগ্যতা। আঙুলের এই ছোট্ট দাগটি আসলে বহন করে একটি বিশাল দায়িত্বের প্রমাণ – গণতন্ত্রে অংশগ্রহণের গৌরবময় চিহ্ন। এই প্রযুক্তি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি ভোট গণনা করা হয় এবং নির্বাচনী জালিয়াতি রোধ হয়, যা একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি।

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন