Walter Hunt The Inventor Who Created Safety Pin

১৫ ডলার ঋণ শোধ করতে গিয়ে বিশ্ববাসীকে উপহার দিলেন সেফটিপিন – ওয়াল্টার হান্টের অবিশ্বাস্য আবিষ্কারের গল্প

১৮৪৯ সালের এক সাধারণ দিনে, নিউ যর্কের একজন যান্ত্রিক আবিষ্কারক ওয়াল্টার হান্ট তার ডেস্কে বসে একটি পিতলের তার নিয়ে খেলছিলেন। মাত্র ১৫ ডলার ঋণ শোধ করার জন্য তিনি এমন কিছু আবিষ্কার করতে চাইছিলেন যা বিক্রি করে তিনি দ্রুত অর্থ পেতে…

avatar
Written By : Srijita Ghosh
Updated Now: November 29, 2025 10:55 AM
বিজ্ঞাপন

১৮৪৯ সালের এক সাধারণ দিনে, নিউ যর্কের একজন যান্ত্রিক আবিষ্কারক ওয়াল্টার হান্ট তার ডেস্কে বসে একটি পিতলের তার নিয়ে খেলছিলেন। মাত্র ১৫ ডলার ঋণ শোধ করার জন্য তিনি এমন কিছু আবিষ্কার করতে চাইছিলেন যা বিক্রি করে তিনি দ্রুত অর্থ পেতে পারেন। সেই তারটি বাঁকিয়ে তিনি তৈরি করলেন এমন একটি জিনিস যা আজও প্রায় একই রূপে পৃথিবীজুড়ে ব্যবহৃত হয় – সেফটিপিন বা নিরাপত্তা পিন। ১৮৪৯ সালের ১০ এপ্রিল তিনি এই আবিষ্কারের জন্য প্যাটেন্ট নম্বর ৬,২৮১ পান। কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি তিনি মাত্র ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দেন এবং তার জীবদ্দশায় এই আবিষ্কার থেকে আর কোনো অর্থ পাননি, যদিও পরবর্তীকালে ব্যবসায়ীরা এই আবিষ্কার থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করেছেন।

ওয়াল্টার হান্টের জীবনী ও প্রাথমিক জীবন

ওয়াল্টার হান্ট ১৭৯৫ সালে (কোনো কোনো সূত্র অনুযায়ী ১৭৯৬) নিউ যর্ক রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মার্টিন্সবার্গে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রাজমিস্ত্রিতে ডিগ্রি অর্জন করার পর লোভিল নামক একটি মিল শহরে কৃষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি স্থানীয় মিলগুলোর জন্য আরও দক্ষ যন্ত্রপাতি তৈরি করতে শুরু করেন। ১৮২৬ সালে তিনি তার প্রথম প্যাটেন্ট পান। পরবর্তীতে তিনি নিউ যর্ক সিটিতে চলে আসেন এবং সেখানে তার আবিষ্কার কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।

নিউ যর্ক সিটিতে থাকাকালীন হান্ট একের পর এক আবিষ্কার করতে থাকেন। ১৮২৭ সালের ৩০ জুলাই তিনি একটি পা দিয়ে চালানো ঘণ্টার প্যাটেন্ট পান, যা ঘোড়ার গাড়ির চালকরা লাগাম ছাড়াই বাজাতে পারতেন। এই আবিষ্কারটি এসেছিল একটি দুঃখজনক ঘটনা দেখার পর – তিনি দেখেছিলেন একটি ঘোড়ার গাড়ি একটি শিশুকে আঘাত করেছে। এই ঘটনা তাকে এমন একটি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে যা এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে। তার এই আবিষ্কার পরবর্তীতে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত হয়।

দাঁতের ফাঁকে মাংস আটকায় কেন? জানুন কারণ, সমাধান ও দাঁতের সুস্থতার চাবিকাঠি!

সেফটিপিন: একটি বিপ্লবী আবিষ্কার

আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট

সেফটিপিন আবিষ্কারের গল্পটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ১৮৪৯ সালে, হান্ট ১৫ ডলার ঋণে জর্জরিত ছিলেন। এই ঋণ শোধ করার জন্য তিনি এমন কিছু আবিষ্কার করতে চাইছিলেন যা দ্রুত বিক্রি করে অর্থ পেতে পারেন। তিনি একটি আট ইঞ্চি লম্বা পিতলের তার নিয়ে পরীক্ষা করতে থাকেন। মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে তিনি এই তারকে এমনভাবে বাঁকান যে এটি একটি লুপ তৈরি করে, যার একদিকে ছিল সূচালো মাথা এবং অন্যদিকে ছিল একটি সুরক্ষা ক্ল্যাস্প। কেন্দ্রে তিনি একটি স্প্রিং তৈরির জন্য তারটিকে কুণ্ডলী করে দেন।

In 1849, Walter Hunt invented the safety pin to pay off a $15 ...

সেফটিপিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য

হান্টের সেফটিপিন পূর্ববর্তী পিনগুলো থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে উন্নত ছিল। প্রথমত, পিনের সূচালো অংশটি সম্পূর্ণভাবে একটি সুরক্ষা ক্ল্যাস্পের ভিতরে ঢুকে যেত, যা এটিকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ করে তুলেছিল। দ্বিতীয়ত, তিনি পিনের বাঁকে একটি বৃত্তাকার স্প্রিং যুক্ত করেন যা পিনটিকে তার জায়গায় দৃঢ়ভাবে ধরে রাখত। এই মৌলিক নকশাটি আজও একই রূপে বিদ্যমান এবং এখন অত্যন্ত সস্তায় উৎপাদন করা হয়।

প্যাটেন্ট এবং বিক্রয়

হান্ট তার নতুন আবিষ্কারটি জোনাথন রিচার্ডসন নামক একজন প্রস্তুতকারকের কাছে নিয়ে গিয়ে মাত্র ১০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে তিনি প্যাটেন্ট অধিকারসহ মোট ৪০০ ডলার পান। তিনি তার আবিষ্কারকে “ড্রেস-পিনের একটি নতুন এবং উপযোগী উন্নতি” হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, হান্ট এই আবিষ্কার থেকে আর কখনো কোনো অর্থ পাননি, যদিও ডব্লিউ আর গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানি এই পণ্য থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার মুনাফা অর্জন করেছে।

ওয়াল্টার হান্টের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার

সেলাই মেশিন: একটি অগ্রগামী আবিষ্কার

১৮৩৩ সালে, হান্ট প্রথম কার্যকর সেলাই মেশিন আবিষ্কার করেন যা লকস্টিচ পদ্ধতি ব্যবহার করত। এটি ছিল প্রথম সেলাই মেশিন যা হাতের সেলাইয়ের অনুকরণ করার চেষ্টা করেনি। লকস্টিচ পদ্ধতিতে দুটি সুতা ব্যবহার করা হত, একটি অন্যটির লুপের মধ্য দিয়ে যেত এবং তারপর দুটিই পরস্পরের সাথে আটকে যেত। জনসাধারণ এই মেশিনটি ভালোভাবে গ্রহণ করেছিল, কিন্তু হান্ট কখনো এর জন্য প্যাটেন্ট নেননি। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে এই মেশিন হাতে সেলাইকারী শ্রমিকদের চাকরি কেড়ে নেবে এবং তিনি এর উৎপাদনের আর্থিক ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

১৮৫০-এর দশকে যখন এলিয়াস হাওয়ের সেলাই মেশিন প্যাটেন্ট নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়, তখন হান্টের পূর্ববর্তী আবিষ্কার আলোচনায় আসে। ১৮৫৩ সালের ২ এপ্রিল, হান্ট তার ১৮৩৪ সালের সেলাই মেশিনের জন্য আবেদন জমা দেন। প্যাটেন্ট অফিস হান্টের অগ্রাধিকার স্বীকার করে, কিন্তু যেহেতু তিনি হাওয়ের আবেদনের আগে আবেদন করেননি, তাই তাকে প্যাটেন্ট দেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে ১৮৫৪ সালের ২৭ জুন তিনি সেলাই মেশিনের উন্নতির জন্য প্যাটেন্ট নম্বর ১১,১৬১ পান।

পুনরাবৃত্তিকারী রাইফেল

হান্ট একটি পুনরাবৃত্তিকারী বন্দুক এবং কার্টিজ তৈরি করেন যা পরবর্তীতে স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন দ্বারা অভিযোজিত হয়। ১৮৪৮ সালে তিনি “ভলিশনাল রিপিটিং রাইফেল” নামে একটি বন্দুকের প্যাটেন্ট পান যা টিউবুলার ম্যাগাজিন ব্যবহার করত। তিনি “রকেট বল” নামক একটি স্ব-সংরক্ষিত কার্তুজও ডিজাইন করেন। এই আবিষ্কারগুলো পরবর্তীতে উইনচেস্টার রাইফেলের বিকাশের ভিত্তি হয়ে ওঠে। তিনি এই প্যাটেন্টগুলো জর্জ অ্যারোস্মিথের কাছে হস্তান্তর করেন, যিনি লুইস জেনিংস নামক একজন যন্ত্রশিল্পীকে মূল নকশার উন্নতি করতে নিয়োগ দেন।

ফাউন্টেন পেন এবং অন্যান্য আবিষ্কার

হান্ট একটি নতুন ধরনের ফাউন্টেন পেন আবিষ্কার করেন যা তার সময়ের জন্য বেশ উদ্ভাবনী ছিল। তিনি প্যাটেন্ট নম্বর ৪৯২৭ পান এই আবিষ্কারের জন্য। এছাড়াও তিনি আরো অনেক কিছু আবিষ্কার করেন যার মধ্যে রয়েছে:

  • দড়ি তৈরির মেশিন (১৮২৯ সালের ১১ জুন প্যাটেন্ট)

  • আসবাবপত্র সহজে সরানোর জন্য ক্যাস্টর গ্লোব (১৮৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্যাটেন্ট)

  • কয়লা চালিত হিটিং স্টোভ যা সব দিকে সমানভাবে তাপ বিতরণ করত (১৮৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্যাটেন্ট)

  • পেরেক তৈরির মেশিন (প্যাটেন্ট ৩৩০৫)

  • বোতলের স্টপার (প্যাটেন্ট ৯,৫২৭)

  • ইঙ্কস্ট্যান্ড (প্যাটেন্ট ৪২২১)

  • আইস বোট (প্যাটেন্ট ৯৫৮)

  • প্রথম ঘূর্ণনশীল রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার মেশিন

  • ডাক বাছাই যন্ত্রপাতি

  • উন্নত তেলের প্রদীপ

  • কৃত্রিম পাথর

হান্ট এমনকি একটি অ্যান্টিপোডিয়ান যন্ত্রপাতিও আবিষ্কার করেন যা জুতোর সাথে সংযুক্ত করে ছাদে উল্টো হয়ে হাঁটার জন্য ব্যবহার করা যেত। এই যন্ত্রটি সার্কাসের পারফর্মাররা ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন।

হান্টের আবিষ্কারের তালিকা এবং প্যাটেন্ট

আবিষ্কারপ্যাটেন্ট নম্বরপ্রদানের তারিখবিশেষত্ব
কোচ অ্যালার্ম/স্ট্রিটকার গং১৮২৭ সালের ৩০ জুলাইপা দিয়ে চালানো সতর্কতা ঘণ্টা
দড়ি তৈরির মেশিন১৮২৯ সালের ১১ জুনদক্ষ দড়ি উৎপাদন
সেলাই মেশিন১৮৩৩প্রথম লকস্টিচ মেশিন
ফাউন্টেন পেন৪৯২৭উন্নত কালি প্রবাহ ব্যবস্থা
ভলিশনাল রিপিটিং রাইফেল১৮৪৮পুনরাবৃত্তিকারী বন্দুক
সেফটিপিন৬,২৮১১৮৪৯ সালের ১০ এপ্রিলনিরাপদ পিন ডিজাইন
সেলাই মেশিন উন্নতি১১,১৬১১৮৫৪ সালের ২৭ জুনঘূর্ণনশীল টেবিল সহ
পেরেক তৈরির মেশিন৩৩০৫স্বয়ংক্রিয় পেরেক উৎপাদন

নোবেল পুরস্কার বঞ্চিত ৫টি যুগান্তকারী আবিষ্কার: বিজ্ঞানের ইতিহাসে অবহেলিত মাইলফলক

সেফটিপিনের বৈশ্বিক প্রভাব এবং বাজার

ব্যবহারের বিস্তৃতি

সেফটিপিন আজ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবহৃত সাধারণ সরঞ্জামগুলোর মধ্যে একটি। এর শত শত ব্যবহার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ডায়াপার এবং পোশাক যেমন ট্রাউজার, শার্ট এবং জ্যাকেট বেঁধে রাখা। এমনকি এটি গহনার একটি উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। শিশুদের ডায়াপার পরানোর ক্ষেত্রে সেফটিপিন একটি অপরিহার্য উদ্ভাবন ছিল, যা ডিসপোজেবল ডায়াপার এবং আঠালো সংযুক্তি ট্যাবের আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

বৈশ্বিক বাজার এবং পরিসংখ্যান

সেফটিপিন বাজার বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীল বৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করছে। ২০২৩ সালে সেফটিপিন বাজার মাল্টি মিলিয়ন ডলার বিক্রয় রেকর্ড করেছে এবং ৫.৩ শতাংশ সিএজিআর-এ বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। টেক্সটাইল, উৎপাদন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো বিভিন্ন শিল্পে সেফটিপিনের চাহিদা উল্লেখযোগ্য। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে, ভোক্তারা এমন পণ্যে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন যা স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা প্রদান করে, যা সেফটিপিনকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একটি জনপ্রিয় পছন্দ করে তোলে।

The Safety Pin | Days to Remember

রপ্তানি এবং বাণিজ্য

সেফটিপিন বিশ্বব্যাপী ১২১টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত প্রধান আমদানিকারক। সম্মিলিতভাবে, এই তিনটি দেশ বিশ্বব্যাপী সমস্ত সেফটিপিন রপ্তানির ৪৩ শতাংশ ভোগ করে। ইন্দোনেশিয়া সর্বাগ্রে রয়েছে, ১,৬৪১টি চালান আমদানি করে, যা ১৭ শতাংশ বাজার শেয়ারে রূপান্তরিত হয়। এটি ১৫ শতাংশ বাজার শেয়ার সহ ১,৪৪৮টি চালান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ১১ শতাংশ বাজার শেয়ারের সমতুল্য ১,০৯৩টি চালান সহ ভারত দ্বারা ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করা হয়।

হান্টের আর্থিক দুর্ভাগ্য: একজন প্রতিভাবান আবিষ্কারকের ট্র্যাজেডি

ওয়াল্টার হান্টের জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো যে তিনি তার প্রায় কোনো আবিষ্কার থেকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ পাননি। তিনি প্রায় দুই ডজন উপযোগী জিনিস আবিষ্কার করেছিলেন যা আজও মূলত একই রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তিনি তার বেশিরভাগ প্যাটেন্ট অধিকার অন্যদের কাছে কম দামে এবং ভবিষ্যত রয়্যালটি ছাড়াই বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তার সেফটিপিন যন্ত্র থেকে অন্যরা লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করেছে, কিন্তু তিনি মাত্র ৪০০ ডলার পেয়েছিলেন।

হান্ট প্রায়ই তার ঋণ পরিশোধের জন্য তার আবিষ্কারের অধিকার বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। তিনি কখনো তার সৃষ্টিগুলোর বাণিজ্যিকীকরণ করার আর্থিক ঝুঁকি নিতে পারেননি। তার সেলাই মেশিনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল – যদিও তিনি প্রথম কার্যকর লকস্টিচ মেশিন তৈরি করেছিলেন, তিনি এর জন্য প্যাটেন্ট নেননি এবং অন্যরা পরবর্তীতে এই প্রযুক্তি থেকে মুনাফা অর্জন করেছে।

ICC Trophy History: বিরাট কোহলির অসাধারণ রেকর্ড: ক্রিকেট বিশ্বে নতুন কীর্তি গড়লেন রান মেশিন!

হান্টের উত্তরাধিকার এবং আধুনিক প্রভাব

ওয়াল্টার হান্ট ২০২৫ সালে ন্যাশনাল ইনভেন্টরস হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন তার সেফটিপিন আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ। তার আবিষ্কার আজও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্যবহার করছে। তার সেফটিপিন এমন একটি “ছোট আবিষ্কার” যা প্রকৃতপক্ষে পোশাক একসাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যা আঘাতের ঝুঁকি ছাড়াই কাজ করে।

তার সেলাই মেশিনের আবিষ্কার পরবর্তীকালে টেক্সটাইল শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তার পুনরাবৃত্তিকারী রাইফেল প্রযুক্তি উইনচেস্টার রাইফেলের ভিত্তি স্থাপন করেছে, যা আমেরিকান ইতিহাসে একটি আইকনিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে। তার ফাউন্টেন পেন এবং অন্যান্য আবিষ্কারগুলো আধুনিক প্রযুক্তির পথপ্রদর্শক ছিল।

হান্টের আবিষ্কার পদ্ধতি এবং দর্শন

হান্ট একজন স্ব-শিক্ষিত যান্ত্রিক ছিলেন যিনি সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি প্রায়ই দৈনন্দিন সমস্যা দেখে সেগুলোর ব্যবহারিক সমাধান খুঁজতেন। তার আবিষ্কারগুলো সাধারণত সহজ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত ছিল। তিনি জটিল ডিজাইনের পরিবর্তে সরলতা এবং উপযোগিতায় বিশ্বাস করতেন।

তার কাজের পদ্ধতি ছিল পরীক্ষামূলক। সেফটিপিনের ক্ষেত্রে, তিনি মাত্র তিন ঘণ্টা একটি তার নিয়ে পরীক্ষা করে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন। তার অনেক আবিষ্কার এসেছে বাস্তব জীবনের পর্যবেক্ষণ থেকে – যেমন স্ট্রিটকার ঘণ্টা আবিষ্কার হয়েছিল একটি দুর্ঘটনা দেখার পর।

ওয়াল্টার হান্টের জীবন এবং আবিষ্কার আমাদের শেখায় যে প্রতিভা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা সবসময় আর্থিক সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। মাত্র ১৫ ডলার ঋণ শোধ করতে গিয়ে তিনি বিশ্বকে এমন একটি আবিষ্কার উপহার দিয়েছেন যা প্রায় ১৮০ বছর পরেও একই রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার সেফটিপিন, সেলাই মেশিন, পুনরাবৃত্তিকারী রাইফেল এবং অন্যান্য আবিষ্কার আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যদিও তিনি জীবদ্দশায় আর্থিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেননি, তার উত্তরাধিকার প্রতিটি সেফটিপিন, প্রতিটি সেলাই মেশিন এবং প্রতিটি পুনরাবৃত্তিকারী বন্দুকের মধ্যে বেঁচে আছে। হান্টের গল্প প্রমাণ করে যে সত্যিকারের আবিষ্কার এবং উদ্ভাবন মানবতার জন্য স্থায়ী মূল্য সৃষ্টি করে, এমনকি যদি আবিষ্কারক নিজে সেই মূল্য থেকে উপকৃত না হন। তার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত উদ্ভাবকদের অবদান প্রায়ই অর্থের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।