বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাংকিং সেক্টর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু ব্যাংক গুরুতর আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ব্যাংকিং সংকট ২০২৫ সালে এসেও অব্যাহত রয়েছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে দুটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে এবং চীনে ৩০০টিরও বেশি ছোট ও মাঝারি ব্যাংক নিরবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সুদের হারের অস্থিরতা, বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট সেক্টরে চাপ এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট এই দুর্বলতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
১. ক্রেডিট সুইস (সুইজারল্যান্ড) – গ্লোবাল সিস্টেমিক ব্যাংকের পতন
ক্রেডিট সুইস ছিল বিশ্বের অন্যতম পুরাতন এবং বড় ব্যাংক যা ২০২৩ সালের মার্চে নাটকীয়ভাবে পতনের মুখোমুখি হয়। সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক যখন ঘোষণা করে যে তারা আর আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে না, তখন ১৫ মার্চ ২০২৩-এ ক্রেডিট সুইসের শেয়ারের দাম প্রায় ২৫% কমে যায়। আমানতকারীদের আস্থার সংকট এবং ব্যাংক রানের ফলে UBS এই ব্যাংককে মাত্র ৩.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে অধিগ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
ক্রেডিট সুইসের পতনের মূল কারণ ছিল দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিক লোকসানের ইতিহাস। সুইস ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট সুপারভাইজরি অথরিটি (FINMA) এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ব্যাংকটিতে ১০৮টি অন-সাইট সুপারভিশন পর্যালোচনা করা হয়েছিল এবং ৩৮২টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১১৩টি ঝুঁকি ছিল উচ্চ বা সংকটজনক মাত্রার।
২. সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) – টেক সেক্টরের ব্যাংকিং বিপর্যয়
১০ মার্চ ২০২৩-এ সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক (SVB) এর পতন মার্কিন ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়। প্রায় চার দশক ধরে টেক স্টার্টআপদের সেবা দেওয়া এই ব্যাংকটি মাত্র দুই দিনের মধ্যে দেউলিয়া হয়ে যায়। ৮ মার্চ ব্যাংকটি ঘোষণা করে যে তারা ২১ বিলিয়ন ডলারের সিকিউরিটি বিক্রি করেছে, ১৫ বিলিয়ন ডলার ধার করেছে এবং ২.২৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের জন্য জরুরি স্টক বিক্রয় করবে।
এই ঘোষণার পরদিন আমানতকারীরা ৪২ বিলিয়ন ডলার তুলে নেয়, যা ব্যাংক রানে পরিণত হয়। সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকের বন্ড পোর্টফোলিওতে অবাস্তবায়িত ক্ষতি (unrealized losses) হয়, যা ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। রোকু, রবলক্স এবং ভিমিওর মতো বড় টেক কোম্পানিগুলোসহ ১,৫০০-এর বেশি ক্লাইমেট টেক স্টার্টআপ এই পতনে প্রভাবিত হয়।
জানেন ব্যাংকের ন্যূনতম ব্যালেন্স জরিমানায় কত হাজার কোটি টাকা আয় করেছে?
৩. ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) – কনট্যাজিয়ন ইফেক্টের শিকার
সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের পতনের পর ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংক কনট্যাজিয়ন ইফেক্টের শিকার হয় এবং মে ২০২৩-এ মার্কিন ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক পতন হিসেবে বন্ধ হয়ে যায়। FDIC এর রিপোর্ট অনুযায়ী, “বাজার এবং আমানতকারীদের আস্থা হারানো এবং ব্যাংক রান” এই ব্যর্থতার প্রাথমিক কারণ ছিল।
১৬ মার্চ ২০২৩-এ আমেরিকার ১১টি বৃহত্তম ব্যাংক ফার্স্ট রিপাবলিকে ৩০ বিলিয়ন ডলার আনইনস্যুরড ডিপোজিট প্রদান করে রেসকিউ প্যাকেজ হিসেবে। কিন্তু এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ব্যাংকের স্টক মার্চ ২০ তারিখে প্রায় ৫০% কমে সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমে আসে। ব্যাংকটির বিজনেস মডেল এবং ম্যানেজমেন্ট স্ট্র্যাটেজিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল যা একে সুদের হারের পরিবর্তন এবং কনট্যাজিয়নের প্রতি আরও দুর্বল করে তুলেছিল।
৪. চীনের আঞ্চলিক ব্যাংকগুলো – নীরব পতন
২০২৫ সালে চীনে ৩০০-এর বেশি ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যাংক নিরবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যা একটি বিশাল আর্থিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। BBVA Research এর চায়না ব্যাংকিং মনিটর ২০২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনের ব্যাংকগুলো দুর্বল ক্রেডিট গ্রোথ, কম লাভজনকতা এবং প্রপার্টি সেক্টরের চাপের সম্মুখীন।
নন-পারফর্মিং লোন (NPL) বৃদ্ধি এবং অনুমানিক ৬০ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অফ-দ্য-বুকস শ্যাডো ডেট এই সংকটের মূল কারণ। ইন্টারেস্ট মার্জিন সংকুচিত হয়ে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং ROA ও ROE ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। রিয়েল এস্টেট মার্কেটের পতন এবং লোকাল গভর্নমেন্ট ফাইন্যান্সিং ভেহিকেল (LGFV) ঋণের বোঝা চীনের ব্যাংকিং সিস্টেমে দীর্ঘমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করছে।
৫. পুলাস্কি সেভিংস ব্যাংক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) – ২০২৫ সালের প্রথম ব্যর্থতা
জানুয়ারি ২০২৫-এ শিকাগো, ইলিনয়ের পুলাস্কি সেভিংস ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়, যা ২০২৫ সালের প্রথম ব্যাংক ফেইলিউর হিসেবে চিহ্নিত হয়। ব্যাংকটির সম্পদ ছিল প্রায় ৪৯.৫ মিলিয়ন ডলার এবং আমানত ছিল ৪২.৭ মিলিয়ন ডলার। মিলেনিয়াম ব্যাংক এটি অধিগ্রহণ করে এবং এই ব্যর্থতায় ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ডের প্রায় ২৮.৫ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।
কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেট (CRE) লোনে উচ্চ এক্সপোজার, বিশেষত অফিস বিল্ডিংয়ে, এই ব্যাংকের পতনের প্রধান কারণ। রিমোট ওয়ার্কের প্রবণতা বৃদ্ধির ফলে অফিস সম্পত্তির মূল্য হ্রাস পাচ্ছে এবং ব্যাংকগুলো ডিফল্ট ও লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে।
৬. সিগনেচার ব্যাংক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) – ক্রিপ্টো এক্সপোজারের খেসারত
মার্চ ২০২৩-এ সিগনেচার ব্যাংক ব্যর্থ হয়, যা মার্কিন ব্যাংকিং সংকটের তৃতীয় শিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি সেক্টরে ব্যাংকটির উচ্চ এক্সপোজার এবং সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের পতনের পর কনট্যাজিয়ন ইফেক্ট এই ব্যর্থতার কারণ।
ব্যাংকটি ডিজিটাল অ্যাসেট কোম্পানিগুলোর জন্য একটি প্রধান ব্যাংকার ছিল এবং ক্রিপ্টো মার্কেটের অস্থিরতা সরাসরি এর আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে। নিয়ন্ত্রকরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এবং ব্যাংকটি বন্ধ করে দেয়।
৭. সিলভারগেট ব্যাংক (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) – ক্রিপ্টো ব্যাংকিং সংকট
সিলভারগেট ব্যাংক ২০২৩ সালের মার্চে তার কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। ক্রিপ্টোকারেন্সি ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিশেষায়িত এই ব্যাংকটি FTX এক্সচেঞ্জের পতন এবং ক্রিপ্টো মার্কেটের ধসের কারণে গুরুতর চাপের সম্মুখীন হয়।
ব্যাংকটি তার ক্লায়েন্টদের উইথড্রয়াল মেটাতে প্রয়োজনীয় নগদ সংগ্রহ করতে পারেনি এবং স্বেচ্ছায় লিকুইডেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। এটি ক্রিপ্টো-ফোকাসড ব্যাংকিং মডেলের ঝুঁকি তুলে ধরে।
ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে চান? জেনে নিন ৭টি সহজ উপায়
৮. ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো – জার্মানির দুর্বল প্রবৃদ্ধি
ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের নভেম্বর ২০২৫ ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিভিউ অনুযায়ী, ইউরোপের ব্যাংকগুলো ট্যারিফ-সেনসিটিভ ফার্মগুলোতে ক্রেডিট ঝুঁকি এক্সপোজার এবং নন-ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনের সাথে শক্তিশালী ফান্ডিং সম্পর্কের কারণে চাপের মুখে রয়েছে।
জার্মানিতে পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুতর, যেখানে ২০২৫ সালে মাত্র ০.৭% প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত, ২০২৪ সালে ০.২% সংকোচনের পর। ইউরো এরিয়ার GDP প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালে মাত্র ১.২% প্রজেক্ট করা হয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর লাভজনকতায় চাপ সৃষ্টি করছে।
৯. তুর্কি ব্যাংকগুলো – রেটিং চাপ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা
TAB Insights এর ১০০০ ওয়ার্ল্ডস স্ট্রংগেস্ট ব্যাংকস র্যাঙ্কিং ২০২৫ অনুযায়ী, তুর্কি ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল স্কোর পেয়েছে। Akbank, Vakifbank, এবং Denizbank Anonim Sirketi সহ তুর্কি ব্যাংকগুলো উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, লিরার অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
ব্যাংকগুলোর ক্যাপিটাল র্যাশিও এবং লিকুইডিটি মেট্রিক্স নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাংকিং সেক্টরে অতিরিক্ত চাপ যোগ করছে।
১০. ভারতীয় পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলো – NPL সমস্যা
Equitymaster এর সেপ্টেম্বর ২০২৫ রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছু ভারতীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনুপাতে দুর্বল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া এবং জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর ব্যাংক সহ বেশ কিছু পাবলিক সেক্টর ব্যাংক নন-পারফর্মিং অ্যাসেট (NPA) এবং ক্যাপিটাল অ্যাডিকোয়াসি নিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
যদিও ভারতীয় ব্যাংকিং সেক্টর সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল, তবু নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক অপারেশনাল দক্ষতা এবং সম্পদের গুণমানে উন্নতি প্রয়োজন।
ব্যাংক দুর্বলতার মূল কারণসমূহ
| কারণ | বিবরণ | প্রভাবিত ব্যাংক |
|---|---|---|
| সুদের হার বৃদ্ধি | বন্ড পোর্টফোলিওতে অবাস্তবায়িত ক্ষতি | সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক, ফার্স্ট রিপাবলিক |
| ব্যাংক রান | আমানতকারীদের আস্থা হারানো | ক্রেডিট সুইস, SVB |
| CRE এক্সপোজার | বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট লোনে ক্ষতি | পুলাস্কি সেভিংস, মার্কিন আঞ্চলিক ব্যাংক |
| ক্রিপ্টো ঝুঁকি | ডিজিটাল অ্যাসেট মার্কেটের অস্থিরতা | সিগনেচার, সিলভারগেট |
| নন-পারফর্মিং লোন | খেলাপি ঋণের উচ্চ মাত্রা | চীনা ব্যাংক, ভারতীয় PSB |
| রিয়েল এস্টেট সংকট | প্রপার্টি সেক্টরের পতন | চীনা আঞ্চলিক ব্যাংক |
| দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা | অপর্যাপ্ত রিস্ক কন্ট্রোল | ক্রেডিট সুইস |
| অর্থনৈতিক মন্দা | GDP প্রবৃদ্ধি হ্রাস | জার্মান ব্যাংক, ইউরোপীয় ব্যাংক |
নিয়ন্ত্রক প্রতিক্রিয়া এবং স্ট্রেস টেস্ট
ফেডারাল রিজার্ভের ২০২৫ স্ট্রেস টেস্ট রেজাল্টস অনুযায়ই, ২২টি বড় ব্যাংক যারা এই বছর পরীক্ষা করা হয়েছিল তারা প্রায় ৫৫০ বিলিয়ন ডলার লোকসান শোষণ করতে এবং কাল্পনিক চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিবার ও ব্যবসায়ে ঋণ দিতে সক্ষম। ইউরোপিয়ান ব্যাংকিং অথরিটি (EBA) এর জুলাই ২০২৫ স্ট্রেস টেস্ট নিশ্চিত করেছে যে ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো গুরুতর কাল্পনিক অর্থনৈতিক মন্দার অধীনেও স্থিতিশীল থাকবে।
তবে American Bankers Association এর ডিসেম্বর ২০২৪ রিপোর্ট সতর্ক করেছে যে ব্যাংকগুলো ২০২৫ সালে ফ্রড, সাইবার অ্যাটাক, অস্থির সুদের হার এবং নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা সহ একাধিক পরস্পর সংযুক্ত ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। প্রায় ৫৩% ব্যাংক লিডার সাইবার অ্যাটাককে তাদের সবচেয়ে বড় অপারেশনাল ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ক্রেডিট কার্ড সুরক্ষা: ৫টি অপরিহার্য সতর্কতা যা আপনার অর্থ বাঁচাবে
বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের জন্য সতর্কতা
Bank Treasury Newsletter এর সম্পাদক Ethan Heisler এর তথ্য অনুযায়ী, অনেক আঞ্চলিক এবং কমিউনিটি ব্যাংকের পোর্টফোলিও বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত (under water) অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৫০০টি প্রতিষ্ঠানের ক্যাপিটাল র্যাশিও ট্যাঞ্জিবল কমন ইক্যুইটি র্যাশিও ৫% এর নিচে, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
আমানতকারীদের তাদের ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা এবং FDIC ইন্স্যুরেন্স লিমিট সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। উচ্চ মূল্যের আমানতের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে ডাইভার্সিফাই করা একটি বুদ্ধিমান কৌশল।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি
বৈশ্বিক ব্যাংকিং সেক্টর ২০২৫ সালে এবং তার পরেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি থাকবে। IMF এবং World Bank উভয়ই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ব্যাংকিং সেক্টরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। জিওপলিটিক্যাল ঝুঁকি, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং টেকনোলজি ট্রান্সফরমেশনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাংকগুলোর জন্য অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করছে।
তবে, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত ক্যাপিটাল বাফার ব্যাংকগুলোকে ভবিষ্যতের সংকট সামলাতে সাহায্য করবে। বিনিয়োগকারী এবং আমানতকারীদের সতর্ক থাকা এবং তাদের ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈশ্বিক ব্যাংকিং সংকট ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আর্থিক সিস্টেমের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে এবং এটি স্পষ্ট যে শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রক মূলধন পর্যাপ্ততা যথেষ্ট নয়। ক্রেডিট সুইস, সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক এবং ফার্স্ট রিপাবলিক ব্যাংকের পতন আমাদের শিখিয়েছে যে আস্থা, লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট এবং শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যাংকিং স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি। চীনে ৩০০-এর বেশি ব্যাংকের নীরব বিলুপ্তি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যাংকগুলোর ক্রমাগত চাপ ইঙ্গিত করে যে সংকট এখনও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি। বিনিয়োগকারী, আমানতকারী এবং নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং শক্তিশালী আর্থিক সিস্টেম নিশ্চিত করতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরের স্থিতিশীলতা শুধুমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।











