রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর! ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা (West Bengal Government Holiday List 2026) প্রকাশ করল নবান্ন। উৎসবের মরসুমে ভ্রমণের পরিকল্পনা হোক বা নিছক বিশ্রাম, আগাম ছুটির হদিশ পেতে কে না চায়? ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই রাজ্য অর্থ দপ্তর আগামী বছরের পূর্ণাঙ্গ ছুটির তালিকা বা ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে। তবে আনন্দের খবরের মাঝেও রয়েছে এক আক্ষেপের সুর—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছুটি নষ্ট হচ্ছে রবিবারের চক্করে। পুজোর মাসে কত দিন ছুটি মিলবে? সরস্বতী পুজো বা দোলের ছুটি কি দীর্ঘ সপ্তাহান্ত বা Long Weekend-এর সুযোগ করে দিচ্ছে? এই প্রতিবেদনে রইল ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রতিটি খুঁটিনাটি তথ্য, বিশ্লেষণ এবং ভ্রমণ পরিকল্পনার টিপস।
২০২৬ সালের ছুটির তালিকার প্রাথমিক বিশ্লেষণ
নবান্নের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এনআই অ্যাক্ট (Negotiable Instruments Act) বা ১৮৮১ সালের আইন অনুযায়ী সাধারণ ছুটির সংখ্যা এবং রাজ্য সরকারের নিজস্ব ছুটির তালিকা মিলিয়ে মোট ছুটির সংখ্যা নেহাত কম নয়। তবে পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, বেশ কিছু জনপ্রিয় উৎসব এবার শনি ও রবিবার পড়ে যাওয়ায় প্রকৃত ছুটির আনন্দ কিছুটা ফিকে হতে পারে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
-
এনআই অ্যাক্ট (NI Act) অনুযায়ী ছুটি: প্রায় ২৭ দিন (কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্ত রাজ্যের ছুটি সহ)।
-
রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত ছুটি: প্রায় ২৪ দিন।
-
রবিবারের কারণে নষ্ট হওয়া ছুটি: প্রায় ৮টি গুরুত্বপূর্ণ দিন (যেমন লক্ষ্মী পুজো, কালীপুজো ইত্যাদি)।
নীচে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কোন মাসে কতগুলি ছুটি রয়েছে এবং দুর্গাপুজোর দিনক্ষণ বা নির্ঘণ্ট কেমন হলো।
২০২৬ সালের ছুটির তালিকা: এক নজরে
রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর তিনটি ভিন্ন তালিকায় (List I, List II, List III) এই ছুটির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে আমরা বিষয়টিকে সহজভাবে উপস্থাপন করছি।
উৎসবের মরসুম ও দীর্ঘ সপ্তাহান্ত (Long Weekends)
২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশ কিছু ছুটি শুক্রবার বা সোমবার পড়ায় টানা ৩-৪ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এটি সুবর্ণ সুযোগ।
-
জানুয়ারি: ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) দিয়ে বছর শুরু। এরপর ২৩ জানুয়ারি (নেতাজি জয়ন্তী) শুক্রবার। অর্থাৎ শুক্র, শনি, রবিবার—টানা ৩ দিনের ছুটি।
-
মার্চ: দোলযাত্রা পড়েছে ৩ মার্চ (মঙ্গলবার)। সোমবার একটি ক্যাজুয়াল লিভ (CL) নিলে শনি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ৪ দিনের ছুটি।
-
অক্টোবর (পুজো): দুর্গাপুজোর ছুটি শুরু হচ্ছে মহালয়ার পর থেকেই। তবে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী—পুজোর মূল দিনগুলি এবার শনি-রবি-সোমের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
২০২৫ সালের Bank Holidays: পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ব্যাংক ছুটির সম্পূর্ণ তালিকা
পূর্ণাঙ্গ ছুটির ক্যালেন্ডার ২০২৬ (মাসের ভিত্তিতে)
পাঠকদের সুবিধার্থে আমরা মাস অনুযায়ী ছুটির তালিকা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করছি। এটি আপনাকে সারা বছরের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।
জানুয়ারি ২০২৬: ছুটির মেজাজে বছর শুরু
বছরের শুরুটাই হচ্ছে ছুটি দিয়ে। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে ১ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারি দপ্তরে ছুটি থাকে।
-
১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার): ইংরেজি নববর্ষ।
-
১২ জানুয়ারি (সোমবার): স্বামী বিবেকানন্দ জন্মজয়ন্তী। (শনি, রবি, সোম—৩ দিনের উইকেন্ড)।
-
২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার): নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিবস। (শুক্র, শনি, রবি—আবারও ৩ দিনের উইকেন্ড)।
-
২৬ জানুয়ারি (সোমবার): প্রজাতন্ত্র দিবস। (জাতীয় ছুটি)।
টিপস: জানুয়ারি মাসে দুটি নিশ্চিত লং উইকেন্ড পাওয়া যাচ্ছে। শীতের আমেজে কাছেপিঠে ঘোরার জন্য এটি সেরা সময়।
ফেব্রুয়ারি ও মার্চ ২০২৬: বসন্তের ছোঁয়া ও দোল উৎসব
ফেব্রুয়ারি মাসে সরস্বতী পুজো এবং শিবরাত্রি উপলক্ষে আংশিক বা পূর্ণ ছুটির সুযোগ থাকে।
-
১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার): পঞ্চানন বর্মার জন্মদিবস (শনিবার হওয়ায় অনেকের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিশে যাবে)।
-
১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার): শিবরাত্রি (অনেক দপ্তরে এটি ঐচ্ছিক বা বিশেষ ছুটি হতে পারে)।
-
৩ মার্চ (মঙ্গলবার): দোলযাত্রা।
-
৪ মার্চ (বুধবার): হোলি (দোলযাত্রার পরের দিন)।
-
১৭ মার্চ (মঙ্গলবার): হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী (মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশ তিথি)।
এপ্রিল ২০২৬: নববর্ষ ও ঈদের আমেজ
এপ্রিল মাস মানেই বাঙালির পয়লা বৈশাখ।
-
৩ এপ্রিল (শুক্রবার): গুড ফ্রাইডে (Good Friday)। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলেও এটি গেজেটেড ছুটি। শুক্র, শনি, রবি—টানা ৩ দিন ছুটি।
-
১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার): ডঃ বি আর আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী।
-
১৫ এপ্রিল (বুধবার): বাংলা নববর্ষ (পয়লা বৈশাখ)।
মে ও জুন ২০২৬: গ্রীষ্মের ছুটি ও রবীন্দ্রজয়ন্তী
-
১ মে (শুক্রবার): মে দিবস বা শ্রম দিবস। (টানা ৩ দিনের ছুটি)।
-
৯ মে (শনিবার): রবীন্দ্রজয়ন্তী। (শনিবার পড়ায় যাঁদের শনি-রবি ছুটি, তাঁদের একটি ছুটি নষ্ট)।
-
২৭ মে (বুধবার): ঈদ-উদ-জোহা (বকরি ঈদ)। *চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল।
-
২৬ জুন (শুক্রবার): মহরম। (আবারও শুক্র-শনি-রবি—৩ দিনের ছুটি)।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর: বর্ষা ও প্রাক-পুজো পর্ব
-
১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার): রথযাত্রা।
-
১৫ আগস্ট (শনিবার): স্বাধীনতা দিবস। (শনিবার হওয়ায় সরকারি কর্মীদের একটি ছুটি নষ্ট)।
-
২৬ আগস্ট (বুধবার): ফাতেহা-দোয়াজ-দাহাম।
-
২৮ আগস্ট (শুক্রবার): রাখি পূর্ণিমা ( Rakhi Bandhan)।
-
৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার): জন্মাষ্টমী।
-
১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার): বিশ্বকর্মা পুজো (ইচ্ছামতো ছুটির সুযোগ থাকে অনেক ক্ষেত্রে)।
দুর্গাপুজো ২০২৬: কবে কী বার?
বাঙালির ক্যালেন্ডারে সবচেয়ে বড় দাগটি থাকে দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে। ২০২৬ সালে মা দুর্গা আসছেন অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। নবান্নের তালিকা অনুযায়ী পুজোর ছুটির বিন্যাস নিম্নরূপ:
| উৎসব | তারিখ (২০২৬) | বার |
| মহালয়া | ১০ অক্টোবর | শনিবার |
| মহা সপ্তমী | ১৮ অক্টোবর | রবিবার |
| মহা অষ্টমী | ১৯ অক্টোবর | সোমবার |
| মহা নবমী | ২০ অক্টোবর | মঙ্গলবার |
| বিজয়া দশমী | ২০/২১ অক্টোবর | মঙ্গল/বুধবার |
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালে দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্টটি একটু মন খারাপ করা হতে পারে চাকরিজীবীদের জন্য। কারণ—
-
মহালয়া পড়েছে শনিবার।
-
সপ্তমী পড়েছে রবিবার। অর্থাৎ পুজোর শুরুর গুরুত্বপূর্ণ দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই চলে যাচ্ছে।
-
অষ্টমী ও নবমী সোম ও মঙ্গলবার। রাজ্য সরকারি কর্মীরা সাধারণত চতুর্থী বা পঞ্চমী থেকেই টানা ছুটি পান, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে প্রভাব কম পড়লেও বেসরকারি কর্মীদের জন্য রবিবার সপ্তমী হওয়াটা ছুটির হিসেবে লোকসান।
লক্ষ্মী পুজো ও কালীপুজোয় ছুটির খরা:
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে লক্ষ্মী পুজো এবং কালীপুজোর ক্ষেত্রে।
-
২৫ অক্টোবর (রবিবার): লক্ষ্মী পুজো। (ছুটি নষ্ট)।
-
৮ নভেম্বর (রবিবার): কালীপুজো/দিওয়ালি। (ছুটি নষ্ট)।
পরপর দুটি বড় উৎসব রবিবারে পড়ায় ২০২৬ সালে এই দুটি দিনের জন্য আলাদা করে কোনো ছুটি পাওনা হবে না সাধারণ ডিউটি রস্টারে থাকা কর্মীদের।
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ২০২৫ সালের ছুটি: কমল বেশ কয়েকটি ছুটি
রাজ্য সরকারি ছুটির তালিকা: তালিকা ১ ও তালিকা ২-এর বিভাজন
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ছুটির তালিকা সাধারণত তিনটি ভাগে বিভক্ত থাকে। পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে এখানে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।
লিস্ট ১ (List I): এনআই অ্যাক্ট বা ১৮৮১ সালের আইন অনুযায়ী ছুটি
এই ছুটিগুলি ব্যাংক, ট্রেজারি এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
১. জন্মদিন (বিবেকানন্দ)
২. প্রজাতন্ত্র দিবস
৩. দোলযাত্রা
৪. মহাবীর জয়ন্তী
৫. গুড ফ্রাইডে
৬. ঈদ-উল-ফিতর
৭. বুদ্ধ পূর্ণিমা
৮. স্বাধীনতা দিবস
৯. গান্ধী জয়ন্তী
১০. বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর)
লিস্ট ২ (List II): রাজ্য সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ছুটি
এই দিনগুলিতে রাজ্যের সমস্ত অফিস বন্ধ থাকে, তবে এটি এনআই অ্যাক্টের অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে।
১. ইংরেজি নববর্ষ
২. নেতাজি জয়ন্তী (এনআই অ্যাক্টের বাইরেও রাজ্য একে বিশেষ গুরুত্ব দেয়)
৩. সরস্বতী পুজো (সাধারণত পঞ্চমী ও তার পরের দিন ছুটি থাকে)
৪. শিবরাত্রি
৫. জন্মাষ্টমী
৬. রথযাত্রা
৭. রাখি বন্ধন
৮. ভ্রাতৃদ্বিতীয়া (ভাইফোঁটা)
লিস্ট ৩ (List III): সেকশনাল হলিডে (Sectional Holidays)
এগুলি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সংরক্ষিত ছুটি। যেমন:
-
শবে বরাত (মুসলিম সম্প্রদায়)
-
ইস্টার স্যাটারডে (খ্রিস্টান সম্প্রদায়)
-
ছট পুজো (বিহারি ও হিন্দিভাষী সম্প্রদায়—যদিও বর্তমানে এটি রাজ্যে সার্বজনীন ছুটির মর্যাদা পায়)
-
হুল দিবস (আদিবাসী সম্প্রদায়)
-
করম পুজো
ছুটি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও তথ্য
নবান্ন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ছুটির বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে, যা জানা অত্যন্ত জরুরি:
১. চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীলতা: মুসলিম উৎসবগুলি (ঈদ, মহরম, শবে বরাত) চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। তাই ক্যালেন্ডারে দেওয়া তারিখ ১ দিন এদিক-ওদিক হতে পারে। সরকার যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তা জানিয়ে দেয়।
২. রবিবার ও ছুটির সংঘাত: যদি কোনো সরকারি ছুটি রবিবার পড়ে, তবে তার জন্য সাধারণত বিকল্প বা ‘Compensatory Leave’ দেওয়া হয় না। ২০২৬ সালে লক্ষ্মী পুজো এবং কালীপুজোর ক্ষেত্রে এটিই প্রযোজ্য হবে।
৩. নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট: ব্যাংকের ছুটির তালিকা এবং রাজ্য সরকারের সাধারণ প্রশাসনিক দপ্তরের ছুটির তালিকায় সামান্য পার্থক্য থাকে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে ১ এপ্রিল (অ্যানুয়াল ক্লোজিং) ছুটি থাকে, যা সাধারণ সরকারি অফিসে থাকে না।
২০২৬ বনাম ২০২৫: ছুটির তুলনামূলক চিত্র
২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালটি ছুটির নিরিখে কিছুটা “আনলাকি” বলা যেতে পারে।
-
২০২৫: দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলি ছিল সপ্তাহের মাঝে, ফলে ছুটির আমেজ ছিল দীর্ঘ। কালীপুজোও ছিল কাজের দিনে।
-
২০২৬: মহালয়া, সপ্তমী, লক্ষ্মী পুজো, কালীপুজো—সবই শনি অথবা রবিবারে। ফলে “লস্ট হলিডে” বা নষ্ট হওয়া ছুটির সংখ্যা ২০২৬-এ অনেক বেশি।
তবে আশার কথা হলো, ২০২৬-এ বেশ কয়েকটি জাতীয় ছুটি (National Holidays) এবং উৎসব শুক্রবার বা সোমবার পড়ায় উইকেন্ড ট্রিপের (Weekend Trip) সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব।
ভ্রমণের পরিকল্পনা ও লং উইকেন্ড গাইড ২০২৬
ছুটির তালিকা হাতে পাওয়ার পর প্রথম কাজই হলো ভ্রমণের প্ল্যান করা। ২০২৬ সালে কোথায় যাবেন?
-
জানুয়ারি (২৩-২৫): নেতাজি জয়ন্তীর উইকেন্ডে উত্তরবঙ্গ বা পুরুলিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন। শীতের শেষে পলাশের দেখা মিলতে পারে।
-
মার্চ (দোল): দোলের ছুটিতে শান্তিনিকেতন বা পুরী ভ্রমণের জন্য আদর্শ।
-
জুন ও আগস্ট: বর্ষাকালে উত্তরবঙ্গ বা দিঘা-মন্দারমণি হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। ১৫ আগস্ট শনিবার হলেও শুক্রবার একটি ছুটি নিয়ে ৩ দিনের প্ল্যান করা যায়।
-
অক্টোবর (পুজো): যদিও সপ্তমী রবিবার, তবুও পুজোর সময় টানা ৪-৫ দিনের ছুটি হাতে থাকে। এই সময়ে হিমাচল, কাশ্মীর বা বিদেশের কোনো ট্যুর প্ল্যান করা যেতে পারে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ছুটির তালিকাটি মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন বছরের শুরুতেই একাধিক লং উইকেন্ডের হাতছানি, অন্যদিকে বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো, লক্ষ্মী পুজো ও কালীপুজোয় ছুটির দিনগুলি শনি-রবিবারের গ্রাসে চলে যাওয়ায় কিছুটা মন খারাপের কারণ রয়েছে। তবুও, নবান্নের এই আগাম বিজ্ঞপ্তি সাধারণ মানুষকে তাঁদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক পরিকল্পনা সাজাতে যথেষ্ট সাহায্য করবে।
সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া—সবার চোখ এখন এই ক্যালেন্ডারের দিকেই। আপনিও আজই আপনার ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে নিন ছুটির দিনগুলি এবং এখন থেকেই শুরু করুন আপনার পরবর্তী ভ্রমণের পরিকল্পনা!











