মাধ্যমিক পরীক্ষার কাউন্টডাউন শুরু! ঠিক এক সপ্তাহ বাকি—পুরো রুটিন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে মিলিয়ে নিন

Madhyamik Exam 2026 Complete Routine: পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) কর্তৃক আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ এখন দোরগোড়ায়। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ…

Laboni Das

 

Madhyamik Exam 2026 Complete Routine: পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) কর্তৃক আয়োজিত মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ এখন দোরগোড়ায়। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা । প্রায় ৯.৮৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই বছর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ৩,৫০০-এর বেশি কেন্দ্রে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে । এই নিবন্ধে মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর সম্পূর্ণ রুটিন, গুরুত্বপূর্ণ তারিখ, পরীক্ষার নিয়মকানুন এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

পরীক্ষার সময়সূচী এবং তারিখ

পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ ৬ মে, ২০২৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর সম্পূর্ণ রুটিন প্রকাশ করেছে । রুটিন অনুযায়ী, পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০:৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রথম ১৫ মিনিট শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য বরাদ্দ থাকবে । এর মানে পরীক্ষার্থীরা ১৫ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়তে পারবেন এবং এরপর ৩ ঘণ্টা উত্তর লেখার জন্য সময় পাবেন ।

পরীক্ষা শুরু হবে ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সোমবার প্রথম ভাষা দিয়ে এবং সমাপ্ত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বৃহস্পতিবার ঐচ্ছিক বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে । মোট ১১ দিনে আটটি প্রধান বিষয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । প্রতিটি পরীক্ষার পূর্ণমান ৮০০ নম্বর এবং পাস করার জন্য ন্যূনতম ২৭২ নম্বর প্রয়োজন ।

সম্পূর্ণ পরীক্ষার রুটিন

পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ কর্তৃক প্রকাশিত অফিশিয়াল রুটিন অনুযায়ী মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর বিষয়ভিত্তিক সময়সূচী নিম্নরূপ:

তারিখ দিন বিষয় পরীক্ষার সময়
২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সোমবার প্রথম ভাষা (বাংলা/ইংরেজি/অন্যান্য) সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ মঙ্গলবার দ্বিতীয় ভাষা (ইংরেজি/বাংলা/নেপালি) সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ শুক্রবার ইতিহাস সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ শনিবার ভূগোল সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সোমবার গণিত সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ মঙ্গলবার ভৌতবিজ্ঞান সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বুধবার জীবনবিজ্ঞান সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বৃহস্পতিবার ঐচ্ছিক বিষয়সমূহ সকাল ১০:৪৫ – দুপুর ২:০০

এই রুটিনে লক্ষণীয় যে, পরীক্ষাগুলি একটানা ৪-৫ দিন চলার পরিবর্তে মধ্যে বিরতি রয়েছে । উদাহরণস্বরূপ, দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষার পর ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি কোনও পরীক্ষা নেই, যা পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী বিষয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেয় ।

ভাষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রথম ভাষার অন্তর্গত রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, গুজরাটি, হিন্দি, আধুনিক তিব্বতি, নেপালি, ওড়িয়া, গুরুমুখী (পাঞ্জাবি), তেলুগু, তামিল, উর্দু এবং সাঁওতালি । দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে যদি প্রথম ভাষা ইংরেজি ছাড়া অন্য কিছু হয়, তাহলে ইংরেজি বাধ্যতামূলক । আর যদি প্রথম ভাষা ইংরেজি হয়, তাহলে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা বা নেপালি নিতে হবে ।

প্র্যাকটিক্যাল এবং বিশেষ বিষয়ের পরীক্ষা

কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ের থিওরি পরীক্ষার সময়কাল হবে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট, এবং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা স্কুল পর্যায়ে নেওয়া হবে । সংগীত (কণ্ঠসংগীত ও যন্ত্রসংগীত) বিষয়ের থিওরি অংশের পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট, এবং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শুধুমাত্র কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে যার তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে । সেলাই এবং সূচিশিল্প পরীক্ষার সময়কাল হবে ৪ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ।

ভোকেশনাল বিষয়গুলির থিওরি পরীক্ষা ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের হবে এবং প্র্যাকটিক্যাল অংশ সেক্টর স্কিল কাউন্সিল বা স্কুল কর্তৃক পরিচালিত হবে । শারীরিক শিক্ষা এবং সমাজসেবা বিষয়ের পরীক্ষার তারিখ পরে ঘোষণা করা হবে ।

WBCS পরীক্ষার নতুন প্যাটার্ন: পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ! জেনে নিন সব পরিবর্তন

প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার বিশদ সময়সূচী

থিওরি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষাগুলি অনুষ্ঠিত হবে । কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং ফিজিক্যাল এডুকেশনের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা স্কুল পর্যায়ে পরিচালিত হবে । সংগীত সম্পর্কিত প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শুধুমাত্র কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে এবং এর জন্য আলাদা নোটিফিকেশন জারি করা হবে ।

অ্যাডমিট কার্ড বিতরণ

পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড প্রকাশ করেছে । স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা পর্ষদ কর্তৃক আয়োজিত ক্যাম্প অফিস থেকে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন । এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এই অ্যাডমিট কার্ড বিতরণ করবেন ।

অ্যাডমিট কার্ডে যদি কোনও তথ্যগত ভুল বা বিসংগতি থাকে, তাহলে পরীক্ষা শুরুর আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সংশোধন করিয়ে নিতে হবে । পরীক্ষার প্রতিটি দিন অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক ।

পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং পরিসংখ্যান

এই বছর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় ৯.৮৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে । গত বছর ২০২৫ সালে মোট ৯,১২,৫৯৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৪,০৩,৯০০ জন ছিলেন পুরুষ এবং ৫,০৮,৬৯৮ জন ছিলেন মহিলা পরীক্ষার্থী । ২০২৫ সালে সামগ্রিক পাস শতাংশ ছিল ৮৬.৩১% ।

পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে । গত বছর এই জেলায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২৮,৪২৯ জন, যেখানে এই বছর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০,৪৯৭ জনে, অর্থাৎ ২,০০০-এর বেশি পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে ।

আসানসোল মহকুমায় এই বছর মোট ১০টি মূল পরীক্ষাকেন্দ্র এবং ৪২টি সাব-ভেন্যু থাকবে, যেখানে গত বছর ছিল ৪১টি সাব-ভেন্যু । আসানসোল মহকুমায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের ১৬,৮৯৫ থেকে বেড়ে এই বছর ১৮,০১৪ হয়েছে । দুর্গাপুর মহকুমায় মূল পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ১২টি এবং ২৩টি সাব-ভেন্যু, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের ১১,৫৩৪ থেকে বেড়ে ১২,৪৮৩ হয়েছে ।

পরীক্ষাকেন্দ্র এবং পরিচালনা

পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ৩,৫০০-এর বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে যেখানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । প্রতিটি জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং শিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনও অসুবিধা না হয় ।

পরীক্ষা পরিচালনা এবং নিরীক্ষার জন্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করছেন । পর্ষদ প্রয়োজনে নির্ধারিত তারিখ বা সময় পরিবর্তন করার অধিকার সংরক্ষণ করে এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথভাবে অবহিত করা হবে ।

মার্কিং স্কিম এবং পাস নম্বর

মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর জন্য মোট পূর্ণমান ৮০০ নম্বর । পরীক্ষায় পাস করার জন্য পরীক্ষার্থীদের ন্যূনতম ২৭২ নম্বর অর্জন করতে হবে, যা মোট নম্বরের ৩৪% এর সমতুল্য । তবে, সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুসারে মোট নম্বরের ২৫% পেলেই পরীক্ষার্থীরা পাস হিসেবে গণ্য হবেন ।

বিভাগভিত্তিক নম্বর বিভাজন নিম্নরূপ:

বিভাগ প্রয়োজনীয় নম্বর
প্রথম বিভাগ ৪৮০ বা তার বেশি (৬০%)
দ্বিতীয় বিভাগ ৩৬০ বা তার বেশি (৪৫%)
তৃতীয় বিভাগ ২৭২ বা তার বেশি (৩৪%)

প্রতিটি বিষয়ে পৃথকভাবে পাস করতে হবে এবং থিওরি ও প্র্যাকটিক্যাল মিলিয়ে নম্বর গণনা করা হবে । যদি কোনও পরীক্ষার্থী কোনও বিষয়ে ফেল করেন, তাহলে গ্রেস মার্কস দেওয়ার বিধান রয়েছে ।

ফলাফল প্রকাশ

মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশিত হবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে, সম্ভাব্য তারিখ ২ মে, ২০২৬ । ফলাফল পর্ষদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট wbresults.nic.in এ প্রকাশিত হবে । ফলাফলে প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর এবং গ্রেড উল্লেখ থাকবে ।

যদি কোনও পরীক্ষার্থী মূল পরীক্ষায় ফেল করেন বা অংশ নিতে না পারেন, তাহলে তাদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে যা জুলাই ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে । এটি পরীক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে ।

পূর্ববর্তী বছরের পরিসংখ্যান এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ

মাধ্যমিক পরীক্ষার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাস শতাংশ উভয়ই ক্রমাগত উন্নতি করছে। ২০২৪ সালে মোট ১০,৯৮,৭৭৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সামগ্রিক পাস শতাংশ ছিল ৮৬.৬০% । সেই বছর পুরুষ পরীক্ষার্থীদের পাস শতাংশ ছিল ৮৮.৫৯% এবং মহিলা পরীক্ষার্থীদের ৮৫% ।

২০২৫ সালে পাস শতাংশ সামান্য হ্রাস পেয়ে ৮৬.৩১% হয়েছিল । তবে, পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা শিক্ষার প্রসারকে নির্দেশ করে । বিশেষত মহিলা পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা পুরুষ পরীক্ষার্থীদের তুলনায় বেশি যা লিঙ্গ সমতার দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ২০২৪ সালে ৯৭.৬৩% পাস শতাংশ নিয়ে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছিল । এই ধরনের উচ্চ পাস শতাংশ শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং পরীক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ।

পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং কৌশল

পরীক্ষার মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকায়, পরীক্ষার্থীদের জন্য সঠিক প্রস্তুতি এবং কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ২-৩টি বিষয়ের তাত্ত্বিক অধ্যয়নের পাশাপাশি গণিত এবং বিজ্ঞানের জন্য নিয়মিত অনুশীলনের পরামর্শ দেন ।

পরীক্ষার্থীদের প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দুটি বিষয়ের তত্ত্ব অধ্যয়ন, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গণিত অনুশীলন, দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিজ্ঞানের চিত্র অঙ্কন এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভাষা বিষয়ে রচনা লেখার অনুশীলন করা উচিত । রাতে বিগত বছরের প্রশ্নপত্র (২০১৫-২০২৫) সমাধানের অনুশীলন করা উচিত ।

সাপ্তাহিক ভিত্তিতে তিনটি সম্পূর্ণ মক টেস্ট দেওয়া এবং লক্ষ্য হিসেবে ৮০% বা তার বেশি নম্বর অর্জনের চেষ্টা করা উচিত । এই ধরনের নিয়মিত অনুশীলন পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং পরীক্ষার চাপ কমাতে সাহায্য করে।

অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং যোগাযোগ

পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট হল wbbse.wb.gov.in । এই ওয়েবসাইটে পরীক্ষার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন, রুটিন, সিলেবাস এবং অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়। পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত এই ওয়েবসাইট ভিজিট করা উচিত যাতে কোনও নতুন আপডেট মিস না হয়।

পর্ষদের কার্যালয় নিবেদিতা ভবন, ডিজে-৮, সেক্টর – ২, সল্টলেক, কলকাতা – ৭০০ ০৯১ তে অবস্থিত । যেকোনও সমস্যা বা প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীরা বা তাদের অভিভাবকরা পর্ষদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

পরীক্ষার দিনের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী

পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমত, পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য অ্যাডমিট কার্ড বাধ্যতামূলকভাবে সঙ্গে রাখতে হবে । দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে পৌঁছানো উচিত যাতে প্রবেশ এবং বসার ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা না হয়।

পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় স্টেশনারি যেমন কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল এবং জ্যামিতি বক্স নিয়ে যাওয়া উচিত। পরীক্ষার সময় কোনও অসদাচরণ বা নকল করার চেষ্টা গুরুতর শাস্তির কারণ হতে পারে।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে পরীক্ষার্থীদের জন্য সঠিক মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে নতুন কোনও টপিক শুরু না করে পূর্বে পড়া বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, তারিখ, ঘটনা এবং সংজ্ঞাগুলি নোট করে রাখা এবং নিয়মিত দেখা উচিত।

পরীক্ষার চাপ কমাতে পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি। প্রতিদিন কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত যাতে মস্তিষ্ক সতেজ থাকে। হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৬ একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা এবং কর্মজীবনের পথ নির্ধারণ করে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ কর্তৃক ঘোষিত রুটিন অনুযায়ী, পরীক্ষা ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রায় ৯.৮৫ লক্ষ পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেবেন। প্রতিটি পরীক্ষার্থীর জন্য এই শেষ সপ্তাহটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সঠিক প্রস্তুতি ও কৌশল অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব। পর্ষদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত আপডেট নেওয়া এবং সমস্ত নির্দেশাবলী মেনে চলা পরীক্ষার্থীদের জন্য অত্যাবশ্যক। সকল পরীক্ষার্থীর জন্য শুভকামনা এবং তাদের সফলতা কামনা করছি যাতে তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

About Author
Laboni Das

এখানে লাবনী দাশের জন্য একটি সম্ভাব্য Author Bio প্রস্তাব করছি: লাবনী দাশ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান লেখিকা এবং সাংবাদিক, যিনি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয়ে লিখে থাকেন। তাঁর লেখায় সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ ফুটে ওঠে। লাবনী নিয়মিত এই ওয়েবসাইটে প্রবন্ধ, গল্প ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন