West Bengal SIR district wise deleted voters

West Bengal SIR: কোন জেলায় কত ভোটার বাদ, জেলা-ভিত্তিক সম্পূর্ণ ছবি

West Bengal SIR District Wise Deleted Voters: একটা ভোটার তালিকা আপডেট নিয়ে সাধারণত এত আলোচনা হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে SIR (Special Intensive Revision — বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে যা হয়েছে, তাতে সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক কর্মী—প্রায় সকলেরই প্রশ্ন এক: কোন…

avatar
Written By : Chanchal Sen
Updated Now: April 9, 2026 10:40 PM
বিজ্ঞাপন

West Bengal SIR District Wise Deleted Voters: একটা ভোটার তালিকা আপডেট নিয়ে সাধারণত এত আলোচনা হয় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে SIR (Special Intensive Revision — বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে যা হয়েছে, তাতে সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক কর্মী—প্রায় সকলেরই প্রশ্ন এক: কোন জেলায় কত ভোটারের নাম বাদ গেল, আর মোট ভোটার সংখ্যা এখন দাঁড়াল কত?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই দেখছেন, রাজ্যস্তরের মোট সংখ্যা পাওয়া গেলেও সব জেলার একসঙ্গে পরিষ্কার District-Wise (জেলা-ভিত্তিক) তথ্য সব সময় একই জায়গায় মিলছে না। তাই এই লেখায় আমরা তিনটি কাজ করছি—প্রথমত, রাজ্যের সামগ্রিক ছবি দিচ্ছি; দ্বিতীয়ত, যেসব জেলায় নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ্যে পাওয়া গেছে সেগুলো টেবিলে সাজাচ্ছি; তৃতীয়ত, যেখানে পূর্ণ তথ্য এখনও খোলা উৎসে স্পষ্ট নয়, সেখানে সেই সীমাবদ্ধতাও পরিষ্কার করে বলছি। এটাই দায়িত্বশীল উপায়।

উপলব্ধ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের খসড়া তালিকায় পশ্চিমবঙ্গে ৫৮,২০,৮৯৮ জনের নাম বাদ পড়েছিল। তার মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ, ডুপ্লিকেট ও অন্যান্য কারণ ছিল। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫,৪৬,০৬৩ নাম বাদ যাওয়ার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। ফলে মোট বাদ পড়া নাম ৬৩ লক্ষেরও বেশি হয়। একই সময়ে ৬০ লক্ষের বেশি নাম Under Adjudication (বিচারাধীন) হিসেবে থেকেছে, অর্থাৎ সেগুলোর চূড়ান্ত ভাগ্য তখনও স্থির হয়নি।

 পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ কী ঘটেছে?

সংক্ষেপে বললে: পশ্চিমবঙ্গে SIR-এর ফলে প্রথমে খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮.২ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। পরে প্রথম দফার চূড়ান্ত প্রকাশে আরও প্রায় ৫.৪৬ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা সামনে আসে। রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটির বেশি থাকলেও, একসঙ্গে সব নাম “নিশ্চিত” ছিল না—কারণ ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন ছিল।

SIR আসলে কী? সাধারণ ভোটারের জন্য সহজ ব্যাখ্যা

SIR (Special Intensive Revision — বিশেষ নিবিড় সংশোধন) হল ভোটার তালিকার একটি বিস্তৃত যাচাই প্রক্রিয়া। এর লক্ষ্য সাধারণত তিন ধরনের সমস্যাকে ধরতে চাওয়া—

  • মৃত ভোটারের নাম এখনও তালিকায় আছে কি না
  • কেউ অন্যত্র স্থায়ীভাবে সরে গিয়েও পুরনো জায়গায় নাম রেখেছেন কি না
  • একই ব্যক্তির নাম একাধিক জায়গায় আছে কি না

সমস্যা হল, এত বড় মাত্রার যাচাইয়ে শুধুমাত্র “ভুল নাম ধরা” হয় না; অনেক সময় বাস্তব ভোটারও নোটিশ, শুনানি, নথি-অমিল বা প্রশাসনিক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যান। তাই “বাদ” আর “ভুলভাবে বাদ”—এই দুটোকে আলাদা করে বোঝা খুব জরুরি।

ডিসি-তেই টেনশন শুরু? Election Duty Guidelines-এ DC থেকে RC পর্যন্ত পুরো কাজ একজায়গায়

পশ্চিমবঙ্গে মোট কত ভোটার বাদ পড়েছে?

খোলা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের খসড়া তালিকায় ৫,৮২০,৮৯৮ জনের নাম বাদ যায়। এর মধ্যে মৃত ২৪,১৬,৮৫২; স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত ১৯,৮৮,০৭৬; নিখোঁজ ১২,২০,০৩৮; ডুপ্লিকেট ১,৩৮,৩২৮; এবং অন্যান্য কারণে ৫৭,৬০৪ নাম বাদ পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আরও ৫,৪৬,০৬৩ নাম বাদ যায়। ফলে মোট বাদ পড়া সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩,৬৬,৯৫২-এর কাছাকাছি। একই সময়ে প্রায় ৬০,০৬,৬৭৫ নাম বিচারাধীন হিসেবে থেকে যায়। নতুন ভোটারও যোগ হয়—ফর্ম ৬ ও ফর্ম ৮ মারফত মোট প্রায় ১.৮৮ লক্ষের বেশি।

জেলা-ভিত্তিক কোথায় কত নাম বাদ? পাওয়া তথ্য একসঙ্গে

সব জেলার পূর্ণ, একীভূত অফিসিয়াল ব্রেকআপ খোলা ওয়েবে সহজে পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি জেলায় প্রকাশ্যে রিপোর্টেড সংখ্যা পাওয়া গেছে। নিচের টেবিলটি সেইসব যাচাইকৃত সংখ্যার ভিত্তিতে তৈরি। যেখানে তথ্য অসম্পূর্ণ, সেখানে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলাএসআইআর-এর আগে ভোটারবিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারমোট বাদবৈধ ভোটারের সংখ্যা
কোচবিহার২৪৯০৭৮৯১২০৭২৫২৪২৫৭০২২৪৮২১৯
আলিপুরদুয়ার১২৯৯৪৮৬৩৬০৭৮১৪৩০৫৭১১৫৬৪২৯
জলপাইগুড়ি১৯১৪০২২৩৫৩৫৬২০১২৪৮১৭১২৭৭৪
কালিম্পং২২০৮৬২৯৪০৭২১৫৩০১৯৯৩৩২
দার্জিলিং১২৯২৮৫৭৪৪২৩০১৯০০৫২১১০২৮০৫
উত্তর দিনাজপুর২৩১১৯৯০১৭৬৯৭২৩৩৩৩৪৪১৯৭৮৬৪৬
দক্ষিণ দিনাজপুর১৩৩১৫৪৮৭৬৭৬৮১৭৯৫৫৫১১৫১৯৯৩
মালদহ৩১১৯৫৩৩২৩৯৩৭৫৪৫৯৫৩০২৬৬০০০৩
মুর্শিদাবাদ৫৭৬৪০৮৫৪৫৫১৩৭৭৪৮৯৫৯৫০১৫১২৬
নদিয়া৪৪১৮৮৩৮২০৮৬২৬৪৮৭৫৬৫৩৯৩১২৭৩
উত্তর ২৪ পরগনা৮৩০০৬৮১৩২৫৬৬৬১২৬০০৯৬৭০৪০৫৮৫
দক্ষিণ ২৪ পরগনা৮৫৯৪৭০৮২২২৯২৯১০৯১০৯৮৭৫০৩৬১০
কলকাতা দক্ষিণ৯০৭৪৫৬২৮৪৬৮২৪৯৬১৯৬৫৭৮৩৭
কলকাতা উত্তর১৫০৬৩৩৯৩৯১৬৪৪৪৭৫৪৫১০৫৮৭৯৪
হাওড়া৪১৪০৯১২১৩২১৫১৫৯৫৯১৬৩৫৪৫৯৯৬
হুগলি৪৭৭৫০৯৯১২০৮১৩৪৬৮৯৩৯৪৩০৬১৬০
পূর্ব মেদিনীপুর৪২৮৩৩৪৬৯৯৫৭২১৬৫৩৪৫৪১১৮০০১
পশ্চিম মেদিনীপুর৪০১৫৮৯৭৫২২৭৭২৭৩৭০৪৩৭৪২১১৩
ঝাড়গ্রাম৯৫৪৬০০১২৪০৫৫৩৬৪৮৯৯২৩৬
পুরুলিয়া২৪২১৪৪২৫৯৪২১৯৯৭৬২২২২১৬৮০
বাঁকুড়া৩০৩৩৮৩০৬৫৩৩১৪৩৪২৫২৮৯০৪০৫
পূর্ব বর্ধমান৪১৭৮৬৯৫২০৯৮০৫৪৩৫৮৬৪৩৭৪২৮৩১
পশ্চিম বর্ধমান২৩২৭১১২৭৪১০০৩৯৪৩২৫১৯৩২৭৮৭
বীরভূম২৯৪৫৩০০৮২০৫৯২৭২৬৮৯২৬৭২৬১১

উপরের সংখ্যাগুলি সংবাদসূত্রে প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক আপডেটের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। সব জেলার একরকম বিস্তারিত তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যায়নি বলেই “অসম্পূর্ণ” বা “স্পষ্ট নয়” লেখা হয়েছে। এই সতর্কতা রাখা জরুরি, কারণ পাঠককে আন্দাজ নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া উচিত।

কোন জেলাগুলো বেশি আলোচনায় এসেছে?

১) পশ্চিম বর্ধমান

পশ্চিম বর্ধমানে সংখ্যাটা চোখে পড়ার মতো। মোট ২৩ লক্ষের বেশি ভোটারের জেলায় ৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ যাওয়ার রিপোর্ট হয়েছে। তার উপর ১.৩৭ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন—মানে গল্প এখানেই শেষ নয়। এই জেলা নিয়ে পাঠকের আগ্রহ বেশি হওয়ার কারণ, এখানে মোট বাদ ও বিচারাধীন—দুই সংখ্যাই যথেষ্ট বড়।

২) হুগলি

হুগলিতে মোট ভোটার ছিল প্রায় ৪৭.৭৫ লক্ষ। খসড়ায় ৩.১৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়, পরে আরও ১৫,৯৩২ নাম বাদ যায়। অর্থাৎ হুগলি এমন একটি জেলা, যেখানে খসড়া আর চূড়ান্ত দুই পর্যায়ের প্রভাবই স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

৩) উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা

এই দুই জেলা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি কৌতূহল থাকে, কারণ ভোটার সংখ্যাই এখানে বিশাল। কিন্তু প্রকাশ্য রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনায় বিচারাধীন নাম প্রায় ৬ লক্ষ হলেও পূর্ণ বাদ সংখ্যা সহজে স্পষ্ট করা হয়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৫ লক্ষ বিচারাধীন এবং চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫০ হাজার নাম বাদ যাওয়ার কথা জানা গেছে। এই দুই জেলা নিয়ে তাই এখনও “ফাইনাল ছবি” নিয়ে আলোচনার জায়গা রয়ে গেছে।

৪) মেদিনীপুর, দিনাজপুর, বাঁকুড়া

পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও বাঁকুড়ার রিপোর্ট দেখলে বোঝা যায়, শুধু বড় শহর বা মেগা-ডিস্ট্রিক্ট নয়—অনেক জেলাতেই বাদ পড়া নাম ও বিচারাধীন সংখ্যার প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ দিনাজপুরে মোট বাদ ১ লক্ষের বেশি এবং বিচারাধীনও ১.৩২ লক্ষের বেশি।

“বাদ” আর “বিচারাধীন” এক জিনিস নয়—এটা কেন মনে রাখা দরকার?

এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি হয়। কেউ যদি বলে “এই জেলায় ৫ লক্ষ নামের সমস্যা”, তার মানে সব ৫ লক্ষই বাদ গেছে—এ কথা ঠিক নাও হতে পারে। কারণ অনেক নাম Under Adjudication (বিচারাধীন) থাকে, অর্থাৎ শুনানি, যাচাই বা নথি-পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

সরলভাবে ধরুন, একটি জেলার ২ লক্ষ নাম “বিচারাধীন”। তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত কিছু নাম বৈধ প্রমাণিত হয়ে ফিরে আসতে পারে, কিছু নাম বাদও যেতে পারে। তাই “মোট সমস্যাগ্রস্ত নাম” আর “চূড়ান্তভাবে বাদ” — এই দুই সংখ্যাকে সবসময় আলাদা করে দেখা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের SIR বিতর্ক বুঝতে এই পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যজুড়ে এত বিতর্ক কেন হল?

বিতর্কের মূল কারণ তিনটি। প্রথমত, সংখ্যাটা খুব বড়। দ্বিতীয়ত, বহু জায়গায় সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেননি তাঁদের নাম বাদ গেছে, না বিচারাধীন আছে, না অন্য কোনও নথিগত সমস্যায় আটকে আছে। তৃতীয়ত, জেলা-ওয়ারি সব তথ্য এক জায়গায় পরিষ্কারভাবে না আসায় গুজব ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা আরও বেড়েছে।

খোলা সূত্রে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে পূর্ব বর্ধমানের একটি বুথে ৯০০-র কিছু বেশি ভোটারের মধ্যে ১৪১ জন নোটিশ পান এবং ১৩৮ নাম বাদ যায়; আবার হাসনাবাদের কয়েকটি বুথে প্রায় ৭০০ ভোটার বাদ পড়া নিয়ে বিক্ষোভ হয়। মালদায় বিচারপ্রক্রিয়া ঘিরে উত্তেজনার খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু সংখ্যা নয়, সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা এখন কত?

এই প্রশ্নের উত্তরও একরৈখিক নয়, কারণ আলাদা রিপোর্টে আলাদা স্তরের সংখ্যা ব্যবহার হয়েছে। এক সূত্রে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির প্রকাশনায় রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭,০৪,৫৯,২৮৪ বলা হয়। আবার অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়, ৬০ লক্ষের বেশি বিচারাধীন নাম বাদ দিলে “নিশ্চিত” ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬.৪৪ কোটি। এই পার্থক্য আসছে “মোট প্রকাশিত নাম” বনাম “নিশ্চিতভাবে অনুমোদিত ভোটার” — এই দুই ফ্রেমের ব্যবহারে।

সোজা কথায়: যদি আপনি সংখ্যাটা পড়েন, আগে দেখে নিন সেটা Published Roll (প্রকাশিত তালিকা), না Approved Electors (নিশ্চিত অনুমোদিত ভোটার), না Under Adjudication বাদে হিসাব। না হলে বিভ্রান্তি হবেই।

ভয় পাবেন না, কিন্তু অবহেলাও নয়—বাচ্চাদের অণ্ডকোষ বড়-ছোট হওয়ার কারণ

আপনার জেলায় পূর্ণ সংখ্যা না পেলে কীভাবে দেখবেন?

অনেক পাঠকেরই প্রশ্ন—“আমার জেলার পূর্ণ ব্রেকআপ কোথায়?” বাস্তব উত্তর হল, সব জেলার সহজে উদ্ধৃতযোগ্য একীভূত খোলা তালিকা সবসময় সামনে আসে না। সে ক্ষেত্রে আপনি তিনভাবে বিষয়টি দেখবেন:

  • জেলা-ওয়ারি রিপোর্টেড সংখ্যা দেখুন
  • নিজের Booth (ভোটকেন্দ্র) বা Assembly Constituency (বিধানসভা কেন্দ্র) অনুযায়ী তালিকা মিলিয়ে নিন
  • নামের পাশে Deleted (বাদ), Approved (অনুমোদিত), না Under Adjudication (বিচারাধীন) লেখা আছে, তা পরীক্ষা করুন

এখানে একটা ব্যবহারিক কথা আছে: একই জেলার ভিতরেও সব কেন্দ্রের চিত্র এক নয়। তাই “জেলায় এত নাম বাদ” শুনে ভয় পাওয়ার আগে নিজের নামের স্ট্যাটাস দেখাই বেশি জরুরি।

ভোটার হিসেবে আপনার কী কী মাথায় রাখা দরকার?

নাম কাটা গেছে শুনলেই আতঙ্কিত হবেন না

প্রথমে দেখুন সেটি চূড়ান্তভাবে Deleted (বাদ), না Under Adjudication (বিচারাধীন)। দুটো এক নয়।

নিজের নথির বানান মেলান

নাম, বয়স, ঠিকানা, পরিবারের সদস্যের সম্পর্ক—এই জায়গাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয়। ছোট বানানভুলও অনেক সময় বড় সমস্যা তৈরি করে।

শুধু সামাজিক মাধ্যমে ভরসা করবেন না

একটি জেলার একটি অংশে যা হয়েছে, তা পুরো জেলার ছবি নয়। আর পুরো জেলার ছবি, পুরো রাজ্যের ছবিও নয়।

FAQ: পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ মোট কত নাম বাদ গেছে?

প্রকাশ্য রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮.২ লক্ষ নাম বাদ যায়। পরে প্রথম দফার চূড়ান্ত পর্যায়ে আরও প্রায় ৫.৪৬ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার কথা সামনে আসে। ফলে মোট বাদ পড়া নাম ৬৩ লক্ষেরও বেশি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। :contentReference[oaicite:13]{index=13}

সব জেলার পূর্ণ তালিকা কি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়?

সব জেলার একত্র, সহজে উদ্ধৃতযোগ্য পূর্ণ ব্রেকআপ সবসময় খোলা উৎসে মিলছে না। কিছু জেলা সম্পর্কে নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া গেছে, কিছু ক্ষেত্রে আংশিক তথ্য মিলেছে, আবার কিছু জেলার ক্ষেত্রে শুধু বিচারাধীন সংখ্যা জানা গেছে। তাই অসম্পূর্ণ তথ্যকে পূর্ণ সত্য হিসেবে ধরলে ভুল হবে।

বিচারাধীন নাম মানে কি ভোটার তালিকা থেকে নিশ্চিত বাদ?

না, একেবারেই না। Under Adjudication (বিচারাধীন) মানে নামটি এখনও শুনানি বা যাচাইয়ের পর্যায়ে আছে। শেষ পর্যন্ত সেই নাম অনুমোদিতও হতে পারে, আবার বাদও যেতে পারে—অর্থাৎ এটি চূড়ান্ত ডিলিশন নয়।

কোন কোন জেলায় বেশি আলোচনা হয়েছে?

উপলব্ধ জেলা-ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বেশি আলোচনায় এসেছে। এর কারণ কোথাও বাদ পড়া নামের সংখ্যা বেশি, কোথাও বিচারাধীন সংখ্যা বড়, আবার কোথাও পূর্ণ স্বচ্ছতা না থাকায় প্রশ্ন বেড়েছে।

জেলার সংখ্যা শুনে কি আমার নিজের নামের ভবিষ্যৎ বোঝা যাবে?

পুরোপুরি নয়। জেলা-স্তরের সংখ্যা আপনাকে বড় ছবি দেয়, কিন্তু আপনার ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস জানতে হলে নিজের কেন্দ্র বা বুথ অনুযায়ী নামের অবস্থা দেখতে হবে। কারণ একই জেলার এক অংশে যে সমস্যা, অন্য অংশে তা নাও থাকতে পারে।

শেষ কথা

পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু নাম বাদ যাওয়া নয়, তথ্য বোঝার জটিলতা। রাজ্যস্তরে সংখ্যা বিশাল, জেলা-ভিত্তিক তথ্য আংশিক, আর “বাদ” ও “বিচারাধীন” শব্দদুটো নিয়ে বিভ্রান্তি প্রচুর। তাই বিষয়টা ঠান্ডা মাথায় দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে দায়িত্বশীল উপসংহার হল—হ্যাঁ, পশ্চিমবঙ্গে বহু নাম বাদ গেছে; হ্যাঁ, কিছু জেলায় বড় প্রভাব পড়েছে; কিন্তু সব জেলার পূর্ণ ছবিকে এক লাইনে নামিয়ে আনা ঠিক হবে না। যেখানে নির্ভরযোগ্য সংখ্যা পাওয়া গেছে, সেখানে তা ব্যবহার করতে হবে; যেখানে পাওয়া যায়নি, সেখানে “জানা যায়নি” বলাটাই সৎ সাংবাদিকতা। পাঠকের আস্থাই শেষ কথা।