পশ্চিমবঙ্গে শীতের দাপট দিন দিন বাড়ছে । ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাবে বলে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে । ২০ ডিসেম্বর কলকাতায় মরশুমের শীতলতম দিন রেকর্ড করা হয়, যখন তাপমাত্রা নেমেছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে । পশ্চিমের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ।
ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আরও বাড়বে শীত
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ অংশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকবে । পশ্চিমবঙ্গও এই তালিকায় রয়েছে, যেখানে আগামী সপ্তাহে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে । উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ।
কলকাতার বর্তমান তাপমাত্রা পরিস্থিতি
কলকাতায় ইতিমধ্যেই শীতের প্রকোপ শুরু হয়ে গেছে। ২০ ডিসেম্বর শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মরশুমের সবচেয়ে কম । নভেম্বর মাসে কলকাতার তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল, যখন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস । ডিসেম্বর মাসের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৭-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তবে এবছর তা স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে ।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার তাপমাত্রা পূর্বাভাস
| অঞ্চল | সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস) | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| পশ্চিমের জেলা | ৮-১২ | সবচেয়ে ঠান্ডা অঞ্চল |
| উপকূলবর্তী জেলা | ১২-১৫ | মাঝারি শীত |
| কলকাতা | ১৪-১৬ | শহুরে এলাকা |
| উত্তরবঙ্গ (দার্জিলিং) | ৪-৬ | পাহাড়ি এলাকা |
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম দিকের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে, যা সবচেয়ে ঠান্ডা বলে বিবেচিত । উপকূল ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে । দার্জিলিং ও পাহাড়ি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে ।
উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ
উত্তরবঙ্গে শীতের তীব্রতা দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি। দার্জিলিং ও পাহাড়ি এলাকায় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে । আগামী কয়েকদিন এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে । ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে উত্তরবঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে এবং তাপমাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না ।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতি
দক্ষিণবঙ্গে রাত ও দিন উভয় সময়ে শুষ্ক ঠান্ডার দাপট রয়েছে। তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকের নীচে চলে গেছে এবং আগামী এক সপ্তাহ এই প্রবণতা বজায় থাকবে । সকালবেলায় হালকা কুয়াশা বা ধোঁয়াশা দেখা যেতে পারে, তবে বেলা বাড়লে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে । বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে ।
কুয়াশা ও দৃশ্যমানতার সমস্যা
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে সকাল ও রাতের দিকে কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঘন কুয়াশা দেখা গেছে । উপকূল ও সংলগ্ন এলাকায় কুয়াশার চাদর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে । দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে
শীতের কারণ ও আবহাওয়া বিশ্লেষণ
এবছর পশ্চিমবঙ্গে শীত বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে পশ্চিমী হাওয়ার প্রভাব। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে তাপমাত্রা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে । এতদিন ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ শীতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে । ভারতীয় মহাসাগরে নেগেটিভ ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল (IOD) পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা শীতল আবহাওয়ায় অবদান রাখছে ।
IMD এর সপ্তাহভিত্তিক পূর্বাভাস
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না । তবে ২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকবে । এই সময়কালে উত্তর-পূর্ব ভারত ও পশ্চিম হিমালয় অঞ্চল ছাড়া দেশের বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে থাকবে ।
কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
তীব্র শীত কৃষি কাজ এবং দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। শীতকালীন ফসল যেমন আলু, গম এবং সবজির জন্য এই আবহাওয়া উপকারী হলেও, তীব্র ঠান্ডা কিছু সংবেদনশীল ফসলের ক্ষতি করতে পারে। সকাল ও সন্ধ্যায় কুয়াশার কারণে যাতায়াত ব্যবস্থায় সমস্যা হতে পারে । বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জন্য শীতের এই তীব্রতা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শীত মোকাবেলায় প্রস্তুতি
শীতের এই তীব্রতায় সাধারণ মানুষের কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। গরম কাপড় পরিধান করা, রাতে ঘর গরম রাখা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। বয়স্ক ও শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। কুয়াশার সময় গাড়ি চালানোর সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। গৃহহীন মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব।
ঐতিহাসিক তাপমাত্রার তুলনা
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতার তাপমাত্রা ঐতিহাসিক গড়ের প্রায় কাছাকাছি রয়েছে। সাধারণত ডিসেম্বর মাসে কলকাতার গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে । নভেম্বরে তাপমাত্রা ১৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল, যা মরশুমের শীতলতম দিন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে । ৬ ডিসেম্বর তাপমাত্রা ছিল ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২০ ডিসেম্বর তা আরও কমে ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় ।
নববর্ষের আবহাওয়া পূর্বাভাস
নববর্ষ উদযাপনের সময় শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারির মধ্যে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে থাকবে । যারা নতুন বছর বাইরে উদযাপন করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের গরম কাপড়ের ব্যবস্থা রাখা উচিত। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে যে এই সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তাই বাইরের অনুষ্ঠানে কোনও বাধা হবে না ।
সারসংক্ষেপ
পশ্চিমবঙ্গে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাবে, পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৮-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া বজায় থাকবে, কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। নববর্ষ উদযাপনের সময়ও শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকবে, তাই সাধারণ মানুষের উচিত প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং গরম কাপড়ের ব্যবস্থা রাখা।











