মেটা Vibes কি? ব্যবহারবিধি, ক্রিয়েটরদের আয় এবং সুবিধা-অসুবিধা

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা মেটা (পূর্বে ফেসবুক) সম্প্রতি তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এক নতুন সংযোজন করেছে, যার নাম ‘Vibes’। এটি একটি শর্ট-ফর্ম ভিডিও ফিড, যা সম্পূর্ণভাবে AI…

Soumya Chatterjee

 

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থা মেটা (পূর্বে ফেসবুক) সম্প্রতি তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে এক নতুন সংযোজন করেছে, যার নাম ‘Vibes’। এটি একটি শর্ট-ফর্ম ভিডিও ফিড, যা সম্পূর্ণভাবে AI দ্বারা নির্মিত ভিডিও কনটেন্ট প্রদর্শন করে। টেক জায়ান্টটির এই নতুন পদক্ষেপ একদিকে যেমন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনই অন্যদিকে এর ভবিষ্যৎ এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের টেক্সট প্রম্পট বা বিদ্যমান ভিডিওর রিমিক্সের মাধ্যমে সহজেই ভিডিও তৈরি এবং শেয়ার করার সুযোগ দেয়, যা কনটেন্ট নির্মাণ প্রক্রিয়ায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ক্ষমতা রাখে। মেটা’র অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, Vibes ব্যবহারকারীদের সৃজনশীলতাকে উসকে দিতে এবং তাদের ভাবনাগুলোকে সহজে ভিডিওর রূপ দিতে সাহায্য করবে।

Vibes মূলত মেটা’র নিজস্ব AI অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের (meta.ai) একটি অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, ব্যবহারকারীদের একটি এমন প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা যেখানে তারা শুধুমাত্র AI দ্বারা তৈরি ভিডিও দেখতে, তৈরি করতে এবং শেয়ার করতে পারবেন। ইনস্টাগ্রাম রিলস বা টিকটকের মতোই এখানে একটি ফিড থাকবে, তবে পার্থক্য হলো এই ফিডের প্রতিটি ভিডিওই হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ফসল। ব্যবহারকারীরা নিজেদের ধারণা বা টেক্সট কমান্ড ব্যবহার করে একেবারে নতুন ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, অথবা অন্য কারো তৈরি করা ভিডিওতে নিজের সৃজনশীলতা যোগ করে সেটিকে রিমিক্স করতে পারবেন। এই প্ল্যাটফর্মটি একদিকে যেমন কনটেন্ট তৈরিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলেছে, তেমনই এর ফলে তৈরি হওয়া কনটেন্টের গুণমান এবং মৌলিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Vibes আসলে কী?

Vibes হলো মেটা প্ল্যাটফর্মস দ্বারা উপস্থাপিত একটি নতুন ফিচার, যা মেটা এআই (Meta AI) অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি ভিডিও ফিড। এই ফিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে প্রদর্শিত সমস্ত ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এটিকে অনেকটা AI-চালিত টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম রিলস বলা যেতে পারে। ব্যবহারকারীরা এখানে অন্যদের তৈরি করা AI ভিডিও দেখতে পারেন এবং সেগুলোতে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও নতুন ভিডিও তৈরি করতে পারেন।

এই প্ল্যাটফর্মটি মেটা’র বৃহত্তর AI কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংস্থাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে এবং Vibes সেই লক্ষ্যেরই একটি প্রতিফলন। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য কনটেন্ট তৈরি এবং উপভোগের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইছে, আর Vibes এই প্রক্রিয়ায় একটি পরীক্ষামূলক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Vibes-এর মূল ধারণা

Vibes-এর পেছনের মূল ধারণাটি হলো ভিডিও নির্মাণ প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক করা। সাধারণত, একটি আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে উন্নত মানের ক্যামেরা, এডিটিং সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু Vibes এই সমস্ত বাধা দূর করে দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র একটি ধারণা বা কয়েক লাইনের টেক্সটই যথেষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও তৈরি করার জন্য।

ব্যবহারকারীরা ‘বিড়াল রুটি তৈরি করছে’ বা ‘প্রাচীন মিশরীয়রা সেলফি তুলছে’-এর মতো মজার এবং পরাবাস্তব ধারণা দিয়েও ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, যা মেটা’র সিইও মার্ক জাকারবার্গ তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে শেয়ারও করেছেন। এর ফলে, যাদের ভিডিওগ্রাফি বা এডিটিং-এর কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তারাও তাদের সৃজনশীলতাকে ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

কিভাবে Vibes ব্যবহার করবেন?

Vibes ব্যবহার করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে ডিজাইন করা হয়েছে। মূলত কয়েকটি সহজ ধাপে যে কেউ তাদের ধারণাগুলোকে ভিডিওতে রূপান্তরিত করতে পারেন।

ধাপ ১: প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ

Vibes ব্যবহার করার জন্য, ব্যবহারকারীকে প্রথমে মেটা এআই অ্যাপ (Meta AI app) ডাউনলোড করতে হবে অথবা meta.ai ওয়েবসাইটে যেতে হবে। বর্তমানে এই ফিচারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু নির্বাচিত দেশে উপলব্ধ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য অঞ্চলেও এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ধাপ ২: ভিডিও তৈরি বা রিমিক্স করা

প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করার পর ব্যবহারকারীরা দুটি প্রধান উপায়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন:

  • নতুন ভিডিও তৈরি: ব্যবহারকারীরা একটি টেক্সট বক্স পাবেন যেখানে তারা তাদের ধারণা বা প্রম্পট লিখতে পারবেন। যেমন, “A futuristic city with flying cars in a rainy night” (বৃষ্টির রাতে উড়ন্ত গাড়ি সহ একটি ভবিষ্যৎ শহর) লেখার পর মেটা’র AI মডেল সেই লেখাটিকে একটি ভিডিওতে রূপান্তরিত করবে। প্রাথমিক ফলাফল একটি স্থির চিত্র হিসেবে আসতে পারে, সেক্ষেত্রে নিচে থাকা ‘Animate’ বোতামে ক্লিক করে সেটিকে ভিডিওতে পরিণত করা যাবে।
  • বিদ্যমান ভিডিও রিমিক্স: Vibes ফিডে স্ক্রোল করার সময় যদি কোনো ভিডিও ব্যবহারকারীর পছন্দ হয়, তবে তিনি সেটিকে রিমিক্স করতে পারবেন। রিমিক্স করার সময় ব্যবহারকারী মূল ভিডিওর স্টাইল পরিবর্তন করতে, নতুন কোনো উপাদান যোগ করতে বা নিজের পছন্দের মিউজিক যুক্ত করতে পারবেন।

এনডিটিভি’র একটি প্রতিবেদনে এই ব্যবহার প্রক্রিয়াকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই সহায়ক।

ধাপ ৩: ভিডিও এডিটিং এবং কাস্টমাইজেশন

AI দ্বারা ভিডিও তৈরি হওয়ার পর, ব্যবহারকারীদের সেটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য কিছু এডিটিং-এর সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যবহারকারীরা ভিডিওতে বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল এফেক্ট যোগ করতে, ফিল্টার পরিবর্তন করতে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করতে পারেন। এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর সৃজনশীলতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

ধাপ ৪: শেয়ারিং এবং ডিস্ট্রিবিউশন

ভিডিওটি চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীরা সেটিকে সরাসরি Vibes ফিডে পোস্ট করতে পারবেন। এছাড়াও, তৈরি করা ভিডিওটি সরাসরি মেসেজের (DM) মাধ্যমে বন্ধুদের পাঠাতে পারবেন অথবা নিজেদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম স্টোরি বা রিলস-এও শেয়ার করতে পারবেন। এই ক্রস-প্ল্যাটফর্ম শেয়ারিং সুবিধাটি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য তাদের ভিডিওর নাগাল বাড়াতে একটি বড় সুযোগ করে দিয়েছে।

ক্রিয়েটররা কিভাবে ইনকাম করবেন?

যেকোনো নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে ক্রিয়েটরদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে এর থেকে আয়ের সুযোগ নিয়ে। Vibes যেহেতু একটি অত্যন্ত নতুন প্ল্যাটফর্ম, তাই এর মনিটাইজেশন মডেল সম্পর্কে মেটা এখনও কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি: সরাসরি আয়ের সুযোগ নেই

এই মুহূর্তে, Vibes প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্রিয়েটরদের জন্য কোনো সরাসরি আয়ের ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ, ভিডিওর ভিউ বা এনগেজমেন্টের উপর ভিত্তি করে ক্রিয়েটরদের কোনো অর্থ প্রদান করা হচ্ছে না। Storyboard18-এর একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মেটা বর্তমানে Vibes-কে একটি পরীক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছে এবং ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া ও প্ল্যাটফর্মের গ্রহণযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে এর ভবিষ্যৎ মনিটাইজেশন কৌশল নির্ধারণ করবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

যদিও বর্তমানে সরাসরি আয়ের সুযোগ নেই, তবে মেটা’র অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর (যেমন ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম) মনিটাইজেশন মডেল দেখলে কিছু সম্ভাবনার কথা অনুমান করা যায়। ভবিষ্যতে নিম্নলিখিত উপায়ে Vibes-এ আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে:

  • বিজ্ঞাপন রাজস্ব ভাগাভাগি (Ad Revenue Sharing): ফেসবুক এবং ইউটিউবের মতোই, মেটা হয়তো ভবিষ্যতে Vibes ভিডিওর মধ্যে বা পাশে বিজ্ঞাপন দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারে এবং সেই বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ ক্রিয়েটরদের সাথে ভাগ করে নিতে পারে।
  • ক্রিয়েটর ফান্ড (Creator Fund): টিকটকের মতো, মেটাও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের ফান্ড তৈরি করতে পারে এবং প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ক্রিয়েটরদের সেই ফান্ড থেকে পুরস্কৃত করতে পারে।
  • ব্র্যান্ড কোলাবোরেশন এবং স্পনসরড কনটেন্ট: Vibes জনপ্রিয়তা পেলে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য ক্রিয়েটরদের সাথে সরাসরি কাজ করতে পারে। ক্রিয়েটররা AI ব্যবহার করে ব্র্যান্ডের জন্য আকর্ষণীয় এবং সৃজনশীল বিজ্ঞাপন তৈরি করে আয় করতে পারবেন।
  • প্রিমিয়াম ফিচার: মেটা হয়তো কিছু উন্নত AI টুল বা ফিচার প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশনের আওতায় আনতে পারে, যা ব্যবহার করে ক্রিয়েটররা আরও উন্নত মানের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন।

বর্তমানে ক্রিয়েটরদের জন্য সেরা কৌশল হবে প্ল্যাটফর্মটিতে নিজেদের উপস্থিতি তৈরি করা, বিভিন্ন টুলস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং একটি অনুসারী ভিত্তি গড়ে তোলা। যখন মনিটাইজেশন চালু হবে, তখন তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে যারা প্রথম থেকে প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকবে।

Vibes-এর সুবিধা ও অসুবিধা

প্রতিটি নতুন প্রযুক্তিরই কিছু ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক থাকে। Vibes-ও তার ব্যতিক্রম নয়। নিচে এর সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

সুবিধা (Advantages)

সুবিধা বিস্তারিত বিবরণ
সৃজনশীলতার সহজলভ্যতা ভিডিও তৈরির জন্য কোনো প্রযুক্তিগত দক্ষতা বা ব্যয়বহুল সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। যে কেউ শুধুমাত্র তার ধারণা ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করতে পারে।
দ্রুত কনটেন্ট তৈরি মিনিটের মধ্যেই একটি ধারণা থেকে ভিডিও তৈরি করা সম্ভব, যা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সময় বাঁচায় এবং তাদের আরও বেশি কনটেন্ট তৈরি করতে উৎসাহিত করে।
নতুন ধরনের কনটেন্টের সম্ভাবনা AI-এর মাধ্যমে এমন সব পরাবাস্তব এবং সৃজনশীল ভিডিও তৈরি করা সম্ভব যা বাস্তবে তৈরি করা প্রায় অসম্ভব বা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
মেটা ইকোসিস্টেমে ইন্টিগ্রেশন ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের সাথে সরাসরি শেয়ার করার সুবিধা থাকায় ক্রিয়েটররা সহজেই তাদের বিদ্যমান অনুসারীদের কাছে পৌঁছাতে পারে।
অনুপ্রেরণার উৎস Vibes ফিডটি অন্যান্য ক্রিয়েটরদের কাজ দেখে নতুন ধারণা এবং অনুপ্রেরণা পাওয়ার একটি দুর্দান্ত জায়গা হতে পারে।

অসুবিধা (Disadvantages)

অসুবিধা বিস্তারিত বিবরণ
“AI Slop” বা নিম্নমানের কনটেন্ট একটি বড় সমালোচনা হলো, এই প্ল্যাটফর্মটি ইন্টারনেটকে “AI Slop” বা অর্থহীন, নিম্নমানের এবং আত্মারহিত AI-জেনারেটেড কনটেন্টে ভরিয়ে তুলতে পারে। TECHi-এর একটি নিবন্ধে এই বিষয়টিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌলিকত্ব এবং সত্যতার অভাব AI দ্বারা তৈরি কনটেন্টে মানুষের স্পর্শ এবং মৌলিকতার অভাব থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এই ভিডিওগুলো আবেগহীন এবং যান্ত্রিক বলে মনে হতে পারে।
কপিরাইট এবং ডেটা প্রাইভেসি সংক্রান্ত উদ্বেগ AI মডেলগুলো কোন ডেটার উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে তা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ডেটার কপিরাইট এবং মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সরাসরি মনিটাইজেশনের অভাব বর্তমানে ক্রিয়েটরদের জন্য কোনো সরাসরি আয়ের সুযোগ না থাকায়, অনেকেই হয়তো দীর্ঘমেয়াদে এই প্ল্যাটফর্মে সময় দিতে আগ্রহী হবেন না।
ব্যবহারকারীদের অনীহা অনেক ব্যবহারকারী এবং সমালোচক মনে করছেন যে, দর্শকরা মানুষের তৈরি করা অকৃত্রিম কনটেন্টই বেশি পছন্দ করেন এবং একটি সম্পূর্ণ AI-চালিত ফিড তাদের কাছে আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। ইয়াহু নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রযুক্তি জগতের অনেকেই এই উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।

মেটা’র Vibes নিঃসন্দেহে কনটেন্ট তৈরির জগতে একটি সাহসী এবং পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। এটি একদিকে যেমন সৃজনশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনই অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক মাধ্যমে এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্রিয়েটরদের জন্য, এটি একটি নতুন খেলার মাঠ যেখানে তারা কোনো প্রযুক্তিগত বাধা ছাড়াই তাদের কল্পনাকে মেলে ধরতে পারে। তবে, মনিটাইজেশনের অভাব এবং “AI Slop” সংক্রান্ত উদ্বেগ এর দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভবিষ্যতে Vibes কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে মেটা কিভাবে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করে এবং প্ল্যাটফর্মের মান নিয়ন্ত্রণে چه পদক্ষেপ নেয় তার উপর। যদি মেটা গুণমান বজায় রেখে ক্রিয়েটরদের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তবে Vibes হয়তো সামাজিক মাধ্যমের পরবর্তী বড় বিপ্লব হতে পারে। আর যদি তা না পারে, তবে এটি হয়তো মেটা’র আরও একটি ব্যর্থ পরীক্ষা হিসেবেই ইতিহাসে থেকে যাবে।

About Author
Soumya Chatterjee

সৌম্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। তিনি একজন উদ্যমী লেখক, যিনি প্রযুক্তির জটিল ধারণাগুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে দক্ষ। তার লেখার মূল ক্ষেত্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ, সফটওয়্যার গাইড, এবং উদীয়মান টেক প্রবণতা। সৌম্যর প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাকে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। টেক জগতে চলমান পরিবর্তনগুলির সাথে তাল মিলিয়ে সৌম্য সর্বদা নতুন ও তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।