ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল কী কাজে লাগে? জেনে নিন পুনর্ব্যবহারের সঠিক উপায় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল বা মোটর অয়েল একটি মূল্যবান সম্পদ যা সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক লাভও পাওয়া যায় । প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৮০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন গ্যালন ব্যবহৃত…

Tamal Kundu

 

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল বা মোটর অয়েল একটি মূল্যবান সম্পদ যা সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহার করলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক লাভও পাওয়া যায় । প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৮০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন গ্যালন ব্যবহৃত তেল সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহার করা হয়, যা নতুন লুব্রিকেন্ট তৈরি, জ্বালানি তেল উৎপাদন এবং শিল্প ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় । আপনার গাড়ি থেকে পরিবর্তিত পুরনো ইঞ্জিন অয়েল সঠিক পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহার করলে তা পরিবেশ দূষণ রোধ, সম্পদ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে ।

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল কী

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল হল সেই তেল যা গাড়ি, ট্রাক, মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের পর পরিবর্তন করা হয় । নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এই তেলে ময়লা, ধাতব কণা, জল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশে যায়, যার ফলে তেলের লুব্রিকেশন ক্ষমতা হ্রাস পায় । তবে মজার বিষয় হল, এই ব্যবহৃত তেলের লুব্রিকেশন বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয় না এবং এটি অসীমবার পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব ।

বর্তমানে মোটর অয়েল, ট্রান্সমিশন ফ্লুইড, ব্রেক ফ্লুইড, হাইড্রোলিক ফ্লুইড এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম ভিত্তিক পণ্যগুলো পুনর্ব্যবহার বা রি-রিফাইন করা যায় । সঠিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করলে এই ব্যবহৃত তেল থেকে নতুন তেলের মতোই উন্নতমানের লুব্রিকেন্ট তৈরি করা সম্ভব ।

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের প্রধান ব্যবহার

নতুন লুব্রিকেন্ট তৈরি

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হল রি-রিফাইনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন লুব্রিকেন্ট তৈরি করা । এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত তেল থেকে সমস্ত দূষক পদার্থ অপসারণ করে উপযুক্ত অ্যাডিটিভ যোগ করা হয়, যার ফলে তা আবার গাড়ি, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং পাওয়ারবোটে ইঞ্জিন অয়েল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে । রি-রিফাইন্ড অয়েল ভার্জিন অয়েলের মতোই কার্যকর এবং একই মাত্রার সুরক্ষা প্রদান করে ।

এছাড়াও, রি-রিফাইন্ড লুব্রিকেন্ট অটোমোটিভ ট্রান্সমিশন ফ্লুইড এবং হাইড্রোলিক ফ্লুইড তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় । শিল্প ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি লুব্রিকেশন এবং মেটালওয়ার্কিংয়ে এই রি-রিফাইন্ড তেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

জ্বালানি তেল উৎপাদন

ব্যবহৃত মোটর অয়েল থেকে জ্বালানি তেল তৈরি করা যায়, যা শক্তি উৎপাদনের একটি বিকল্প উপায় । এই তেল সাধারণত প্ল্যান্ট বয়লার, স্পেস হিটার এবং শিল্প উত্তাপন ক্ষেত্রে যেমন ব্লাস্ট ফার্নেস এবং সিমেন্ট ভাটিতে জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হয় । তবে গ্যাসীয় দূষণ এড়াতে এই তেল উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়াতে হয় ।

অন্যভাবে, ব্যবহৃত মোটর অয়েল ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিজেল ফুয়েল বা মেরিন ফুয়েলে রূপান্তরিত করা যায় । এই পদ্ধতি তেল রি-রিফাইনিংয়ের মতোই, তবে চূড়ান্ত হাইড্রোট্রিটিং প্রক্রিয়া ছাড়াই করা হয় । কমার্শিয়াল বয়লারে পুরনো তেল ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যথেষ্ট অর্থ সাশ্রয় হয় এবং নতুন রিফাইন্ড তেলের প্রয়োজন কমে যায় ।

শিল্প ও নির্মাণ ক্ষেত্রে প্রয়োগ

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল অ্যাসফাল্ট উৎপাদনে বাইন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ঐতিহ্যবাহী পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক উপকরণের উপর নির্ভরতা কমায় । এটি আরও টেকসই এবং দীর্ঘস্থায়ী রাস্তা তৈরিতে সাহায্য করে ।

রি-রিফাইন্ড লুব্রিকেন্ট অয়েল শিল্প বয়লার এবং হিটারে জ্বালানি উৎস হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে, যা ব্যবহৃত তেলের জন্য একটি আরও বৃত্তাকার অর্থনীতিতে অবদান রাখে । এছাড়া প্লাস্টিক এবং রাবার তৈরিতে রি-রিফাইন্ড তেল ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে ।

কাঠ সংরক্ষণ ও দাগ

ব্যবহৃত মোটর অয়েল দীর্ঘদিন ধরে বিল্ডিং এবং ঘরের কাঠের অংশ ফার্নিশিংয়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । এটি কাঠকে আবহাওয়ার পরিবর্তন সহ্য করতে এবং পরজীবীর প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । বেড়া, দরজা, কাঠের স্তম্ভ এবং অন্যান্য কাঠের উপাদানে নিরাপদে এটি ব্যবহার করা যায় ।

কাঠের ফেন্স পোস্টের গোড়া ভিজিয়ে রাখলে পচন এবং পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায় । ডিজেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করলে এটি বহিরঙ্গন কাঠের চিকিৎসা এবং দাগ দিতে কার্যকর । তবে মনে রাখতে হবে যে মেঝেতে ফেলা উচিত নয় কারণ এটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হতে পারে ।

মরিচা প্রতিরোধ

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল মেশিনারিতে জমে থাকা আর্দ্রতা দূর করতে এবং মরিচা ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয় । এটি উচ্চ আর্দ্রতা এবং চরম ক্ষয়কারী পরিবেশের বিরুদ্ধে ইস্পাতকে রক্ষা করে । সলিউবল কাটিং ফ্লুইড ব্যবহার করে মেশিন করা, ধোয়া বা পিকল করা উপাদান থেকে জল অপসারণেও এটি কার্যকর ।

মরিচা প্রতিরোধক তেল ব্রিজের মতো বিশাল কাঠামোতে ক্ষয় রোধে ব্যবহৃত হয় । নির্মাণ শিল্পে অবকাঠামোতে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতু এবং নির্মাণ সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির ধাতব অংশগুলিকে আবরণ দিয়ে রক্ষা করতে এই তেল অত্যন্ত উপকারী । বর্ষাকালে যখন বৃষ্টির জল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে তখন অক্সিডেশন এবং রিডাকশন প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হয়, তাই পেইন্টের সাথে মরিচা প্রতিরোধক তেল মিশিয়ে ধাতব কাঠামোর উপর প্রলেপ দেওয়া হয় ।

অন্যান্য ব্যবহারিক প্রয়োগ

ব্যবহৃত মোটর অয়েল চেইনসোর বার অয়েল হিসেবে ব্যবহার করা যায় । এটি পুরনো কব্জা এবং যন্ত্রাংশের জন্য পার্টস সোক ট্যাঙ্কেও কার্যকর । ডিজেল এবং ব্যবহৃত তেলের মিশ্রণ থেকে নিজস্ব পেনিট্রেটিং অয়েল তৈরি করা যায়, যা মরিচা পড়া বোল্ট এবং স্ক্রু খুলতে সাহায্য করে ।

মেশিন সংরক্ষণ এবং সাধারণ লুব্রিকেন্ট হিসেবেও ব্যবহৃত তেল কাজে লাগে । এমনকি ড্রিলিং এবং ট্যাপিং লুব্রিকেন্ট হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে । ক্যাম্পিং বা বাড়ির আগুনের গর্তে স্যাঁতসেঁতে কাঠ জ্বালাতে সাহায্য করার জন্য এটি ব্যবহার করা যেতে পারে ।

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহারের প্রক্রিয়া

সংগ্রহ এবং প্রি-ট্রিটমেন্ট

পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হল গ্যারেজ, ট্রান্সপোর্ট ফ্লিট এবং ওয়ার্কশপ থেকে ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল সংগ্রহ করা । সংগৃহীত তেল প্রি-ট্রিটমেন্ট স্টেজে যায়, যেখানে আর্দ্রতা, স্লাজ এবং কঠিন পদার্থ অপসারণ করা হয় ।

ডিওয়াটারিং প্রি-ট্রিটমেন্টের প্রথম ধাপ, যেখানে সেটলিং ট্যাঙ্ক বা সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে ব্যবহৃত তেল থেকে জল অপসারণ করা হয় । জল অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে এবং রিফাইনিং প্রক্রিয়ার দক্ষতা হ্রাস করতে পারে । এরপর তেল ফিল্টার করা হয় যাতে কঠিন কণা এবং দূষক পদার্থ দূর হয় ।

ভ্যাকুয়াম ডিস্টিলেশন

প্রি-ট্রিটমেন্টের পর, ব্যবহৃত তেল উত্তপ্ত করা হয় এবং ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় । এই প্রক্রিয়ায় তেল তাদের ফুটন্ত বিন্দুর ভিত্তিতে বিভিন্ন ভগ্নাংশে বিভক্ত হয় । হালকা ভগ্নাংশ যেমন গ্যাসোলিন প্রথমে পাতন করা হয়, এবং ভারী ভগ্নাংশ যেমন ডিজেল জ্বালানি পরে পাতন করা হয় ।

ভ্যাকুয়াম ডিস্টিলেশন ক্রুড অয়েল রিফাইনিং শিল্প থেকে ধার করা একটি প্রযুক্তি । বায়ুমণ্ডলীয় চাপে লুব অয়েলের এত উচ্চ ফুটন্ত বিন্দু রয়েছে যে এটি বাষ্পীভূত হওয়ার আগে ভেঙে যাবে, কিন্তু শক্তিশালী ভ্যাকুয়ামে ফোটালে নিম্ন তাপমাত্রায় ফুটন্ত বিন্দুতে পৌঁছায়, যা লুব অয়েল অণুর অখণ্ডতা রক্ষা করে । লুব অয়েল কিছু ভারী যৌগ থেকে ফুটিয়ে নেওয়া হয়, যা পেভিং অ্যাপ্লিকেশনের জন্য বিপণন করা অ্যাসফাল্ট অবশিষ্টাংশ রেখে যায় ।

হাইড্রোট্রিটিং বা সলভেন্ট এক্সট্রাকশন

ভ্যাকুয়াম ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়া থেকে যে উপাদান বের হয় তাতে লুব অয়েলের অনেক বৈশিষ্ট্য থাকে, কিন্তু এতে এখনও কিছু দূষক পদার্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে । চূড়ান্ত পরিশোধনের জন্য হাইড্রোট্রিটিং বা সলভেন্ট এক্সট্রাকশন দুটি প্রধান প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় ।

হাইড্রোট্রিটিং প্রযুক্তিতে তেলকে হাইড্রোজেন গ্যাসের সংস্পর্শে আনা হয়, অত্যন্ত উচ্চ চাপ এবং তাপমাত্রায়, একটি অনুঘটকের উপস্থিতিতে । অনুঘটক রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রচার করে যা লুব অয়েল থেকে ট্রেস ধাতু এবং অন্যান্য দূষক পদার্থ অপসারণ করে । অন্যদিকে, সলভেন্ট এক্সট্রাকশন প্রক্রিয়া পরিবেশগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ সলভেন্ট ব্যবহার করে ডিস্টিলেট থেকে দূষক পদার্থ অপসারণ করে এবং একই সময়ে তেলের মূল্যবান এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য উপাদানগুলি ধরে রাখে ।

চূড়ান্ত ফর্মুলেশন

রি-রিফাইনিং প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে পরিষ্কার তেলের সাথে উপযুক্ত অ্যাডিটিভ যোগ করা হয় । এর ফলে তেল আবার গাড়ি, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহনে ব্যবহারের জন্য তাকে ফিরে যেতে পারে । অটোমোটিভ ট্রান্সমিশন ফ্লুইড এবং হাইড্রোলিক ফ্লুইডের মতো অটোমোটিভ লুব্রিকেন্টও এই তেল থেকে তৈরি করা যায় ।

বেশিরভাগ ভার্জিন লুব রিফাইনারি এই একই প্রক্রিয়াজাতকরণ ধাপ (ডিস্টিলেশন এবং হাইড্রোট্রিটিং বা সলভেন্ট এক্সট্রাকশন) ব্যবহার করে লুব অয়েল তৈরি করে । তাই রি-রিফাইনাররা যারা এই একই ধাপগুলি অনুসরণ করে তাদের ভার্জিন ক্রুড থেকে তৈরি লুব অয়েলের সমতুল্য লুব অয়েল উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে ।

পরিবেশগত সুবিধা এবং তাৎপর্য

দূষণ হ্রাস

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের একটি লিটার এক মিলিয়ন লিটার জল দূষিত করতে পারে । নিরাপদ সংগ্রহ এবং পুনর্ব্যবহার করলে মাটি, বায়ু এবং জলের দূষণ রোধ করা যায় । যখন ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহার করা হয়, এটি ল্যান্ডফিলে পাঠানো হয় না, যা পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করে ।

সঠিকভাবে নিষ্কাশন করলে ব্যবহৃত মোটর অয়েল পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে না, যা তেল ছড়িয়ে পড়া এবং মাটি ও জলের দূষণ প্রতিরোধ করে । স্টর্ম ড্রেনে পুরনো মোটর অয়েল ফেলা অনেক রাজ্যে বেআইনি এবং স্থানীয় পানীয় জলের উৎস দূষিত করতে পারে । মাটিতে মোটর অয়েল ফেলার নেতিবাচক পরিবেশগত এবং আইনি প্রভাব রয়েছে ।

সম্পদ সংরক্ষণ

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহার করলে সম্পদ সংরক্ষিত হয় এবং ভার্জিন অয়েলের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পায় । যখন ব্যবহৃত তেল নতুন তেল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, তখন নন-রিনিউয়েবল সম্পদ যেমন কয়লা এবং ক্রুড অয়েলের উপর নির্ভরতা কমে যায় । এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এই মূল্যবান সম্পদগুলি সংরক্ষণে সাহায্য করে এবং পরিবেশগতভাবে ক্ষতিকর উত্তোলন পদ্ধতির উপর নির্ভরতা হ্রাস করে ।

পুনর্ব্যবহৃত তেল ব্যবহার করে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে মুক্ত হতে পারি এবং নতুন তেল উৎপাদনের প্রয়োজন হ্রাস করি । এছাড়াও, ব্যবহৃত অয়েল ফিল্টারে পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্ক্র্যাপ মেটাল থাকে, যা ইস্পাত উৎপাদকরা স্ক্র্যাপ ফিড হিসেবে পুনরায় ব্যবহার করতে পারে ।

গ্রিনহাউস গ্যাস হ্রাস

ক্রুড থেকে তেল প্রাপ্ত করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত শক্তি-নিবিড় । রি-রিফাইনিং ব্যবহৃত তেল প্রায় ৫০% কম শক্তি ব্যবহার করে এবং CO₂ নির্গমন নাটকীয়ভাবে হ্রাস করে । ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহার করলে নতুন তেল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি খরচ এবং নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় ।

দূষণ হ্রাস মানে বায়ুমণ্ডলে কম গ্রিনহাউস গ্যাস এবং বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়, যা সামগ্রিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসে আরও অবদান রাখে । সঠিকভাবে পুনর্ব্যবহৃত তেল ল্যান্ডফিল বা আমাদের জল ব্যবস্থায় শেষ হয় না, যা ক্ষতিকারক দূষকগুলিকে পরিবেশের বাইরে রাখে এবং দূষণ কমিয়ে দেয় ।

অর্থনৈতিক সুবিধা

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের পুনর্ব্যবহার পুনর্ব্যবহার শিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং আরও টেকসই ভবিষ্যত তৈরি করতে সাহায্য করে । বিশ্বব্যাপী অটোমোটিভ অয়েল রিসাইক্লিং শিল্পের মূল্য ২০২৪ সালে প্রায় ৫৩.৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল এবং ২০৩২ সালের মধ্যে এটি ৭৭.৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশিত, যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৫.৪% ।

ভারতে, ২০২৫ সালে ৪.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বর্জ্য তেল পুনর্ব্যবহার শিল্প ২০৩৩ সালের মধ্যে ৬.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে । ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম লুব্রিকেন্ট বাজার, যার মোট খরচ FY 2021-22-এ প্রায় ৪.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ।

ভারতে ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা

বাজার সম্ভাবনা

ভারতে প্রতি বছর ব্যবহার এবং নিষ্কাশন করা উচ্চ পরিমাণ ইঞ্জিন অয়েল সত্ত্বেও, ব্যবহৃত তেলের পুনর্ব্যবহারের হার অত্যন্ত কম । ভারতের ১৯টি রাজ্য জুড়ে প্রায় ২৫৭টি নিবন্ধিত পুনর্ব্যবহার ইউনিট পরিচালনা করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যে পরিমাণ ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহার করা হয় তা সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম ।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল হয় ভুলভাবে নিষ্কাশন করা হয় বা অননুমোদিত চ্যানেলে বিক্রি করা হয় । যথাযথ অবকাঠামোর অভাব এবং সচেতনতার অভাবের কারণে ভারতে পুনর্ব্যবহারের হার এখনও কম । তবে বর্ধমান যানবাহন মালিকানা, কঠোর পরিবেশগত আইন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি সহায়ক উদ্যোগের কারণে ভারতের পুনর্ব্যবহার ব্যবসা বড় একীকরণ এবং পেশাদারিত্ব দেখবে ।

EPR নিয়মাবলী

ভারতে Extended Producer Responsibility (EPR) নিয়মের অধীনে পুনর্ব্যবহারের জন্য কিছু লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যে রয়েছে যা এই প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হিসাবে ক্রমশ উচ্চতর হবে । FY2024-25-এ ৫% দিয়ে শুরু করে, বাধ্যবাধকতা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাবে FY2030-31-এর শেষ পর্যন্ত, যে সময়ে বাধ্যবাধকতা ৫০%-এ পৌঁছাবে ।

এই নিয়মগুলি সমস্ত বাধ্যতামূলক উৎপাদকদের জন্য প্রয়োজনীয় হবে এবং পুনর্ব্যবহার শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে । EPR-সার্টিফাইড সংগ্রহ এবং পুনর্ব্যবহার পরিষেবা UPPCB এবং CPCB দ্বারা অনুমোদিত এবং এই নিয়মের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ।

সংগ্রহ কেন্দ্র

ভারত জুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহারকারী ইউনিট নিবন্ধিত রয়েছে । আন্ধ্র প্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক, কেরালা এবং অন্যান্য রাজ্যে MoEF/CPCB-এর সাথে নিবন্ধিত পুনর্ব্যবহারকারী রয়েছে । এই ইউনিটগুলি লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিরাপদ পিকআপ, পরিবহন এবং সমস্ত শিল্প ব্যবহৃত তেলের পুনর্ব্যবহার প্রদান করে ।

স্থানীয় অটোমোবাইল রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, বর্জ্য সংগ্রহকারী এবং সরকারি বর্জ্য কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনি কখন এবং কোথায় পুনর্ব্যবহারের জন্য আপনার ব্যবহৃত তেল জমা দিতে পারবেন তা জানতে পারেন । ব্যবহৃত অয়েল ফিল্টারগুলিও ড্রেন এবং পুনর্ব্যবহার করতে ভুলবেন না—সাধারণত আপনি যেখানে ব্যবহৃত তেল জমা করেন সেই একই সংগ্রহ কেন্দ্রে ফিল্টারগুলি জমা দিতে পারেন ।

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল নিরাপদ সংরক্ষণ ও নিষ্কাশন

সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি

আপনার ব্যবহৃত মোটর অয়েল নিরাপদে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রয়োজনে একটি ফানেল ব্যবহার করে, আপনার ব্যবহৃত ড্রিপ প্যান থেকে তেল অন্য একটি নিরাপদ পরিবহনযোগ্য স্টোরেজ কন্টেইনারে স্থানান্তর করুন । আপনি যে কন্টেইনার থেকে তেল এসেছিল সেই মূল কন্টেইনার বা একটি পরিষ্কার পলিইথিলিন কন্টেইনার ব্যবহার করতে পারেন ।

ব্যবহৃত মোটর অয়েলকে পানি সহ অন্যান্য অটোমোটিভ ফ্লুইড থেকে দূরে রাখুন, কারণ তেল মিশ্রিত করলে সঠিক নিষ্কাশন কঠিন হতে পারে । কন্টেইনারটি একটি শীতল, শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করুন যতক্ষণ না আপনি এটি পুনর্ব্যবহার করতে সক্ষম হন । ব্যবহৃত মোটর অয়েলকে একটি পরিষ্কার, লিক-প্রুফ প্লাস্টিক কন্টেইনারে (দুধের জগ, খালি তেলের কন্টেইনার ইত্যাদি) স্থানান্তর করুন এবং ফুটো বা ছিটকে যাওয়া প্রতিরোধ করতে শক্তভাবে উপরে স্ক্রু করুন ।

যা করা উচিত নয়

ব্যবহৃত মোটর অয়েল কখনও মাটিতে, খাদে, ক্রিক, নদী বা হ্রদে, স্টর্ম সিওয়ারে বা আবর্জনায় ফেলা উচিত নয় । ব্যবহৃত মোটর অয়েলকে অন্য কিছুর সাথে মেশাবেন না, যেমন পেট্রল, সলভেন্ট, অ্যান্টিফ্রিজ, কীটনাশক ইত্যাদি ।

মোটর অয়েল একটি প্রধান বিষাক্ত দূষক তাই এটি কোনো ধরনের আবর্জনা সংগ্রহকারীতে ফেলা এড়িয়ে চলুন, নইলে এটি ল্যান্ডফিলে শেষ হবে, মাটি এবং অন্যান্য জলের উৎস দূষিত করবে । মাটিতে মোটর অয়েল ফেলার নেতিবাচক পরিবেশগত এবং আইনি প্রভাব রয়েছে, তাই যেকোনো মূল্যে এটি এড়িয়ে চলুন ।

সঠিক নিষ্কাশন প্রক্রিয়া

ব্যবহৃত তেল সংগ্রহ করার পর, এটি নিকটস্থ পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রে নিয়ে যান । অনেক অটো পার্টস স্টোর, সার্ভিস স্টেশন এবং দ্রুত লুব সেন্টার ব্যবহৃত মোটর অয়েল বিনামূল্যে গ্রহণ করে । স্থানীয় সংগ্রহ কর্মসূচি এবং ড্রপ-অফ পয়েন্ট সম্পর্কে তথ্যের জন্য আপনার পৌরসভা বা পরিবেশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করুন ।

নিষ্কাশনের সময় নিশ্চিত করুন যে তেল সম্পূর্ণরূপে একটি সিল করা কন্টেইনারে রয়েছে এবং পরিবহনের সময় ফুটো হবে না । সংগ্রহ কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর, কেন্দ্রের নির্দেশাবলী অনুসরণ করে তেল জমা দিন । এই সহজ পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করে আপনি পরিবেশ রক্ষায় এবং সম্পদ সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারেন।

বাজার পরিসংখ্যান ও বৃদ্ধির প্রবণতা

বিষয় পরিসংখ্যান বছর/সময়কাল
বিশ্ব অটোমোটিভ অয়েল রিসাইক্লিং বাজার ৫৩.৭৯ বিলিয়ন USD ২০২৪
প্রত্যাশিত বিশ্ব বাজার মূল্য ৭৭.৭৩ বিলিয়ন USD ২০৩২
বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR) ৫.৪% ২০২৪-২০৩২
ভারতীয় বর্জ্য তেল পুনর্ব্যবহার বাজার ৪.০৫ বিলিয়ন USD ২০২৫
প্রত্যাশিত ভারতীয় বাজার মূল্য ৬.৩৭ বিলিয়ন USD ২০৩৩
বৈশ্বিক ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহার বাজার ২,৬৬২ মিলিয়ন USD ২০২৫
প্রত্যাশিত বাজার মূল্য ৩,৭৮০ মিলিয়ন USD ২০৩১
বৃদ্ধির হার ৬.০% CAGR ২০২৫-২০৩১
ভারতে লুব্রিকেন্ট খরচ ৪.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন FY 2021-22
ভারতে নিবন্ধিত পুনর্ব্যবহার ইউনিট ২৫৭টি বর্তমান
শক্তি সাশ্রয় (রি-রিফাইনিং) ৫০% কম শক্তি
জল দূষণ ক্ষমতা ১ লিটার তেল = ১ মিলিয়ন লিটার জল

উপরের সারণী থেকে স্পষ্ট যে ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহার একটি দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প । বর্ধিত যানবাহন মালিকানা, কঠোর পরিবেশগত আইন এবং তেল রি-রিফাইনিংয়ে প্রযুক্তিগত উন্নতি এই বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে । উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ বিদ্যমান অবকাঠামো এবং কঠোর নিষ্কাশন মানদণ্ডের কারণে এই প্রবণতার নেতৃত্ব দিচ্ছে, তবে এশীয় দেশগুলি, বিশেষত চীন এবং ভারত, ক্রমবর্ধমান পরিবেশ সচেতনতা এবং যানবাহনের সূচকীয় বৃদ্ধির কারণে দ্রুত এগিয়ে আসছে ।

পুনর্ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ

ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহার শিল্পের মূল প্রতিবন্ধকতাগুলির মধ্যে রয়েছে ক্রুড অয়েলের ওঠানামা মূল্য, যা রি-রিফাইন্ড অয়েলের অর্থনৈতিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে । সংগ্রহ এবং পরিবহন লজিস্টিকসের জটিলতা বাজারের দ্রুত অনুপ্রবেশের জন্য প্রধান সংযম হিসেবে রয়ে গেছে ।

যথাযথ অবকাঠামোর অভাব এবং সচেতনতার অভাব ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পুনর্ব্যবহারের হার কম রাখছে । অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল ভুলভাবে নিষ্কাশন করা হয় বা অননুমোদিত চ্যানেলে বিক্রি করা হয়, যা পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ । প্রতিটি অঞ্চলে পর্যাপ্ত সংগ্রহ কেন্দ্র না থাকা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ ।

সমাধানের পথ

সরকারি নিয়ম এবং Extended Producer Responsibility (EPR) মেনে চলা পুনর্ব্যবহার হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে । জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সংগ্রহ কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং পুনর্ব্যবহার অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এই শিল্পের বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে ।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং উন্নত রি-রিফাইনিং পদ্ধতি পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর এবং লাভজনক করতে পারে । শিক্ষামূলক প্রচারাভিযান এবং স্থানীয় স্তরে সহজ সংগ্রহ ব্যবস্থা মানুষকে পুনর্ব্যবহারে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে । পুনর্ব্যবহার কেন্দ্রগুলির জন্য আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি সহায়তা এই শিল্পের পেশাদারিত্ব এবং একীকরণে সাহায্য করবে ।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

উদীয়মান প্রযুক্তি

রি-রিফাইন্ড লুব্রিকেন্ট অয়েলের সম্ভাব্য নতুন ব্যবহার নিয়ে গবেষকরা ক্রমাগত অনুসন্ধান করছেন । অ্যাসফাল্ট উৎপাদনে, শিল্প তাপের জন্য এবং প্লাস্টিক ও রাবারের মতো উন্নত উপকরণ তৈরিতে রি-রিফাইন্ড তেল ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে ।

আরও দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব রি-রিফাইনিং প্রযুক্তির উন্নয়ন চলমান রয়েছে । হাইড্রোট্রিটিং এবং সলভেন্ট এক্সট্রাকশন প্রযুক্তির উন্নতি আরও উচ্চমানের পুনর্ব্যবহৃত পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হবে । ভ্যাকুয়াম ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়ার উন্নতি শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং খরচ হ্রাস করতে পারে ।

বাজার সম্প্রসারণ

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল, বিশেষত চীন এবং ভারতের নেতৃত্বে, দ্রুত শিল্পায়ন, সম্প্রসারিত অটোমোটিভ মালিকানা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সহায়ক সরকারি উদ্যোগের কারণে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির হার প্রদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে । উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ, ইতিমধ্যে পরিপক্ক বাজার, কঠোর পরিবেশগত আদেশ এবং উন্নত পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তির দ্বারা চালিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী হিসেবে অব্যাহত থাকবে ।

অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ এবং মেরামত কেন্দ্র এবং শিল্প উদ্যোগগুলি তাদের ধারাবাহিক বর্জ্য তেল উৎপাদনের কারণে প্রধান বিভাগ হিসেবে থাকবে । বিশ্বব্যাপী বিশাল অটোমোটিভ ফ্লিটের দ্বারা চালিত, বর্জ্য অভ্যন্তরীণ দহন তেল সবচেয়ে বড় বিভাগ গঠন করে । ভারতে EPR নিয়মাবলীর প্রগতিশীল বাস্তবায়ন এবং পুনর্ব্যবহার লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি এই খাতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আনবে ।

পরিবেশগত লক্ষ্য

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহার একটি মূল ভূমিকা পালন করবে । কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, সম্পদ সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পুনর্ব্যবহার অপরিহার্য ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য বৃত্তাকার অর্থনীতির নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে, যেখানে ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহার একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে । সবুজ প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প অনুশীলন গ্রহণের ফলে পুনর্ব্যবহার শিল্প আরও শক্তিশালী হবে । ভবিষ্যতে পুনর্ব্যবহৃত পণ্যের গুণমান ভার্জিন পণ্যের সমান বা এমনকি উন্নত হতে পারে ।

ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েল পুনর্ব্যবহার একটি পরিবেশবান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রক্রিয়া যা পরিবেশ রক্ষা, সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে । রি-রিফাইনিং থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল উৎপাদন, শিল্প প্রয়োগ এবং দৈনন্দিন ব্যবহার পর্যন্ত ব্যবহৃত তেলের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে । ভারতসহ বিশ্বব্যাপী এই শিল্পের দ্রুত বৃদ্ধি এবং সরকারি নিয়মাবলীর কঠোর বাস্তবায়ন ভবিষ্যতের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরে । প্রতিটি ব্যক্তির সচেতন অংশগ্রহণ এবং সঠিক নিষ্কাশন পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে আমরা একটি পরিচ্ছন্ন এবং টেকসই পরিবেশ গড়তে পারি । ব্যবহৃত তেল পুনর্ব্যবহার করে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস করতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পৃথিবী রেখে যেতে পারি ।

About Author
Tamal Kundu

তমাল কুন্ডু একজন অভিজ্ঞ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার, যিনি অটোমোটিভ শিল্পের নতুন প্রযুক্তি ও প্রবণতা নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর গভীর প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং শিল্পের অন্তর্দৃষ্টি তাঁকে অটোমোবাইল সংক্রান্ত বিষয়ে একজন মূল্যবান সংবাদদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিয়মিতভাবে গাড়ির নতুন মডেল, উদীয়মান প্রযুক্তি, এবং শিল্পের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রদান করে থাকেন, যা পাঠকদের অটোমোটিভ জগতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত রাখে।

আরও পড়ুন