প্রাক্তন ফোন করে বলেছে “কেমন আছো”? মনস্তাত্ত্বিক কারণ ও আপনার সেরা প্রতিক্রিয়া

আপনার ফোন ভাইব্রেট করছে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটি দেখে আপনার হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল—আপনার প্রাক্তন। রিসিভ বোতামটি চাপার আগেই হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। অনেক দ্বিধার পর ফোনটি…

Riddhi Datta

 

আপনার ফোন ভাইব্রেট করছে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটি দেখে আপনার হৃদস্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল—আপনার প্রাক্তন। রিসিভ বোতামটি চাপার আগেই হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। অনেক দ্বিধার পর ফোনটি ধরলে, ওপাশ থেকে ভেসে আসে সেই পরিচিত কণ্ঠ: “হ্যালো… কেমন আছো?” এই একটি সাধারণ প্রশ্ন আপনার বর্তমান মানসিক শান্তিকে মুহূর্তে এলোমেলো করে দিতে পারে। এটি নিছকই এক কুশল জিজ্ঞাসা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর উদ্দেশ্য? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের যোগাযোগের পেছনে প্রায়শই থাকে জটিল মনস্তাত্ত্বিক কারণ। এই আর্টিকেলটি আপনাকে সেই কারণগুলো বুঝতে এবং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর প্রতিক্রিয়া বেছে নিতে সাহায্য করবে, যা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং সাম্প্রতিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

 

ব্রেকআপ পরবর্তী যোগাযোগ: মনোবিজ্ঞান কী বলে?

 

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর প্রাক্তনের সাথে যোগাযোগ একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা, যদিও এটি প্রায়শই বিভ্রান্তিকর। এই ধরনের যোগাযোগের পেছনের কারণগুলো বোঝা আপনাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

 

কেন প্রাক্তনরা ফোন করে?

 

“কেমন আছো?” প্রশ্নটি প্রায়শই একটি ‘টেস্ট’ বা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা। মনোবিজ্ঞানী এবং সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে একাধিক সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন।

১. একাকীত্ব এবং নস্টালজিয়া

ব্রেকআপের পর একাকীত্ব বোধ করা খুব স্বাভাবিক। মানুষ হিসেবে আমরা পরিচিত স্বাচ্ছন্দ্যের (familiar comfort) দিকে ঝুঁকি। যখন একজন ব্যক্তি একাকী বোধ করেন, তখন তিনি অতীতের ভালো স্মৃতিগুলো মনে করতে শুরু করেন, যাকে মনোবিজ্ঞানে “রোজি রেট্রোস্পেকশন” (Rosy Retrospection) বা অতীতচারী গোলাপী আবেশ বলা হয়। তিনি হয়তো সম্পর্কের খারাপ দিকগুলো ভুলে গিয়ে শুধু ভালো মুহূর্তগুলো মনে করছেন। একটি ২০২১ সালের একটি গবেষণা যা Journal of Social and Personal Relationships-এ প্রকাশিত, দেখায় যে নস্টালজিয়া প্রায়শই ব্রেকআপের পরে মানসিক যন্ত্রণার সাথে যুক্ত থাকে এবং এটি প্রাক্তন সঙ্গীর সাথে পুনরায় যোগাযোগের ইচ্ছাকে বাড়িয়ে তোলে।

২. অনুশোচনা এবং অমীমাংসিত অনুভূতি

হতে পারে আপনার প্রাক্তন সঙ্গী ব্রেকআপের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন। তিনি হয়তো ভাবছেন যে তিনি ভুল করেছেন এবং সম্পর্কটি পুনরায় শুরু করার সুযোগ খুঁজছেন। অথবা, ব্রেকআপটি আকস্মিকভাবে হওয়ায় অনেক কিছু অস্পষ্ট বা অমীমাংসিত (unresolved feelings) রয়ে গেছে। এই “কেমন আছো” প্রশ্নটি হতে পারে সেই অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার একটি প্রাথমিক ধাপ।

৩. ভ্যালিডেশন বা আত্মসম্মান বৃদ্ধি (Ego Boost)

কিছু ক্ষেত্রে, প্রাক্তন সঙ্গী কেবল নিজের আত্মবিশ্বাস বা আত্মসম্মান ফিরে পেতে চান। তিনি নিশ্চিত হতে চান যে আপনার জীবনে এখনও তার কোনো গুরুত্ব আছে কি না বা আপনি তাকে মিস করেন কি না। আপনার কাছ থেকে একটি আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া পেলে তিনি নিজের সম্পর্কে ভালো বোধ করতে পারেন, যদিও তার ফিরে আসার কোনো বাস্তব উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে। একে অনেক বিশেষজ্ঞ “ব্রেডক্রাম্বিং” (Breadcrumbing) বা টোপ ফেলার সাথে তুলনা করেন—আপনাকে সামান্য মনোযোগ দিয়ে ধরে রাখা।

৪. অপরাধবোধ বা ক্ষমা প্রার্থনা

যদি ব্রেকআপের কারণ প্রাক্তনের কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তিনি অপরাধবোধে ভুগতে পারেন। এই ফোনটি হতে পারে তার ক্ষমা চাওয়ার বা নিজের ভুলের ভার লাঘব করার একটি পরোক্ষ প্রচেষ্টা।

৫. বাস্তবসম্মত বা যৌক্তিক কারণ

কখনও কখনও কারণটি খুব সাধারণ হতে পারে। হয়তো আপনার কোনো জিনিস তার কাছে রয়ে গেছে, বা তার কোনো জিনিস আপনার কাছে আছে। অথবা এমন কোনো যৌথ দায়বদ্ধতা (যেমন একটি পোষ্য, যৌথ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট) থাকতে পারে যার জন্য যোগাযোগের প্রয়োজন।

 

ফোন ধরার আগে: নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন

 

ফোনটি রিসিভ করার আগে বা কল ব্যাক করার আগে, এক মুহূর্ত থেমে নিজেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা জরুরি। আপনার প্রতিক্রিয়া আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

 

১. আমি কি মানসিকভাবে প্রস্তুত?

 

ব্রেকআপ একটি মানসিক আঘাত। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA) স্ট্রেসকে মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করে এবং ব্রেকআপ একটি অন্যতম প্রধান জীবন-পরিবর্তনকারী স্ট্রেস। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন:

  • আমি কি যথেষ্ট পরিমাণে সেরে উঠেছি (healed)?
  • তার কণ্ঠস্বর শুনলে কি আমার পুরনো কষ্টগুলো ফিরে আসবে?
  • আমি কি আবেগতাড়িত না হয়ে কথা বলতে পারব?

যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে ফোন না ধরা বা একটি সংক্ষিপ্ত মেসেজ পাঠানোই শ্রেয়।

 

২. আমার উদ্দেশ্য কী? (What is my intention?)

 

আপনি এই কথোপকথন থেকে কী চান?

  • বন্ধুত্ব: আপনি কি সত্যিই তার সাথে একটি সুস্থ, প্ল্যাটোনিক বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চান? এটি কি আদৌ সম্ভব, বিশেষ করে যদি অনুভূতিগুলো এখনও কাঁচা থাকে?
  • পুনর্মিলন: আপনি কি তাকে ফিরে পেতে চান? যদি তাই হয়, তবে আবেগপ্রবণ না হয়ে ধীরেসুস্থে এগোনো উচিত।
  • পরিসমাপ্তি (Closure): আপনি কি ব্রেকআপের কারণগুলো পরিষ্কারভাবে জানতে চান? অনেক সময়, আমরা প্রাক্তনের কাছে পরিসমাপ্তি খুঁজি, কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, প্রকৃত পরিসমাপ্তি নিজের ভেতর থেকেই আসে, অন্য কারও কথায় নয়।

 

৩. ‘নো কন্টাক্ট’ রুল কি এখনও প্রযোজ্য?

 

অনেক বিশেষজ্ঞ ব্রেকআপের পর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (যেমন ৩০ বা ৬০ দিন) ‘নো কন্টাক্ট’ (No Contact) বা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেন। এই সময়কাল উভয় পক্ষকে আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন হতে এবং যৌক্তিকভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে। যদি আপনি সেই সময়ের মধ্যে থাকেন, তবে একটি ফোন কল সেই প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সাইকোলজি টুডে (Psychology Today) অনুসারে, এই নিয়মটি আপনাকে মানসিক নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে এবং আত্মপরিচয় পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

 

পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া: কী বলবেন এবং কেন বলবেন

 

“কেমন আছো?”-এর কোনো একটিমাত্র সঠিক উত্তর নেই। আপনার উত্তর নির্ভর করবে আপনার বর্তমান পরিস্থিতি, আপনার অনুভূতি এবং সম্পর্কের ধরনের উপর।

 

দৃশ্যপট ১: আপনি সম্পূর্ণভাবে এগিয়ে গেছেন (Moved On)

 

আপনি নতুন জীবন নিয়ে খুশি। আপনি প্রাক্তনের প্রতি আর কোনো রোমান্টিক অনুভূতি পোষণ করেন না এবং তার ফোন কলে আপনি খুব বেশি আবেগাপ্লুত হননি।

  • কী বলবেন: আপনার প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত সংক্ষিপ্ত, বিনয়ী এবং কিছুটা নির্লিপ্ত (Polite but Distant)।
  • উদাহরণ: “হ্যালো, আমি ভালো আছি, ধন্যবাদ। আশা করি তুমিও ভালো আছো। কোনো বিশেষ কারণে ফোন করেছিলে?”
  • কেন এটি কার্যকর: এই উত্তরটি স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করে। এটি দেখায় যে আপনি সৌজন্য বজায় রাখছেন, কিন্তু দীর্ঘ ব্যক্তিগত আলোচনায় আগ্রহী নন। “বিশেষ কারণে ফোন করেছিলে?” প্রশ্নটি তাকে সরাসরি তার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করে, অপ্রয়োজনীয় ছোট আলাপ (small talk) এড়িয়ে।

 

দৃশ্যপট ২: সম্পর্কটি বিষাক্ত বা আপত্তিজনক ছিল (Toxic/Abusive)

 

যদি সম্পর্কটি আপনার মানসিক বা শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে, তবে আপনার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো নিজেকে রক্ষা করা।

  • কী বলবেন: দৃঢ়ভাবে সীমানা নির্ধারণ করুন অথবা একেবারেই প্রতিক্রিয়া জানাবেন না।
  • উদাহরণ (দৃঢ়): “আমি তোমার সাথে কথা বলতে আগ্রহী নই। দয়া করে আমাকে আর ফোন করবে না।”
  • বিকল্প (কোনো প্রতিক্রিয়া না করা): অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি প্রাক্তন সঙ্গী ম্যানিপুলেটিভ হন, তবে ফোন ব্লক করে দেওয়া এবং কোনো উত্তর না দেওয়াই সেরা কৌশল।
  • কেন এটি কার্যকর: বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর যেকোনো ধরনের যোগাযোগ আপনাকে আবার সেই চক্রের মধ্যে টেনে আনতে পারে। ন্যাশনাল ডমেস্টিক ভায়োলেন্স হটলাইন (The Hotline) সুপারিশ করে যে নির্যাতনমূলক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পর নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সীমানা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার মানসিক শান্তি যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান।

 

দৃশ্যপট ৩: আপনি এখনও দুর্বল এবং তাকে ফিরে পেতে চান

 

যদি আপনি ব্রেকআপটি মেনে নিতে না পারেন এবং গোপনে পুনর্মিলনের আশা করেন, তবে এই ফোন কলটি আপনার জন্য আশার আলো মনে হতে পারে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • কী বলবেন: শান্ত এবং সংযত থাকুন। অতিরিক্ত আবেগ বা ব্যাকুলতা প্রকাশ করবেন না।
  • উদাহরণ: “আমি ঠিক আছি, কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তোমার ফোন পেয়ে কিছুটা অবাক হলাম। সব ঠিক আছে?”
  • কেন এটি কার্যকর: এটি আপনাকে মরিয়া (desperate) দেখায় না। এটি তাকে দেখায় যে আপনার জীবন চলছে, তবে আপনি কথা শুনতে ইচ্ছুক। “অবাক হলাম” বলাটা স্বাভাবিক এবং এটি তাকে তার ফোন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে উৎসাহিত করবে। গটম্যান ইনস্টিটিউট (The Gottman Institute), যা সম্পর্ক গবেষণায় বিশ্বখ্যাত, পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে ধীরগতিতে বিশ্বাস পুনর্গঠনের উপর জোর দেয়। তাড়াহুড়ো করে পুরনো সম্পর্কে ফিরে যাওয়া প্রায়শই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটায়।

 

দৃশ্যপট ৪: আপনি বিভ্রান্ত এবং নিশ্চিত নন (Confused)

 

আপনি হয়তো সম্পূর্ণভাবে এগিয়ে যাননি, কিন্তু আবার সম্পর্কে ফিরতেও চান না। আপনি হয়তো বন্ধুত্ব রাখতে চান, অথবা আপনি নিজেই জানেন না আপনি কী চান।

  • কী বলবেন: নিরপেক্ষ থাকুন এবং কথোপকথনের নিয়ন্ত্রণ নিন।
  • উদাহরণ: “আমি আছি। হঠাৎ ফোন করলে যে? কোনো দরকার ছিল?”
  • কেন এটি কার্যকর: “আমি আছি” (I’m okay/managing) একটি অস্পষ্ট কিন্তু সৎ উত্তর। এটি সরাসরি মূল প্রশ্নে চলে যায় (“কেন ফোন করলে?”)। এটি আপনাকে সময় দেয় তার উদ্দেশ্য বোঝার এবং তারপর নিজের প্রতিক্রিয়া ঠিক করার।

 

কথোপকথন পরিচালনার কৌশল

 

ফোন রিসিভ করার পর কথোপকথন কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তার কিছু কৌশল নিচে দেওয়া হলো:

  • সংক্ষিপ্ত রাখুন (Keep it Brief): প্রথম কলটি দীর্ঘায়িত করবেন না। এটি কুশল বিনিময়ের জন্য নয়, এটি উদ্দেশ্য বোঝার জন্য।
  • অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি নয়: যদি না আপনি উভয়েই সচেতনভাবে ‘পরিসমাপ্তি’ বা ‘Closure’-এর জন্য কথা বলতে রাজি হন, তবে পুরনো ঝগড়া বা “কেন ব্রেকআপ হলো” এই আলোচনা প্রথম কলেই এড়িয়ে চলুন।
  • তার উদ্দেশ্য শুনুন: তাকে কথা বলতে দিন। তিনি কেন ফোন করেছেন তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে চেষ্টা করুন। তিনি কি একাকীত্ব থেকে ফোন করেছেন, নাকি সত্যিই কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে?
  • আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন: গভীর শ্বাস নিন। যদি মনে হয় আপনি রেগে যাচ্ছেন বা কান্না পাচ্ছে, বিনয়ের সাথে বলুন, “আমাকে এখন একটি কাজে যেতে হবে, আমরা কি পরে কথা বলতে পারি?” এটি আপনাকে শান্ত হওয়ার সময় দেবে।

 

ব্রেকআপ পরবর্তী যোগাযোগ: পরিসংখ্যান কী বলে?

 

প্রাক্তনদের সাথে যোগাযোগের হার বেশ উচ্চ।

পরিসংখ্যানের বিষয় (Statistic Category) তথ্য (Data)
প্রাক্তনের সাথে যোগাযোগ একটি YouGov পোল অনুযায়ী, প্রায় ৪২% ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন যে তারা তাদের অন্তত একজন প্রাক্তনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যবেক্ষণ পিউ রিসার্চ সেন্টার (Pew Research Center) দেখেছে যে ব্রেকআপের পরে সোশ্যাল মিডিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করে। প্রায় ৫৭% সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বলেছেন যে তারা তাদের প্রাক্তন সঙ্গীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলো করেন বা চেক করেন।
পুনর্মিলনের হার যদিও অনেক লোক তাদের প্রাক্তনের সাথে যোগাযোগ রাখে, সফল পুনর্মিলনের হার তুলনামূলকভাবে কম। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ১৫% থেকে ২০% মানুষ তাদের প্রাক্তনের সাথে পুনরায় মিলিত হন, কিন্তু এই সম্পর্কগুলোর স্থায়িত্ব প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এই ডেটা দেখায় যে আপনার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। অনেকেই এই দ্বিধার সম্মুখীন হন। তবে, জনপ্রিয় প্রবণতা যাই হোক না কেন, আপনার সিদ্ধান্ত আপনার ব্যক্তিগত সুস্থতার উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

 

আপনার শান্তিই অগ্রাধিকার

 

যখন আপনার প্রাক্তন ফোন করে জিজ্ঞাসা করে “কেমন আছো?”, তখন পৃথিবী থেমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন হতে পারে, অথবা এর পেছনে থাকতে পারে জটিল আবেগ।

আপনার প্রতিক্রিয়া যাই হোক না কেন, তা তিনটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত:

১. আত্ম-সচেতনতা (Self-Awareness): আপনি বর্তমানে কেমন বোধ করছেন?

২. উদ্দেশ্য (Intention): আপনি এই যোগাযোগ থেকে কী চান?

৩. সীমানা (Boundaries): আপনার মানসিক শান্তি রক্ষার জন্য আপনার সীমানা কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মানসিক চাপকে স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে। একটি অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক বা ব্রেকআপের পরবর্তী মানসিক টানাপোড়েন সেই চাপের একটি বড় উৎস হতে পারে।

তাই, উত্তর দেওয়ার আগে, একটি গভীর শ্বাস নিন। মনে রাখবেন, আপনার প্রতিক্রিয়া আপনার নিয়ন্ত্রণেই আছে। আপনি বিনয়ী হতে পারেন, দৃঢ় হতে পারেন, অথবা উত্তর না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। দিনশেষে, আপনার মানসিক শান্তি এবং সুস্থতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

About Author
Riddhi Datta

ঋদ্ধি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি একজন উদীয়মান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক, যিনি জটিল বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করে তোলেন। তাঁর লেখায় রসায়ন, পরিবেশ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সমসাময়িক বিষয়গুলি প্রাধান্য পায়। ঋদ্ধি নিয়মিতভাবে এই ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রবন্ধ, গবেষণা সারসংক্ষেপ এবং বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন