why-you-should-never-take-a-loan-on-tuesday: প্রথমেই মূল বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক। ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র এবং বহু প্রাচীন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, মঙ্গলবারকে ‘ঋণ’ বা লোন নেওয়ার জন্য অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে নতুন ঋণ গ্রহণ করলে সেই ঋণ পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং ঋণের বোঝা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। তবে, এটি সম্পূর্ণরূপেই একটি বিশ্বাসভিত্তিক ধারণা। ভারতের কোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্ক, যেমন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) বা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI), সপ্তাহের কোনো নির্দিষ্ট দিনকে লোন লেনদেনের জন্য অশুভ বলে ঘোষণা করে না। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে আর্থিক যোগ্যতা, CIBIL স্কোর এবং নথিপত্রের উপর নির্ভর করে চলে, কোনো ধর্মীয় বা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় পঞ্জিকার উপর নয়। এই নিবন্ধে, আমরা এই প্রাচীন বিশ্বাসের পেছনের জ্যোতিষশাস্ত্রীয়, পৌরাণিক কারণগুলি বিশ্লেষণ করব এবং একই সাথে আধুনিক আর্থিক বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে কী বলেন, তাও খতিয়ে দেখব।
মঙ্গলবারের এই বিশ্বাসের উৎস কী?
এই ধারণার শিকড় প্রোথিত আছে হিন্দু বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে। সপ্তাহের প্রতিটি দিন একজন নির্দিষ্ট গ্রহ দ্বারা শাসিত হয়। মঙ্গলবার বা ‘মঙ্গলবার’-এর শাসক গ্রহ হল মঙ্গল (Mars)। জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গলকে একটি ‘উগ্র’ বা ‘পাপ’ (malefic) গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি শক্তি, সাহস, যুদ্ধ, ক্রোধ এবং রক্তের কারক গ্রহ। এই উগ্র প্রকৃতির কারণেই মঙ্গল গ্রহকে ঋণ, শত্রু এবং বিবাদের সাথেও যুক্ত করা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্রে মঙ্গল এবং ঋণের সম্পর্ক
বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে, জন্মকুণ্ডলীর ষষ্ঠ ঘর (6th House)-কে ‘রিপু’ বা ‘ঋণ’-এর ঘর বলা হয়। এই ঘরটি রোগ, শত্রু এবং ঋণ—এই তিনটি প্রধান নেতিবাচক দিককে নির্দেশ করে।
-
মঙ্গল গ্রহের প্রভাব: মঙ্গল গ্রহ নিজেই ঋণের অন্যতম প্রধান কারক। যদি কোনো ব্যক্তির জন্মকুণ্ডলীতে মঙ্গল ষষ্ঠ ঘরে অবস্থান করে বা ষষ্ঠ ঘরের অধিপতির সাথে কোনোভাবে সম্পর্কিত হয়, তবে সেই ব্যক্তির জীবনে ঋণগ্রস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।
-
উগ্র শক্তির সূচনা: মঙ্গলবার মঙ্গল গ্রহের নিজস্ব দিন। এই দিনে মঙ্গল গ্রহের শক্তি বা প্রভাব সর্বাধিক থাকে। জ্যোতিষশাস্ত্রের নিয়ম অনুসারে, আপনি যে দিনে যে কাজটি শুরু করেন, সেই কাজটি সেই দিনের অধিপতি গ্রহের চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে।
-
ফলাফল: যেহেতু মঙ্গল একটি উগ্র এবং ঋণ-কারক গ্রহ, তাই তার দিনে (মঙ্গলবারে) ঋণ নেওয়ার অর্থ হল, এমন একটি আর্থিক দায় শুরু করা যার মধ্যে মঙ্গলের উগ্র, সংগ্রামী এবং ঝামেলাপূর্ণ প্রকৃতি থাকবে। এর ফলে বিশ্বাস করা হয় যে, ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে নানা বাধা আসে, বিবাদ দেখা দেয়, অথবা এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে একটি ঋণ শোধ করতে গিয়ে আরেকটি নতুন ঋণ নিতে হয়। প্রতিবেদনও এই বিশ্বাসকে সমর্থন করে জানায় যে, মঙ্গলবারে নেওয়া ঋণ শোধ করতে “যুগ যুগ” সময় লেগে যেতে পারে।
ব্যাঙ্ক থেকে লোন নেওয়ার পূর্বে যে ১০টি প্রশ্ন অবশ্যই নিজেকে করবেন
একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য: ঋণ শোধের জন্য মঙ্গলবারই শ্রেষ্ঠ!
এই বিশ্বাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হল এর বৈপরীত্য। জ্যোতিষশাস্ত্র যেখানে মঙ্গলবার ঋণ নিতে বারণ করে, ঠিক সেখানেই মঙ্গলবারকে ঋণ শোধ করার জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলে মনে করা হয়।
এর কারণটিও মঙ্গল গ্রহের প্রকৃতির মধ্যেই নিহিত। মঙ্গল হল ‘যুদ্ধ’-এর গ্রহ। যখন আপনি ঋণ শোধ করছেন, আপনি আসলে আপনার ‘ঋণ’ নামক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। মঙ্গলের উগ্র শক্তি তখন আপনার পক্ষে কাজ করে এবং সেই ঋণকে দ্রুত ‘ধ্বংস’ করতে বা ‘পুড়িয়ে’ ফেলতে সাহায্য করে। তাই, যদি আপনার কোনো লোন থাকে এবং আপনি তার একটি বড় অংশ বা শেষ কিস্তি শোধ করতে চান, তবে জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস মতে মঙ্গলবার তার জন্য সবচেয়ে শুভ দিন।
পৌরাণিক এবং ধর্মীয় প্রেক্ষাপট
জ্যোতিষশাস্ত্রের বাইরেও, মঙ্গলবারের একটি শক্তিশালী ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে যা এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
সংকটমোচন হনুমানের দিন
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মঙ্গলবার হল ভগবান হনুমানের দিন। হনুমানজিকে ‘সংকটমোচন’ বলা হয়, অর্থাৎ যিনি সমস্ত সংকট বা বিপদ থেকে মুক্ত করেন। ভক্তরা আর্থিক সংকট, বিপদ এবং বিশেষ করে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মঙ্গলবারে হনুমানজির পূজা করেন।
ঋণ থেকে মুক্তি পেতে ভক্তরা মঙ্গলবারে হনুমান চালিসা, হনুমানষ্টক বা ‘ঋণমোচন মঙ্গল স্তোত্র’ পাঠ করেন। এমন একটি দিনে, যখন মানুষ ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করছে, সেই দিনেই নতুন করে ঋণ গ্রহণ করাকে সম্পূর্ণ বিপরীত বা অশুভ একটি কাজ বলে মনে করা হয়। এটি যেন সংকটমোচনের দিনে স্বেচ্ছায় নতুন করে সংকটে জড়িয়ে পড়া।
অন্যান্য বিশ্বাস
কিছু লোককাহিনীতে মঙ্গল গ্রহকে ‘ভূমির পুত্র’ (ভূমিপুত্র) বলা হয়। তাই, মঙ্গলবারে জমি, বাড়ি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত লোন (যেমন হোম লোন) নেওয়াকে বিশেষভাবে অশুভ মনে করা হয়, কারণ বিশ্বাস করা হয় যে এটি ভূমি-সম্পর্কিত বিবাদ বা ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পরিসংখ্যান কী বলছে: কতজন মানুষ এই বিশ্বাস মানেন?
অনেকেই ভাবতে পারেন, একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে এই ধরনের প্রাচীন বিশ্বাস কি আদৌ প্রাসঙ্গিক? তথ্য কিন্তু অন্য কথা বলছে।
বিশ্বাসের পরিসংখ্যান
আধুনিক ভারতেও জ্যোতিষশাস্ত্র এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রভাব। পিউ রিসার্চ সেন্টার (Pew Research Center) দ্বারা পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক (২০২৪-২০২৫) সমীক্ষা অনুসারে, ভারতের প্রায় ৪৫% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভবিষ্যৎ জানার জন্য ভাগ্য গণনাকারী বা রাশিফলের সাহায্য নেন। হিন্দুদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫১%। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ যখন রাশিফল বা জ্যোতিষের উপর আস্থা রাখেন, তখন এটি স্পষ্ট যে লোন নেওয়া বা বিনিয়োগ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তগুলিও এর দ্বারা প্রভাবিত হয়।
বিশ্বাসের অর্থনীতি
এই বিশ্বাসের গভীরতা বোঝা যায় ভারতের জ্যোতিষ বাজারের আকার দেখে।
-
বাজারের আকার: মার্কেন্টেল অ্যাডভাইজারস (MarkNtel Advisors) নামক একটি বাজার গবেষণা সংস্থার মতে, ২০২৪ সালে ভারতে শুধুমাত্র জ্যোতিষ অ্যাপের (Astrology App) বাজার ছিল প্রায় ১৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩৬০ কোটি টাকা)।
-
বৃদ্ধির হার: আরও চমকপ্রদ তথ্য হল, এই বাজারটি বার্ষিক প্রায় ৪৯.১৯% চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এটি ১,৭৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর অনুমান করা হচ্ছে।
-
ব্যবহারকারীর সংখ্যা: ‘অ্যাস্ট্রোটক’ (Astrotalk)-এর মতো একটি একক জ্যোতিষ প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬০ মিলিয়নেরও বেশি এবং তাদের বার্ষিক আয় প্রায় ১২০ মিলিয়ন ডলার।
এই পরিসংখ্যানগুলি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় তাদের দৈনন্দিন জীবনের সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, জ্যোতিষশাস্ত্রীয় পরামর্শকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন। তাই, ‘মঙ্গলবারে লোন না নেওয়া’ কেবল একটি কুসংস্কার নয়, এটি একটি সক্রিয় এবং ক্রমবর্ধমান বাজার-চালিত বিশ্বাস।
আধার কার্ড লোন: কীভাবে আপনার আধার কার্ডে ২ লক্ষ টাকা লোন পাবেন?
লোন লেনদেনের জন্য অন্য দিনগুলি: জ্যোতিষ কী বলে?
যদি মঙ্গলবার অশুভ হয়, তবে লোন নেওয়ার জন্য শুভ দিন কোনটি? জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, প্রতিটি দিনের নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে।
| দিন | শাসক গ্রহ | লোন নেওয়া (শুভ/অশুভ) | কারণ |
| রবিবার | সূর্য (Sun) | অশুভ | সূর্য রাজকীয় গ্রহ। এই দিনে ঋণ নেওয়াকে অশুভ মনে করা হয়, কারণ এটি অহংকার বা রাজকীয় খরচের কারণে নেওয়া ঋণকে নির্দেশ করে যা শোধ করা কঠিন। |
| সোমবার | চন্দ্র (Moon) | শুভ | চন্দ্র একটি সৌম্য, পরিবর্তনশীল এবং অর্থ প্রবাহের কারক গ্রহ। সোমবার লোন নিলে তা দ্রুত পরিশোধের সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করা হয়। |
| মঙ্গলবার | মঙ্গল (Mars) | অত্যন্ত অশুভ | মঙ্গল ঋণের কারক গ্রহ। এই দিনে লোন নিলে ঋণের জাল আরও জটিল হয়। (ঋণ শোধের জন্য শ্রেষ্ঠ দিন) |
| বুধবার | বুধ (Mercury) | শুভ | বুধ হল ব্যবসা, বাণিজ্য এবং হিসাবরক্ষণের গ্রহ। এই দিনে নেওয়া লোন সঠিক পরিকল্পনা মাফিক শোধ করা সহজ হয়। |
| বৃহস্পতিবার | বৃহস্পতি (Jupiter) | শুভ | বৃহস্পতি হল ধন, সমৃদ্ধি এবং জ্ঞানের কারক গ্রহ। এই দিনটিকে যেকোনো আর্থিক কাজের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। |
| শুক্রবার | শুক্র (Venus) | মধ্যম (Neutral) | শুক্র হল বিলাসিতা এবং আরামের গ্রহ। এই দিনে লোন নেওয়া যেতে পারে, তবে প্রায়শই তা বিলাসদ্রব্য বা শৌখিনতার জন্য নেওয়া হয়। |
| শনিবার | শনি (Saturn) | অশুভ | শনি হল বিলম্ব, বাধা এবং দীর্ঘস্থায়ী কর্মের গ্রহ। শনিবারে লোন নিলে সেই ঋণ দীর্ঘস্থায়ী এবং কষ্টসাধ্য হয়ে উঠতে পারে। |
আধুনিক ব্যাঙ্কিং এবং আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতামত
প্রাচীন বিশ্বাস যাই বলুক না কেন, আধুনিক আর্থিক জগত সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়মে চলে।
ব্যাঙ্কের নিয়মাবলী
প্রথমেই যা জানা দরকার, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) দ্বারা নির্ধারিত ব্যাঙ্কের ছুটির তালিকায় রবিবার, মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার এবং অন্যান্য জাতীয় ছুটি (যেমন ১৫ই আগস্ট, ২রা অক্টোবর) অন্তর্ভুক্ত থাকে। সপ্তাহের কোনো বিশেষ দিন (যেমন মঙ্গলবার) অশুভ বলে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে না বা লোন দেওয়া বন্ধ রাখে না।
আজকের ডিজিটাল যুগে, NEFT, RTGS, UPI এবং অনলাইন লোন অ্যাপ্লিকেশনগুলি ২৪x৭ চালু থাকে। আপনার লোনের আবেদন সপ্তাহের কোন দিনে জমা পড়ল, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল নিম্নলিখিত বিষয়গুলি:
-
CIBIL স্কোর: আপনার ক্রেডিট ইতিহাস কেমন? আপনি কি আগের লোন সময়মতো শোধ করেছেন?
-
আয়ের প্রমাণ (Income Proof): আপনার মাসিক আয় কি লোনের EMI শোধ করার জন্য যথেষ্ট?
-
নথিপত্র (Documentation): আপনার KYC (আধার, প্যান কার্ড) এবং আয়ের সমস্ত নথি কি সঠিক আছে?
-
ঋণের উদ্দেশ্য (Purpose of Loan): আপনি কী কারণে লোন নিচ্ছেন?
Home Loan নিতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে? ব্যাংকে যাওয়ার আগে জেনে নিন আদৌ আপনি পাবেন কিনা!
আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কী বলেন?
আর্থিক উপদেষ্টারা এই ধরনের বিশ্বাসকে পুরোপুরি খারিজ না করলেও, তারা বাস্তবতার উপর ফোকাস করার পরামর্শ দেন। তাদের মতে, লোন নেওয়ার ‘শুভ সময়’ জ্যোতিষ দ্বারা নয়, বরং আপনার আর্থিক পরিস্থিতি দ্বারা নির্ধারিত হয়।
“লোন নেওয়ার সেরা দিন হল সেই দিন, যেদিন আপনি সবচেয়ে কম সুদের হারে (Lowest Interest Rate) লোন পাচ্ছেন, আপনার কাছে একটি স্পষ্ট পরিশোধের পরিকল্পনা (Repayment Plan) আছে এবং আপনার সেই অর্থের সত্যিই প্রয়োজন আছে। মঙ্গলবারের পরিবর্তে আপনার CIBIL স্কোরের দিকে মনোযোগ দেওয়া অনেক বেশি জরুরি।”
বিশেষজ্ঞরা বার, তিথি বা নক্ষত্রের পরিবর্তে লোনের ‘Fine Print’ বা শর্তাবলী সাবধানে পড়ার উপর জোর দেন। একটি অশুভ দিনে নেওয়া ভালো লোন (কম সুদ, নমনীয় শর্ত) একটি শুভ দিনে নেওয়া খারাপ লোনের (উচ্চ সুদ, হিডেন চার্জ) চেয়ে সর্বদা ভালো।
যদি আপনি ইতিমধ্যেই ঋণে জর্জরিত হন: মঙ্গলবারের প্রতিকার
এই নিবন্ধের মূল বিষয় যদি হয় ‘মঙ্গলবারে ঋণ না নেওয়া’, তবে যারা ইতিমধ্যেই ঋণে জর্জরিত, তাদের জন্য মঙ্গলবারই হয়ে উঠতে পারে মুক্তির দিন। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মঙ্গলবারের কিছু নির্দিষ্ট প্রতিকার রয়েছে:
১. ঋণমোচন মঙ্গল স্তোত্র (Rinmochan Mangal Stotra)
এটি ঋণ মুক্তির জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিকারগুলির মধ্যে অন্যতম। বিশ্বাস করা হয়, প্রতি মঙ্গলবার স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে ভগবান হনুমান বা মঙ্গল দেবের মূর্তির সামনে বসে ঋণমোচন মঙ্গল স্তোত্র পাঠ করলে ধীরে ধীরে ঋণ পরিশোধের পথ প্রশস্ত হয় এবং আর্থিক বাধা দূর হয়।
২. হনুমান চালিসা পাঠ
প্রতি মঙ্গলবার (এবং সম্ভব হলে শনিবার) সন্ধ্যায় হনুমানজির সামনে একটি জুঁই তেলের (Jasmine Oil) প্রদীপ জ্বালিয়ে ৭ বার হনুমান চালিসা পাঠ করা ঋণ মুক্তির একটি বহুল প্রচলিত উপায়।
৩. মসুর ডাল দান
মঙ্গল গ্রহের সাথে সম্পর্কিত শস্য হল মসুর ডাল (লাল রঙের কারণে)। প্রতি মঙ্গলবার অভাবী মানুষকে মসুর ডাল বা গুড় দান করাকেও মঙ্গল গ্রহকে শান্ত করার এবং ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে গণ্য করা হয়।
‘মঙ্গলবারে লোন না নেওয়া’—এই বিশ্বাসটি আধুনিক আর্থিক যুক্তির বিচারে ভিত্তিহীন হলেও, এটি ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর এবং প্রভাবশালী অংশ। লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশ্বাস এবং শত শত কোটি টাকার জ্যোতিষ বাজার এর সাক্ষী।
এই বিশ্বাসের একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি মানুষকে হুট করে বা আবেগপ্রবণ হয়ে ঋণ (Impulsive Loan) নেওয়া থেকে বিরত রাখে। এটি মানুষকে ঋণ নেওয়ার আগে অন্তত একদিন অপেক্ষা করতে এবং পুনরায় ভাবতে বাধ্য করে, যা এক প্রকার আর্থিক শৃঙ্খলা (Financial Discipline)।
তবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে, বিশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব বুদ্ধি প্রয়োগ করা অপরিহার্য। আপনি লোন মঙ্গলবার নিচ্ছেন না বৃহস্পতিবারে, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল—আপনি কি লোনের সমস্ত শর্ত পড়েছেন? আপনার কি এই লোনটি শোধ করার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে? যদি এই প্রশ্নগুলির উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সপ্তাহের যেকোনো দিনই আপনার জন্য ‘শুভ’।











