বছরব্যাপী বাঁধাকপি সংরক্ষণের কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি: বিশেষজ্ঞ নির্দেশিকা

Home Methods for Year-Round Cabbage Preservation: বাঁধাকপি একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি যা সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করলে বছরব্যাপী তাজা রাখা সম্ভব । গবেষণা অনুযায়ী, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় বাঁধাকপি ৬…

Ishita Ganguly

 

Home Methods for Year-Round Cabbage Preservation: বাঁধাকপি একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি যা সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করলে বছরব্যাপী তাজা রাখা সম্ভব । গবেষণা অনুযায়ী, উপযুক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় বাঁধাকপি ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় । ঘরোয়া পদ্ধতিতে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, গাঁজন বা ডিহাইড্রেশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সারা বছর বাঁধাকপির পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।

বাঁধাকপি সংরক্ষণের গুরুত্ব ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

বাঁধাকপি একটি নন-ক্লাইমেক্টেরিক সবজি যার শ্বসন হার তুলনামূলকভাবে কম । ০°সেলসিয়াস (৩২°ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় এর শ্বসন হার ২-৩ মিলি CO₂/কেজি প্রতি ঘণ্টা, যা ২০°সেলসিয়াসে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪-২৫ মিলি CO₂/কেজি প্রতি ঘণ্টা হয় । এই কম শ্বসন হারের কারণেই সঠিক পরিবেশে বাঁধাকপি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়।

বাঁধাকপির হিমাঙ্ক -০.৯°সেলসিয়াস (৩০.৪°ফারেনহাইট), তাই সংরক্ষণের সময় এই তাপমাত্রার নিচে না নামানো অত্যন্ত জরুরি । বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বোত্তম সংরক্ষণের জন্য ০°সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৯৫-১০০% আপেক্ষিক আর্দ্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন । এই শর্তগুলো মেনে চললে প্রাথমিক মৌসুমের বাঁধাকপি ৩-৬ সপ্তাহ এবং শেষ মৌসুমের বাঁধাকপি ৫-৬ মাস পর্যন্ত তাজা থাকে ।

রেফ্রিজারেটরে বাঁধাকপি সংরক্ষণ

পূর্ণ বাঁধাকপি সংরক্ষণ

রেফ্রিজারেটর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ঘরোয়া সংরক্ষণ পদ্ধতি। পূর্ণ বাঁধাকপি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ২ মাস পর্যন্ত তাজা রাখা সম্ভব । প্রথমে বাঁধাকপির বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত বা শুকনো পাতাগুলো সরিয়ে ফেলুন। বাঁধাকপি ধোয়ার প্রয়োজন নেই কারণ আর্দ্রতা পচন ত্বরান্বিত করতে পারে ।

একটি ভেজা কাগজের তোয়ালে দিয়ে বাঁধাকপি মুড়ে প্লাস্টিক ব্যাগে রাখুন এবং রেফ্রিজারেটরের ক্রিসপার ড্রয়ারে সংরক্ষণ করুন । এই পদ্ধতি বাঁধাকপির প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ৯৫% আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা ৪১°ফারেনহাইট বা তার নিচে রাখা উচিত ।

কাটা বাঁধাকপি সংরক্ষণ

বাঁধাকপি কাটার পরে দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং বাদামি হতে শুরু করে । কাটা বাঁধাকপি প্লাস্টিক র‍্যাপ দিয়ে শক্তভাবে মুড়ে বা একটি এয়ারটাইট পাত্রে রেফ্রিজারেটরের সবচেয়ে ঠান্ডা অংশে রাখুন । এই পদ্ধতিতে কাটা বাঁধাকপি ২-৩ দিন তাজা থাকবে।

কুচি করা বাঁধাকপি সংরক্ষণ

কুচি করা বাঁধাকপি একটি টাইট-সিল প্লাস্টিক ব্যাগ বা এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন । অক্সিডেশন কমাতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে পাত্রটি সম্পূর্ণ বায়ুরোধী হওয়া জরুরি। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে কুচি করা বাঁধাকপি ২-৩ দিন তাজা থাকে ।

ফ্রিজারে বাঁধাকপি সংরক্ষণ: ব্ল্যাঞ্চিং পদ্ধতি

ফ্রিজিং দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের অন্যতম কার্যকর উপায়। তবে সরাসরি ফ্রিজ করার আগে ব্ল্যাঞ্চিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ব্ল্যাঞ্চিং এনজাইমের ক্রিয়া বন্ধ করে যা রং, স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ নষ্ট করতে পারে।

ব্ল্যাঞ্চিং প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে

প্রথমে বাঁধাকপি ধুয়ে বাহ্যিক পাতা সরিয়ে পছন্দমত আকারে কাটুন – হয় কুচি করুন বা ওয়েজ আকারে কাটুন । একটি বড় পাত্রে পানি ফুটিয়ে নিন এবং আলাদা একটি বাটিতে বরফ পানি প্রস্তুত রাখুন ।

ফুটন্ত পানিতে বাঁধাকপি ডুবিয়ে দিন। কুচি করা বাঁধাকপির জন্য ৩০-৬০ সেকেন্ড এবং ওয়েজ আকারের বাঁধাকপির জন্য ১-২ মিনিট ব্ল্যাঞ্চ করুন । সময় শেষ হলে দ্রুত ছাঁকনি দিয়ে তুলে বরফ পানিতে ডুবিয়ে দিন। এটি রান্নার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয় ।

প্যাকিং ও ফ্রিজিং

বাঁধাকপি ভালোভাবে শুকিয়ে পার্চমেন্ট পেপারযুক্ত একটি বেকিং শিটে একক স্তরে ছড়িয়ে দিন । প্রায় এক ঘণ্টার জন্য ফ্রিজে রেখে সম্পূর্ণ শক্ত হতে দিন। এরপর ফ্রিজার-সেফ ব্যাগে স্থানান্তরিত করুন এবং যতটা সম্ভব বাতাস বের করে সিল করুন। সঠিকভাবে প্রস্তুত করা হলে বাঁধাকপি ফ্রিজারে ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় ।

গাঁজন প্রক্রিয়ায় বাঁধাকপি সংরক্ষণ: সাওয়ারক্রাউট তৈরি

গাঁজন বা ফারমেন্টেশন একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত কার্যকর সংরক্ষণ পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া বাঁধাকপির স্বাভাবিক চিনি ভেঙে অ্যাসিড তৈরি করে, যা একটি প্রাকৃতিক সংরক্ষক হিসেবে কাজ করে । গাঁজানো বাঁধাকপি প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ এবং পুষ্টিগুণ বজায় রাখে।

সাওয়ারক্রাউট প্রস্তুতি

৫ পাউন্ড পাতলা কুচি করা বাঁধাকপিতে ৩ টেবিল চামচ পিকলিং বা ক্যানিং লবণ মেশান । হাত দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে চাপ দিন যাতে বাঁধাকপি থেকে রস বের হয় এবং তা কুচির উপরিভাগ ঢেকে ফেলে । প্রয়োজনে কাটা পেঁয়াজ এবং রসুন যোগ করতে পারেন স্বাদ বাড়ানোর জন্য ।

মিশ্রণটি একটি ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক বালতি বা বড় জারে ভরুন। বাঁধাকপি সম্পূর্ণভাবে রসে ডুবিয়ে রাখতে হবে বায়ুর সংস্পর্শ এড়াতে । যদি রস কম থাকে, তাহলে ১ কোয়ার্ট পানিতে দেড় টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে যোগ করুন ।

গাঁজন ও সংরক্ষণ সময়কাল

একটি প্লেট দিয়ে বাঁধাকপি চাপা দিন এবং তার উপর পানি ভর্তি জার রেখে ওজন দিন । ঢাকনা আলগাভাবে বসান যাতে গ্যাস বের হতে পারে। ৭০°ফারেনহাইটের নিচে তাপমাত্রায় ঠান্ডা, শুকনো স্থানে ৩-৪ সপ্তাহ রেখে দিন । প্রতি সপ্তাহে ২-৩ বার পরীক্ষা করুন এবং উপরিভাগের কোনো ছাঁচ বা ময়লা সরিয়ে ফেলুন ।

সম্পূর্ণ গাঁজন হলে রেফ্রিজারেটরে এয়ারটাইট পাত্রে ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় । ভিনেগার ব্লেন্ড (আপেল সিডার ও গ্রেপ ভিনেগার) ব্যবহার করে আরও দীর্ঘস্থায়ী সাওয়ারক্রাউট তৈরি করা সম্ভব ।

ডিহাইড্রেশন বা শুকানোর পদ্ধতি

ডিহাইড্রেশন বাঁধাকপি সংরক্ষণের একটি স্থানসাশ্রয়ী পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়ায় বাঁধাকপি থেকে জলীয় অংশ সরিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের উপযোগী করা হয় ।

ডিহাইড্রেটর ব্যবহার পদ্ধতি

বাঁধাকপি কুচি করে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বড় টুকরায় কাটুন । ডিহাইড্রেটর ট্রেতে একক স্তরে সাজিয়ে ১২৫°ফারেনহাইট তাপমাত্রায় শুকান । সম্পূর্ণ শুকানো না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যান। শুকনো বাঁধাকপি এয়ারটাইট জারে সংরক্ষণ করুন ।

গবেষণা অনুযায়ী, ফোম-ম্যাট ড্রাইং পদ্ধতিতে মাইক্রোওয়েভ হাইব্রিড সিস্টেম ব্যবহার করলে শুকানোর সময় ৯০.৯% কমে যায় এবং পুষ্টিগুণ ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে । এই পদ্ধতিতে আর্দ্রতা ৯৩.৪৭% থেকে ৮.৬২% এ নামানো সম্ভব ।

রুট সেলার বা ঠান্ডা গুদামে সংরক্ষণ

ঐতিহ্যবাহী রুট সেলার বা ঠান্ডা গুদাম বাঁধাকপি সংরক্ষণের আদর্শ স্থান। ঠান্ডা, আর্দ্র পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ।

সেলার সংরক্ষণ পদ্ধতি

সেলারে বাঁধাকপি সংরক্ষণের জন্য ৩২°ফারেনহাইট (০°সেলসিয়াস) থেকে ৪০°ফারেনহাইট (৪°সেলসিয়াস) তাপমাত্রা এবং ৯৫% আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি । মাটির মেঝেযুক্ত সেলার আদর্শ কারণ এটি স্বাভাবিকভাবে আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে ।

বাঁধাকপি ঝুলিয়ে বা শেলফে সাজিয়ে রাখুন যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। শুকনো এলাকায় এই পদ্ধতিতে ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় । চাইনিজ বাঁধাকপি তুলনামূলকভাবে কম সময় (২-৩ মাস) সংরক্ষণ করা যায় ।

বিভিন্ন সংরক্ষণ পদ্ধতির তুলনা

পদ্ধতি সংরক্ষণ সময় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পুষ্টিগুণ
রেফ্রিজারেটর (পূর্ণ) ২ মাস ৪১°ফা বা নিচে রেফ্রিজারেটর, প্লাস্টিক ব্যাগ উচ্চ
ফ্রিজিং ১২ মাস ০°ফা বা নিচে ফ্রিজার, ব্ল্যাঞ্চিং সরঞ্জাম মাঝারি-উচ্চ
গাঁজন ৬ মাস ৭০°ফা বা নিচে জার, লবণ, ওজন উচ্চ (প্রোবায়োটিক সহ)
ডিহাইড্রেশন ১ বছর+ ঘরের তাপমাত্রা ডিহাইড্রেটর বা চুলা মাঝারি
রুট সেলার ৬ মাস ৩২-৪০°ফা ঠান্ডা, আর্দ্র গুদাম উচ্চ
সংরক্ষণের সময় সতর্কতা ও টিপস

বাঁধাকপি ইথিলিন গ্যাসের প্রতি সংবেদনশীল । তাই টমেটো, কলা বা আপেলের মতো ইথিলিন উৎপাদনকারী ফলের কাছে রাখবেন না। বাঁধাকপি নিজে খুব কম ইথিলিন উৎপাদন করে, তাই অন্যান্য সবজির জন্য নিরাপদ।

সংরক্ষণের আগে কখনো বাঁধাকপি ধুবেন না কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি এবং পচন ত্বরান্বিত করে । ব্যবহারের ঠিক আগে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নিন ।

শেষ মৌসুমের বাঁধাকপি প্রাথমিক মৌসুমের তুলনায় দীর্ঘ সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত । প্রাথমিক মৌসুমের বাঁধাকপিতে বেশি ফিল্ড হিট থাকে, তাই সংরক্ষণের আগে হাইড্রোকুলিং বা ফোর্সড এয়ার কুলিং প্রয়োজন ।

পুষ্টিগুণ সংরক্ষণে রান্নার প্রভাব

গবেষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন রান্নার পদ্ধতি বাঁধাকপির পুষ্টিগুণে ভিন্ন প্রভাব ফেলে । স্টিমিং বা বাষ্পে রান্না করলে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকলাপ সর্বোচ্চ মাত্রায় সংরক্ষিত থাকে । বয়েলিং এবং স্টির-ফ্রাইং পদ্ধতিতে মোট ফেনোলিক, ভিটামিন সি এবং অ্যান্থোসায়ানিনের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় ।

লাল বাঁধাকপিতে প্রচুর অ্যান্থোসায়ানিন রয়েছে যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গাঁজন প্রক্রিয়ায় অনেক পুষ্টি উপাদান সংরক্ষিত থাকে এবং ল্যাক্টিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার কারণে প্রোবায়োটিক উপকারিতা পাওয়া যায় ।

কন্ট্রোলড অ্যাটমোস্ফিয়ার স্টোরেজ

বাণিজ্যিক পর্যায়ে কন্ট্রোলড অ্যাটমোস্ফিয়ার (CA) স্টোরেজ ব্যবহার করলে সংরক্ষণ সময় আরও বাড়ানো যায় । এই পদ্ধতিতে ৩% অক্সিজেন এবং ৫% কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবেশ তৈরি করা হয় । যদিও ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য এটি ব্যবহারিক নয়, তবে এই তথ্য জানা থাকলে বাজার থেকে ক্রয়ের সময় সংরক্ষণ পদ্ধতি বুঝতে সুবিধা হয়।

-০.৫°সেলসিয়াস তাপমাত্রায় CA স্টোরেজে বাঁধাকপি ৭-৯ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায় । কিছু ক্ষেত্রে হিমায়িত অবস্থায় বাঁধাকপি ১-৪ বছর পর্যন্ত রাখা সম্ভব ।

প্রি-কুলিং ও ফিল্ড হিট ম্যানেজমেন্ট

বাগান বা ক্ষেত থেকে তোলার পর বাঁধাকপিতে ফিল্ড হিট থাকে যা দ্রুত অপসারণ করা গুরুত্বপূর্ণ । প্রি-কুলিং ফল ও সবজিতে থাকা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে এবং শ্বসন কার্যক্রম দ্রুত দুর্বল করে দেয় ।

হাইড্রোকুলিং বা ফোর্সড এয়ার কুলিং পদ্ধতিতে ফিল্ড হিট দ্রুত অপসারণ করা যায় । ঠান্ডা আবহাওয়ায় সংগ্রহ করা বাঁধাকপি প্রি-কুলিং ছাড়াই সরাসরি সংরক্ষণ করা যায় ।

বাঁধাকপি নির্বাচন ও প্রস্তুতি

সংরক্ষণের জন্য শক্ত, ভারী এবং মজবুত পাতাযুক্ত বাঁধাকপি নির্বাচন করুন। হালকা রঙের বাঁধাকপি পিকলিংয়ের জন্য আদর্শ । কোনো দাগ, কাটা বা পোকার আক্রমণ থাকলে সেই বাঁধাকপি দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত নয়।

বাঁধাকপির শক্ত কোর অংশ ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে সরিয়ে ফেলুন । পুরু ডাঁটা পাতলা করে কেটে নিন যাতে সমানভাবে রান্না বা প্রক্রিয়াজাতকরণ হয় । বাইরের দুটি পাতা সংরক্ষণ করুন কারণ এগুলো জারে বাঁধাকপি ডুবিয়ে রাখতে সাহায্য করে ।

মৌসুমভিত্তিক সংরক্ষণ পরিকল্পনা

শীতকালে বাঁধাকপির মৌসুম সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত । এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে বাঁধাকপি কিনে বিভিন্ন পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যায়। শেষ মৌসুমের বাঁধাকপি রুট সেলারে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের জন্য এবং প্রাথমিক মৌসুমের বাঁধাকপি ফ্রিজিং বা দ্রুত ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত ।

বছরব্যাপী সরবরাহ নিশ্চিত করতে কমপক্ষে তিনটি পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করুন: রেফ্রিজারেটরে ২ মাসের জন্য, ফ্রিজারে ১২ মাসের জন্য এবং গাঁজন করে ৬ মাসের জন্য। এভাবে সারা বছর তাজা বাঁধাকপির স্বাদ পাওয়া সম্ভব।

সাধারণ ভুল এবং সমাধান

অনেকে বাঁধাকপি কেটে রেখে দেন যা দ্রুত জারণ এবং আর্দ্রতা হ্রাস ঘটায় । সম্পূর্ণ বাঁধাকপি সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেটে ব্যবহার করুন। কাটা অংশ এয়ারটাইট পাত্রে রাখুন।

গাঁজন প্রক্রিয়ায় বাঁধাকপি সম্পূর্ণ রসে ডুবিয়ে না রাখলে উপরিভাগে ছাঁচ জন্মায় । নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্রাইন যোগ করুন। ফোর্মেন্টেশন জারের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ না করে আলগা রাখুন যাতে গ্যাস বের হতে পারে ।

ফ্রিজ করার আগে ব্ল্যাঞ্চিং না করলে বাঁধাকপির রঙ, স্বাদ এবং টেক্সচার নষ্ট হয় । সঠিক সময় ধরে ব্ল্যাঞ্চিং এবং দ্রুত ঠান্ডা করা অত্যন্ত জরুরি।

বাঁধাকপি একটি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং বহুমুখী সবজি যা সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে বছরব্যাপী সংরক্ষণ করা সম্ভব। রেফ্রিজারেটরে ০-৪°সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এবং ৯৫-১০০% আর্দ্রতায় বাঁধাকপি ২ মাস পর্যন্ত তাজা রাখা যায়, যেখানে ব্ল্যাঞ্চিং করে ফ্রিজিং পদ্ধতিতে ১২ মাস সংরক্ষণ সম্ভব। ঐতিহ্যবাহী গাঁজন প্রক্রিয়া শুধু সংরক্ষণই নয়, পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি এবং প্রোবায়োটিক উপকারিতা যোগ করে, যা ৬ মাস পর্যন্ত রেফ্রিজারেটরে রাখা যায়। প্রতিটি পদ্ধতির নিজস্ব সুবিধা রয়েছে এবং একাধিক পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করে পরিবারের সারা বছরের চাহিদা পূরণ করা যায়। সঠিক তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ঘরোয়া পরিবেশে পেশাদার মানের সংরক্ষণ সম্ভব, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

About Author
Ishita Ganguly

ঈশিতা গাঙ্গুলী ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে স্নাতক। তিনি একজন উদ্যমী লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে থাকেন। ঈশিতার লেখার ধরন স্পষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যবহুল, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। তার নিবন্ধ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে আনেন এবং পাঠকদের চিন্তা-চেতনার পরিসরকে বিস্তৃত করতে সহায়তা করেন। সাংবাদিকতার জগতে তার অটুট আগ্রহ ও নিষ্ঠা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন