Zoho Arattai বনাম WhatsApp: ভারতের মেসেজিং অ্যাপের ভবিষ্যৎ কার হাতে?

Zoho Arattai vs WhatsApp: যোগাযোগের জগতে মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক লেনদেন, সবকিছুই এখন মেসেজিং অ্যাপের উপর নির্ভরশীল। এই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে WhatsApp এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম…

Soumya Chatterjee

 

Zoho Arattai vs WhatsApp: যোগাযোগের জগতে মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক লেনদেন, সবকিছুই এখন মেসেজিং অ্যাপের উপর নির্ভরশীল। এই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে WhatsApp এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম হলেও, সম্প্রতি ভারতের নিজস্ব মেসেজিং অ্যাপ Zoho Arattai (জোহারাতাই) ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একদিকে WhatsApp-এর জনপ্রিয়তা এবং নির্ভরযোগ্যতা, অন্যদিকে Arattai-এর স্বদেশী পরিচয় এবং উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য—এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি সেরা, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। এই প্রবন্ধে আমরা Zoho Arattai এবং WhatsApp-এর প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে দেখব, কোনটি আপনার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত প্রয়োজনে সবচেয়ে বেশি উপযোগী হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতে WhatsApp ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৩৭ মিলিয়নের বেশি (Findly.in), যা এটিকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, ২০২১ সালে চালু হওয়া Zoho Arattai সম্প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্বদেশী অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছে। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র তিন দিনের মধ্যে Arattai-এর দৈনিক সাইন-আপ ৩,০০০ থেকে বেড়ে ৩৫০,০০০-এ পৌঁছেছে, যা এর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয় (The Economic Times)। এই তুলনামূলক আলোচনাটি উভয় অ্যাপের বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা, ডেটা গোপনীয়তা, ব্যবসায়িক ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তুলে ধরবে, যা আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

পরিচিতি: Zoho Arattai এবং WhatsApp

যোগাযোগের এই দুটি মাধ্যমকে তুলনা করার আগে, তাদের পেছনের দর্শন এবং মূল লক্ষ্য সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

Zoho Arattai: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বিপ্লব

Zoho Arattai, চেন্নাই-ভিত্তিক টেক জায়ান্ট Zoho Corporation-এর একটি উদ্ভাবন। তামিল ভাষায় ‘Arattai’-এর অর্থ হলো আড্ডা বা খোশগল্প। নামটিই এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তোলে—একটি সহজ, সরল এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। Zoho মূলত তার ব্যবসায়িক সফ্টওয়্যার স্যুটের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং Arattai তাদের এই ইকোসিস্টেমের একটি নতুন সংযোজন। Arattai-এর মূল লক্ষ্য হলো ভারতের ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে (Digital Sovereignty) শক্তিশালী করা এবং ব্যবহারকারীদের ডেটা ভারতেই সুরক্ষিত রাখা। এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে কম গতির ইন্টারনেট সংযোগ এবং পুরনো বা কম শক্তিশালী স্মার্টফোনেও মসৃণভাবে চলার জন্য, যা ভারতের গ্রামীণ এবং আধা-শহুরে ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা।

 WhatsApp: বিশ্বের যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু

২০০৯ সালে ব্রায়ান অ্যাক্টন এবং জ্যান কউম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত WhatsApp, ২০১৪ সালে Meta (তৎকালীন Facebook) দ্বারা অধিগ্রহণের পর বিশ্বব্যাপী মেসেজিং-এর সমার্থক হয়ে ওঠে। বর্তমানে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ বিলিয়নের বেশি (DemandSage)। WhatsApp-এর সাফল্যের পেছনে রয়েছে এর সরল ইন্টারফেস, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এবং মাল্টিমিডিয়া শেয়ারিং-এর সহজ সুবিধা। সময়ের সাথে সাথে, WhatsApp শুধুমাত্র ব্যক্তিগত যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, WhatsApp Business এবং WhatsApp Business API-এর মাধ্যমে এটি ব্যবসা এবং গ্রাহক পরিষেবার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

 বৈশিষ্ট্যগত তুলনা: কে কোথায় এগিয়ে?

ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য যেকোনো অ্যাপের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো তার বৈশিষ্ট্য। এখানে আমরা উভয় অ্যাপের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো পাশাপাশি রেখে একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরলাম।

বৈশিষ্ট্য (Feature) Zoho Arattai WhatsApp
ডেটা স্টোরেজ ভারতের নিজস্ব ডেটা সেন্টারে ডেটা সুরক্ষিত রাখে। বিশ্বব্যাপী Meta-র সার্ভারে ডেটা স্টোর করা হয়।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ভয়েস এবং ভিডিও কলের জন্য উপলব্ধ। টেক্সট মেসেজের জন্য এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। সমস্ত মেসেজ, কল, মিডিয়া এবং স্ট্যাটাসের জন্য ডিফল্টভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য Meetings (অ্যাপের মধ্যেই মিটিং শিডিউল এবং পরিচালনা), Pocket (ব্যক্তিগত ক্লাউড স্টোরেজ), Mentions (নির্দিষ্ট আলোচনা খুঁজে বের করার সুবিধা)। Status (২৪ ঘণ্টার জন্য ছবি/ভিডিও শেয়ার), Channels (ব্রডকাস্ট), Payments (UPI ভিত্তিক পেমেন্ট)।
গ্রুপ চ্যাট ক্ষমতা ১,০০০ সদস্য পর্যন্ত। ১,০২৪ সদস্য পর্যন্ত।
ফাইল শেয়ারিং সীমা ১ জিবি পর্যন্ত ফাইল শেয়ার করা যায়। ২ জিবি পর্যন্ত ফাইল শেয়ার করা যায়।
মাল্টি-ডিভাইস সাপোর্ট অ্যান্ড্রয়েড টিভি সহ একসাথে ৫টি ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য। ফোন, ওয়েব এবং ডেস্কটপে মাল্টি-ডিভাইস সাপোর্ট রয়েছে।
ইন্টারফেস ও পারফরম্যান্স হালকা (Lightweight) এবং কম ডেটা খরচ করে। 2G/3G নেটওয়ার্কেও ভালোভাবে কাজ করে। ফিচার-সমৃদ্ধ হওয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি ডেটা এবং রিসোর্স ব্যবহার করে।
বিজ্ঞাপন নীতি সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন-মুক্ত। স্ট্যাটাস ট্যাবে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করেছে এবং ব্যবসায়িক ডেটা বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার করে।

 Arattai-এর উদ্ভাবনী বৈশিষ্ট্য

Zoho Arattai কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছে যা এটিকে WhatsApp থেকে আলাদা করে।

  • Meetings: এটি Arattai-এর অন্যতম শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য। ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মধ্যেই গুগল মিট বা জুমের মতো ভিডিও মিটিং তৈরি, শিডিউল এবং পরিচালনা করতে পারেন। পেশাদার এবং ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী টুল, যা তাদের অন্য কোনো অ্যাপে যাওয়ার প্রয়োজন দূর করে।
  • Pocket: অনেক সময় আমরা নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ নোট, লিঙ্ক বা ফাইল পাঠানোর জন্য WhatsApp-এ একটি সেলফ-চ্যাট গ্রুপ তৈরি করি। Arattai এই সমস্যার একটি সুন্দর সমাধান দিয়েছে ‘Pocket’ ফিচারের মাধ্যমে। এটি ব্যবহারকারীর জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্লাউড স্টোরেজের মতো কাজ করে, যেখানে যেকোনো মেসেজ, মিডিয়া বা ফাইল সহজেই সেভ করে রাখা যায়।
  • Mentions: স্ল্যাক (Slack)-এর মতো, Arattai-তে একটি ‘Mentions’ ট্যাব রয়েছে। যখন কেউ আপনাকে কোনো গ্রুপে ট্যাগ বা মেনশন করে, তখন সেই সমস্ত মেসেজ একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একত্রিত থাকে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ট্র্যাক করা অনেক সহজ হয়।

 WhatsApp-এর প্রমাণিত এবং নির্ভরযোগ্য বৈশিষ্ট্য

WhatsApp তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিশাল ব্যবহারকারীর ভিত্তিতে অনেক শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য তৈরি করেছে যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

  • এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন: নিরাপত্তার ক্ষেত্রে WhatsApp-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন, যা সিগন্যাল প্রোটোকলের (Signal Protocol) উপর ভিত্তি করে তৈরি। এর অর্থ হলো, প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া অন্য কেউ, এমনকি WhatsApp কর্তৃপক্ষও, মেসেজ পড়তে পারে না। WhatsApp-এর নিরাপত্তা নিয়ে এই স্বচ্ছতা এটিকে ব্যবহারকারীদের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলেছে।
  • WhatsApp Business API: ছোট এবং বড় ব্যবসার জন্য WhatsApp একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এর API ব্যবহার করে ব্যবসাগুলি গ্রাহক পরিষেবা অটোমেট করতে পারে, বাল্ক নোটিফিকেশন পাঠাতে পারে এবং Shopify বা Salesforce-এর মতো থার্ড-পার্টি অ্যাপ্লিকেশনগুলির সাথে ইন্টিগ্রেট করতে পারে।
  • Channels এবং Status: এই দুটি বৈশিষ্ট্য WhatsApp-কে একটি মিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের রূপ দিয়েছে। ব্যবহারকারীরা তাদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব, সংস্থা বা নিউজ চ্যানেলকে ফলো করতে পারে এবং স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজেদের দৈনন্দিন মুহূর্ত শেয়ার করতে পারে।

 নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা: বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু

ডিজিটাল যুগে ডেটা নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। এই ক্ষেত্রে, Zoho Arattai এবং WhatsApp-এর মধ্যে নীতিগত এবং প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে।

 Zoho Arattai: ডেটা সার্বভৌমত্ব এবং স্বচ্ছতা

Zoho Arattai-এর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি হলো ব্যবহারকারীর ডেটার গোপনীয়তা রক্ষা করা। তাদের নীতি অনুযায়ী, তারা ব্যবহারকারীর ডেটা কোনো বিজ্ঞাপনী সংস্থার সাথে শেয়ার করে না এবং অ্যাপটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন-মুক্ত। Zoho-এর সিইও শ্রীধর ভেম্বু জানিয়েছেন, Arattai-এর সমস্ত ডেটা ভারতের মধ্যেই অবস্থিত ডেটা সেন্টারে সংরক্ষণ করা হয় (Hindustan Times)। এটি ভারতের ডেটা সুরক্ষা আইন এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

তবে, নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন। Arattai বর্তমানে শুধুমাত্র ভয়েস এবং ভিডিও কলের জন্য এই সুরক্ষা প্রদান করে। তাদের টেক্সট মেসেজ এবং গ্রুপ চ্যাটগুলি এখনও এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপটেড নয়। যদিও Zoho জানিয়েছে যে এটি তাদের রোডম্যাপের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, কিন্তু বর্তমানে এটি একটি বড় সীমাবদ্ধতা, বিশেষ করে গোপনীয়তা-সচেতন ব্যবহারকারীদের জন্য (Inc42)।

 WhatsApp: শক্তিশালী এনক্রিপশন কিন্তু Meta-র ইকোসিস্টেমের অংশ

WhatsApp তার সমস্ত যোগাযোগের জন্য ডিফল্টভাবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন প্রদান করে, যা একে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত মেসেজিং অ্যাপে পরিণত করেছে। এই প্রযুক্তি নিশ্চিত করে যে আপনার ব্যক্তিগত বার্তাগুলি সম্পূর্ণ গোপনীয় থাকবে।

কিন্তু, WhatsApp তার মূল সংস্থা Meta-র সাথে কিছু মেটাডেটা (যেমন আপনি কাকে মেসেজ করছেন, কখন করছেন ইত্যাদি) শেয়ার করে, যা বিজ্ঞাপনের টার্গেটিং-এর জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও মেসেজের বিষয়বস্তু এনক্রিপটেড থাকে, এই মেটাডেটা শেয়ারিং অনেক গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞের উদ্বেগের কারণ। এছাড়াও, WhatsApp-এ মাঝেমধ্যে নিরাপত্তা ত্রুটি (vulnerabilities) খুঁজে পাওয়া যায়, যা স্বাভাবিকভাবেই এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রত্যাশিত। CVE Details-এর মতো প্ল্যাটফর্মে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।

 ব্যবসায়িক ব্যবহার: কোনটি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য সেরা?

ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি, উভয় অ্যাপই ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট সমাধান প্রদান করে।

Zoho Arattai: ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগ(SME) এবং Zoho ব্যবহারকারীদের জন্য আদর্শ

Zoho Arattai বিশেষভাবে সেই সমস্ত ব্যবসার জন্য উপযোগী যারা ইতিমধ্যেই Zoho-এর অন্যান্য সফ্টওয়্যার (যেমন Zoho CRM, Zoho Projects) ব্যবহার করে। Zoho Flow-এর মাধ্যমে Arattai-কে অন্যান্য Zoho অ্যাপের সাথে সহজেই ইন্টিগ্রেট করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, Zoho CRM-এ একটি নতুন গ্রাহক যোগ হলে Arattai-এর নির্দিষ্ট চ্যানেলে একটি স্বয়ংক্রিয় নোটিফিকেশন পাঠানো সম্ভব। এর ‘Meetings’ ফিচারটি ছোট এবং মাঝারি আকারের দলগুলির জন্য অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের একটি দারুণ মাধ্যম হতে পারে। যেহেতু Arattai বিজ্ঞাপন-মুক্ত এবং ডেটা গোপনীয়তার উপর জোর দেয়, তাই যে সমস্ত সংস্থা তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সুরক্ষিত রাখতে চায়, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে, এখনও পর্যন্ত Arattai-এর ব্যবসায়িক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট কেস স্টাডি বা উদাহরণ খুব বেশি প্রকাশ্যে আসেনি, কারণ এর ব্যবসায়িক অভিযোজন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

 WhatsApp Business: গ্রাহক পরিষেবার এক শক্তিশালী মাধ্যম

WhatsApp Business বর্তমানে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ব্যবসা ব্যবহার করছে। এর দুটি সংস্করণ রয়েছে: ছোট ব্যবসার জন্য একটি বিনামূল্যের অ্যাপ এবং বড় সংস্থাগুলির জন্য WhatsApp Business API।

বিনামূল্যের অ্যাপটি ব্যবসাগুলিকে একটি বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করতে, ক্যাটালগ প্রদর্শন করতে এবং স্বয়ংক্রিয় উত্তর সেট করতে দেয়। অন্যদিকে, API ব্যবহার করে বড় সংস্থাগুলি চ্যাটবট তৈরি করতে পারে, গ্রাহকদের বাল্ক নোটিফিকেশন (যেমন, অর্ডারের স্থিতি, ডেলিভারি আপডেট) পাঠাতে পারে এবং গ্রাহক পরিষেবাকে বহুলাংশে স্বয়ংক্রিয় করতে পারে। 2Factor.in-এর মতো প্রদানকারীরা ভারতে WhatsApp Business API-এর জন্য বিভিন্ন মূল্যের প্ল্যান অফার করে। এর ব্যাপক ব্যবহার এবং থার্ড-পার্টি ইন্টিগ্রেশনের সুবিধার কারণে গ্রাহক-কেন্দ্রিক ব্যবসার জন্য WhatsApp একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।

 ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং চূড়ান্ত রায়

Zoho Arattai এবং WhatsApp-এর মধ্যে প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র দুটি অ্যাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বিশ্বায়ন বনাম স্থানীয়করণ এবং ডেটা গোপনীয়তা বনাম নেটওয়ার্ক প্রভাবের একটি লড়াই।

Arattai-এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের উপর। প্রথমত, তাদের দ্রুত টেক্সট মেসেজের জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করতে হবে। এটি না হলে নিরাপত্তা-সচেতন ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস অর্জন করা কঠিন হবে। দ্বিতীয়ত, WhatsApp-এর বিশাল নেটওয়ার্ক প্রভাব (network effect) কাটিয়ে ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষ সেই অ্যাপই ব্যবহার করতে চায় যেখানে তাদের বন্ধু, পরিবার এবং সহকর্মীরা রয়েছে। তবে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ডেটা সার্বভৌমত্বের উপর সরকারি জোর Arattai-এর জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। Zoho-এর শক্তিশালী ইকোসিস্টেম এবং ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের ভিত্তিও এর বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

অন্যদিকে, WhatsApp তার বিশাল ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে বাজারে তার প্রভাবশালী অবস্থান বজায় রাখবে। Meta ক্রমাগত নতুন বৈশিষ্ট্য (যেমন Meta AI) যোগ করছে এবং তার ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করছে। তবে, ডেটা গোপনীয়তা এবং বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ বাড়লে, তারা বিকল্প খুঁজতে শুরু করতে পারে।

তাহলে আপনার কোনটি বেছে নেওয়া উচিত?

  • আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হন যার জন্য এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এবং একটি বিশাল ব্যবহারকারী নেটওয়ার্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে WhatsApp এখনও আপনার জন্য সেরা বিকল্প।
  • আপনি যদি ডেটা গোপনীয়তা, স্বদেশী পণ্য এবং বিজ্ঞাপন-মুক্ত অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেন, এবং কম গতির ইন্টারনেটে একটি মসৃণ অ্যাপ চান, তাহলে Zoho Arattai একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।
  • আপনি যদি একজন ব্যবসায়ী হন এবং গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে চান, তাহলে WhatsApp Business API আপনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
  • আপনার সংস্থা যদি ইতিমধ্যেই Zoho ইকোসিস্টেম ব্যবহার করে এবং একটি সুরক্ষিত অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা খুঁজছে, তাহলে Arattai আপনার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান প্রমাণিত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, সেরা মেসেজিং অ্যাপ কোনটি, তা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকারের উপর। Zoho Arattai একটি সম্ভাবনাময় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তবে WhatsApp-এর সিংহাসনচ্যুত করতে হলে তাকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

About Author
Soumya Chatterjee

সৌম্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। তিনি একজন উদ্যমী লেখক, যিনি প্রযুক্তির জটিল ধারণাগুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে দক্ষ। তার লেখার মূল ক্ষেত্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ, সফটওয়্যার গাইড, এবং উদীয়মান টেক প্রবণতা। সৌম্যর প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাকে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। টেক জগতে চলমান পরিবর্তনগুলির সাথে তাল মিলিয়ে সৌম্য সর্বদা নতুন ও তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।