বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন — কারণ, লক্ষণ ও সমাধান জানুন

অনেক পুরুষই একটা বিষয়ে মনে মনে চিন্তা করেন, কিন্তু কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন না — বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন? বিষয়টা দেখতে অস্বাভাবিক লাগলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি…

Avatar

অনেক পুরুষই একটা বিষয়ে মনে মনে চিন্তা করেন, কিন্তু কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন না — বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন? বিষয়টা দেখতে অস্বাভাবিক লাগলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় বিষয়। তবে কখনো কখনো এর পেছনে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যাও। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব — কেন বাম অন্ডকোষ ডান অন্ডকোষের চেয়ে নিচে ঝুলে থাকে, কখন এটি স্বাভাবিক আর কখন চিকিৎসা দরকার, এবং কী করলে সুস্থ থাকা সম্ভব।​

অন্ডকোষের গঠন ও অবস্থান — প্রথমে বুঝুন

পুরুষের শরীরে দুটি অন্ডকোষ থাকে, যেগুলো স্ক্রোটামের ভেতরে অবস্থান করে। এই অন্ডকোষগুলো শুক্রাণু তৈরি করে এবং টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন করে। স্বাভাবিকভাবেই দুটি অন্ডকোষ সমান উচ্চতায় থাকে না — একটি একটু নিচে এবং অপরটি একটু উপরে থাকে।​

স্ক্রোটাম কীভাবে কাজ করে?

স্ক্রোটাম বা অণ্ডথলি শুধু অন্ডকোষ ধারণ করে না, এটি একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গ হিসেবেও কাজ করে। শুক্রাণু সঠিকভাবে তৈরি হতে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য কম তাপমাত্রা প্রয়োজন, যা সাধারণত ৩৩-৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই কারণেই অন্ডকোষ শরীরের বাইরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। গরমে এটি আরও নিচে নামে আর ঠান্ডায় সংকুচিত হয়ে শরীরের কাছে চলে আসে — এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম।​

বিষয় বিবরণ
অন্ডকোষের সংখ্যা দুটি (বাম ও ডান)
অবস্থান স্ক্রোটামের ভেতরে
প্রধান কাজ শুক্রাণু ও টেস্টোস্টেরন উৎপাদন
আদর্শ তাপমাত্রা ৩৩–৩৪°C (শরীরের চেয়ে কম)
স্বাভাবিক অবস্থান অসম উচ্চতায় (একটি নিচে)

বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন — স্বাভাবিক কারণগুলো

বেশিরভাগ পুরুষের ক্ষেত্রেই বাম অন্ডকোষটি ডান অন্ডকোষের তুলনায় কিছুটা নিচে ঝুলে থাকে। এটি কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক গঠনের অংশ। তবে কেন ঠিক বাম দিকটাই বেশি নিচে থাকে? এর পেছনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ আছে।​

১. স্পার্মাটিক কর্ডের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য

স্পার্মাটিক কর্ড বা শুক্রনালিকা হলো সেই সংযোগকারী কাঠামো, যা অন্ডকোষকে পেটের ভেতরের অংশের সাথে যুক্ত রাখে। এই কর্ডের মধ্য দিয়ে রক্তনালি, স্নায়ু এবং শুক্রাণুবাহী নালি যায়। বাম দিকের স্পার্মাটিক কর্ড সাধারণত ডান দিকের চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়, যার কারণে বাম অন্ডকোষটি স্বাভাবিকভাবেই নিচে ঝুলে থাকে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়।​

২. ভ্রূণকালীন বিকাশের প্রক্রিয়া

মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় ভ্রূণের অন্ডকোষ প্রথমে পেটের ভেতরে থাকে এবং জন্মের আগেই স্ক্রোটামে নেমে আসে। এই নামার প্রক্রিয়াটি দুই পাশে সম্পূর্ণ একই সময়ে বা একই দূরত্বে হয় না। বাম অন্ডকোষ সাধারণত একটু আগে নামে এবং কিছুটা বেশি নিচে স্থির হয়। এটি বিকাশের স্বাভাবিক অংশ এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথেও এই পার্থক্য থেকে যায়।​

৩. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাকৃতিক ব্যবস্থা

শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য কম তাপমাত্রা দরকার। অন্ডকোষ দুটি যদি একই উচ্চতায় পাশাপাশি থাকত, তাহলে একে অপরের সাথে ঘর্ষণ হতো এবং তাপমাত্রা বেড়ে যেত। একটু অসম অবস্থানে থাকায় এই সমস্যা হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অসামঞ্জস্যতা শুক্রাণুর মানের জন্য উপকারী।​

৪. বয়স বাড়ার প্রভাব

বয়স যত বাড়ে, শরীরের চামড়া ও পেশি কিছুটা শিথিল হতে থাকে — এটা শরীরের অন্যান্য অংশের মতো স্ক্রোটামের ক্ষেত্রেও ঘটে। এই শিথিলতার কারণে অন্ডকোষ আগের চেয়ে বেশি নিচে নামতে পারে। ৩০-৪০ বছর বয়সের পর এই পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যায়। এটা স্বাভাবিক বার্ধক্যের লক্ষণ, কোনো রোগ নয়।​

৫. শরীরের অবস্থান ও তাপমাত্রার পরিবর্তন

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে, গরমে কাজ করলে বা দীর্ঘ পথ যানবাহনে বসে যাত্রা করলে অন্ডকোষ বেশি ঝুলে থাকে। আবার ঠান্ডায় বা শরীর চাপের মধ্যে থাকলে এটি সংকুচিত হয়ে উপরে উঠে আসে। এটি ক্রেমাস্টার পেশির কাজ — এই পেশিটি তাপমাত্রা অনুযায়ী অন্ডকোষের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করে।​

কারণ ব্যাখ্যা স্বাভাবিক কিনা
স্পার্মাটিক কর্ডের পার্থক্য বাম কর্ড বেশি লম্বা হ্যাঁ
ভ্রূণকালীন বিকাশ অসম নামার প্রক্রিয়া হ্যাঁ
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ শুক্রাণু রক্ষার্থে ব্যবস্থা হ্যাঁ
বয়সের প্রভাব চামড়া ও পেশি শিথিল হ্যাঁ
শরীরের ভঙ্গি দাঁড়ানো/বসা/গরম হ্যাঁ

চিকিৎসাগত কারণে বাম অন্ডকোষ ঝুলে যাওয়া

বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন — এই প্রশ্নের উত্তরে শুধু স্বাভাবিক কারণ নয়, কিছু চিকিৎসাগত কারণও থাকতে পারে। বিশেষত যখন ঝুলে পড়ার সাথে ব্যথা, ফোলা বা ভার ভার অনুভূতি থাকে, তখন সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয়।​

ভ্যারিকোসেল (Varicocele)

ভ্যারিকোসেল হলো অন্ডকোষের আশপাশে থাকা শিরাগুলো ফুলে যাওয়া বা বাঁকা হয়ে যাওয়ার অবস্থা। পায়ে যেমন ভেরিকোজ ভেইন হয়, ঠিক তেমনই অন্ডকোষেও হতে পারে। বাম অন্ডকোষে ভ্যারিকোসেল বেশি দেখা যায়, কারণ বাম দিকের শিরা একটি বিশেষ কোণে বৃক্ক শিরায় মেশে — যেটা রক্ত প্রবাহে বাধা তৈরি করে। এটি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলে বা ভারী কাজ করলে ব্যথা বাড়ায় এবং শুক্রাণুর মান কমিয়ে দিতে পারে। পুরুষ বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান কারণ এই ভ্যারিকোসেল।​​

হাইড্রোসেল (Hydrocele)

হাইড্রোসেল হলো অন্ডকোষের চারপাশে তরল জমে যাওয়ার অবস্থা। এটি সাধারণত ব্যথাহীন হয়, তবে আকারে বড় হলে অস্বস্তি তৈরি করে এবং অন্ডকোষটিকে ভারী ও ঝুলন্ত মনে করায়। নবজাতক থেকে বয়স্ক — যেকোনো বয়সে এটি হতে পারে। ছোট আকারের হাইড্রোসেল নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে, কিন্তু বড় হলে অপারেশনের প্রয়োজন হয়।​

এপিডিডাইমাইটিস (Epididymitis)

অন্ডকোষের পেছনে থাকা এপিডিডাইমিস নালিতে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এটি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে হয় এবং অন্ডকোষে তীব্র ব্যথা, ফোলা ও জ্বর দেখা দিতে পারে। ক্ল্যামাইডিয়া বা গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগও এর কারণ হতে পারে। সঠিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় এটি সেরে ওঠে।​

টেস্টিকুলার টর্শন (Testicular Torsion)

এটি একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা। এখানে স্পার্মাটিক কর্ড মোচড় খেয়ে যায়, যার ফলে অন্ডকোষে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা, অন্ডকোষ উপরে উঠে যাওয়া এবং বমি ভাব এর প্রধান লক্ষণ। এটি ৬ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন না করলে অন্ডকোষ স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে।​

ইনগুইনাল হার্নিয়া (Inguinal Hernia)

কুঁচকি বা গ্রোইন এলাকায় হার্নিয়া হলে অন্ডকোষে চাপ পড়তে পারে এবং এটি নিচের দিকে আরও বেশি ঝুলে থাকার মতো অনুভব হয়। হার্নিয়ার চিকিৎসায় সার্জারি করতে হয়।​

চিকিৎসাগত অবস্থা প্রধান লক্ষণ চিকিৎসা
ভ্যারিকোসেল ভার ভার ব্যথা, ফোলা শিরা সার্জারি বা ওষুধ
হাইড্রোসেল তরল জমা, ফোলা পর্যবেক্ষণ বা সার্জারি
এপিডিডাইমাইটিস তীব্র ব্যথা, জ্বর অ্যান্টিবায়োটিক
টেস্টিকুলার টর্শন আকস্মিক তীব্র ব্যথা জরুরি সার্জারি
ইনগুইনাল হার্নিয়া কুঁচকিতে চাপ ও ব্যথা সার্জারি

বাম অন্ডকোষ ঝুলে যাওয়ার লক্ষণ কখন উদ্বিগ্ন হবেন?

বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন তা বোঝার পাশাপাশি কোন লক্ষণগুলো স্বাভাবিক আর কোনটা সতর্কতার বিষয় — সেটা জানা জরুরি। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে:​

সাধারণ ও স্বাভাবিক লক্ষণ

  • গরমে অন্ডকোষ বেশি নিচে ঝুলে থাকা
  • ঠান্ডায় সংকুচিত হয়ে আসা
  • বাম অন্ডকোষ সামান্য নিচে থাকা
  • বয়স বাড়ার সাথে আরও কিছুটা ঝুলে যাওয়া

উদ্বেগজনক লক্ষণ ডাক্তার দেখান

  • হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হওয়া
  • অন্ডকোষ ফুলে যাওয়া বা লাল হওয়া
  • একটি অন্ডকোষে গুটি বা শক্ত মাংসপিণ্ড অনুভব করা
  • ভার ভার বা টান টান লাগা
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়ালে ব্যথা বাড়া
  • জ্বর সহ অন্ডকোষে ব্যথা
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা রক্ত আসা​
লক্ষণ স্বাভাবিক অস্বাভাবিক
তাপমাত্রা অনুযায়ী ঝুলে থাকা
বাম দিক সামান্য নিচে
হঠাৎ তীব্র ব্যথা
ফোলা ও লাল হওয়া
গুটি বা মাংসপিণ্ড
জ্বর সহ ব্যথা

বাম অন্ডকোষের সাথে যৌন স্বাস্থ্যের সম্পর্ক

অনেকের মনে ভুল ধারণা আছে যে অন্ডকোষ ঝুলে গেলে যৌনক্ষমতা কমে যায়। আসলে শুধু ঝুলে যাওয়া বা একটু নিচে থাকার কারণে যৌন জীবনে কোনো সমস্যা হয় না। তবে যদি ভ্যারিকোসেল বা তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়, তাহলে শুক্রাণুর মান ও পরিমাণ কমতে পারে, যা সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।​

ভ্যারিকোসেল ও পুরুষ উর্বরতার সম্পর্ক

ভ্যারিকোসেল হলো পুরুষ বন্ধ্যত্বের অন্যতম প্রধান এবং চিকিৎসাযোগ্য কারণ। বাম দিকে এটি বেশি হয় কারণ বাম দিকের শিরার গঠন একটু আলাদা। ভ্যারিকোসেলের কারণে অন্ডকোষের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং শুক্রাণুর মান নষ্ট হতে পারে। সার্জারি বা ইন্টারভেনশনের মাধ্যমে এটি সারানো গেলে উর্বরতা ফিরে আসতে পারে।​​

টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাব

অন্ডকোষ টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরি করে। কোনো কারণে অন্ডকোষে দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হলে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন কমতে পারে, যা যৌন আগ্রহ, পেশিশক্তি এবং মেজাজের উপর প্রভাব ফেলে। তাই অন্ডকোষের যেকোনো সমস্যায় দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।​

সমস্যা যৌন স্বাস্থ্যে প্রভাব
শুধু ঝুলে থাকা কোনো প্রভাব নেই
ভ্যারিকোসেল শুক্রাণু কমতে পারে
তাপমাত্রা বৃদ্ধি শুক্রাণুর মান নষ্ট
টেস্টোস্টেরন হ্রাস যৌন আগ্রহ কমে

ঘরে নিজে পরীক্ষা করার পদ্ধতি (Self-Examination)

প্রতি মাসে একবার নিজেই অন্ডকোষ পরীক্ষা করা উচিত। এটি টেস্টিকুলার ক্যান্সার বা অন্য সমস্যা দ্রুত ধরতে সাহায্য করে। গোসলের পরে পরীক্ষা করা সবচেয়ে সহজ, কারণ তখন ত্বক শিথিল থাকে।​

নিজে পরীক্ষার ধাপগুলো

  1. গরম পানিতে গোসলের পর সোজা দাঁড়ান।
  2. একটি হাত দিয়ে স্ক্রোটাম ধরুন।
  3. আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে প্রতিটি অন্ডকোষ পরীক্ষা করুন।
  4. অন্ডকোষের পেছনে থাকা নরম নালি (এপিডিডাইমিস) অনুভব করুন — এটি স্বাভাবিক।
  5. কোনো শক্ত গুটি, ফোলা বা ব্যথা থাকলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যান।

বাম অন্ডকোষ ঝুলে যাওয়ার চিকিৎসা ও প্রতিকার

চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণের উপর। যদি সমস্যাটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কারণে হয়, তাহলে কোনো চিকিৎসার দরকার নেই। কিন্তু চিকিৎসাগত কারণ থাকলে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সমাধান করতে হয়।​

চিকিৎসার ধরন

ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা:
সংক্রমণ বা প্রদাহের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এপিডিডাইমাইটিস বা অরকাইটিসে এই পদ্ধতি কার্যকর।

সার্জিক্যাল চিকিৎসা:
ভ্যারিকোসেল, হাইড্রোসেল, হার্নিয়া বা টেস্টিকুলার টর্শনের ক্ষেত্রে অপারেশন করতে হয়। টর্শনের ক্ষেত্রে এটি জরুরি ভিত্তিতে করতে হয়।

পর্যবেক্ষণ (Watchful Waiting):
যদি কোনো উপসর্গ না থাকে এবং সমস্যা ছোট হয়, তাহলে ডাক্তার শুধু পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। বিশেষত ছোট হাইড্রোসেলের ক্ষেত্রে এটি করা হয়।

ঘরোয়া প্রতিকার ও সতর্কতা

  • ব্যথা হলে বরফের প্যাক (কাপড়ে মুড়ে) ১৫-২০ মিনিট লাগান
  • সঠিক সাইজের আঁটোসাঁটো অন্তর্বাস পরুন, যা অন্ডকোষে সঠিক সাপোর্ট দেয়
  • ভারী ওজন তোলা বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা কমান
  • গরম পানিতে বেশিক্ষণ গোসল বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল কমান, কারণ এগুলো শুক্রাণুর মান নষ্ট করে​
সমস্যার ধরন প্রতিকারের পদ্ধতি
স্বাভাবিক ঝুলে যাওয়া কোনো চিকিৎসা নেই
ভ্যারিকোসেল সার্জারি বা এম্বোলাইজেশন
হাইড্রোসেল অপারেশন (বড় হলে)
সংক্রমণ অ্যান্টিবায়োটিক
টর্শন জরুরি সার্জারি

কখন ডাক্তার দেখাবেন জরুরি সংকেত

অনেক পুরুষ লজ্জায় বা ভয়ে অন্ডকোষের সমস্যা এড়িয়ে চলেন। এটি ভুল সিদ্ধান্ত। নিচের পরিস্থিতিতে দেরি না করে অবশ্যই ইউরোলজি বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন:​

  • হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে — এটি টর্শনের লক্ষণ হতে পারে
  • অন্ডকোষে নতুন গুটি বা শক্ত মাংসপিণ্ড দেখা দিলে — ক্যান্সার বাতিল করতে হবে
  • ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
  • অন্ডকোষ ফুলে গেলে বা রং পরিবর্তন হলে
  • জ্বরের সাথে অন্ডকোষে ব্যথা হলে
  • প্রস্রাবে রক্ত বা জ্বালাপোড়া থাকলে

ডাক্তার যা পরীক্ষা করতে পারেন

শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম, ডপলার স্টাডি এবং হরমোন পরীক্ষা করতে পারেন। এই পরীক্ষাগুলো থেকে সমস্যার আসল কারণ বের করা সম্ভব।​

অন্ডকোষের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার উপায়

শুধু সমস্যা হলে চিকিৎসা নয়, আগে থেকেই সতর্ক থাকলে অনেক সমস্যা এড়ানো যায়। অন্ডকোষের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার:​

  • সঠিক অন্তর্বাস পরুন: ঢিলে আন্ডারওয়্যার শুক্রাণুর জন্য ভালো, কারণ এটি তাপমাত্রা কম রাখে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন: পেলভিক মাসেল ও কোর পেশি শক্তিশালী রাখুন।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান: জিংক, ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত খাবার শুক্রাণুর মান ভালো রাখে।
  • ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলুন: এগুলো টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণুর ক্ষতি করে।
  • মানসিক চাপ কমান: দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেস হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
  • মাসে একবার নিজে পরীক্ষা করুন: যেকোনো পরিবর্তন দ্রুত ধরতে পারবেন।​

সাধারণ ভুল ধারণা যেগুলো মানুষ বিশ্বাস করে

অনেকের মধ্যে অন্ডকোষ ঝুলে যাওয়া নিয়ে নানা ভুল ধারণা চালু আছে। এগুলো দূর করা দরকার:​

ভুল ধারণা আসল সত্য
“ঝুলে যাওয়া মানে যৌনদুর্বলতা” ভুল — এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া
“বাম অন্ডকোষ নিচে মানে সমস্যা” ভুল — এটি অ্যানাটমিক্যালি স্বাভাবিক
“ব্যায়াম করলে ঠিক হয়ে যাবে” আংশিক সত্য — চিকিৎসাগত কারণে হলে ডাক্তার লাগে
“বয়স কম হলে এই সমস্যা হয় না” ভুল — যেকোনো বয়সে হতে পারে
“এটা লুকিয়ে রাখা উচিত” ভুল — সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া জরুরি

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে যা মনে রাখবেন

ডাক্তারের কাছে গেলে লজ্জা না করে সব কথা খুলে বলুন। ডাক্তার যা জানতে চাইতে পারেন:​

  • কতদিন ধরে এই সমস্যা
  • ব্যথা কোথায় কোথায় ছড়ায়
  • কোনো আঘাত লাগার ইতিহাস আছে কিনা
  • জ্বর বা প্রস্রাবের সমস্যা আছে কিনা
  • যৌনবাহিত রোগের ইতিহাস আছে কিনা

শেষ কথা বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন, এটা জানা কেন জরুরি

বাম অন্ডকোষ ঝুলে যায় কেন — এই প্রশ্নটা হয়তো ছোট মনে হয়, কিন্তু এর উত্তর জানা থাকলে অনেক বড় স্বাস্থ্য সমস্যা এড়ানো সম্ভব। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য — বাম স্পার্মাটিক কর্ড বেশি লম্বা হওয়ার কারণেই এটি ঘটে। তবে যখন এর সাথে ব্যথা, ফোলা, গুটি বা অন্য উপসর্গ যোগ হয়, তখন দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পুরুষের যৌন স্বাস্থ্য ও প্রজনন ক্ষমতা রক্ষায় সময়মতো সচেতনতা ও চিকিৎসাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।

About Author
Avatar

আমাদের স্টাফ রিপোর্টারগণ সর্বদা নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন যাতে আপনি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের সর্বশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পারেন। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রতিশ্রুতি আমাদের ওয়েবসাইটকে একটি বিশ্বস্ত তথ্যের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।তারা নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টিংয়ে বিশ্বাসী, দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম