মাথার পিছনে ব্যথা হলে কি করবেন? জেনে নিন প্রধান ৮টি কারণ ও সমাধান

মাথার পিছনে ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা যা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৫২% মানুষ প্রতি বছর কোনো না…

Debolina Roy

 

মাথার পিছনে ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর সমস্যা যা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করে । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৫২% মানুষ প্রতি বছর কোনো না কোনো ধরনের মাথাব্যথায় ভুগছেন, যার মধ্যে মাথার পিছনের ব্যথা অন্যতম । গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ১৫% মানুষ যেকোনো দিন মাথাব্যথায় ভোগেন এবং এদের প্রায় অর্ধেক মাইগ্রেন জনিত সমস্যায় আক্রান্ত । মাথার পিছনের ব্যথার বিভিন্ন কারণ রয়েছে যেমন টেনশন, ঘাড়ের সমস্যা, স্নায়ুবিক জটিলতা এবং অন্যান্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা ।

মাথার পিছনে ব্যথার প্রধান কারণসমূহ

টেনশন বা উত্তেজনাজনিত মাথাব্যথা

টেনশন মাথাব্যথা হলো মাথার পিছনে ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ । এই ধরনের মাথাব্যথা মাথার চারপাশে একটি আঁটসাঁট ব্যান্ডের মতো অনুভূত হয় এবং মাথার পিছন এবং ঘাড়ে বিস্তৃত হতে পারে । গবেষণা অনুসারে, টেনশন-টাইপ হেডেক (TTH) বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬% মানুষকে প্রভাবিত করে । এই মাথাব্যথা সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে ।

লক্ষণসমূহ:

  • মাথার চারপাশে হালকা থেকে মাঝারি মানের চাপ অনুভব করা

  • ঘাড় এবং কাঁধে শক্ত ভাব বা ব্যথা

  • ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমে ব্যথা বৃদ্ধি না পাওয়া

  • বমি বমি ভাব না থাকা

কারণ:
টেনশন মাথাব্যথা সাধারণত মানসিক চাপ, দুর্বল ভঙ্গি, ক্লান্তি, ঘুমের অভাব এবং অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে হয়ে থাকে । দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা এবং ভুল বসার ভঙ্গিও এই সমস্যার জন্য দায়ী ।

অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া

অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া একটি স্বতন্ত্র এবং কম সাধারণ ধরনের মাথাব্যথা যা মাথার পিছনে প্রভাব ফেলে । এটি ঘটে যখন মেরুদণ্ড থেকে মাথার ত্বক পর্যন্ত চলমান অক্সিপিটাল স্নায়ুগুলি প্রদাহযুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় । গবেষণায় দেখা গেছে যে হেডেক ক্লিনিকে আসা প্রায় ২৫% রোগী অক্সিপিটাল নিউরালজিয়ায় আক্রান্ত । আরও উল্লেখযোগ্য যে প্রায় ৮৫% ক্ষেত্রে অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া অন্যান্য মাথাব্যথার সাথে সহাবস্থান করে ।

লক্ষণসমূহ:

  • মাথার গোড়ায় তীক্ষ্ণ, ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা যা মাথার ত্বক পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়

  • বৈদ্যুতিক শকের মতো তীব্র ব্যথা

  • চোখের পিছনে ব্যথা এবং চাপ

  • আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা

  • মাথার ত্বকে স্পর্শকাতরতা

  • ঘাড় নড়াচড়া করলে ব্যথা বৃদ্ধি পায়

গবেষণা অনুসারে, প্রায় ৯০% ক্ষেত্রে গ্রেটার অক্সিপিটাল নার্ভ ব্যথার উৎস এবং ১০% ক্ষেত্রে লেসার অক্সিপিটাল নার্ভ দায়ী । রোগীদের গড় বয়স প্রায় ৫০ বছর এবং ৭৩% রোগী নারী ।

সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা

সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা ঘাড়ের সমস্যা থেকে উদ্ভূত হয় । সার্ভিকাল মেরুদণ্ডে (ঘাড়) হার্নিয়েটেড ডিস্ক বা অন্যান্য কাঠামোগত সমস্যা এই ধরনের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে । ঘাড়ের আর্থ্রাইটিস বা আঘাত যেমন হুইপ্ল্যাশও সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথার কারণ হতে পারে ।

লক্ষণসমূহ:

  • মাথার পিছনে শুরু হওয়া ব্যথা যা কপাল বা চোখের পিছনে ছড়িয়ে যেতে পারে

  • কাঁধ বা উপরের বাহুতে অস্বস্তি

  • শুয়ে থাকলে ব্যথা তীব্র হতে পারে

  • মাথার উপরে ওজনের মতো চাপ অনুভব করা

মাইগ্রেন

যদিও মাইগ্রেন সাধারণত মাথার একপাশে ব্যথা সৃষ্টি করে, তবে এটি মাথার পিছনেও ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে । বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে মাইগ্রেনে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১.১৬ বিলিয়নে পৌঁছেছে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫৮% বৃদ্ধি । মাইগ্রেন বিশ্বব্যাপী ১৪-১৫% মানুষকে প্রভাবিত করে ।

লক্ষণসমূহ:

  • তীব্র, স্পন্দনশীল ব্যথা

  • বমি বমি ভাব এবং বমি

  • আলো, শব্দ এবং গন্ধের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা

  • দৃষ্টিগত ব্যাঘাত (অরা)

  • পেশীতে কোমলতা এবং ত্বকে সংবেদনশীলতা

মাইগ্রেন কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে এবং শারীরিক কার্যকলাপে আরও খারাপ হয় । গবেষণা অনুসারে, প্রায় ৪৬% অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া রোগীদের মধ্যেও মাইগ্রেন সহাবস্থান করে ।

ক্লাস্টার মাথাব্যথা

ক্লাস্টার মাথাব্যথা একটি বিরল কিন্তু অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থা । এগুলি “ক্লাস্টার পিরিয়ড” এর সময় ঘটে, যা কয়েক সপ্তাহ বা মাস স্থায়ী হতে পারে এবং তারপর কিছু সময়ের জন্য হ্রাস পায় ।

লক্ষণসমূহ:

  • মাথার পিছনে বা পাশে তীক্ষ্ণ, জ্বলন্ত ব্যথা

  • শুয়ে থাকলে ব্যথা আরও খারাপ হয়

  • অস্থিরতা এবং বমি বমি ভাব

  • চোখ থেকে অতিরিক্ত জল পড়া

  • নাক বন্ধ হওয়া

  • চোখের পাতা ঝুলে পড়ে

নিম্ন চাপের মাথাব্যথা (ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হাইপোটেনশন)

নিম্ন চাপের মাথাব্যথা মস্তিষ্কে কম স্পাইনাল ফ্লুইড চাপের কারণে ঘটে । এটি ঘটে যখন মেরুদণ্ড থেকে স্পাইনাল ফ্লুইড লিক হয় । এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা স্পাইনাল ট্যাপ বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরে ঘটতে পারে ।

লক্ষণসমূহ:

  • বসা বা দাঁড়ানোর সময় ব্যথা খারাপ হয়

  • শুয়ে থাকলে ব্যথা কমে যায়

  • সকালে হালকা মাথাব্যথা যা দিনের বেলা তীব্র হয়

  • ঝুঁকে, কাশি, হাঁচি বা চাপ দিলে ব্যথা বৃদ্ধি পায়

ভঙ্গি বা পোশ্চার সংক্রান্ত সমস্যা

দুর্বল বা অনুপযুক্ত ভঙ্গি মাথার পিছনে এবং ঘাড়ে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে । শরীরকে নির্দিষ্ট উপায়ে অবস্থান করলে পিঠ, কাঁধ এবং ঘাড়ে টেনশন সৃষ্টি হতে পারে । দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করার সময় ভুল বসার ভঙ্গি এই সমস্যার জন্য দায়ী ।

লক্ষণসমূহ:

  • মাথার গোড়ায় নিস্তেজ, স্পন্দনশীল ব্যথা

  • ঘাড় এবং কাঁধে পেশী শক্ত হওয়া

  • মাথার ত্বকে টেনশন অনুভব করা

ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত মাথাব্যথা (MOH)

ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত মাথাব্যথা তখন বিকশিত হতে পারে যখন একজন ব্যক্তি অত্যধিক ব্যথা উপশমকারী ঔষধ ব্যবহার করেন । এগুলি রিবাউন্ড মাথাব্যথা নামেও পরিচিত । বিশ্বব্যাপী প্রায় ১-২% মানুষ ঔষধের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত মাথাব্যথায় ভোগেন ।

লক্ষণসমূহ:

  • প্রায় দৈনিক মাথাব্যথা

  • ঘুম থেকে ওঠার সময় আরও খারাপ ব্যথা

  • ব্যথার ঔষধ বন্ধ করার পরে মাথাব্যথা

  • তন্দ্রা, বমি বমি ভাব, উদ্বেগ এবং মনোনিবেশে অসুবিধা

চিকিৎসা ও প্রতিকার

ঘরোয়া প্রতিকার

জীবনযাত্রার পরিবর্তন:

  • সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখুন: কম্পিউটারে কাজ করার সময় ergonomic চেয়ার ব্যবহার করুন এবং উভয় পা মাটিতে রাখুন

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন: ডিহাইড্রেশন মাথাব্যথার একটি সাধারণ কারণ

  • নিয়মিত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুম মাথাব্যথা প্রতিরোধে সহায়তা করে

  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: যোগব্যায়াম, মেডিটেশন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম চাপ কমাতে সাহায্য করে

ফিজিক্যাল থেরাপি:

  • নিয়মিত ঘাড় এবং কাঁধের স্ট্রেচিং ব্যায়াম

  • ম্যাসাজ থেরাপি: পেশী টেনশন কমাতে সাহায্য করে

  • হিট থেরাপি: আক্রান্ত এলাকায় গরম সেঁক দিলে ব্যথা উপশম হতে পারে

চিকিৎসা পদ্ধতি

ওভার-দ্য-কাউন্টার ঔষধ:

  • অ্যাসিটামিনোফেন (টাইলেনল): হালকা থেকে মাঝারি মাথাব্যথার জন্য

  • আইবুপ্রোফেন এবং অন্যান্য NSAIDs: প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে

প্রেসক্রিপশন ঔষধ:

  • পেশী শিথিলকারী: দীর্ঘস্থায়ী টেনশন মাথাব্যথার জন্য

  • অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট: প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা হিসেবে

  • অ্যান্টিকনভালসেন্ট: অক্সিপিটাল নিউরালজিয়ার জন্য

  • ট্রিপটান: মাইগ্রেনের তীব্র আক্রমণের জন্য

ইনজেকশন থেরাপি:

  • অক্সিপিটাল নার্ভ ব্লক: অক্সিপিটাল নিউরালজিয়ার জন্য স্থানীয় অ্যানেস্থেটিক এবং স্টেরয়েড ইনজেকশন ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত উপশম প্রদান করতে পারে

  • বোটক্স ইনজেকশন: কিছু ধরনের মাথাব্যথার জন্য

  • কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন: সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথার জন্য

অস্ত্রোপচার:
যদি রক্ষণশীল চিকিৎসা কাজ না করে, তাহলে গুরুতর ক্ষেত্রে স্নায়ুর সংকোচন উপশম করতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে ।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

নিম্নলিখিত অবস্থায় অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:

জরুরি পরিস্থিতি:

  • হঠাৎ, তীব্র মাথাব্যথা যা আপনার জীবনে কখনও অনুভব করেননি

  • জ্বর, ঘাড় শক্ত হওয়া, বিভ্রান্তি এবং সতর্কতা হ্রাসের সাথে মাথাব্যথা

  • দৃষ্টি সমস্যা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দুর্বলতা বা শরীরের কোনো অংশে অসাড়তা

  • মাথায় আঘাতের পরে তীব্র মাথাব্যথা

সাধারণ পরামর্শ:

  • মাথাব্যথা একবারে কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হলে

  • সপ্তাহে দুই বা ততোধিক বার মাথাব্যথা হলে

  • মাথাব্যথার ধরন পরিবর্তন হলে

  • মাথাব্যথা আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করলে

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

দৈনন্দিন অভ্যাস

  • নিয়মিত ব্যায়াম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম করুন

  • সঠিক পুষ্টি: নিয়মিত খাবার খান এবং খাবার এড়িয়ে যাবেন না

  • হাইড্রেশন: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন (৮-১০ গ্লাস)

  • ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন

  • ধূমপান ত্যাগ: ধূমপান মাথাব্যথাকে ট্রিগার করতে পারে

কর্মক্ষেত্রে সতর্কতা

  • প্রতি ৩০-৪৫ মিনিটে সংক্ষিপ্ত বিরতি নিন

  • স্ক্রিন উচ্চতা চোখের স্তরে রাখুন

  • এরগোনমিক চেয়ার এবং ডেস্ক ব্যবহার করুন

  • যথাযথ আলো নিশ্চিত করুন

মাথার পিছনে ব্যথার ঝুঁকির কারণ

ঝুঁকির কারণ বিবরণ
বয়স ৩৫-৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়
লিঙ্গ নারীদের মধ্যে বেশি সাধারণ (প্রায় ৭৩%)
মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস টেনশন মাথাব্যথা বৃদ্ধি করে
পারিবারিক ইতিহাস মাইগ্রেন এবং অন্যান্য মাথাব্যথার পারিবারিক ইতিহাস
ঘাড়ের আঘাত হুইপ্ল্যাশ বা অন্যান্য ঘাড়ের আঘাত (প্রায় ৩০% ক্ষেত্রে)
বডি ম্যাস ইনডেক্স উচ্চ BMI অক্সিপিটাল নিউরালজিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়

পরিসংখ্যান ও গবেষণার তথ্য

বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাথাব্যথা সংক্রান্ত রোগের বোঝা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে । ২০২১ সালে, মাথাব্যথা রোগের বৈশ্বিক ঘটনা প্রায় ৮০৯.২ মিলিয়ন ছিল, যার মধ্যে টেনশন-টাইপ মাথাব্যথা সবচেয়ে বেশি প্রচলিত । ১৯৯০ সাল থেকে বয়স-প্রমিত ঘটনা হার, প্রাদুর্ভাব হার এবং DALYs সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করেছে ।

পূর্বাভাস অনুসারে, বর্তমান প্রবণতার ভিত্তিতে মাথাব্যথা রোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে এবং সম্ভাব্যভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে ৩.৫ বিলিয়নেরও বেশি ছাড়িয়ে যাবে । মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে, ১৯৯০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রাদুর্ভাবের সংখ্যা ৭৩২.৫৬ মিলিয়ন থেকে ১.১৫৮ বিলিয়নে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ৫৮% বৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে ।

বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি

আকুপাংচার

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে আকুপাংচার টেনশন মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেন উপশমে সহায়ক হতে পারে।

যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন

নিয়মিত যোগব্যায়াম এবং মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমায় এবং মাথাব্যথার ফ্রিকোয়েন্সি হ্রাস করতে পারে।

বায়োফিডব্যাক

বায়োফিডব্যাক থেরাপি রোগীদের শিখতে সাহায্য করে কীভাবে পেশী টেনশন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, যা টেনশন মাথাব্যথা কমাতে পারে।

কাইরোপ্র্যাক্টিক যত্ন

ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের সমন্বয় সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথার জন্য উপকারী হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস ও মাথাব্যথা

কিছু খাবার মাথাব্যথা ট্রিগার করতে পারে:

  • পনির এবং প্রসেসড মাংস: টাইরামিন সমৃদ্ধ খাবার

  • কৃত্রিম মিষ্টি: অ্যাসপার্টেম

  • MSG: মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট যুক্ত খাবার

  • অ্যালকোহল: বিশেষ করে রেড ওয়াইন

  • চকলেট: কিছু মানুষের ক্ষেত্রে

উপকারী খাবার:

  • ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: পালং শাক, বাদাম, কলা

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: মাছ, ফ্ল্যাক্সসিড

  • ভিটামিন B2: দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি

শিশু ও কিশোরদের মাথার পিছনে ব্যথা

শিশু এবং কিশোরদের মধ্যেও মাথার পিছনে ব্যথা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাইগ্রেন প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঘন ঘন এবং দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । শিশুদের ক্ষেত্রে বারবার মাথাব্যথা হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মাথার পিছনে ব্যথা একটি সাধারণ কিন্তু জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে টেনশন মাথাব্যথা, অক্সিপিটাল নিউরালজিয়া, মাইগ্রেন, সার্ভিকোজেনিক মাথাব্যথা এবং ভঙ্গি সংক্রান্ত সমস্যা। বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে এই সমস্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে আরও তীব্র হতে পারে। সঠিক নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য লক্ষণগুলি সনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক। তবে, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক চিকিৎসা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এবং জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

About Author
Debolina Roy

দেবলীনা রায় একজন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক, যিনি স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিবেদিত। ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করা দেবলীনা তার লেখায় চিকিৎসা বিষয়ক জটিল তথ্যগুলি সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন, যা সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য এবং উপকারী। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান এবং প্রাঞ্জল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেবলীনা রায়ের লক্ষ্য হল সঠিক ও তথ্যনির্ভর স্বাস্থ্যবিধি প্রচার করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

আরও পড়ুন