মঙ্গলবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: ভারত থেকে কি দেখা যাবে? আগামী ৫ বছরের সূর্যগ্রহণের সম্পূর্ণ তালিকা ও তথ্য

First Solar Eclipse of 2026: মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের কৌতূহল চিরকালীন। আকাশপানে তাকিয়ে মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য আমরা সব সময়ই উন্মুখ হয়ে থাকি। ২০২৬ সাল শুরু হতে না…

Pandit Subhas Sastri

 

First Solar Eclipse of 2026: মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের কৌতূহল চিরকালীন। আকাশপানে তাকিয়ে মহাজাগতিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য আমরা সব সময়ই উন্মুখ হয়ে থাকি। ২০২৬ সাল শুরু হতে না হতেই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য আসছে একটি বিশেষ দিন। আগামী ১৭ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, সংঘটিত হতে চলেছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। এই দিনটি নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে—এই গ্রহণ কি ভারত থেকে দেখা যাবে? আর যদি না-ও দেখা যায়, তবে আগামী পাঁচ বছরে ভারতবাসী কি কোনো সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে পারবেন?

এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের এই বিশেষ সূর্যগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের সূর্যগ্রহণের ক্যালেন্ডার নিয়ে আলোচনা করব। যদি আপনি মহাকাশ নিয়ে আগ্রহী হন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্যই।

মঙ্গলবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ: ভারত কি অন্ধকারে ঢাকবে?

২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার যে সূর্যগ্রহণটি হতে চলেছে, সেটি একটি অ্যানুলার সোলার একলিপ্স (Annular Solar Eclipse) বা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘রিং অফ ফায়ার’ বা আগুনের আংটি। এই সময় চাঁদ সূর্যের কেন্দ্রবিন্দুকে ঢেকে ফেলে, কিন্তু সূর্যের বাইরের অংশটি একটি উজ্জ্বল আংটির মতো দৃশ্যমান থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ কি ভারতের আকাশ থেকে দেখা যাবে?

সোজা এবং স্পষ্ট উত্তর হলো—না, এই সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না।

কেন দেখা যাবে না? এর প্রধান কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং সময়। নাসা (NASA) এবং অন্যান্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রহণটি যখন সংঘটিত হবে, তখন ভারতে রাত বা সন্ধ্যা থাকবে, অর্থাৎ সূর্য ইতিমধ্যেই অস্ত গিয়ে থাকবে। তাছাড়া, এই গ্রহণের মূল পথটি অ্যান্টার্কটিকা এবং দক্ষিণ গোলার্ধের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের উপর দিয়ে যাবে। ভারত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হওয়ায় আমরা এই মহাজাগতিক দৃশ্য থেকে বঞ্চিত থাকব।

২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারির সূর্যগ্রহণ সম্পর্কিত তথ্য

তথ্যের বিষয় বিস্তারিত বিবরণ
তারিখ ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (মঙ্গলবার)
গ্রহণের ধরণ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse)
ভারতে দৃশ্যমানতা দৃশ্যমান নয়
কোথায় দেখা যাবে মূলত অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ
গ্রহণের সময় (IST) ভারতীয় সময় অনুযায়ী বিকেল এবং সন্ধ্যার পরে (যা ভারতে সূর্যাস্তের পরের ঘটনা)

যদিও আমরা সরাসরি এই গ্রহণ দেখতে পাব না, তবে প্রযুক্তির কল্যাণে নাসা বা অন্যান্য জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক চ্যানেলের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই এই ‘রিং অফ ফায়ার’ উপভোগ করতে পারবেন।

কেন এই সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পৃথিবী তো একটাই, তাহলে এক জায়গায় গ্রহণ হলে অন্য জায়গা থেকে কেন দেখা যায় না? এর পেছনে রয়েছে সহজ জ্যামিতিক বিজ্ঞান।

সূর্যগ্রহণ তখনই ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝখানে চলে আসে এবং পৃথিবীর বুকে ছায়া ফেলে। কিন্তু চাঁদের ছায়া পৃথিবীর খুব ছোট একটি অংশের উপর পড়ে। এই ছায়ার দুটি ভাগ থাকে—আমব্রা (Umbra) এবং পেনামব্রা (Penumbra)

১. আমব্রা: এটি হলো ঘন কালো ছায়া, যেখান থেকে পূর্ণগ্রাস বা বলয়গ্রাস গ্রহণ দেখা যায়।

২. পেনামব্রা: এটি হালকা ছায়া, যেখান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়।

১৭ই ফেব্রুয়ারির গ্রহণের ক্ষেত্রে, চাঁদের এই ছায়া বা ‘পাথ অফ অ্যানুলারিটি’ (Path of Annularity) অ্যান্টার্কটিকার নির্জন বরফাবৃত অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাবে। ভারত এই পথের হাজার হাজার কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। তাছাড়া, যখন গ্রহণটি তার পূর্ণ রূপ নেবে, তখন ভারতে সূর্যাস্ত হয়ে যাবে। সূর্য দিগন্তের নিচে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ দেখা সম্ভব নয়।

তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। প্রকৃতি সব সময় এক জায়গায় স্থির থাকে না। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ভারতের আকাশে সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে।

আগামী পাঁচ বছরে ভারত থেকে দৃশ্যমান সূর্যগ্রহণ

মহাকাশপ্রেমীদের জন্য সুখবর হলো, যদিও ২০২৬ সালের প্রথম দিকে আমরা গ্রহণ দেখতে পাচ্ছি না, কিন্তু আগামী পাঁচ বছরের (২০২৬-২০৩০) মধ্যে ভারত থেকে একাধিক আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। বিশেষ করে ২০৩১ সালে একটি চমকপ্রদ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ভারতের দক্ষিণ অংশ থেকে দেখা যাবে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক আগামী কয়েক বছরে ভারত থেকে দৃশ্যমান সূর্যগ্রহণগুলোর তালিকা এবং বিস্তারিত তথ্য।

১. ২রা আগস্ট, ২০২৭: আংশিক সূর্যগ্রহণ

২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতবাসী একটি আংশিক সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে পারবেন। যদিও এটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, ভারত থেকে আমরা সূর্যের একটি অংশকে চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়তে দেখব।

  • ধরণ: আংশিক সূর্যগ্রহণ (ভারত থেকে)।

  • দৃশ্যমানতা: ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশের রাজ্যগুলো থেকে এটি ভালো দেখা যাবে। কলকাতা বা পূর্ব ভারতের দিকে এটি সূর্যাস্তের সময় হওয়ায় দেখার সুযোগ কম থাকতে পারে।

  • বৈশিষ্ট্য: এই গ্রহণটি বিশ্বব্যাপী শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস গ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে (মিশর ও সংলগ্ন এলাকায়), কিন্তু ভারতে এটি শুধুই আংশিক।

২. ২২শে জুলাই, ২০২৮: আংশিক সূর্যগ্রহণ

পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৮ সালেও ভারতের আকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এটি মূলত একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে যা অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের উপর দিয়ে যাবে। তবে ভারতের কিছু অংশ থেকে এটি আংশিক বা খণ্ডগ্রাস হিসেবে দেখা যাবে।

  • ধরণ: আংশিক সূর্যগ্রহণ।

  • দৃশ্যমানতা: মূলত দক্ষিণ ভারত এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে এটি দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

  • সময়: ভারতীয় সময় সকালে এই গ্রহণটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৩. ১লা জুন, ২০৩০: আংশিক সূর্যগ্রহণ

২০৩০ সালের এই গ্রহণটি একটি বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে, যা ইউরোপ, রাশিয়া এবং এশিয়ার কিছু অংশ দিয়ে যাবে। ভারত থেকে আমরা এই ঘটনার আংশিক রূপ দেখতে পাব।

  • ধরণ: আংশিক সূর্যগ্রহণ।

  • দৃশ্যমানতা: উত্তর ভারত, বিশেষ করে কাশ্মীর, পাঞ্জাব, দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে এই গ্রহণটি বেশ ভালো বোঝা যাবে। সূর্যের একটি বড় অংশ চাঁদের দ্বারা আবৃত হতে দেখা যেতে পারে।

আগামী ৫ বছরের সূর্যগ্রহণের তালিকা (ভারত থেকে দৃশ্যমানতা)

তারিখ গ্রহণের ধরণ (ভারতে) ভারতের কোথায় দেখা যাবে? মন্তব্য
২ আগস্ট, ২০২৭ আংশিক পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারত সূর্যাস্তের সময় দৃশ্যমান হতে পারে
২২ জুলাই, ২০২৮ আংশিক দক্ষিণ ভারত ও আন্দামান মূলত সকালে দেখা যাবে
১ জুন, ২০৩০ আংশিক উত্তর ও পশ্চিম ভারত উত্তর ভারতে ভালো দেখা যাবে
২১ মে, ২০৩১ বলয়গ্রাস (Ring of Fire) দক্ষিণ ভারত (কেরালা, তামিলনাড়ু) এটি একটি বড় মহাজাগতিক ঘটনা হবে

বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদিও আমাদের ৫ বছরের তালিকার বাইরে, তবুও জানিয়ে রাখা ভালো যে ২১ মে, ২০৩১ সালে দক্ষিণ ভারত (কেরালা ও তামিলনাড়ু) থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘রিং অফ ফায়ার’ বা বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এটি ভারতবাসীর জন্য একটি বিশাল বড় ইভেন্ট হতে চলেছে।

সূর্যগ্রহণ দেখার নিরাপদ উপায় ও সতর্কতা

বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হোক বা যেকোনো সাধারণ সূর্যগ্রহণ, এটি খালি চোখে দেখা চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি (UV rays) চোখের রেটিনার অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘সোলার রেটিনোপ্যাথি’ বলা হয়।

তাই ভবিষ্যতে যখনই ভারত থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, তখন নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলা জরুরি:

১. সঠিক চশমা ব্যবহার করুন

সাধারণ রোদচশমা বা সানগ্লাস দিয়ে কখনোই সূর্যগ্রহণ দেখবেন না। এর জন্য বিশেষ ‘এক্লিপস গ্লাস’ (Eclipse Glasses) পাওয়া যায়, যা ISO 12312-2 সার্টিফায়েড। এই চশমাগুলি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ৯৯.৯৯% আটকে দেয়।

২. পিনহোল প্রজেক্টর পদ্ধতি

যদি চশমা না থাকে, তবে পিনহোল প্রজেক্টর তৈরি করে পরোক্ষভাবে গ্রহণ দেখা সবচেয়ে নিরাপদ। একটি কাগজে ছোট ছিদ্র করে অন্য একটি কাগজের বা মেঝের ওপর সূর্যের প্রতিবিম্ব ফেলে গ্রহণ দেখা যায়।

৩. অপটিক্যাল লেন্স ব্যবহারে সতর্কতা

ক্যামেরা, বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকাবেন না, যদি না সেগুলোতে বিশেষ সোলার ফিল্টার লাগানো থাকে। ফিল্টার ছাড়া এই যন্ত্রগুলো চোখের নিমেষে বড় ক্ষতি করতে পারে।

সূর্যগ্রহণ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার বনাম বিজ্ঞান

ভারতবর্ষে সূর্যগ্রহণ নিয়ে আবহমান কাল ধরে নানা বিশ্বাস ও কুসংস্কার প্রচলিত আছে। যেমন—গ্রহণের সময় খাবার খাওয়া উচিত নয়, গর্ভবতী নারীদের বাইরে বেরোনো নিষেধ, বা ‘সুতক কাল’ (Sutak Kaal) মেনে চলা।

তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সূর্যগ্রহণ একটি নিতান্তই সাধারণ মহাজাগতিক ছায়ার খেলা। এর সাথে মানুষের ভাগ্য বা স্বাস্থ্যের সরাসরি কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই।

সুতক কাল কি এবার মানা হবে?

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, যে অঞ্চলে সূর্যগ্রহণ দৃশ্যমান হয় না, সেখানে সুতক কাল বা কোনো ধর্মীয় বিধিনিষেধ পালনের প্রয়োজন নেই। যেহেতু ২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারির বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না, তাই ভারতে এই দিন কোনো সুতক কাল থাকছে না। আপনারা নিশ্চিন্তে স্বাভাবিক কাজকর্ম, খাওয়াদাওয়া এবং পূজা-পার্বণ করতে পারেন।

বিজ্ঞান কী বলে?

কুসংস্কার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
গ্রহণের সময় খাবার বিষাক্ত হয়ে যায় সূর্যের আলো সাময়িক কমলেও খাবারে কোনো রাসায়নিক পরিবর্তন হয় না। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষতি হয় গ্রহণের রশ্মির সাথে গর্ভস্থ সন্তানের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা।
স্নান করে শুদ্ধ হতে হয় এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো স্বাস্থ্যগত কারণ নেই।

সূর্যগ্রহণের প্রকারভেদ: বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস ও আংশিক

আমরা প্রায়ই শুনি ‘বলয়গ্রাস’ বা ‘পূর্ণগ্রাস’—আসলে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কী? ২০২৬ সালের বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ কেন বলয়গ্রাস?

১. পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ (Total Solar Eclipse):

যখন চাঁদ পৃথিবীর খুব কাছে থাকে এবং সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। এই সময় দিনের বেলাতেই সন্ধ্যা নেমে আসে এবং সূর্যের করোনা (Corona) বা বাইরের আভা দেখা যায়।

২. বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ (Annular Solar Eclipse):

যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে কিছুটা দূরে থাকে, তখন তাকে দেখতে সূর্যের চেয়ে ছোট মনে হয়। ফলে সে সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। সূর্যের মাঝখানটা ঢাকা পড়ে, আর চারপাশ দিয়ে আগুনের রিং দেখা যায়। একেই ‘রিং অফ ফায়ার’ বলে। আগামী ১৭ই ফেব্রুয়ারি ঠিক এই ঘটনাটিই ঘটবে।

৩. আংশিক সূর্যগ্রহণ (Partial Solar Eclipse):

যখন চাঁদ ও সূর্য পুরোপুরি এক সরলরেখায় আসে না, তখন চাঁদ সূর্যের কেবল একটি অংশ ঢেকে দেয়। দেখতে মনে হয় কেউ যেন সূর্য থেকে এক কামড় খেয়ে নিয়েছে। আগামী কয়েক বছরে ভারত থেকে আমরা মূলত এই ধরণের গ্রহণই বেশি দেখতে পাব।

শেষ কথা

মহাকাশ আমাদের সব সময়ই বিস্মিত করে। যদিও ২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না, তবুও এটি বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। অ্যান্টার্কটিকার নির্জন প্রান্তরে প্রকৃতির এই খেলা এক অপূর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি করবে।

ভারতবাসীদের জন্য সুখবর হলো, আমাদের খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। ২০২৭, ২০২৮ এবং ২০৩০ সালে আমরা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাব এবং ২০৩১ সালে আমাদের আকাশেও জ্বলে উঠবে ‘রিং অফ ফায়ার’। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন এবং মহাকাশের এই জাদুকরী মুহূর্তগুলোর জন্য অপেক্ষা করুন।

মনে রাখবেন, কুসংস্কার নয়, বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলোকে বিচার করা উচিত। নিরাপদ থাকুন এবং বিজ্ঞানের সাথেই থাকুন।

About Author
Pandit Subhas Sastri

পন্ডিত সুভাষ শাস্ত্রী একজন দিকপাল জ্যোতিষী। দীর্ঘ ৩০ বছর মানুষের সেবা করে আসছেন। জ্যোতিষ শাস্ত্রে গোল্ড মেডেলিস্ট, এছাড়াও তিনি দেশ বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এবং তার গণনা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়। তিনি কলকাতা, হাওড়া, বীরভূম, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুরে চেম্বার করেন।

আরও পড়ুন