২০২৫-এ বিশ্বের সাইবার কিলার দেশগুলো: কারা রক্ষা করছে ডিজিটাল দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণ থেকে?

Global Cybersecurity Rankings 2026: ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা র‍্যাঙ্কিংয়ে চেকিয়া শীর্ষে উঠে এসেছে, যার স্কোর ৯৮.৩৩/১০০, যা ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্স (এনসিএসআই)-এর সর্বোচ্চ। এই র‍্যাঙ্কিংগুলো দেশগুলোর সাইবার হুমকি প্রতিরোধ…

Soumya Chatterjee

 

Global Cybersecurity Rankings 2026: ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা র‍্যাঙ্কিংয়ে চেকিয়া শীর্ষে উঠে এসেছে, যার স্কোর ৯৮.৩৩/১০০, যা ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্স (এনসিএসআই)-এর সর্বোচ্চ। এই র‍্যাঙ্কিংগুলো দেশগুলোর সাইবার হুমকি প্রতিরোধ এবং ঘটনা ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতির উপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে ইউনাইটেড নেশনসের আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)-এর গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্স (জিসিআই) এবং এনসিএসআই-এর মতো বিশ্বস্ত উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই রিপোর্টগুলো দেখায় যে, ইউরোপীয় দেশগুলো এখনও নেতৃত্ব দিচ্ছে, কিন্তু এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার দেশগুলোও দ্রুত উন্নতি করছে। বিশ্ব গড় স্কোর ৬৫.৭/১০০, যা ২০২০ সাল থেকে ২৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা র‍্যাঙ্কিং কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

সাইবার নিরাপত্তা র‍্যাঙ্কিং হলো একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি, যা দেশগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে পরিমাপ করে। এটি শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, বরং আইনি কাঠামো, সাংগঠনিক ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকেও বিবেচনা করে। আইটিইউ-এর জিসিআই ২০২৪-এ (যা ২০২৫-এর জন্যও প্রাসঙ্গিক, কারণ নতুন রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি) পাঁচটি স্তম্ভ রয়েছে: আইনি, প্রযুক্তিগত, সাংগঠনিক, ক্ষমতা বিকাশ এবং সহযোগিতা। প্রত্যেক দেশকে ০-১০০ স্কেলে স্কোর দেওয়া হয়, এবং টিয়ার সিস্টেমে বিভক্ত: টিয়ার ১ (৯৫-১০০) হলো ‘রোল-মডেল’। এই সালে ৪৬টি দেশ টিয়ার ১-এ পৌঁছেছে, যা আগের থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এনসিএসআই, যা ই-গভর্ন্যান্স একাডেমি দ্বারা পরিচালিত, আরও লাইভ ইনডেক্স। এটি ৬১টি দেশের উপর ফোকাস করে এবং ৪৯টি ইন্ডিকেটর ব্যবহার করে স্কোর করে, যেমন আইন প্রণয়ন, ইনসিডেন্ট রেসপন্স ইউনিট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ২০২৫-এর নভেম্বর মাস পর্যন্ত আপডেট অনুসারে, এটি দেশগুলোর রিয়েল-টাইম প্রস্তুতি দেখায়। এই র‍্যাঙ্কিংগুলো গুরুত্বপূর্ণ কারণ সাইবার আক্রমণের খরচ ২০২৫-এ বিশ্বব্যাপী ১০.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা জিডিপির ১০% সমান। উচ্চ র‍্যাঙ্কিং দেশগুলো কম ঝুঁকিতে থাকে এবং অন্যদের জন্য মডেল হয়ে ওঠে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি আউটলুক ২০২৫ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সাইবার ল্যান্ডস্কেপকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন প্রযুক্তি যেমন এআই এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নতুন হুমকি নিয়ে আসছে, এবং ৯৩% সিইও ২০২৫-এ সাইবার বাজেট বাড়াবেন। এই প্রেক্ষাপটে, র‍্যাঙ্কিং দেশগুলোর কৌশলগুলো অনুসরণ করা অপরিহার্য।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১০টি দেশ: রাশিয়া থেকে আলজেরিয়া পর্যন্ত বিশাল ভূখণ্ডের অধিকারী রাষ্ট্রগুলি

২০২৫-এর শীর্ষ সাইবার প্রতিরক্ষা দেশসমূহ: বিস্তারিত বিশ্লেষণ

২০২৫-এর র‍্যাঙ্কিংয়ে ইউরোপ নেতৃত্ব দিচ্ছে, কিন্তু উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত এগিয়ে আসছে। নীচের টেবিলে এনসিএসআই-এর সর্বশেষ ডেটা অনুসারে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা দেওয়া হলো, যা নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আপডেটেড। এই স্কোরগুলো দেশগুলোর কেন্দ্রীয় সরকারের বাস্তবায়িত সক্ষমতা পরিমাপ করে।

র‍্যাঙ্ক দেশ এনসিএসআই স্কোর (/১০০) ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট লেভেল কী অর্জন
চেকিয়া ৯৮.৩৩ উচ্চ সমস্ত ক্যাটাগরিতে পারফেক্ট স্কোর, অ্যাডভান্সড মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কানাডা ৯৬.৬৭ উচ্চ শক্তিশালী ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং এবং ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার সুরক্ষা।
এস্তোনিয়া ৯৬.৬৭ ৯৬.১% ২০০৭-এর আক্রমণের পর ডিজিটাল রূপান্তর, ই-রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম।
ফিনল্যান্ড ৯৫.৮৩ ৯৪.৫% ট্র্যাফিকম ন্যাশনাল সাইবার সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত রেসপন্স।
বেলজিয়াম ৯৪.১৭ উচ্চ ইউরোপীয় সাইবার অ্যাক্ট কমপ্লায়েন্স এবং ৫জি নেটওয়ার্ক সুরক্ষা।
রোমানিয়া ৯২.৫০ (আনুমানিক) মাঝারি-উচ্চ ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের মাধ্যমে ইউরোপীয় সহযোগিতা।
স্লোভাকিয়া ৯১.৬৭ (আনুমানিক) মাঝারি-উচ্চ শক্তিশালী পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক এবং ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন।
সিঙ্গাপুর ৯০.৮৩ ৯৫.৭% ফিনান্সিয়াল সেক্টর সিকিউরিটি এবং ওটি মাস্টার প্ল্যান।
যুক্তরাজ্য ৯০.০০ ৯২.৩% ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার এবং ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্স।
১০ যুক্তরাষ্ট্র ৮৯.৮০ ৮৯.৮% সিআইএসএ এবং এনএসএ-এর থ্রেট শেয়ারিং, ৭১৫,০০০ চাকরির শূন্যতা।

উৎস: এনসিএসআই এবং অ্যাফিনিটাস ডিএমসিসি রিপোর্ট, ২০২৫। স্কোরগুলো লাইভ, তাই সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

চেকিয়া: ইউরোপের নতুন সাইবার চ্যাম্পিয়ন

চেকিয়া ২০২৫-এ এনসিএসআই-এ প্রথম স্থানে উঠে এসেছে, যা তার সম্পূর্ণ ক্যাটাগরিতে পারফেক্ট স্কোরের ফল। দেশটি অ্যাডভান্সড মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক স্থাপন করেছে, যা রিয়েল-টাইম থ্রেট ডিটেকশন নিশ্চিত করে। ম্যান্ডেটরি ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে, ২০২৪-এ ৯৫% আক্রমণ দ্রুত ম্যানেজ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় চেকিয়া ইইএ-এর সাথে যুক্ত, যা ইউরোপীয় সাইবার অ্যাক্টের অধীনে কাজ করে। এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২৫, যা এআই-চালিত ডিফেন্সে ফোকাস করে। তবে, চ্যালেঞ্জ রয়েছে স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজের (এসএমই) সুরক্ষায়, যেখানে ৬০% ব্রিচ ঘটে। চেকিয়ার মডেল অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের জন্য অনুকরণীয়। আরও জানুন: WIONews

কানাডা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তার শক্তিশালী ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রটেকশনের জন্য। দেশটির সাইবার সেন্টার অফ এক্সিলেন্স (সিসি অফ ই) ২০২৫-এ নতুন এআই টুল চালু করেছে, যা থ্রেট প্রেডিকশন করে ৩০% আরও দক্ষতা বাড়িয়েছে। ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্সের সদস্য হিসেবে, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইন্টেলিজেন্স শেয়ার করে। তথ্যপ্রযুক্তির খাতে ২০২৫-এ ২৫% বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ এখনও ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দেশের সাফল্য লাইভ ট্রেনিং প্রোগ্রামে, যা ১৫,০০০+ প্রফেশনালকে প্রশিক্ষিত করেছে।

এস্তোনিয়া এবং ফিনল্যান্ড: নর্ডিক মডেলের উদাহরণ

এস্তোনিয়া, ‘ই-এস্তোনিয়া’ নামে পরিচিত, ২০০৭-এর রাশিয়ান সাইবার আক্রমণের পর থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। ৯৬.৬৭ স্কোর সহ, এটি ন্যাটো কোঅপারেটিভ সাইবার ডিফেন্স সেন্টার অফ এক্সিলেন্স হোস্ট করে। ই-রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ২০২৫-এ ১ লক্ষ+ ইউজার যোগ করেছে, যা ব্লকচেইন-ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবহার করে। দেশটির ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ৯৬.১%, এবং ১৫+ ডেডিকেটেড ডিগ্রি প্রোগ্রাম রয়েছে সাইবার সিকিউরিটিতে। তবে, জিওপলিটিক্যাল টেনশনের কারণে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের থেকে হুমকি বাড়ছে।

ফিনল্যান্ডের ৯৫.৮৩ স্কোর তার নর্ডিক সহযোগিতা এবং শিক্ষা উদ্যোগের ফল। ট্র্যাফিকম সেন্টার ২০২৫-এ ১০ বছরের রোডম্যাপ চালু করেছে, যা র‍্যানসমওয়্যার এবং স্টেট-স্পনসরড আক্রমণ মোকাবিলা করে। আইটিইউ-এ পারফেক্ট স্কোর পেয়েছে লিগ্যাল মেজার্সে। নোকিয়ার মতো কোম্পানি ইনোভেশন চালায়, কিন্তু ২০২৪-এ চীন-লিঙ্কড এপিটি৩১ আক্রমণের শিকার হয়েছে। ফিনল্যান্ডের মডেল ইউরোপের ২০টি ‘রোল-মডেল’ দেশের মধ্যে অন্যতম।

বেলজিয়াম পঞ্চম স্থানে তার ইউরোপীয় সাইবার অ্যাক্ট কমপ্লায়েন্সের জন্য। দেশটি ৫জি নেটওয়ার্ক সুরক্ষায় বিনিয়োগ করেছে ২০২৫-এ ১৫% বাজেট বৃদ্ধি করে। রোমানিয়া এবং স্লোভাকিয়া ইউরোপীয় পার্টনারশিপের মাধ্যমে উন্নতি করেছে, যেখানে ন্যাশনাল ডিরেক্টরেটগুলো ইনসিডেন্ট রেসপন্স কোঅর্ডিনেট করে।

এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান: সিঙ্গাপুর এবং সৌদি আরব

সিঙ্গাপুর এশিয়া-প্যাসিফিকে নেতা, ৯০.৮৩ স্কোর সহ। তার ওপারেশনাল টেকনোলজি (ওটি) মাস্টার প্ল্যান ২০২৫-এ ভালনারেবিলিটি ডিসকভারি প্রোগ্রাম চালু করেছে। আইটিইউ-এ ৯৯.৮৬ স্কোর, এবং কনজিউমার ডিভাইস লেবেলিং সিস্টেম রয়েছে। দেশটির ২০+ স্পেশালাইজড প্রোগ্রাম সাইবার জব মার্কেটকে শক্তিশালী করেছে, যেখানে গড় বেতন কস্ট অফ লিভিং অ্যাডজাস্টেড সর্বোচ্চ। তবে, এশিয়া-প্যাসিফিকে ইউরোপের থেকে কম ‘রোল-মডেল’ দেশ (১০টি বনাম ২০টি)।

সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে পারফেক্ট আইটিইউ স্কোর পেয়েছে, ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি চালু করে। ২০২৫-এ পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন ল-এ গাইড তৈরি হয়েছে। ইউএইও সাথে যুক্ত, এটি ক্লাউড এবং আইওটি সিকিউরিটিতে ফোকাস করে। আরব দেশগুলো ইউরোপের পর দ্বিতীয় স্থানে পারফেক্ট স্কোরে। মরিশাস আফ্রিকার একমাত্র পারফেক্ট স্কোর দেশ, ৩ বছরের স্ট্র্যাটেজি সহ।

উত্তর আমেরিকার দৈত্য: যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা

যুক্তরাষ্ট্র ৮৯.৮% ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট সহ দশম স্থানে। সিআইএসএ এবং এনএসএ থ্রেট ইনফরমেশন শেয়ার করে, কিন্তু ৮৬% ব্রিচ ঘটে। ২০২৫-এ সাইবার স্পেন্ডিং ২০ বিলিয়ন ডলার, এবং ৭১৫,০০০ জব গ্যাপ। জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার ম্যান্ডেটরি। কানাডা ফাইভ আইজের মাধ্যমে সহযোগিতা করে।

ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে চান? জেনে নিন ৭টি সহজ উপায়

সাইবার হুমকির পরিসংখ্যান এবং ট্রেন্ডস

২০২৫-এ সাইবার আক্রমণ ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে র‍্যানসমওয়্যার ৪০%। আইবিএম রিপোর্ট অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি টার্গেট (৮৬% ব্রিচ)। সার্ফশার্কের ডেটা দেখায়, কোয়ার্টার ৩-এ নাইজেরিয়া ১৬তম স্থানে ৪০৮.৯কে লিকড অ্যাকাউন্ট সহ। ডিপফেক ইনসিডেন্ট ১৭৯, ১৯% বৃদ্ধি।

ডব্লিউইএফের ১২টি ট্রেন্ড: নতুন প্রযুক্তি হুমকি বাড়ায়, কমপ্লায়েন্স জটিল, জিওপলিটিক্স প্রভাব ফেলে। ওটি সাইবার স্ট্র্যাটেজিতে ৫টি কী: রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, সেগমেন্টেশন, থার্ড-পার্টি রিস্ক, ইনসিডেন্ট রেসপন্স, এবং কন্টিনিউয়াস মনিটরিং। ল্যাটিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য উচ্চ ঝুঁকিতে, যেখানে প্যানামা এবং চিলি টপ রিস্কি।

জিসিআই-এ লিগ্যাল মেজার সবচেয়ে শক্তিশালী (১৭৭ দেশে ডেটা প্রটেকশন ল), কিন্তু ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট দুর্বল। ১৩২ দেশে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি, ১৩৯টিতে সিআইআরটি। এলডিসি দেশগুলোতে গ্যাপ বড়, যা ২০২৫-এ ফোকাস দরকার।

দেশভিত্তিক গভীর বিশ্লেষণ: শক্তি এবং দুর্বলতা

ইসরায়েল ৮৮.৫% স্কোর সহ ষষ্ঠ, ইউনিট ৮২০০-এর ভেটেরানদের ইকোসিস্টেমের জন্য পরিচিত। অফেন্সিভ ক্যাপাবিলিটি শক্তিশালী, কিন্তু ইরান-লিঙ্কড আক্রমণ বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া ৮৭.৪%, উত্তর কোরিয়ার ১ মিলিয়ন+ দৈনিক আক্রমণ মোকাবিলায় ন্যাশনাল প্ল্যান চালু। জার্মানি ৮৬.৮%, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইবারের জন্য। ইউএই ৮৬.২%, ডুবাই সাইবার ইনডেক্স চালু। অস্ট্রেলিয়া ৮৫.৯%, এশিয়া-প্যাসিফিকে ক্রিটিকাল ইনফ্রা ফোকাস।

প্রক্সির্যাক রিপোর্ট অনুসারে, নর্ডিক দেশগুলো (ফিনল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে) টপ ৭-এর ৪টি স্থান দখল করে। ফ্রান্স, ইউকে, স্পেইন, জার্মানি লো-রিস্ক। ল্যাটিন আমেরিকায় প্যানামা, চিলি হাই-রিস্ক।

আইটিইউ-এর টিয়ার ১-এ অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, বাংলাদেশ, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, সাইপ্রাস, ডেনমার্ক, মিশর, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ঘানা, গ্রীস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, জর্ডান ইত্যাদি। এগুলো ৯৫+ স্কোর, যা রোল-মডেল। মেথডোলজি: ৮২টি প্রশ্নের টার্নারি রেসপন্স, ১৭২ দেশ থেকে ডেটা।

ভবিষ্যতের ট্রেন্ড এবং সুপারিশ: কীভাবে উন্নতি করবেন?

২০২৫-এ এআই-চালিত হুমকি বাড়বে, তাই দেশগুলোকে প্রিএম্পটিভ ডিফেন্স দরকার। ডব্লিউইএফ সুপারিশ: কমপ্লায়েন্স এক্সপ্যান্ড, প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপ বাড়ান। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য, আইটিইউ-এর ট্রেনিং প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন। স্ট্যাটসমডেলস: ১৬৬ দেশে আন্তর্জাতিক অ্যাগ্রিমেন্ট। বাংলাদেশের মতো দেশ টিয়ার ১-এ উঠেছে ভারতের সাথে সহযোগিতায়।

সাইবার সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ জিডিপি বৃদ্ধি করে ১২%। ডিপস্ট্রাইক রিপোর্ট: টপ স্পেন্ডার যুক্তরাষ্ট্র (২০ বিলিয়ন), চীন, ইউকে।

২০২৫-এর গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি র‍্যাঙ্কিং দেখায় যে, চেকিয়া, কানাডা এবং এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলো ডিজিটাল রক্ষায় নেতৃত্ব দিচ্ছে, কিন্তু বিশ্বব্যাপী গ্যাপ এখনও বিদ্যমান। এই র‍্যাঙ্কিংগুলো শুধু স্কোর নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মিরর। উন্নত দেশগুলোর কৌশল—যেমন প্রিএম্পটিভ ডিফেন্স এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—অন্যদের জন্য পাঠ। তবে, নতুন হুমকি যেমন এআই-চালিত আক্রমণ মোকাবিলায় সকল দেশকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শেষ কথা, সাইবার নিরাপত্তা একা যুদ্ধ নয়; এটি গ্লোবাল পার্টনারশিপের ফল, যা ২০৩০-এর ডিজিটাল দুনিয়াকে নিরাপদ করবে। আমরা সকলে এই যাত্রায় অংশগ্রহণ করি, কারণ আজকের প্রতিরক্ষা কালকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

About Author
Soumya Chatterjee

সৌম্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক এবং প্রযুক্তি বিষয়ক লেখালিখিতে বিশেষ আগ্রহী। তিনি একজন উদ্যমী লেখক, যিনি প্রযুক্তির জটিল ধারণাগুলোকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে দক্ষ। তার লেখার মূল ক্ষেত্রগুলোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নতুন প্রযুক্তি, গ্যাজেট রিভিউ, সফটওয়্যার গাইড, এবং উদীয়মান টেক প্রবণতা। সৌম্যর প্রাঞ্জল ও তথ্যবহুল লেখনী পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান এবং অনুসন্ধিৎসু মনোভাব তাকে পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তুলেছে। টেক জগতে চলমান পরিবর্তনগুলির সাথে তাল মিলিয়ে সৌম্য সর্বদা নতুন ও তথ্যসমৃদ্ধ বিষয়বস্তু নিয়ে আসতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।