উপমহাদেশে সামরিক শক্তিতে তৃতীয় ভারত, Asia Power Index ২০২৫–এ পাকিস্তান কোথায়?

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Lowy Institute প্রকাশিত সর্বশেষ Asia Power Index ২০২৫–এ ভারতকে এখন “Major Power” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে সামগ্রিক ক্ষমতায় ২৭টি এশীয় দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ৩ নম্বর।…

Avatar

 

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক Lowy Institute প্রকাশিত সর্বশেষ Asia Power Index ২০২৫–এ ভারতকে এখন “Major Power” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে সামগ্রিক ক্ষমতায় ২৭টি এশীয় দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ৩ নম্বর। তবে একই সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান অনেক নিচে, সেখানে দেশটি সামগ্রিক প্রভাব ও শক্তিতে মধ্যম ক্ষমতার দেশ (Middle Power) হিসেবে ১৬তম স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক শক্তি ও ভূ-কৌশলগত প্রভাবের দিক থেকে ভারত স্পষ্টভাবে এগিয়ে গেলেও, পাকিস্তান এখনো আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমিত প্রভাব ও বাজেট-সঙ্কটের বাস্তবতায় আটকে আছে—এটাই সাম্প্রতিক ডেটা ও আন্তর্জাতিক সূচকগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

​এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Asia Power Index হলো Lowy Institute-এর একটি ব্যাপক সূচক, যা এশিয়া জুড়ে দেশগুলোর Comprehensive Power বা সামগ্রিক শক্তি আটটি মানদণ্ডে পরিমাপ করে—এর মধ্যে রয়েছে Military Capability, Economic Capability, Resilience, Future Resources, Diplomatic Influence, Defence Networks ইত্যাদি। প্রতিটি সূচকে প্রাপ্ত স্কোরের ওজনযুক্ত গড়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত র‍্যাংকিং করা হয়, ফলে শুধু সেনাবাহিনীর সংখ্যা নয়, অর্থনীতি, কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা—সবই একসাথে বিবেচনায় আসে।

​এ সূচকটি প্রতি বছর আপডেট হওয়ায় ভারত–পাকিস্তানসহ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য কীভাবে বদলাচ্ছে, সেটা ট্র্যাক করার জন্য নীতিনির্ধারক, বিশ্লেষক ও গবেষকরা এ ইনডেক্সকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে গ্রহণ করেন।

ভারত বনাম পাকিস্তান: এশিয়া কাপ ২০২৫ ম্যাচ বাতিল হবে না – জানুন কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

ভারতে ‘মেজর পাওয়ার’ স্ট্যাটাস: ২০২৫–এর বড় মোড়

Lowy Institute–এর Asia Power Index ২০২৫ অনুসারে, ভারত সামগ্রিক শক্তিতে ৪০.০ স্কোর নিয়ে ২৭টি দেশের মধ্যে ৩ নম্বরে, যা “Major Power” ক্যাটাগরিতে প্রবেশের ন্যূনতম সীমা। ২০২৪ সালে ভারতের স্কোর ছিল ৩৮.১ (Middle Power), সেখান থেকে প্রায় +০.৯ পয়েন্ট বৃদ্ধিতে ২০২৫ সালে ‘মেজর পাওয়ার’–এর আনুষ্ঠানিক গন্ডি পেরিয়েছে।

Lowy-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের শক্তি বেড়েছে মূলত তিনটি স্তরে:

  • Economic Capability–এ উন্নতি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

  • Military Capability সূচকে ধারাবাহিক অগ্রগতি।

  • আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ।

পাকিস্তানের অবস্থান: মধ্যম ক্ষমতা, সীমিত প্রভাব

একই Asia Power Index–এ পাকিস্তানকে স্পষ্টভাবে একটি Middle Power হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে ২০২৫ সালে দেশের সামগ্রিক স্কোর নেমে এসেছে ১৪.৫ পয়েন্টে এবং র‍্যাংকিং–এ অবস্থান ১৬তম। Lowy–এর ডেটা অনুসারে, পাকিস্তানের শক্তিশালী সূচক হলো Future Resources, যেখানে দেশটি পঞ্চম স্থানে; অর্থাৎ জনসংখ্যা ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কারণে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে Cultural Influence–এ পাকিস্তানের অবস্থান ২২তম, এবং আঞ্চলিক প্রভাবের তুলনায় এর “Power Gap” নেগেটিভ—অর্থাৎ বাস্তব সম্পদের তুলনায় প্রভাব কম। এটি প্রমাণ করে, সামরিক উপস্থিতি থাকলেও অর্থনৈতিক দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক ইমেজ, এবং সীমিত কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের সামগ্রিক শক্তিকে সংকুচিত করে রেখেছে।

এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৫–এ ভারত বনাম পাকিস্তান

সূচক/মানদণ্ড ভারত (India) পাকিস্তান (Pakistan)
ক্যাটাগরি (Category) Major Power Middle Power
Comprehensive Power Score 40.0 (২০২৫) 14.5 (২০২৫)
সামগ্রিক র‍্যাংক (Overall Rank) ৩য় (৩ of 27) ১৬তম (১৬ of 27)
Military Capability (র‍্যাংক) শীর্ষ গোষ্ঠীতে, এশিয়ায় শীর্ষ কয়েকের একটি মধ্যম স্তরের সামরিক ক্ষমতা, শীর্ষ দশের বাইরে
Future Resources (ভবিষ্যৎ সম্পদ) ৩য় (Asia, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা) ৫ম (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড–নির্ভর)
Cultural Influence মাঝারি; ক্রমবর্ধমান সফট পাওয়ার দুর্বল; ২২তম স্থানে

সামরিক শক্তির কঠিন পরিমাপ: Global Firepower ইনডেক্সে ভারত–পাকিস্তান

Lowy–এর এশিয়া-কেন্দ্রিক বিশ্লেষণের বাইরে সামরিক শক্তি পরিমাপে বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত আরেকটি সূচক হলো Global Firepower (GFP) Military Strength Ranking। এখানে সেনাসংখ্যা, বাজেট, অস্ত্রভাণ্ডার, লজিস্টিকস, ভৌগোলিক ফ্যাক্টরসহ ৬০টিরও বেশি প্যারামিটার বিবেচিত হয়।

২০২৫ সালের GFP র‍্যাংকিং অনুযায়ী:

  • ভারত: বিশ্বের ৪র্থ শক্তিশালী সামরিক শক্তি, Power Index স্কোর প্রায় 0.1184, যা যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পরেই।

  • পাকিস্তান: গ্লোবাল লেভেলে ১২তম, ২০২৪ সালের ৯ম স্থান থেকে নিচে নেমে গেছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা স্পষ্ট হয়—এশিয়া মাত্র নয়, বৈশ্বিক সামরিক র‍্যাংকিংয়েও ভারত সুস্পষ্ট ব্যবধানে পাকিস্তানের অনেক ওপরে উঠে গেছে।

Global Firepower ২০২৫ – ভারত বনাম পাকিস্তান

সূচক ভারত (India) পাকিস্তান (Pakistan)
Global Rank (২০২৫) ৪র্থ ১২তম
Power Index (PwrIndx) প্রায় 0.1184 প্রায় 0.2513 (উচ্চ মান মানে অপেক্ষাকৃত দুর্বল)
Active Military Personnel প্রায় ১.৪৬ মিলিয়ন (১৪.৬ লাখ) প্রায় ৬.৬ লাখ
Defence Budget (বাৎসরিক) প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার
Aircraft (Total) ২,২০০+ (যার মধ্যে ফাইটার, ট্রেইনার ইত্যাদি) প্রায় ১,৪০০–এর কম
Tanks (সামরিক ট্যাংক) প্রায় ৪,২০০+ প্রায় ২,৬০০+
Naval Assets প্রায় ২৯০+ জাহাজ, ২টি এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারসহ প্রায় ১২০+ নৌযান

ভারত কীভাবে সামরিকভাবে এগিয়ে গেল?

ভারতের সামরিক অগ্রগতির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ পরিলক্ষিত হয়, যা আন্তর্জাতিক সূচকেও প্রতিফলিত হচ্ছে।

অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বাজেট

প্রথমত, ভারতের দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সরাসরি প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে সাহায্য করেছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এশিয়ার বড় অর্থনীতির মধ্যে ভারত ধারাবাহিকভাবে ৬%–এর বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং মোট আকারে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে।

এই প্রবৃদ্ধির ফলেই Global Firepower–এর হিসেবে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার, যা পাকিস্তানের দশ বিলিয়ন–ডলারের বাজেটের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বাজেট–ফারাকের ফলশ্রুতিতে ভারত প্রশিক্ষণ, আধুনিকীকরণ ও প্রযুক্তি–নিবিড় অস্ত্র–ব্যবস্থায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ করতে পারছে।

সামরিক আধুনিকীকরণ ও ‘আত্মনির্ভর’ কৌশল

দ্বিতীয়ত, ভারত Aatmanirbhar Bharat কর্মসূচির অধীনে প্রতিরক্ষা–উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বাড়াচ্ছে, যেখানে মিসাইল, আর্টিলারি, ট্যাংক ও নৌ–অস্ত্রে দেশীয় উৎপাদনের হার ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। উন্নত প্ল্যাটফর্ম যেমন Rafale, Su-30MKI, BrahMos, Pinaka, T-90 Bhishma প্রভৃতি ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন স্তরে নিয়ে গেছে।

Lowy Institute উল্লেখ করছে, সাম্প্রতিক অপারেশনাল অভিজ্ঞতা—যেমন ২০২৫ সালের “Operation Sindoor”—ভারতের সৈন্যদের ফিল্ড–লেভেল সক্ষমতা ও আঞ্চলিক ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যা সামরিক ক্ষমতা সূচকে পজিটিভ ইফেক্ট ফেলেছে।

কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও নৌ–ক্ষমতা

তৃতীয়ত, ভারতীয় উপমহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান ওশান রিজিয়ন (IOR)–এ ভারতের প্রভাব বাড়ছে। দ্বিমুখী উপকূল, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্দামান–নিকোবরসহ স্ট্র্যাটেজিক ঘাঁটিগুলো ভারতীয় নৌবাহিনীকে “ব্লু–ওয়াটার নেভি”–তে রূপান্তর করছে, যেখানে এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার, নিউক্লিয়ার সাবমেরিন, সমুদ্র–ভিত্তিক মিসাইল সিস্টেম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

পাকিস্তানের সামরিক শক্তি: সক্ষমতা আছে, কিন্তু সীমাবদ্ধতাও গভীর

পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ সামরিক উপস্থিতি ও বাস্তব যুদ্ধ–অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশ; তবু সাম্প্রতিক ডেটা দেখায়, কিছু কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা তাদের গ্লোবাল র‍্যাংকিং ও এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স–এ উন্নতি রোধ করছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাকিস্তানের অর্থনীতি গত কয়েক বছরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি ও ঋণ–চাপের মুখে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রতিরক্ষা বাজেটে। Global Firepower–এর ডেটা অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের তুলনায় অনেক কম এবং আধুনিকীকরণ–বাজেট সীমিত করে দেয়।

এ কারণে যদিও পাকিস্তান তার পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং কনভেনশনাল বাহিনী বজায় রেখেছে, তবু উচ্চ প্রযুক্তি–নির্ভর অস্ত্রব্যবস্থা, নতুন প্ল্যাটফর্ম ও লজিস্টিক আপগ্রেডে পিছিয়ে পড়ছে।

ক্ষুধার্ত ভারত: Global Hunger Index-এ ১০৫তম স্থানে, প্রতিবেশী দেশগুলির পিছনে পড়ে গেল আমাদের দেশ!

বাহিনীর গঠন ও প্রযুক্তিগত ব্যবধান

GFP–এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ বলছে, পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ৬.৬ লাখ সক্রিয় সামরিক সদস্য এবং যথেষ্ট ট্যাংক, আর্টিলারি, এয়ারক্রাফ্ট—কিন্তু এখানে মূল সমস্যা গুণগত মান ও বৈচিত্র্য। ভারত যেখানে ফ্রেঞ্চ Rafale, রুশ Su-30MKI এবং দেশীয় Tejas–এর সমন্বয়ে মাল্টি–রোল এয়ার–উইং তৈরি করেছে, পাকিস্তান মূলত চীন–সহযোগে তৈরি JF-17 Thunder ও পুরোনো প্ল্যাটফর্মের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

অন্যদিকে, সমুদ্র–ক্ষমতায়ও ভারত বহু দূর এগিয়ে; পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জাহাজ–সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও, এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার বা নিউক্লিয়ার–সাবমেরিনের মতো স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট নেই, যা ভারতকে একটি স্পষ্ট ব্লু–ওয়াটার সুবিধা দেয়।

দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য: কী বার্তা দিচ্ছে এসব ডেটা?

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক র‍্যাংকিং ও এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সের বিশ্লেষণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-কৌশলগত বাস্তবতায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

ভারত: আঞ্চলিক থেকে বৈশ্বিক শক্তি–উদীয়মান

প্রথমত, ভারত এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ার বড় দেশ নয়, এশিয়া জুড়ে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি—যেখানে সামরিক শক্তি, অর্থনীতি ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক একসাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে। Global Firepower–এ ৪র্থ এবং Asia Power Index–এ ৩য় স্থানের এই কম্বিনেশন ভারতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আর্কিটেকচারের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে; কোয়াড, G20, ব্রিকসসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় অবস্থানও তা আরও স্পষ্ট করে।

পাকিস্তান: আঞ্চলিক শক্তি, কিন্তু সীমিত স্ট্র্যাটেজিক স্পেস

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তান এখনো দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্লেয়ার, বিশেষত পারমাণবিক ক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। কিন্তু অর্থনৈতিক দুর্বলতা, সীমিত প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং কূটনৈতিক নির্ভরশীলতা এর কৌশলগত পরিসরকে সঙ্কুচিত করে রেখেছে, যা Asia Power Index–এর ১৬তম অবস্থান এবং GFP–এর ১২তম র‍্যাংকে প্রতিফলিত হয়।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভারসাম্যের প্রয়োজন

এ বাস্তবতা আবার আরেকটি দিকও সামনে আনে—দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সামরিক ব্যবধান যতই বাড়ে, ততই স্ট্র্যাটেজিক মিসক্যালকুলেশন, অস্ত্র–দৌড় বা সীমান্তে অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়তে পারে; নিরাপত্তা–বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ এই বিষয়টি নজরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। তাই সামরিক ভারসাম্যের পাশাপাশি ডিপ্লোমেটিক চ্যানেল খোলা রাখা, CBM (Confidence Building Measures) ও আঞ্চলিক আলোচনা জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Asia Power Index ২০২৫ ও Global Firepower–এর সর্বশেষ ডেটা একসাথে বিশ্লেষণ করলে একটি স্পষ্ট চিত্র তৈরি হয়—দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক শক্তি ও প্রভাবের দৌড়ে ভারত এখন পাকিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে, এবং এশিয়া জুড়ে ‘Major Power’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান, প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি–নির্ভর সামরিক আধুনিকীকরণ এ অবস্থানকে আরও স্থায়ী করে তুলছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সীমিত বাজেট, অর্থনৈতিক সংকট ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে সামরিক ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এখনো একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি হিসেবেই রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে, উভয় দেশের জন্যই শুধু অস্ত্র–দৌড় নয়, বরং কূটনৈতিক সংলাপ, আস্থা–গঠনমূলক পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। এভাবে সামরিক শক্তির ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও, সংঘাতের বদলে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগোনোই হতে পারে ভবিষ্যৎ এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত।

About Author
Avatar

আন্তর্জাতিক খবরের সর্বশেষ আপডেট, গভীর বিশ্লেষণ এবং বিশ্বের প্রভাবশালী ঘটনাবলীর বিস্তারিত প্রতিবেদন পেতে আমাদের International Desk-এ আসুন। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ, রাজনৈতিক গতিবিধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক ঘটনাবলী সম্পর্কে জানতে এই পাতাটি আপনার একমাত্র গন্তব্য।