ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে?

Pratik Ur Rahman TMC: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর রণকৌশল সাজানোর মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক…

Chanchal Sen

 

Pratik Ur Rahman TMC: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর রণকৌশল সাজানোর মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে চলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক নতুন মোড় নিয়েছে। ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই(এম)-এর একসময়ের দাপুটে যুবনেতা প্রতীক উর রহমানের আকস্মিক দলত্যাগের ঘটনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতা দীর্ঘকাল ধরে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) কট্টর সমালোচক ছিলেন। কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সিপিআই(এম)-এর রাজ্য কমিটি এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে তার ইস্তফা রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা এবং একইসঙ্গে বিপুল জল্পনার সৃষ্টি করেছে । শাসক দলে তার সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যেমন উৎসাহ রয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মনে একটি বিশেষ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে? আদর্শগত অবস্থান পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক দলে নিজের অস্তিত্ব কতটা সুদৃঢ় করা সম্ভব, তা নিয়ে আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।

বঙ্গ রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের সংকট এবং বামপন্থীদের অবস্থান

দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসানের পর থেকে সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের জন্য নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াইয়ে দলের বয়স্ক নেতৃত্বের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসার একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দল বেশ কয়েকজন তরুণ মুখকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রতীক উর রহমান। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল এবং পরবর্তী সাংগঠনিক টানাপোড়েন প্রমাণ করেছে যে, শুধুমাত্র নতুন মুখ দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে দলের একজন প্রথম সারির যুব নেতার ইস্তফা বাম শিবিরের জন্য এক গভীর কাঠামোগত সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছাত্র আন্দোলন থেকে মূল স্রোতের রাজনীতিতে প্রতীক উর রহমান

প্রতীক উর রহমানের রাজনৈতিক উত্থান মূলত ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবারেরই ভূমিপুত্র। ডায়মন্ড হারবার ফকির চাঁদ কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর তিনি পুরোপুরি বাম ছাত্র রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন । তিনি এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । তার পারিবারিক প্রেক্ষাপটও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। তার পরিবার মূলত নির্মাণ সামগ্রী বা বিল্ডিং মেটেরিয়াল সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু প্রতীক সেই ব্যবসায় যোগ না দিয়ে কলেজে পড়ার সময় থেকেই বামপন্থী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে আসেন

বর্তমানে তিনি ওড়িশা থেকে আইন বিষয়ে (এলএলবি) পড়াশোনা করছেন এবং ডায়মন্ড হারবারের উপকণ্ঠে বাবা-মা, দুই ভাই, স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে বসবাস করেন । এসএফআই থেকে মূল দলে আসার পর তাকে সিপিআই(এম)-এর ক্ষেতমজুর সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা মূলত কৃষি শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে । তার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতার রাজনৈতিক ময়দানে উপস্থিতি সিপিআই(এম)-এর জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। দলের রাজ্য কমিটির এক সদস্য তাকে “সবচেয়ে সৎ এবং বিতর্কমুক্ত মুখ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি কলকাতার শহুরে গণ্ডির বাইরে থেকে উঠে আসা একজন সাধারণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান

ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে?

राजनीতি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আদর্শ এবং বাস্তবতার মধ্যে প্রায়শই সংঘাত দেখা যায়। প্রতীক উর রহমানের ক্ষেত্রেও আমরা সেই একই চিত্র দেখতে পাচ্ছি। ছাত্র রাজনীতি করার সময় থেকেই তিনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কট্টর বিরোধী ছিলেন। তিনি নিজেই প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে, ২০১১ সাল থেকে তিনি একাধিকবার তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন । কিন্তু সেই অতীত আক্রমণ এবং আদর্শগত লড়াইয়ের কথা কি তিনি সত্যিই ভুলে গেলেন?

তার দলত্যাগের পর সাধারণ ভোটার এবং বামপন্থী কর্মী-সমর্থকদের মনে এই প্রশ্নটাই সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে— ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে? যে দলের বিরুদ্ধে তিনি জীবনের একটি বড় সময় লড়াই করেছেন, আজ সেই দলেই যোগদানের জল্পনা তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন যে, বিরোধী পরিসরে থেকে ক্রমশ প্রান্তিক হয়ে পড়ার হতাশা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে তিনি কতটা সম্মান ও রাজনৈতিক পরিসর পাবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

প্রতীক উর রহমানের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তথ্য ও বিবরণ
শিক্ষাগত যোগ্যতা

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (ফকির চাঁদ কলেজ), বর্তমানে এলএলবি অধ্যয়নরত

পারিবারিক পেশা

নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করে রাজনীতিতে আসেন

ছাত্র রাজনীতি

এসএফআই-এর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি

মূল দলে দায়িত্ব

সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ক্ষেতমজুর সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা

নির্বাচনী লড়াই

২০২১ বিধানসভা এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

দলত্যাগের নেপথ্যে: সিপিএমের অন্দরের সমীকরণ ও সংঘাত

কোনো রাজনৈতিক নেতার হঠাৎ করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত একদিনে তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, মতানৈক্য এবং সাংগঠনিক অবমূল্যায়নের ইতিহাস। প্রতীক উর রহমানের ক্ষেত্রেও সিপিআই(এম)-এর অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তার সংঘাত একটি বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। পদত্যাগপত্রে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের মতামত এবং কৌশলগুলির সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না । দলের একটি অংশের মতে, তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটিতে মতবিরোধ

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিআই(এম)-এর অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের সমস্যা। গত বছর জেলা সম্মেলনের সময় দলের নেতৃত্বের সঙ্গে প্রতীক উর রহমানের তীব্র মতানৈক্য তৈরি হয়। সেই সময় তিনি এবং আরও কয়েকজন নেতা নবগঠিত জেলা কমিটি থেকে ইস্তফাও দিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে তারা সেই ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেন, কিন্তু দূরত্বের যে প্রাচীর তৈরি হয়েছিল তা আর ভাঙেনি

দলের রাজ্য কমিটির এক নেতার মতে, গত এক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সংগঠনে প্রতীকের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই ন্যায্য নয়। মূলত যারা তাকে সংগঠনে প্রতিদিন কোণঠাসা করে রেখেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই এটি একটি বিদ্রোহ । সাংগঠনিক স্তরে তাকে সেভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল না বলে তার অনুগামীদের অভিযোগ। এই ধরনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি একজন তরুণ এবং উদ্যমী নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য চরম হতাশাজনক হতে পারে।

আদর্শগত দ্বন্দ্ব এবং শাসক দলের প্রতি নমনীয়তা

শুধু জেলা নেতৃত্ব নয়, দলের রাজ্য সম্পাদকের কিছু পদক্ষেপ নিয়েও প্রতীক উর রহমানের গভীর অসন্তোষ ছিল। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জোট গঠনের লক্ষ্যে সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিআই(এম) নেতৃত্বের আলোচনার সিদ্ধান্তকে তিনি আদর্শগত বিচ্যুতির আখ্যা দেন । তার মতে, নীতি ও আদর্শ ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টির অস্তিত্ব থাকতে পারে না

কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, দলের আদর্শগত বিচ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তিনি নিজেই শাসক দলের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করতে শুরু করেন। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর তিনি জনসমক্ষে প্রশংসা করেন । এই ঘটনা শাসক দলের প্রতি তার নমনীয় মনোভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে। এর পরেই তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সামাজিক মাধ্যমে প্রতীকের পদত্যাগপত্রটি শেয়ার করলে তার ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের জল্পনা আরও তীব্র হয়

সিপিএম থেকে ইস্তফার মূল কারণ ও ঘটনাক্রম বিবরণ
পদত্যাগের তারিখ

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রাথমিক কারণ

জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কৌশলগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতবিরোধ

জেলাস্তরের সংঘাত

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটিতে ক্রমাগত কোণঠাসা হওয়া এবং পূর্ববর্তী ইস্তফার ঘটনা

আদর্শগত আপত্তি

হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিমের জোট গঠনের আলোচনার বিরোধিতা

তৃণমূলের প্রতি আকর্ষণ

‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রকাশ্য প্রশংসা এবং তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ

ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধিপত্য

পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্রে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। এই কেন্দ্রটিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ফলতা, সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর, মহেশতলা, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ এবং ডায়মন্ড হারবার— এই সাতটি বিধানসভা এলাকা নিয়ে গঠিত এই লোকসভা কেন্দ্রটি শাসক দলের এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে । এই প্রবল পরাক্রমশালী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধেই প্রতীক উর রহমানকে লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়েছিল সিপিআই(এম)।

লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-এর পরিসংখ্যান ও ফলাফল বিশ্লেষণ

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে রাজনৈতিক লড়াই ছিল মূলত একপেশে। এই নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তৃতীয়বারের জন্য জয়লাভ করেন এবং তার জয়ের ব্যবধান ছিল রাজ্যের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান বলছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোট ১০,৪৮,২৩০টি ভোট পান, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৬৮.৪৮% । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভিজিৎ দাস (ববি), যিনি পান ৩,৩৭,৩০০ ভোট (২২.০৩%)

এই প্রবল মেরুকরণের নির্বাচনে সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে প্রতীক উর রহমান পান মাত্র ৮৬,৯৫৩টি ভোট (৫.৬৮%) এবং তিনি তৃতীয় স্থানে শেষ করেন । চতুর্থ স্থানে ছিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) মজনু লস্কর, যিনি ২১,১৩৯ ভোট (১.৩৮%) পান। নোটা (NOTA)-তে ভোট পড়েছিল ১০,১৮৮টি । এই বিপুল পরাজয় প্রমাণ করে যে, ডায়মন্ড হারবারে বামপন্থীদের সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। এই পরিসংখ্যানগত বাস্তবতা প্রতীক উর রহমানের মতো তরুণ নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বনাম বিরোধীদের অভিযোগ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ডায়মন্ড হারবারকে উন্নয়নের একটি ‘মডেল’ হিসেবে সমগ্র রাজ্যের কাছে তুলে ধরেছেন। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় একদিনে ৫০,০০০ পরীক্ষা করা থেকে শুরু করে ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান— এই মডেলের অন্যতম প্রধান দিক । শুধু ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রেই সেবাশ্রয়-২ শিবিরের মাধ্যমে ৩,৩৮,৯০৬ জন মানুষকে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে

তবে বিরোধীরা এই মডেলের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী দলগুলোর মতে, এই মডেল যদি এতটাই সফল হয়, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য সরকারের মডেলের কী প্রয়োজন? ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রচার পর্বে প্রতীক উর রহমান নিজে এই মডেলটিকে একটি “ধাপ্পাবাজি” বা লোক দেখানো ভাঁওতাবাজি বলে কটাক্ষ করেছিলেন । এছাড়া সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টেও উঠে এসেছে যে, এই অঞ্চলে শাসক দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করতে ভয় পান। সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা গেলে তাদেরকেও বাইক-আরোহী যুবকদের জেরার মুখে পড়তে হয় । একটি বুথে ১,০৪৭টি ভোটের মধ্যে ১,০৪৬টি ভোট শাসক দলের পক্ষে যাওয়ার মতো ঘটনাও এই মডেলে দেখা গিয়েছে

২০২৪ ডায়মন্ড হারবার লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল
প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (AITC)
অভিজিৎ দাস (BJP)
প্রতীক উর রহমান (CPI-M)
মজনু লস্কর (ISF)

একুশের স্মৃতি এবং নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ভয়াবহতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রাজনৈতিক হিংসা এবং নির্বাচন পরবর্তী হানাহানি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যজুড়ে যে বেলাগাম হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, তা আজও বহু মানুষের মনে দগদগে ক্ষতের মতো রয়ে গিয়েছে। এই হিংসার মূল শিকার হয়েছিলেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা, যাদের মধ্যে বামপন্থী এবং বিজেপি সমর্থকরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। প্রতীক উর রহমানও এই হিংসার হাত থেকে রেহাই পাননি। তার রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই মানসিক ট্রমা কোনো ভূমিকা পালন করেছে কি না, তা নিয়ে অনেকেই গবেষণা করছেন।

২০২১ সালের নির্বাচন এবং প্রতীক উর রহমানের তিক্ত অভিজ্ঞতা

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) তাকে প্রার্থী করেছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির প্রবল মেরুকরণের মধ্যে পড়ে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেন । সেবারও তিনি শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন। একজন ছাত্র নেতা হিসেবে তিনি রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলতেন। কিন্তু নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলোর উপর যে আক্রমণ নেমে আসে, তা পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় রাজ্যজুড়ে নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় অন্তত ১১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে বর্ধমানের জামালপুরে কাকলি ক্ষেত্রপাল নামে একজন মহিলা সিপিএম কর্মীও ছিলেন । উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে আইএসএফ কর্মী হাসানউজ্জামানকে বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছিল । এই প্রতিটি ঘটনার জন্যই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছিল। উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের কেনিয়া খামারপাড়া এলাকায় ৫১ জন মানুষকে বামফ্রন্ট সমর্থনের কারণে ঘরছাড়া করা হয়েছিল

নিজের বাড়িতে হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির আঁচ সরাসরি এসে পড়েছিল প্রতীক উর রহমানের গায়েও। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ডায়মন্ড হারবারে তার নিজস্ব বাসভবনে হামলা চালানো হয় এবং ব্যাপক লুটতরাজ করা হয় । সিপিআই(এম) নেতা শমীক লাহিড়ী তখন অভিযোগ করেছিলেন যে, জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে বাম ও আইএসএফ কর্মীদের বাড়ি এবং দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে

ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে? এই প্রশ্নটি বারবার ঘুরেফিরে আসার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এই নির্মম রাজনৈতিক হিংসা। যে দলের কর্মী-সমর্থকরা একদিন তার বাড়ি ভাঙচুর করেছিল, তাকে ঘরছাড়া করেছিল, আজ সেই দলেরই পতাকা হাতে তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কোন পর্যায়ে পড়ে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিস্মিত। অনেকেই মনে করছেন, লাগাতার আক্রমণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হতে হয়তো তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে, অথবা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি এই চরম আপস করতে চলেছেন।

২০২১ নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কিছু খণ্ডচিত্র বিবরণ ও ফলাফল
মোট প্রাণহানি (প্রাথমিক রিপোর্ট)

অন্তত ১১ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হন (বাম, আইএসএফ এবং বিজেপি মিলিয়ে)

প্রতীক উর রহমানের অভিজ্ঞতা

ডায়মন্ড হারবারে তার বাসভবনে আক্রমণ এবং লুটতরাজ

সাধারণ কর্মীদের অবস্থা

জেসিবি মেশিন দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর, বহু মানুষ ঘরছাড়া (যেমন- মধ্যমগ্রামের কেনিয়া খামারপাড়া)

তৃণমূলের দাবি

তাদের দলেরও ৪ জন কর্মী নিহত হয়েছেন বলে শাসক দল দাবি করেছিল

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন: সংখ্যালঘু ভোট এবং নতুন সমীকরণ

আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। ২০২৬ সালের মে মাসের আগেই শেষ হবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ । ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সম্ভবত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়েই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে । এই নির্বাচন শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং বিরোধীদের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বিশেষ করে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), অনুপ্রবেশ তত্ত্ব, এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো বিষয়গুলোকে হাতিয়ার করে বিজেপি যখন প্রবল আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।

৮৫টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনের গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটাররা সর্বদাই একটি নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেন। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮৫টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক সরাসরি জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে । তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ২০১১ সালের আগে এই আসনগুলোতে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। কিন্তু গত ১৫ বছরে এই ভোটব্যাঙ্ক প্রবলভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকেছে

২০১১ সালেই তৃণমূল কংগ্রেস এই ৮৫টির মধ্যে ৩৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল, যার একটা বড় অংশ এসেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে । মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতেও ক্রমশ বাম ও কংগ্রেসের জমি দখল করেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে প্রতীক উর রহমানের মতো একজন শিক্ষিত, মার্জিত এবং সংখ্যালঘু যুব মুখকে দলে টানতে পারলে তৃণমূলের লাভ বৈ ক্ষতি নেই। আইএসএফ-এর উত্থানের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু অংশে তৃণমূল যে অস্বস্তিতে পড়েছিল, প্রতীকের উপস্থিতি সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে সাহায্য করবে বলে শাসক দল মনে করছে।

তৃণমূলের লাভ এবং বামেদের রাজনৈতিক দেউলিয়া অবস্থা

राजनीতিতে “সেটিং” (Setting) শব্দটি এখন অত্যন্ত পরিচিত। রাজ্যের প্রধান দলগুলো একে অপরকে গোপন আঁতাতের দায়ে অভিযুক্ত করে। তৃণমূল বলে বামেদের ভোট রামে (বিজেপি) গেছে, আবার সিপিএম বলে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সেটিং রয়েছে । এই পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ির মধ্যে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আর ঠিক এই জায়গাতেই প্রতীক উর রহমানের দলবদল বামেদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতীক উর রহমান একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছেন, “ভোর হলে দেখা যাবে নতুন সূর্য ওঠে কি না” । সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোনো একটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও করা হতে পারে

ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে? এই প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করলে দেখা যায়, পূর্বে যারা বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তাদের অনেকেই আজ রাজনৈতিকভাবে খুব একটা প্রাসঙ্গিক নেই। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রাক্তন সিপিআই(এম) রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন । কিন্তু তৃণমূলের মতো একটি দলে, যেখানে আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্ব প্রকট এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দাপট প্রবল, সেখানে প্রতীকের মতো বাইরের একজন নেতার পক্ষে নিজের জমি শক্ত করা বেশ কঠিন হবে। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি দলের জন্য কতটা উপযোগী এবং এর জন্য তাকে হয়তো তার পুরনো রাজনৈতিক সত্তাকে পুরোপুরি বিসর্জন দিতে হবে।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক চিত্র তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক

৮৫টি নির্ণায়ক আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা

নির্বাচনের সময়সীমা

মে ২০২৬-এর আগে নির্বাচন সম্পন্ন হবে, মার্চে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা

শাসক দলের রণকৌশল বিরোধী দলের পরিচ্ছন্ন মুখের নেতাদের দলে টেনে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া কমানো।
সিপিএমের দুর্বলতা

তরুণ নেতৃত্বকে ধরে রাখতে না পারা এবং সাংগঠনিক স্থবিরতা

চূড়ান্ত বিশ্লেষণ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে অসংখ্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দলবদলের। কিন্তু যখন কোনো আদর্শবান ছাত্রনেতা নিজের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসকে পেছনে ফেলে একেবারে বিপরীত মেরুর কোনো দলে নাম লেখানোর প্রস্তুতি নেন, তখন তা বৃহত্তর রাজনৈতিক অবক্ষয়ের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করে। সিপিআই(এম)-এর মতো ক্যাডার-ভিত্তিক দল থেকে প্রতীক উর রহমানের ইস্তফা প্রমাণ করে যে দলের অভ্যন্তরে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে পুরনো নেতৃত্বের মতাদর্শগত এবং পদ্ধতিগত ব্যবধান কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এই দলবদলের জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করলেও, নৈতিকতার মানদণ্ডে এটি বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। ভুলে গেলেন প্রতীক উর? আপনার আশা আদৌ পূরণ হবে তো তৃণমূলে? এই প্রশ্ন শুধু তার একসময়ের সহযোদ্ধারাই করছেন না, বরং সাধারণ মানুষও কৌতূহলী। যে দলের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-কে তিনি ধাপ্পাবাজি বলেছিলেন, যাদের হাতে তিনি শারীরিক এবং মানসিকভাবে নিগৃহীত হয়েছিলেন, আজ ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ করতে সেই দলকেই তিনি বেছে নিচ্ছেন।

তবে রাজনীতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবতারই খেলা। শাসক দলের সুবিশাল সাংগঠনিক পরিকাঠামো এবং ক্ষমতার ছায়ায় তিনি হয়তো ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাবেন, হয়তো বিধায়কও নির্বাচিত হবেন। কিন্তু একজন স্বাধীন চেতা বামপন্থী নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলিত কাঠামোর মধ্যে তা তিনি কতটা চালিয়ে যেতে পারবেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আগামী দিনগুলোতে বাংলার রাজনীতি আরও কতটা চমকপ্রদ মোড় নেয়, তা দেখতে আমাদের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ব্যালট বাক্স পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

About Author
Chanchal Sen

চঞ্চল সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক। তিনি একজন অভিজ্ঞ লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যিনি পলিটিক্স নিয়ে লেখালিখিতে পারদর্শী। চঞ্চলের লেখায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের গভীর বিশ্লেষণ এবং সমসাময়িক ঘটনাবলীর সঠিক উপস্থাপন পাঠকদের মুগ্ধ করে। তার নিবন্ধ এবং মতামতমূলক লেখা বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্লেষণধর্মিতার কারণে পাঠকমহলে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। চঞ্চল সেনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং গভীর গবেষণা তাকে রাজনৈতিক সাংবাদিকতার জগতে একটি স্বতন্ত্র স্থান প্রদান করেছে। তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে পাঠকদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে এবং সমাজে পরিবর্তন আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

আরও পড়ুন