বুথে যাওয়ার দিন শেষ! ঘরে বসে কীভাবে ভোট দেবেন জানালো নির্বাচন কমিশন?

ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন মানেই এক বিরাট উৎসব। কিন্তু এই উৎসবে অনেকেই শামিল হতে পারেন না শুধুমাত্র শারীরিক অক্ষমতা বা বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে। প্রবীণ নাগরিক এবং…

Ishita Ganguly

ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন মানেই এক বিরাট উৎসব। কিন্তু এই উৎসবে অনেকেই শামিল হতে পারেন না শুধুমাত্র শারীরিক অক্ষমতা বা বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে। প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোটা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দূর করতেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখন থেকে আর রোদে পুড়ে বা ভিড় ঠেলে বুথে যাওয়ার দরকার নেই। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলেই পাওয়া যাবে Vote From Home Election Commission সুবিধা। দেশের প্রতিটি নাগরিকের ভোটদান নিশ্চিত করতে এবং গণতন্ত্রকে আরও সর্বজনীন করতে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজকের এই বিস্তৃত আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব, কীভাবে এই বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে, কারা আবেদন করতে পারবেন, আর প্রবীণদের সুবিধার্থে কী কী নতুন নিয়ম জানাল কমিশন।

Vote From Home Election Commission: বিষয়টা ঠিক কী?

গণতন্ত্রের আসল ভিত্তি হলো দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের সমান ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সব সময় এত সহজ হয় না। অসুস্থতা বা বয়সের ভারে অনেকেই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন না। এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান হিসেবেই ‘বাড়ি থেকে ভোট’ বা ভোট ফ্রম হোম নামক এই বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সরাসরি ভোটারের বাড়িতে পৌঁছে যান । সম্পূর্ণ গোপনীয়তা এবং কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সেখানে ভোট নেওয়া হয় । এটি মূলত পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ার একটি উন্নত ও অত্যন্ত সুরক্ষিত রূপ। এর ফলে ভোটারের বাড়ির পরিচিত পরিবেশেই একটি অস্থায়ী বুথ তৈরি হয়ে যায়, যেখানে তিনি নিজের পছন্দমতো প্রার্থীকে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।​

এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো ‘নো ভোটার লেফট বিহাইন্ড’ বা কোনো ভোটার যেন বাদ না পড়েন, সেই নীতিকে বাস্তবায়িত করা। নির্বাচন কমিশন চাইছে দেশের ১০০ শতাংশ যোগ্য নাগরিক যেন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা শারীরিকভাবে দুর্বল বা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ, তাঁদের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি জানানোই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান কারণ ।​

পুরোপুরি দেশব্যাপী এই নিয়ম প্রথমবার সফলভাবে প্রয়োগ করা হয় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে । এর আগে কিছু রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে খুব ছোট আকারে পরীক্ষামূলকভাবে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু লোকসভা ভোটের মতো এত বড় পরিসরে এই প্রথমবার প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররা সর্বভারতীয় স্তরে এই সুবিধা পান ।​

এই বিশেষ সুবিধার আওতায় কারা পড়ছেন?

সবাই চাইলেই কিন্তু এই সুবিধা পাবেন না। নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড বা নিয়ম তৈরি করে দিয়েছে, যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষেরাই এই সুযোগ পান। মূলত সমাজের সেইসব মানুষদের জন্যই এই নিয়ম করা হয়েছে, যাঁদের সত্যিই বুথে গিয়ে ভোট দেওয়াটা কার্যত অসম্ভব। অনেকেই মনে করেন যেকোনো সামান্য অসুস্থ মানুষই হয়তো বাড়ি থেকে ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু বিষয়টা একেবারেই তেমন নয়। নির্দিষ্ট বয়সের সীমারেখা এবং শারীরিক অক্ষমতার শংসাপত্র থাকলেই কেবল এই বিশেষ পরিষেবার আবেদন মঞ্জুর করা হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ঠিক কারা এই Vote From Home Election Commission সুবিধার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

৮৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক: শুরুতে এই বয়সসীমা ৮০ বছর রাখা হলেও, পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন তা পরিবর্তন করে ৮৫ বছর করেছে । অর্থাৎ, কোনো ভোটারের বয়স যদি ৮৫ বছর বা তার বেশি হয়, তবে তিনি সম্পূর্ণ বৈধভাবে বুথে না গিয়ে নিজের বাড়িতে বসেই ভোটদান করতে পারবেন।

বিশেষভাবে সক্ষম বা PwD ভোটার:যেসব ব্যক্তির শরীরে অন্তত ৪০ শতাংশ (40% Benchmark Disability) অক্ষমতা রয়েছে, তাঁরা এই সুবিধার আওতায় পড়বেন । তবে এর জন্য উপযুক্ত সরকারি শংসাপত্র বা ডিজেবিলিটি সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক, যা আবেদনের সময় দেখাতে হয়।​

কোভিড বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার কর্মী:কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এবং কোভিডের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

ভোটারের ধরন প্রয়োজনীয় যোগ্যতা/শর্ত প্রমাণপত্র
প্রবীণ নাগরিক বয়স ৮৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে ​ ভোটার আইডি বা বয়সের প্রমাণ
বিশেষভাবে সক্ষম (PwD) ন্যূনতম ৪০ শতাংশ শারীরিক অক্ষমতা ​ সরকারি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট
জরুরি পরিষেবার কর্মী নির্বাচনের দিন কর্মরত থাকতে হবে বিভাগীয় প্রধানের ছাড়পত্র


বাড়ী থেকে ভোট দেওয়ার জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?

আপনি যদি উপরের শর্তগুলো পূরণ করেন, তবে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার বাড়িতে ভোট নেওয়ার জন্য কেউ চলে আসবে না। এর জন্য আগে থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে যে আপনি বাড়ি থেকে ভোট দিতে ইচ্ছুক। এই আবেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই তৈরি করা হয়েছে। মূলত একটি ফর্ম পূরণ করার মাধ্যমেই এই পুরো প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, আবেদন করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যা পেরিয়ে গেলে আর আবেদন গ্রহণ করা হয় না।

১২ডি (Form 12D) ফর্ম সংগ্রহ ও পূরণ: যাঁরা বাড়ি থেকে ভোট দিতে চান, তাঁদের প্রথমে ‘ফর্ম ১২ডি’ (Form 12D) সংগ্রহ করতে হবে । এই ফর্মটি নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়, অথবা স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাছ থেকেও ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া যায়। ফর্মে ভোটারের সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য, ঠিকানার বিবরণ এবং উপযুক্ত কারণ সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।​

ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা ও নিয়ম: নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই এই ফর্ম জমা দিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এলাকার নির্বাচনের নোটিফিকেশন জারির ৫ দিনের মধ্যে পূরণ করা ফর্ম ১২ডি রিটার্নিং অফিসার (RO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের (ARO) কাছে জমা করতে হবে । এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে আবেদন কোনোভাবেই আর গ্রহণ করা হয় না।​

বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) ভূমিকা: এই পুরো আবেদন প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা নিজেরাই যোগ্য ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ১২ডি পৌঁছে দেন এবং প্রয়োজন হলে ফর্ম পূরণে সাহায্য করেন। পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহ করে সঠিক জায়গায় জমা দেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্বও তাঁদের থাকে।

বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কেমন?

আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর শুরু হয় মূল ভোটগ্রহণ পর্ব। অনেকেই ভাবেন, বাড়িতে ভোট দিলে কি ভোটের গোপনীয়তা নষ্ট হবে বা পাড়ার লোকেরা জেনে যাবে? একদমই নয়। নির্বাচন কমিশন বুথের মতোই কড়া নিয়মে বাড়িতে ভোট নেওয়ার নিখুঁত ব্যবস্থা করেছে। নির্দিষ্ট দিনে নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ দল ভোটারের বাড়িতে উপস্থিত হন। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়, যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকে। আসুন ধাপে ধাপে জেনে নিই কীভাবে এই ভোট নেওয়া হয়।

নির্বাচন কর্মীদের বাড়িতে আগমন: ভোটের জন্য দুজন পোলিং অফিসার, একজন সশস্ত্র পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষী এবং একজন ভিডিওগ্রাফার ভোটারের বাড়িতে আসেন । বাড়িতে আসার আগে ভোটারকে মোবাইল এসএমএস বা ডাক মারফত নির্দিষ্ট দিন এবং আনুমানিক সময় পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় ।​

ভিডিওগ্রাফি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা: পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটির ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় । তবে মনে রাখতে হবে, ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন বা ব্যালটে কোথায় স্ট্যাম্প দিচ্ছেন, সেই ব্যালট পেপারের কোনো ছবি বা ভিডিও তোলা হয় না। শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই দূর থেকে এই ভিডিওগ্রাফি করা হয়।​

গোপনীয়তা বজায় রেখে ব্যালট পেপারে ভোটদান: বাড়ির একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কার্ডবোর্ড দিয়ে ছোট ঘেরাটোপ বা ভোটিং কম্পার্টমেন্ট তৈরি করা হয়। সেখানে ভোটার সম্পূর্ণ একান্তে তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। এরপর ব্যালটটি একটি নির্দিষ্ট খামে ভরে মুখ বন্ধ করে সরাসরি অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ভোটার বাড়িতে না থাকলে কী হবে?: যদি কোনো কারণে প্রথমবার অফিসাররা গিয়ে ভোটারকে নির্দিষ্ট ঠিকানায় না পান, তবে তাঁরা দ্বিতীয়বার আবার একটি দিন ঠিক করে পরিদর্শনে আসেন । কিন্তু দ্বিতীয়বারও যদি ভোটার অনুপস্থিত থাকেন, তবে তিনি আর ওই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ পাবেন না ।​

প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য আর কী কী জানাল কমিশন?

বাড়ি থেকে ভোট দেওয়ার সুবিধা ছাড়াও জাতীয় নির্বাচন কমিশন আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। যাঁরা বাড়িতে বসে ভোট দেওয়ার বদলে সরাসরি বুথে গিয়ে ভোটদানের উৎসবের পরিবেশ উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্যও নানা ধরনের আধুনিক বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, প্রবীণ ও অক্ষম ভোটারদের বুথে বিশেষ সম্মান ও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। যাতে তাঁদের কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়, তার জন্য প্রতিটি বুথেই বিশেষ ব্যবস্থা মজুত থাকবে।

হুইলচেয়ার এবং ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা: যাঁরা বুথে এসে ভোট দিতে চান, তাঁদের সুবিধার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা থাকছে । এছাড়াও, তাঁদের বুথ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া এবং সাহায্য করার জন্য বুথে ন্যাশনাল সার্ভিস স্কিম (NSS) বা অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভলান্টিয়াররা উপস্থিত থাকবেন ।​

দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল ইভিএম (Braille EVM): দৃষ্টিহীন ভোটাররা যাতে অন্যের সাহায্য ছাড়া নিজেরাই স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য ইভিএম (EVM) মেশিনে ব্রেইল লিপির সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে । এমনকি ভোটার স্লিপও ব্রেইল লিপিতে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কমিশন, যা এক বিরাট পাওনা ।​

সক্ষ্যম অ্যাপের (Saksham App) ব্যবহার: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে সহজেই নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা, হুইলচেয়ার বুক করা বা অন্যান্য সাহায্য চাইতে পারেন, তার জন্য নির্বাচন কমিশন ‘Saksham App’ নামক একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই অনেক জটিল কাজ খুব সহজে হয়ে যায়।

ভোট ফ্রম হোম নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান

এই প্রকল্পের বিশালতা ঠিক কতটা, তা কিছু সরকারি পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়। ভারতের মতো বিশাল দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া মুখের কথা নয়। নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮১ লক্ষেরও বেশি । অন্যদিকে, নিবন্ধিত বিশেষভাবে সক্ষম (PwD) ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯০ লক্ষের কাছাকাছি ।​

বিষয় পরিসংখ্যান / ডেটা
৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮১ লক্ষেরও বেশি ​
বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার (PwD) প্রায় ৯০ লক্ষ ​
প্রথম দেশব্যাপী প্রয়োগ লোকসভা নির্বাচন ২০২৪ ​

এই বিপুল সংখ্যক ভোটারকে সরাসরি সুবিধা দেওয়ার জন্য লক্ষাধিক পোলিং কর্মীকে বিশেষ প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর থেকেই খুব সহজে বোঝা যায় যে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই উদ্যোগকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে এবং নিখুঁতভাবে পরিচালনা করছে।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করা দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার এবং পবিত্র কর্তব্য। বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা যাতে এই কর্তব্যে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, ঠিক তার জন্যই Vote From Home Election Commission-এর এই দুর্দান্ত ও মানবিক উদ্যোগ। ১২ডি ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে বাড়িতে অফিসারদের আসা এবং ব্যালট সংগ্রহ করা—পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুচারুভাবে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে সাজানো হয়েছে। আপনি বা আপনার পরিবারের কোনো বয়স্ক সদস্য যদি এই যোগ্যতার মাপকাঠিতে পড়েন, তবে অবশ্যই এই সুবিধার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করুন। বুথে যাওয়ার কষ্ট এড়িয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। নির্বাচন কমিশনের এই অভিনব পদক্ষেপে দেশের গণতন্ত্র আজ সত্যিই আরও বেশি মজবুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠেছে।

 

About Author
Ishita Ganguly

ঈশিতা গাঙ্গুলী ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে স্নাতক। তিনি একজন উদ্যমী লেখক এবং সাংবাদিক, যিনি সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ ও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে থাকেন। ঈশিতার লেখার ধরন স্পষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যবহুল, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। তার নিবন্ধ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে আনেন এবং পাঠকদের চিন্তা-চেতনার পরিসরকে বিস্তৃত করতে সহায়তা করেন। সাংবাদিকতার জগতে তার অটুট আগ্রহ ও নিষ্ঠা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে, যা তাকে ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।