খুতবার শুরুতে কি বলতে হয় — আরবি উচ্চারণ, অর্থ ও সম্পূর্ণ ইসলামি গাইড

জুমার নামাজ মুসলমানদের সাপ্তাহিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর সেই নামাজের আগে খতিব যে ভাষণ দেন, তাকে বলা হয় খুতবা। কিন্তু অনেকেই জানেন না — খুতবার শুরুতে কি বলতে হয়, কীভাবে…

মনীষা মুখার্জী

জুমার নামাজ মুসলমানদের সাপ্তাহিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আর সেই নামাজের আগে খতিব যে ভাষণ দেন, তাকে বলা হয় খুতবা। কিন্তু অনেকেই জানেন না — খুতবার শুরুতে কি বলতে হয়, কীভাবে শুরু করতে হয়, কোন আরবি বাক্য দিয়ে খুতবা উদ্বোধন হয়। ইসলামে খুতবার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে, যা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। খুতবার শুরুতে “খুতবাতুল হাজাহ” পাঠ করা সুন্নাহ, যার মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা, শাহাদাত এবং বিশেষ কুরআনের আয়াত রয়েছে। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব — আরবি পাঠ, বাংলা উচ্চারণ, অনুবাদ এবং সম্পূর্ণ ইসলামি বিধান সহ।

খুতবা কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

খুতবার সংজ্ঞা ও ইতিহাস

খুতবা শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ বক্তৃতা করা বা ভাষণ দেওয়া। শরিয়তের পরিভাষায় খুতবা বলা হয় এমন বক্তৃতাকে, যেখানে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা, রাসুল (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ এবং উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি নসিহত থাকে। ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই জুমার নামাজের আগে এই খুতবা দেওয়ার প্রথা চলে আসছে, যা রাসুল (সা.) নিজে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।​

খুতবার শরিয়তি মর্যাদা

খুতবা শুধু বক্তৃতা নয়, এটি জুমার নামাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় মুসল্লিদের নিরবতা পালন করা ওয়াজিব। যে ব্যক্তির কানে খুতবার শব্দ পৌঁছায়, তার জন্য চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা ফরজ বলে গণ্য করা হয়। ফিকাহবিদদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।

খুতবা না শুনলে কি ক্ষতি?

অনেকেই মনে করেন মসজিদে এলেই জুমা হয়ে যায়। কিন্তু খুতবা শুনতে না পেলে জুমার পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায় না। হাদিসে বলা হয়েছে — “তোমরা সালাতকে দীর্ঘায়িত করবে এবং খুতবাকে সংক্ষিপ্ত করবে।” এটি রাসুল (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশনা।​

বিষয় বিবরণ
খুতবার শাব্দিক অর্থ বক্তৃতা বা ভাষণ দেওয়া
ইসলামিক সংজ্ঞা আল্লাহর প্রশংসা, শাহাদাত, দরুদ ও নসিহতসম্পন্ন ভাষণ
খুতবা শোনার বিধান ওয়াজিব (সবার জন্য বাধ্যতামূলক)
খুতবার সময় কথা বলা হারাম
প্রথম প্রবর্তন রাসুল (সা.) কর্তৃক মদিনায়


খুতবার শুরুতে কি বলতে হয় — খুতবাতুল হাজাহ

খুতবাতুল হাজাহ কী?

খুতবার শুরুতে যে বিশেষ আরবি বাক্যাংশ পড়তে হয়, তাকে বলা হয় খুতবাতুল হাজাহ” বা “হাজতের খুতবা”। এটি রাসুল (সা.) নিজে শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং প্রতিটি খুতবা, বিয়ে বা গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতার শুরুতে এই বাক্যগুলো পড়তে বলা হয়েছে। এটি সুনানে ইবনে মাজাহ (হাদিস: ১৮৯২) এবং সুনানে নাসায়ি (হাদিস: ১৫৭৮)-তে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত।​

খুতবাতুল হাজাহর আরবি পাঠ

খুতবা শুরু করার সময় খতিব প্রথমে নিচের আরবি বাক্যগুলো পাঠ করেন:

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَن يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَن يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল হামদা লিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাস্তাইনুহু ওয়া নাস্তাগফিরুহু ওয়া নাউযুবিল্লাহি মিন শুরুরি আনফুসিনা ওয়া মিন সাইয়িআতি আ’মালিনা। মাইঁ ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লালাহ, ওয়া মাঁ ইউদলিল ফালা হাদিয়া লাহু। ওয়া আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।

বাংলা অনুবাদ

“নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর কাছে সাহায্য চাচ্ছি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং আমাদের নফসের অনিষ্ট ও মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে সুপথ দেখাবেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করবেন, তাকে কেউ সুপথ দেখাতে পারবে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একা, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।”

অংশ আরবি শব্দ অর্থ
তাহমিদ الحمد لله আল্লাহর প্রশংসা
ইস্তিআনা نستعينه তাঁর সাহায্য চাওয়া
ইস্তিগফার نستغفره ক্ষমা প্রার্থনা
তাআউয نعوذ بالله আশ্রয় চাওয়া
শাহাদাত أشهد أن لا إله إلا الله একত্ববাদের ঘোষণা
দরুদ أشهد أن محمدًا رسوله রাসুলের স্বীকৃতি


খুতবার শুরুতে তিনটি কুরআনের আয়াত

কেন তিনটি আয়াত পড়তে হয়?

খুতবাতুল হাজাহ পাঠের পরে খতিব তিনটি বিশেষ কুরআনের আয়াত পড়েন, যা তাকওয়া বা আল্লাহভীরুতার নির্দেশ দেয়। এই তিনটি আয়াত পাঠ রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং প্রতিটি খুতবার প্রামাণিক অংশ বলে বিবেচিত।​

প্রথম আয়াত — সূরা আলে ইমরান (৩:১০২)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

বাংলা অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যথাযোগ্যভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।”

দ্বিতীয় আয়াত — সূরা আন-নিসা (৪:১)

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ

বাংলা অর্থ: “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক আত্মা থেকে সৃষ্টি করেছেন।”

তৃতীয় আয়াত — সূরা আল-আহযাব (৩৩:৭০-৭১)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ

বাংলা অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করবেন।”​​

আয়াত নম্বর সূরা মূল বার্তা
৩:১০২ আলে ইমরান তাকওয়া অর্জন এবং ইসলামে মৃত্যু
৪:১ আন-নিসা আল্লাহকে ভয় করা ও পারিবারিক বন্ধন
৩৩:৭০-৭১ আল-আহযাব সত্য কথা বলা ও আমল সংশোধন


আম্মা বা’দু — খুতবার মূল বক্তব্য শুরুর ঘোষণা

“আম্মা বা’দু” কী?

তিনটি আয়াত তিলাওয়াতের পরে খতিব বলেন:

أَمَّا بَعْدُ

উচ্চারণ: “আম্মা বা’দু”

অর্থ: “এরপর” বা “এখন মূল বিষয়ে আসি”

এই দুটি শব্দ দিয়ে বোঝানো হয় যে প্রারম্ভিক অংশ শেষ হয়েছে এবং এখন মূল বক্তৃতা শুরু হবে। রাসুল (সা.) তাঁর খুতবায় এই শব্দদ্বয় ব্যবহার করতেন।​

এরপর কী বলতে হয়?

আম্মা বা’দুর পরে খতিব বলেন:

فَإِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرَّ الأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلاَلَةٌ وَكُلَّ ضَلاَلَةٍ فِي النَّارِ

বাংলা অর্থ: “সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর পথ। সবচেয়ে মন্দ বিষয়গুলো হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়। প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয় বিদআত, প্রতিটি বিদআত পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতা জাহান্নামে নিয়ে যায়।”​​

ধাপ বাক্য উদ্দেশ্য
আম্মা বা’দু মূল বক্তব্যের পূর্বঘোষণা
ফাইন্না আসদাকাল হাদিস… কুরআন ও সুন্নাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা
শাররাল উমুর… বিদআত থেকে সতর্কতা
মূল বিষয় সেদিনের খুতবার মূল প্রসঙ্গ


খুতবার দুটি অংশ — প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবা

প্রথম খুতবা (খুতবায়ে আউয়াল)

জুমার খুতবা দুটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম খুতবা হলো দীর্ঘ অংশ, যেখানে খতিব আল্লাহর প্রশংসা, রাসুলের দরুদ, কুরআন তিলাওয়াত এবং মূল বিষয়ের উপর আলোচনা করেন। প্রথম খুতবায় কমপক্ষে একটি কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা ওয়াজিব। এই অংশেই মুসল্লিদের উদ্দেশে তাকওয়ার নসিহত ও ইসলামি জ্ঞান বিতরণ করা হয়।​

মধ্যবর্তী বিরতি

প্রথম খুতবা শেষ হলে খতিব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বসে পড়েন। এই বিরতিটি সুন্নাহ সম্মত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়। এই সময়ে মুসল্লিরা চুপ থেকে নিজেদের মনে দোয়া পড়তে পারেন।

দ্বিতীয় খুতবা (খুতবায়ে সানি)

দ্বিতীয় খুতবা তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত। এতেও আল্লাহর প্রশংসা, শাহাদাত, দরুদ এবং তাকওয়ার উপদেশ থাকে। দ্বিতীয় খুতবায় সকল মুমিন-মুমিনাহ এবং মুসলিম-মুসলিমাহর জন্য দোয়া করা হয়।​​

অংশ বৈশিষ্ট্য দৈর্ঘ্য
প্রথম খুতবা আলহামদু, শাহাদাত, কুরআন তিলাওয়াত, নসিহত দীর্ঘ
মধ্যবর্তী বিরতি খতিব বসে পড়েন সংক্ষিপ্ত
দ্বিতীয় খুতবা আলহামদু, দরুদ, উম্মতের জন্য দোয়া সংক্ষিপ্ত


খুতবার রুকন ও ওয়াজিব বিষয়সমূহ

খুতবার ফরজ (রুকন) বিষয়

সব ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী খুতবায় কিছু বিষয় পালন করা অপরিহার্য। এগুলো না থাকলে খুতবা পূর্ণ হয় না।

প্রতিটি খুতবায় যা থাকা বাধ্যতামূলক:

  • তাহমিদ — আল্লাহর প্রশংসা করা, যেমন “আলহামদুলিল্লাহ” বলা​
  • সালাওয়াত — রাসুল (সা.)-এর উপর দরুদ পাঠ করা
  • কুরআন তিলাওয়াত — প্রথম খুতবায় অন্তত একটি আয়াত পড়া
  • তাকওয়ার নসিহত — উভয় খুতবায় আল্লাহভীরুতার উপদেশ দেওয়া
  • দোয়া — সকল মুমিনদের জন্য প্রার্থনা করা

খুতবার সুন্নাত বিষয়

রুকনের পাশাপাশি কিছু সুন্নাত আমলও রয়েছে যা খতিবের পালন করা উচিত। যেমন — দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া, লাঠি বা ধনুকের সাহায্যে ভর দেওয়া, মুসল্লিদের দিকে মুখ করে দাঁড়ানো, এবং খুতবা মাঝারি দৈর্ঘ্যের রাখা।

বিভাগ বিষয় গুরুত্ব
ফরজ/রুকন তাহমিদ, শাহাদাত, কুরআন, তাকওয়া, দোয়া অপরিহার্য
সুন্নাত দাঁড়িয়ে বলা, লাঠি ধরা, মুখোমুখি হওয়া সুন্নাত
মুস্তাহাব সংক্ষিপ্ত খুতবা, পরিষ্কার কণ্ঠে বলা প্রশংসনীয়
মাকরুহ অতিরিক্ত দীর্ঘ করা, মনোযোগ নষ্ট করা অপছন্দনীয়


ঈদের খুতবার শুরু — বিশেষ নিয়ম

ঈদুল ফিতরের খুতবা

ঈদের খুতবার শুরু জুমার খুতবা থেকে একটু আলাদা। ঈদুল ফিতরের প্রথম খুতবা শুরু হয় নয়বার “আল্লাহু আকবার” বলার মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় খুতবা শুরু হয় সাতবার “আল্লাহু আকবার” বলার মাধ্যমে। এটি বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রহ.) থেকে বর্ণিত।​

ঈদুল আযহার খুতবা

ঈদুল আযহার খুতবার শুরুর পদ্ধতিও একই — প্রথম খুতবায় নয়টি তাকবির এবং দ্বিতীয় খুতবায় সাতটি তাকবির। এই তাকবিরগুলো বলার পরে খুতবাতুল হাজাহর মতো প্রশংসামূলক বাক্য পড়া হয়।

ঈদ প্রথম খুতবার শুরু দ্বিতীয় খুতবার শুরু
ঈদুল ফিতর ৯ বার “আল্লাহু আকবার” ৭ বার “আল্লাহু আকবার”
ঈদুল আযহা ৯ বার “আল্লাহু আকবার” ৭ বার “আল্লাহু আকবার”
জুমা খুতবাতুল হাজাহ (তাহমিদ ও শাহাদাত) সংক্ষিপ্ত তাহমিদ ও দোয়া


খুতবার শুরুতে কি বলতে হয় — ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ কাঠামো

সম্পূর্ণ খুতবার ক্রম

নিচে ধাপে ধাপে একটি জুমার খুতবার সম্পূর্ণ শুরুর কাঠামো দেওয়া হলো:

ধাপ ১: মিম্বরে উঠে মুসল্লিদের দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং বলুন:

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته (আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু)

ধাপ ২: আযান দেওয়া হবে। আযান শেষ হলে খুতবা শুরু করুন।

ধাপ ৩: খুতবাতুল হাজাহ পাঠ করুন (উপরের আরবি বাক্যগুলো)।

ধাপ ৪: তিনটি কুরআনের আয়াত পাঠ করুন (৩:১০২, ৪:১, ৩৩:৭০-৭১)।

ধাপ ৫: “আম্মা বা’দু” বলে মূল বিষয়ে প্রবেশ করুন।

ধাপ ৬: মূল বক্তৃতা দিন, কুরআন-হাদিসের উদ্ধৃতি দিন।

ধাপ ৭: প্রথম খুতবা শেষ করে বসুন।

ধাপ ৮: দ্বিতীয় খুতবায় সংক্ষিপ্ত তাহমিদ, দরুদ ও উম্মতের জন্য দোয়া করুন।

ধাপ কার্যক্রম সুন্নাহ/ওয়াজিব
সালাম দেওয়া সুন্নাত
আযান শুনে অপেক্ষা ওয়াজিব
খুতবাতুল হাজাহ সুন্নাত
তিন আয়াত তিলাওয়াত সুন্নাত
আম্মা বা’দু সুন্নাত
মূল বক্তৃতা ওয়াজিব
মাঝে বসা সুন্নাত
দ্বিতীয় খুতবা ও দোয়া ওয়াজিব


খুতবার সময় মুসল্লিদের করণীয়

নিরবতা পালন করুন

খুতবার সময় মুসল্লিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিরবতা পালন করা। হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে — যে ব্যক্তি খুতবার সময় অন্যকে “চুপ করো” বলে, সেও অনর্থক কাজ করল এবং তার জুমা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে। সুতরাং একদম নিরব থেকে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনতে হবে।​

কখন কথা বলা জায়েজ?

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কথা বলার অনুমতি রয়েছে। রাসুল (সা.) নিজেই খুতবা চলাকালে এক মুসল্লিকে নামাজ পড়তে বলেছিলেন (সহিহ বুখারি: ৮৮৮)। অর্থাৎ অপরিহার্য প্রয়োজনে — যেমন বিপদ জানানো বা ইমামের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া — কথা বলা জায়েজ।​

কাজ বিধান
মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব
খুতবার সময় কথা বলা হারাম
অন্যকে “চুপ করো” বলা মাকরুহ
অপরিহার্য কথা বলা জায়েজ
সুন্নত নামাজ পড়া নাজায়েজ


সাধারণ ভুলসমূহ যা খুতবায় হয়

অনেক খতিবের করা সাধারণ ভুল

অনেক মসজিদে দেখা যায় খতিব খুতবার শুরুতে অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলেন বা দীর্ঘ ভূমিকা দেন। কিন্তু রাসুল (সা.) সবসময় খুতবাকে সংক্ষিপ্ত এবং মূলভিত্তিক রাখতেন। খুতবাতুল হাজাহ বাদ দিয়ে শুরু করা, শাহাদাত না পড়া বা আয়াত না পড়া — এগুলো খুতবার পূর্ণতাকে কমিয়ে দেয়।​

কিছু সাধারণ ভুল যা এড়িয়ে চলতে হবে:

  • খুতবাতুল হাজাহ না পড়া বা অসম্পূর্ণ পড়া
  • তাহমিদ ছাড়াই মূল বিষয়ে চলে যাওয়া
  • খুতবাকে অতিরিক্ত দীর্ঘ করা
  • শ্রোতাদের মনোযোগ হারিয়ে ফেলার মতো একঘেয়ে বক্তৃতা দেওয়া
  • দ্বিতীয় খুতবায় উম্মতের জন্য দোয়া না করা

চূড়ান্ত কথা

খুতবার শুরুতে কি বলতে হয় — এই প্রশ্নের উত্তর একটাই: সুন্নাহসম্মত “খুতবাতুল হাজাহ” দিয়ে শুরু করতে হয়। এর মধ্যে আছে আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা, শাহাদাত এবং তিনটি বিশেষ কুরআনের আয়াত। এরপর “আম্মা বা’দু” বলে মূল বক্তব্যে প্রবেশ করতে হয়। জুমা ও ঈদের খুতবা ইসলামি ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ — তাই সঠিক নিয়মে খুতবা দেওয়া এবং মনোযোগ দিয়ে শোনা উভয়ই প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। যে খতিব প্রতি সপ্তাহে সঠিকভাবে খুতবার শুরু করেন, তিনি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহকেই জীবিত রাখেন।

জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্নের উত্তর

১. খুতবার প্রথম ও দ্বিতীয় অংশের পার্থক্য?

জুমার খুতবা দুটি আলাদা ভাগে বিভক্ত — প্রথম খুতবা এবং দ্বিতীয় খুতবা। দুটির মধ্যে কাঠামো, দৈর্ঘ্য এবং বিষয়বস্তুতে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।​

বিষয় প্রথম খুতবা দ্বিতীয় খুতবা
দৈর্ঘ্য তুলনামূলক দীর্ঘ সংক্ষিপ্ত
বিষয়বস্তু তাহমিদ, শাহাদাত, কুরআন তিলাওয়াত, নসিহত তাহমিদ, দরুদ, উম্মতের জন্য দোয়া
কুরআন পাঠ কমপক্ষে এক আয়াত পাঠ ওয়াজিব সংক্ষিপ্ত তিলাওয়াত
শেষ হওয়ার ধরন বসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেন নামাজের ইক্বামত দেওয়া হয়
দোয়া তাকওয়ার নসিহত প্রধান সকল মুমিন-মুমিনার জন্য দোয়া


বিস্তারিত পার্থক্য:

  • প্রথম খুতবা হলো মূল ভাষণের অংশ — এখানে খুতবাতুল হাজাহ পড়া হয়, কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হয় এবং সমাজ ও দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে নসিহত করা হয়।​
  • দ্বিতীয় খুতবা তুলনামূলক ছোট — এতে আল্লাহর প্রশংসা, রাসুল (সা.)-এর উপর দরুদ এবং সমগ্র পৃথিবীর মুসলিম নর-নারীর জন্য দোয়া করা হয়।​
  • দুটি খুতবার মাঝখানে খতিব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বসেন — এটি সুন্নাহ এবং রাসুল (সা.) নিয়মিত এই কাজ করতেন।​
  • মহানবী (সা.) উভয় খুতবাতেই নসিহত করতেন — শুধু একটিতে কিরাআত আর অন্যটিতে কেবল দোয়া করা সঠিক নয়।​
  • প্রথম খুতবায় রাসুল (সা.) সূরা ক্বাফ এত বেশি পড়তেন যে, উম্মে হিশাম (রা.) প্রায় জুমাতে শুনতে শুনতে পুরো সূরা মুখস্থ করে ফেলেছিলেন।​
  • প্রথম খুতবার পর খতিব বসলে সেই সময়ে কেউ হাত তুলে দোয়া করবেন না — এটি বিধেয় নয়।​
  • দ্বিতীয় খুতবায় খতিব সংক্ষিপ্ত তাহমিদ, দরুদ এবং মুমিন-মুমিনাদের জন্য সমষ্টিগত দোয়া করেন — এরপরই ইক্বামত হয় এবং নামাজ শুরু হয়।​

২. জুমার খুতবায় আরবি বাক্যগুলো কী?

খুতবায় যেসব আরবি বাক্য পাঠ করা হয়, সেগুলো রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং প্রতিটি বাক্যের নির্দিষ্ট অর্থ ও উদ্দেশ্য আছে।​

ধাপ আরবি বাক্য বাংলা অর্থ
তাহমিদ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য
ইস্তিআনা نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ আমরা তাঁর প্রশংসা করি ও সাহায্য চাই
ইস্তিগফার وَنَسْتَغْفِرُهُ তাঁর কাছে ক্ষমা চাই
তাআউয وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنفُسِنَا আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই
শাহাদাত أَشْهَدُ أَن لَّا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই
রিসালাত وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল
আম্মা বা’দু أَمَّا بَعْدُ এরপর মূল বিষয়ে আসি
ইরশাদ فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব


আরবি বাক্যগুলো বিস্তারিত:

  • খুতবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুরু হয় ইন্নাল হামদা লিল্লাহ” দিয়ে — যা না পড়লে হাদিসে খুতবাকে “কাটা হাতের মতো ঠুঁটো” বলা হয়েছে।​
  • এরপর পড়া হয় মান ইয়াহদিহিল্লাহু ফালা মুদিল্লালাহ, ওয়া মান ইউদলিল ফালা হাদিয়া লাহু” — আল্লাহর হেদায়াতের সর্বোচ্চ ঘোষণা।​
  • শাহাদাত পাঠের পরে তিনটি কুরআনের আয়াত পড়া হয় — সূরা আলে ইমরান (৩:১০২), সূরা নিসা (৪:১) এবং সূরা আহযাব (৩৩:৭০-৭১)।​
  • “আম্মা বা’দু” বলার পরে রাসুল (সা.) প্রায়ই বলতেন: ফাইন্না খাইরাল হাদিসি কিতাবুল্লাহ…” — কুরআন ও সুন্নাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে।​
  • দ্বিতীয় খুতবায় পড়া হয়: আলহামদুলিল্লাহি নাহমাদুহু… আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন…” সংক্ষিপ্ত তাহমিদ ও দরুদ।​
  • দ্বিতীয় খুতবার শেষ দিকে পড়া হয়: আল্লাহুম্মাগফির লিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত…” — সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমার দোয়া।​
  • খুতবায় কুরআনের আয়াত পড়া হয় কারণ — খুতবাকে রাসুল (সা.) একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করতেন, কোনো সাধারণ বক্তৃতা নয়।​

৩. খুতবা দেওয়ার সময় হাতের অবস্থান কেমন হয়?

খুতবা দেওয়ার সময় হাতের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহর বিষয় — রাসুল (সা.) এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অনুশীলন করতেন।​

বিষয় সুন্নাহ অনুযায়ী বিধান
হাতে লাঠি রাখা নিয়মিত সুন্নাত
হাত তুলে দোয়া করা নাজায়েজ (শুধু বৃষ্টির দোয়া বাদে)
তর্জনী দিয়ে ইশারা জায়েজ এবং সুন্নাত
উভয় হাত তোলা বিদআত
লাঠি বা ধনুকে ভর দেওয়া রাসুলের আমল


বিস্তারিত বিবরণ:

  • রাসুল (সা.) খুতবার সময় হাতে লাঠি বা ধনুক রাখতেন এবং তার উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন — এটি তাঁর নিয়মিত সুন্নাত ছিল, কোনো অসুস্থতার কারণে নয়।​
  • হাকাম ইবনে হুযন (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুল (সা.) সবসময় এই লাঠি বা ধনুক হাতে নিয়েই খুতবা দিতেন — অসুস্থ থাকার কারণে দিতেন, এ কথাটি ভিত্তিহীন।​
  • খুতবায় হাত তুলে দোয়া করা বিধেয় নয় — কেবল তর্জনীর ইশারায় দোয়া করা সুন্নাত। বিশর বিন মারওয়ানকে হাত তুলে দোয়া করতে দেখে উমারাহ বিন রুওয়াইবাহ (রা.) সরাসরি নিন্দা করেছিলেন।​
  • একমাত্র বৃষ্টির দোয়া (ইস্তিস্কা) করার সময় ইমাম উভয় হাত তুলবেন এবং মুক্তাদীরাও তুলবেন — এটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম দ্বারা প্রমাণিত।​
  • মুক্তাদীদের জন্য খুতবায় হাত তুলে দোয়া করা বিধেয় নয় — ইমাম দোয়া করলে মুক্তাদীরা হাত না তুলেই চুপে চুপে “আমিন” বলবেন।​
  • খতিব দাঁড়িয়ে মুসল্লিদের দিকে মুখ করে থাকবেন এবং হাত স্বাভাবিকভাবে শরীরের পাশে বা লাঠিতে রাখবেন — কোনো অতিরিক্ত অঙ্গভঙ্গি করা শরিয়তসম্মত নয়।​
  • সালফে সালেহিনরা বলেন — খুতবায় হাত তুলে দোয়া করা একটি বিদআত, যা রাসুল (সা.)-এর আমলের পরিপন্থী।​

৪. খুতবার সময় জামাত কী করবে?

খুতবার সময় মুসল্লিদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা সহিহ হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।​

কাজ বিধান
মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব
কথা বলা হারাম
অন্যকে “চুপ করো” বলা নিজেও গুনাহগার হবেন
সুন্নত-নফল নামাজ পড়া নাজায়েজ
চাঁদার বাক্স চালানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ
মোবাইল ব্যবহার হারামের পর্যায়ে
আসলে বসে তাহিয়্যাতুল মসজিদ ওয়াজিব (আসার সাথে সাথে)


বিস্তারিত বিবরণ:

  • খুতবার সময় মুসল্লিদের জন্য সম্পূর্ণ নিরবতা পালন করা ওয়াজিব — এটি সহিহ বোখারির হাদিস (১/১২৮) থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত।​
  • যে ব্যক্তি খুতবার সময় পাশের মুসল্লিকে “চুপ করো” বললেন — সে নিজেও অনর্থক কাজ করল এবং তার জুমার পূর্ণ সওয়াব কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।​
  • খুতবা চলাকালে সুন্নত বা নফল নামাজ পড়া যাবে না — কেবল যে ব্যক্তি মসজিদে প্রথম প্রবেশ করেন, তিনি দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ে নেবেন।​
  • খুতবার সময় পানাহার করা যাবে না — ফাতাওয়ায়ে শামিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নামাজে যা হারাম, খুতবায়ও তা হারাম।​
  • ইমাম খুতবায় দোয়া করলে মুক্তাদীরা হাত না তুলেই মনে মনে বা নিম্নস্বরে “আমিন” বলবেন — এটাই সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি।​
  • কোনো জরুরী পরিস্থিতিতে — যেমন আগুন লাগা, বিপদের সংকেত বা ইমামের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া — সংক্ষিপ্ত কথা বলা জায়েজ।​
  • খুতবায় মুসল্লিদের উচিত কিবলামুখী হয়ে বসা নয়, বরং খতিবের দিকে মুখ করে বসা — এটি সাহাবিদের আমল থেকে প্রমাণিত।​

৫. খুতবায় কোন কোন দোয়া পড়তে হয়?

খুতবায় বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা আলাদা দোয়া পড়া হয় — কোনোটি ফরজ, কোনোটি ওয়াজিব এবং কোনোটি সুন্নাত।

দোয়ার ধরন আরবি / বাংলা উচ্চারণ কখন পড়বেন
তাহমিদ আলহামদুলিল্লাহ উভয় খুতবার শুরুতে
শাহাদাত আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ প্রথম খুতবায়
দরুদ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ উভয় খুতবায়
মুমিনদের দোয়া আল্লাহুম্মাগফির লিল মুমিনিন দ্বিতীয় খুতবায়
ইস্তিস্কার দোয়া আল্লাহুম্মাস্ক্বিনা… বৃষ্টির প্রয়োজনে


বিস্তারিত দোয়াসমূহ:

  • প্রথম দোয়া তাহমিদ: “আলহামদুলিল্লাহি নাহমাদুহু ওয়া নাস্তাইনুহু…” — এটি খুতবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি ছাড়া খুতবা অসম্পূর্ণ বলে গণ্য হয়।​
  • দ্বিতীয় দোয়া দরুদ: “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ” — এটি প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় খুতবায় পড়া সুন্নাত।​
  • তৃতীয় দোয়া উম্মতের জন্য: “আল্লাহুম্মাগফির লিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি ওয়াল মুসলিমিনা ওয়াল মুসলিমাত” — দ্বিতীয় খুতবায় পুরো পৃথিবীর মুসলিম নর-নারীর জন্য এই দোয়া করা সুন্নাত।​
  • চতুর্থ দোয়া বৃষ্টির জন্য: যখন অনাবৃষ্টি থাকে, তখন খুতবায় “আল্লাহুম্মাস্ক্বিনা গাইসান মুগিসান…” পড়া হয় এবং এই একটি দোয়াতে হাত তোলা জায়েজ।​
  • তাকওয়ার নসিহত-দোয়া: “আউসিকুম ওয়া নাফসি বিতাক্বওয়াল্লাহ” — আল্লাহকে ভয় করার নির্দেশনামূলক এই বাক্যটি খুতবায় উল্লেখ করা সুন্নাত।​
  • খুতবায় হাত তুলে দোয়া করা যাবে না — কেবল তর্জনীর ইশারায় দোয়া করা বিধেয়, কারণ এটিই রাসুল (সা.)-এর আমল।​
  • দুই খুতবার মধ্যবর্তী বসার সময়ে কোনো দোয়া বা যিকির নেই — এমনকি সূরা ইখলাস পড়াও এই সময় বিদআত বলে গণ্য করা হয়েছে।​

 

 

About Author
মনীষা মুখার্জী