Yuvasathi Prakalpa Disqualification Rules: বেকারত্ব বর্তমান সময়ে যুবক-যুবতীদের কাছে এক বড় অভিশাপ। পড়াশোনা শেষ করেও যখন চাকরির দেখা মেলে না, তখন হতাশা আসাটাই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে রাজ্য সরকার নিয়ে এসেছে যুবসাথী প্রকল্প। সোজা কথায় বলতে গেলে, এটি বেকার ছেলেমেয়েদের পকেট খরচা বা হাতখরচের জন্য সরকারের দেওয়া এক আর্থিক সহায়তা। মাসে ১৫০০ টাকা করে পাওয়ার এই সুযোগ অনেকেই হাতছাড়া করতে চান না।
কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। অনেকেই উৎসাহ নিয়ে আবেদন করেন ঠিকই, কিন্তু শেষমেশ দেখেন তাদের নাম বাতিল হয়ে গেছে। কেন এমন হয়? আসল কারণ হলো তথ্যের অভাব। সরকার পরিষ্কার বলে দিয়েছে, আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধা আগে থেকেই ভোগ করেন, তবে এই প্রকল্পে আপনি ব্রাত্য। যুবসাথী প্রকল্প শুধুমাত্র তাদের জন্যই, যারা সত্যিই বেকার এবং অন্য কোনো সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল নন। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা খুঁটিয়ে দেখব, ঠিক কোন কোন ভুলের জন্য আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে এবং কীভাবে সঠিক উপায়ে আবেদন করলে টাকা ঢোকার রাস্তা পরিষ্কার হবে।
যুবসাথী প্রকল্প আসলে কী? (What is Yuvasathi Prakalpa?)
যুবসাথী প্রকল্প বা যুবশ্রী প্রকল্প হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শ্রম দপ্তরের অধীনে পরিচালিত একটি উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের নথিভুক্ত বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক আর্থিক সাহায্য প্রদান করা। তবে শুধু টাকাই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো বেকারদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। যাতে চাকরির পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ বা ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার খরচটুকু অন্তত তারা নিজেরা চালাতে পারেন। এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম নথিভুক্ত করার পর, যোগ্যতা অনুযায়ী উপভোক্তাদের বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু মনে রাখবেন, এটি কোনো স্থায়ী রোজগার নয়, বরং সাময়িক সহায়তা।
যুবসাথী প্রকল্পের প্রাথমিক ধারণা
| বিষয় | বিবরণ |
| প্রকল্পের নাম | যুবসাথী (যুবশ্রী) প্রকল্প |
| পরিচালনাকারী | শ্রম দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| মাসিক ভাতা | ১,৫০০ টাকা |
| মূল সুবিধা | বেকার ভাতা ও স্কিল ট্রেনিং |
| আবেদনের মাধ্যম | অনলাইন (এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংক পোর্টাল) |
কোন কোন সরকারি সুবিধা পেলে আবেদন বাতিল হবে? (Disqualification Criteria)
অনেকেই ভাবেন, সরকার টাকা দিচ্ছে, তাই আবেদন করে দিলেই হলো। কিন্তু ব্যাপারটা এত সহজ নয়। যুবসাথী প্রকল্প থেকে টাকা পেতে গেলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি অন্য কোনো সরকারি উৎস থেকে নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন না। সরকার চায় এই টাকাটা একদম নিডি বা প্রয়োজন যাদের বেশি, তাদের কাছেই পৌঁছাক।
অন্যান্য ভাতার সঙ্গে সংঘাত
যদি আপনি বা আপনার পরিবার এমন কোনো প্রকল্পের সুবিধা পান যেখানে সরাসরি রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার থেকে মাসিক টাকা দেওয়া হয়, তাহলে আপনি এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য। যেমন ধরুন, কেউ যদি বার্ধক্য ভাতা বা বিধবা ভাতার আওতায় থাকেন (যদিও বয়সের কারণে বেকার ভাতার প্রার্থীরা এই ক্যাটাগরিতে পড়েন না, তবুও নিয়মটা জানা জরুরি), তবে তারা এই সুবিধা পাবেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছাত্রাবস্থা। আপনি যদি স্টুডেন্ট হন এবং কোনো স্কলারশিপ পান, তবে বেকার ভাতা পাবেন না।
যে সুবিধাগুলি থাকলে আবেদন বাতিল হবে
| সরকারি সুবিধা | বাতিলের কারণ |
| স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ | ছাত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, বেকার হিসেবে নয় |
| কন্যাশ্রী (K2) | এটিও ছাত্রীদের জন্য, তাই বেকার ভাতার যোগ্য নন |
| ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ | সংখ্যালঘু ছাত্রদের স্কলারশিপ থাকলে আবেদন গ্রাহ্য নয় |
| সামাজিক সুরক্ষা যোজনা | অন্য কোনো পেশায় যুক্ত থাকলে এটি পাওয়া যায়, তাই বেকার বলা যাবে না |
ছাত্র-ছাত্রীরা কি যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে পারবে? (Can Students Apply?)
এটি একটি খুবই বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন। অনেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেকার ভাতার জন্য আবেদন করতে চান। কিন্তু সরকারের নিয়ম এখানে খুব কড়া। আপনাকে বুঝতে হবে, “বেকার” এবং “ছাত্র” – এই দুটি তকমা সরকারি খাতায় আলাদা।
রেগুলার কোর্স বনাম ডিসটেন্স লার্নিং
আপনি যদি কোনো স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে “রেগুলার” বা নিয়মিত ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করেন, তবে আপনি যুবসাথী প্রকল্প-এর টাকা পাবেন না। কারণ সরকার ধরে নেয়, যারা পড়াশোনা করছেন তাদের জন্য স্কলারশিপ বা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা আছে। বেকার ভাতা শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা পড়াশোনা শেষ করে বসে আছেন এবং চাকরির চেষ্টা করছেন। তবে, কেউ যদি ডিসটেন্স বা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেন এবং কোথাও চাকরি না করেন, সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম শিথিল হতে পারে, তবে তা নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভরশীল।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিয়মাবলী
| ছাত্রের ধরন | আবেদনের যোগ্যতা | মন্তব্য |
| স্কুল পড়ুয়া | অযোগ্য | ১৮ বছরের নিচে হলে এমনিতেই অযোগ্য |
| কলেজ (রেগুলার) | অযোগ্য | স্কলারশিপের সুযোগ থাকে |
| বিশ্ববিদ্যালয় (রেগুলার) | অযোগ্য | পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন করা যাবে না |
| পড়াশোনা শেষ করা প্রার্থী | যোগ্য | যদি অন্য কোনো কাজ না করেন |
যুবসাথী প্রকল্পে আবেদনের সঠিক যোগ্যতা (Eligibility Criteria)
আবেদন করার আগে বা ফর্ম ফিলাপ করার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ। হুজুগে মেতে আবেদন করলেন আর পরে বাতিল হলো, এতে শুধুই সময় নষ্ট। যুবসাথী প্রকল্প-এ নাম তোলার জন্য বেশ কিছু নির্দিষ্ট মাপকাঠি আছে যা আপনাকে পূরণ করতেই হবে।
বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা
প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ভিন রাজ্যের কেউ এখানে আবেদন করতে পারবেন না। বয়সের ক্ষেত্রে, আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাশ হতে হবে। অর্থাৎ, খুব উচ্চশিক্ষিত না হলেও আপনি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন, যদি আপনি বেকার হন।
যোগ্যতার চেকলিস্ট
| মাপকাঠি | আবশ্যিক শর্ত |
| বাসস্থান | পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে |
| বয়সসীমা | ১৮ থেকে ৪৫ বছর |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাশ |
| কর্মসংস্থান | সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে (সরকারি/বেসরকারি) |
| এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংক | নাম নথিভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক |
পারিবারিক আয়ের সীমা কত হতে হবে? (Income Limit Details)
শুধু বেকার হলেই হবে না, আপনার আর্থিক অবস্থাও বিচার করা হবে। সরকার দেখতে চায় যে এই ১৫০০ টাকা আপনার সত্যিই দরকার কিনা। তাই পারিবারিক আয়ের একটা নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
আয়ের প্রমাণপত্র দাখিল
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আপনার পরিবারের বাৎসরিক আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। সাধারণত, পরিবারের কেউ যদি সরকারি চাকরি করেন, তবে সেই পরিবারের বেকার সদস্যরা এই সুবিধা পান না। আবেদন করার সময় বা পরবর্তীতে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের সময় আপনাকে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যালিটি থেকে আয়ের শংসাপত্র জমা দিতে হতে পারে। ভুল তথ্য দিলে শুধু আবেদন বাতিল হবে না, আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
আয়ের শর্তাবলী
| বিষয় | শর্ত |
| পারিবারিক আয় | বাৎসরিক আয় খুব কম হতে হবে (নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে) |
| পরিবারের চাকরি | বাবা/মা/স্বামী/স্ত্রী সরকারি চাকরিতে থাকলে অযোগ্য |
| প্রমাণপত্র | বিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO) অফিস অনুমোদিত ইনকাম সার্টিফিকেট |
কীভাবে আবেদন করবেন? ধাপে ধাপে নির্দেশিকা (Application Process)
এখন প্রশ্ন হলো, সব শর্ত মিললে আবেদন করবেন কীভাবে? প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি অনলাইন। তবে ছোটখাটো ভুলের জন্য ফর্ম বাতিল হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়াই ভালো। যুবসাথী প্রকল্প বা এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম তোলার প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো।
অনলাইন ফর্ম ফিলাপের খুঁটিনাটি
প্রথমে আপনাকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে ‘New Enrollment’ অপশনে ক্লিক করে নিজের যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। নাম, বাবার নাম, জন্ম তারিখ, কাস্ট, ধর্ম, এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক তথ্য দিন। মনে রাখবেন, এখানে দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আপনার প্রোফাইল তৈরি হবে।
আবেদন পদ্ধতি
| ধাপ | করণীয় কাজ |
| ১. ওয়েবসাইট ভিজিট | employmentbankwb.gov.in -এ যান |
| ২. এনরোলমেন্ট | ‘New Job Seeker’ অপশনে ক্লিক করুন |
| ৩. তথ্য প্রদান | ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য সঠিক ভাবে লিখুন |
| ৪. ডকুমেন্ট আপলোড | ছবি ও সই স্ক্যান করে আপলোড করুন |
| ৫. সাবমিট ও প্রিন্ট | ফর্ম সাবমিট করে একনলেজমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট নিন |
প্রয়োজনীয় নথিপত্র: কী কী হাতের কাছে রাখবেন? (Required Documents)
আবেদন করতে বসার আগে সব কাগজপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখা উচিত। সার্ভারের সমস্যা বা সময়ের অভাবে তাড়াহুড়ো করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যুবসাথী প্রকল্প-এর জন্য খুব সাধারণ কিছু ডকুমেন্ট লাগে।
পরিচয় ও যোগ্যতার প্রমাণ
আপনার আইডেন্টিটি প্রুফ হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা প্যান কার্ডের প্রয়োজন হবে। এছাড়া, বয়সের প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বা জন্ম শংসাপত্র লাগবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট বা সার্টিফিকেটগুলোও স্ক্যান করে রাখতে হবে। কাস্ট সার্টিফিকেট থাকলে সেটাও হাতের কাছে রাখুন, কারণ অনেক সময় সংরক্ষিত শ্রেণিদের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকে।
নথিপত্র তালিকা
| নথির ধরন | উদাহরণ |
| পরিচয়পত্র | আধার কার্ড / ভোটার কার্ড / প্যান কার্ড / পাসপোর্ট |
| বয়সের প্রমাণ | মাধ্যমিকের অ্যাডমিট / বার্থ সার্টিফিকেট |
| শিক্ষাগত প্রমাণ | শেষ পরীক্ষার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট |
| ঠিকানার প্রমাণ | রেশন কার্ড / আধার কার্ড |
| অন্যান্য | পাসপোর্ট সাইজ ছবি, কাস্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে) |
আবেদনের পর কী করতে হবে? (Next Steps After Applying)
অনলাইনে ফর্ম সাবমিট করেই ভাববেন না কাজ শেষ। আসল কাজ শুরু হয় এর পর। অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়ার পর আপনি একটি ‘Temporary Enrollment Number’ পাবেন। এটি কিন্তু চূড়ান্ত নয়।
ভ্যালিডেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া
অনলাইন আবেদনের ৬০ দিনের মধ্যে (সাধারণত) আপনাকে নিকটবর্তী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে যেতে হবে। সাথে নিয়ে যেতে হবে সমস্ত অরিজিনাল ডকুমেন্ট এবং একনলেজমেন্ট স্লিপ। সেখানে অফিসাররা আপনার ডকুমেন্ট যাচাই করবেন। সব ঠিক থাকলে তবেই আপনার নাম পার্মানেন্ট বা স্থায়ীভাবে নথিভুক্ত হবে এবং আপনি একটি ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পাবেন। এই ভেরিফিকেশন না করালে আপনার অনলাইন আবেদনটি আপনা-আপনি বাতিল হয়ে যাবে।
ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
| সময়সীমা | কোথায় যাবেন | কী নিয়ে যাবেন |
| ৬০ দিনের মধ্যে | নিকটবর্তী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিস | অনলাইন প্রিন্ট কপি ও অরিজিনাল ডকুমেন্টস |
| উদ্দেশ্য | ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন | তথ্য যাচাই করে পার্মানেন্ট নম্বর পাওয়া |
Annexure-III জমা দেওয়া কেন জরুরি? (Importance of Annexure-III)
যারা ইতিমধ্যে যুবসাথী প্রকল্প বা যুবশ্রীর টাকা পাচ্ছেন বা তালিকায় নাম উঠেছে, তাদের জন্য ‘Annexure-III’ বা অ্যানেক্সার-৩ ফর্মটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হলো এক ধরনের স্ব-ঘোষণা পত্র বা সেফ ডিক্লারেশন।
টাকা চালু রাখার চাবিকাঠি
সরকার নিয়মিত চেক করে যে আপনি এখনো বেকার আছেন কিনা। প্রতি ছয় মাস অন্তর বা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এই ফর্মটি জমা দিতে হয়। এতে আপনাকে জানাতে হয় যে আপনি এখনো কোনো চাকরি পাননি এবং সরকারি ভাতার প্রয়োজন আপনার আছে। যদি কেউ এই ফর্ম সঠিক সময়ে জমা না দেন, তবে ধরে নেওয়া হয় তিনি চাকরি পেয়ে গেছেন বা তার আর টাকার দরকার নেই। ফলে তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
Annexure-III জমা দেওয়ার তথ্য
| ফর্মের নাম | উদ্দেশ্য | কখন জমা দিতে হয় |
| Annexure-III | বেকারত্বের প্রমাণ | সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী (সাধারণত বছরে ১-২ বার) |
| ফলাফল | টাকা চালু থাকা | জমা না দিলে টাকা বন্ধ হয়ে যাবে |
সাধারণ কিছু ভুল যা প্রার্থীরা করে থাকেন (Common Mistakes)
অনেকেই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র অসাবধানতার কারণে বাদ পড়ে যান। আবেদন করার সময় ছোটখাটো বিষয়গুলো নজরে রাখা দরকার। বিশেষ করে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি।
যোগাযোগের মাধ্যম সচল রাখা
ফর্ম ফিলাপের সময় যে মোবাইল নম্বরটি দেবেন, সেটি যেন আপনার নিজের হয় এবং চালু থাকে। সরকার সমস্ত আপডেট এসএমএস-এর মাধ্যমে পাঠায়। অনেকে সাইবার ক্যাফের দাদার নম্বর দিয়ে আসেন, ফলে জরুরি মেসেজ মিস করেন। এছাড়া, নামের বানান, জন্ম তারিখ বা মার্কসের শতাংশ ভুল লিখলে ভেরিফিকেশনের সময় সমস্যা হয়।
ভুল ও প্রতিকার
| সাধারণ ভুল | সঠিক পদ্ধতি |
| ভুল মোবাইল নম্বর | নিজস্ব ও সচল নম্বর দিন |
| বানান ভুল | ডকুমেন্ট দেখে হুবহু টাইপ করুন |
| ডকুমেন্ট আপলোড | পরিষ্কার ও নির্দেশিত সাইজের ছবি আপলোড করুন |
| অফিসে না যাওয়া | ৬০ দিনের মধ্যে ভেরিফিকেশন অবশ্যই করান |
টেকনিক্যাল সমস্যা ও সমাধান (Technical Issues)
মাঝে মাঝে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইট স্লো থাকে বা খুলতে চায় না। বিশেষ করে যখন নতুন লিস্ট বের হয় বা Annexure-III জমা দেওয়ার সময় আসে। তখন ঘাবড়ে না গিয়ে ধৈর্য ধরা উচিত।
পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করবেন?
অনেক সময় প্রার্থীরা তাদের ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড ভুলে যান। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে ‘Forgot Password’ অপশন ব্যবহার করে তা পুনরুদ্ধার করা যায়। তবে এর জন্য আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরটি কাছে থাকা দরকার। যদি তাতেও কাজ না হয়, তবে সরাসরি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করাই ভালো।
সমস্যা সমাধান
| সমস্যা | সমাধান |
| সার্ভার ডাউন | গভীর রাতে বা ভোরের দিকে চেষ্টা করুন |
| লগইন সমস্যা | পাসওয়ার্ড রিসেট করুন |
| প্রিন্ট হারিয়ে গেলে | লগইন করে ডুপ্লিকেট কপি বের করুন |
যুবসাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও সুযোগ (Future Prospects)
শুধুমাত্র ১৫০০ টাকা ভাতা পাওয়াই এই প্রকল্পের একমাত্র লাভ নয়। এমপ্লয়মেন্ট ব্যাংকে নাম থাকলে আপনি সরকারের বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার পাবেন। এই প্রশিক্ষণগুলো আপনাকে ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া, রাজ্য সরকারের গ্রুপ-ডি বা অন্যান্য কিছু পদে নিয়োগের সময় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের নামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই যুবসাথী প্রকল্প-কে শুধু ভাতার স্কিম হিসেবে না দেখে ক্যারিয়ার গড়ার একটি ধাপ হিসেবে দেখা উচিত।
অতিরিক্ত সুবিধাসমূহ
| সুবিধা | বিবরণ |
| প্রশিক্ষণ | বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ |
| ঋণ সুবিধা | ব্যবসা শুরুর জন্য সহজ শর্তে ঋণ (ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড) |
| চাকরি মেলা | বিভিন্ন জব ফেয়ারে অংশগ্রহণের সুযোগ |
শেষ কথা
পরিশেষে একটা কথাই বলবো, যুবসাথী প্রকল্প বা যুবশ্রী প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলে সততা বজায় রাখা জরুরি। আপনি যদি সত্যিই বেকার হন এবং লড়াই করছেন, তবে এই টাকা আপনার হকের। কিন্তু যদি আপনি ইতিমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি সুবিধা, যেমন স্টুডেন্ট স্কলারশিপ বা অন্য ভাতা পেয়ে থাকেন, তবে লোভে পড়ে আবেদন করবেন না। এতে আপনার আবেদন তো বাতিল হবেই, উপরন্তু ভবিষ্যতে অন্য কোনো সরকারি প্রকল্পে আবেদন করতে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন।
সরকার চাইছেন সঠিক মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছাক। তাই আবেদনের আগে সব নিয়মকানুন ভালো করে পড়ে নিন। আপনার সামান্য অসাবধানতা বা ভুল তথ্যের জন্য ফর্মটি বাতিল হলে কষ্টটা আপনারই হবে। আশা করি, ওপরের আলোচনা থেকে আপনি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন যে কারা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য আর কারা নয়। সঠিক পথে চলুন, সরকারি সুবিধার সদ্ব্যবহার করুন।











