Top 10 Richest People In India 2026

আদানি-আম্বানির পর কারা? এক নজরে ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির সম্পূর্ণ ছবি

Top 10 Richest People In India: ভারতের সবচেয়ে ধনী মানুষের কথা উঠলে বেশিরভাগের মাথায় প্রথমেই দু’টো নাম আসে—মুকেশ আম্বানি আর গৌতম আদানি। কিন্তু একটু থামুন। আসল প্রশ্নটা তো এখানেই: এই দু’জনের পর কারা আছেন দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির তালিকায়?…

avatar
Written By : Riddhi Datta
Updated Now: April 18, 2026 9:40 PM
বিজ্ঞাপন

Top 10 Richest People In India: ভারতের সবচেয়ে ধনী মানুষের কথা উঠলে বেশিরভাগের মাথায় প্রথমেই দু’টো নাম আসে—মুকেশ আম্বানি আর গৌতম আদানি। কিন্তু একটু থামুন। আসল প্রশ্নটা তো এখানেই: এই দু’জনের পর কারা আছেন দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির তালিকায়? আর তার থেকেও বড় কথা, এই তালিকা কি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে? একেবারেই না। Forbes (ফোর্বস)-এর বার্ষিক তালিকা আর Bloomberg Billionaires Index (ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স)-এর Real-Time Ranking (রিয়েল-টাইম র‌্যাঙ্কিং) এক নয়, তাই দিন-তারিখ ভেদে শীর্ষস্থান বদলাতেও পারে। ১৭ এপ্রিল ২০২৬-এর Bloomberg আপডেটে গৌতম আদানি মুকেশ আম্বানিকে টপকে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হন; কিন্তু মার্চ ২০২৬-এ Forbes-এর ভারতীয় বিলিয়নেয়ার তালিকায় মুকেশ আম্বানিই ছিলেন ভারতের এক নম্বরে।

তাই এই প্রতিবেদনে আমরা দু’টো জিনিস খুব পরিষ্কার রাখছি। প্রথমত, সাম্প্রতিক আলোচনায় কেন “আদানি-আম্বানি” একসঙ্গে শিরোনামে আসছেন। দ্বিতীয়ত, Forbes World’s Billionaires 2026 (ফোর্বস ওয়ার্ল্ডস বিলিয়নেয়ার্স ২০২৬)-কে ভিত্তি ধরে ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির পূর্ণ তালিকা, তাঁদের সম্পদের উৎস, আর কোন কোন খাত ভারতীয় সম্পদ-মানচিত্রকে চালাচ্ছে তার সহজ ব্যাখ্যা। সোজা কথায়, এটা শুধু নামের তালিকা নয়—এটা ভারতের Wealth Map (সম্পদ-মানচিত্র)-এর একটা পাঠ।

এক নজরে: কেন আজ “আদানি-আম্বানি” এত আলোচনায়?

বিষয়টা হল, ধনীদের তালিকা নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ সাধারণত তখনই বাড়ে, যখন শীর্ষস্থান বদলে যায়। ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল Bloomberg Billionaires Index অনুযায়ী গৌতম আদানির সম্পদ বেড়ে ৯২.৬ বিলিয়ন ডলার হয় এবং তিনি সামান্য ব্যবধানে মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে যান। অন্যদিকে মুকেশ আম্বানির সম্পদ ওই সময়ে ছিল ৯০.৮ বিলিয়ন ডলার। তাই “প্রথম দুয়ে আদানি-আম্বানি” কথাটা একেবারে হাওয়ায় ভাসা নয়; বরং সাম্প্রতিক Real-Time Wealth Movement (রিয়েল-টাইম সম্পদ ওঠানামা)-এরই প্রতিফলন।

তবে এখানে একটা সতর্কতা জরুরি। আপনি যদি বার্ষিক তালিকা ধরেন, তাহলে ছবি অন্যরকম হতে পারে। Forbes-এর মার্চ ২০২৬-র তালিকায় মুকেশ আম্বানি ছিলেন ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, গৌতম আদানি দ্বিতীয়। অর্থাৎ, “কে এক নম্বর”—এই প্রশ্নের উত্তর অনেক সময় নির্ভর করে আপনি কোন উৎস, কোন Cut-Off Date (কাট-অফ তারিখ), আর কোন Ranking Method (র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতি) ধরছেন তার ওপর।

Forbes অনুযায়ী ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তি কারা?

মার্চ ২০২৬-এর Forbes-ভিত্তিক তালিকা ধরে ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির নাম হল—মুকেশ আম্বানি, গৌতম আদানি, সাভিত্রী জিন্দাল ও পরিবার, শিব নাদার, লক্ষ্মী মিত্তল, দিলীপ সাংভি, কুমার মঙ্গলম বিড়লা, সাইরাস পুনাওয়ালা, রাধাকিশন দামানি এবং উদয় কোটাক। বিভিন্ন বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের Forbes-ভিত্তিক সংকলনে এই Top 10 নামগুলোই বারবার উঠে এসেছে।

১) মুকেশ আম্বানি

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানির সম্পদের ভিত্তি Diversified Business (বহুমুখী ব্যবসা)—Oil And Gas (তেল ও গ্যাস), Telecom (টেলিকম), Retail (খুচরো ব্যবসা), এবং নতুন Energy (জ্বালানি) খাত। Forbes-এর ২০২৬ তালিকায় তিনি ভারতের এক নম্বরে ছিলেন, আর Financial Express-এর সংকলন বলছে, তাঁর সম্পদ প্রায় ৯৭.৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, শুধু পুরনো Petrochemicals (পেট্রোকেমিক্যাল) নয়, Digital Consumer Ecosystem (ডিজিটাল গ্রাহক-পরিবেশ) তৈরি করেও তিনি শীর্ষে থেকেছেন।

২) গৌতম আদানি

গৌতম আদানির শক্তি Infrastructure (পরিকাঠামো) এবং Core Assets (মূল সম্পদ)-এ। Port (বন্দর), Airport (বিমানবন্দর), Energy (জ্বালানি), Transmission (বিদ্যুৎ সঞ্চালন), Mining (খনি), Cement (সিমেন্ট)—সব মিলিয়ে তাঁর সাম্রাজ্য। Bloomberg-এর সাম্প্রতিক আপডেটে তিনি এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। ফলে, Real-Time Ranking-এ আদানি এখন শীর্ষে থাকলেও, বার্ষিক Forbes তালিকায় তাঁকে দ্বিতীয় স্থানে দেখা গেছে। এই দ্বৈত ছবি বুঝতে পারাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

৩) সাভিত্রী জিন্দাল ও পরিবার

ভারতের ধনীতমদের তালিকায় সাভিত্রী জিন্দালের অবস্থান খুব তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম। Jindal Group (জিন্দাল গোষ্ঠী)-এর Metals And Mining (ধাতু ও খনি) ব্যবসা তাঁর সম্পদের মূল ভিত্তি। বড় কথা, সাম্প্রতিক Forbes India কভারেজেও তিনি Top 10-এর একমাত্র মহিলা হিসেবে উঠে এসেছেন।

৪) শিব নাদার

Technology (প্রযুক্তি) খাত থেকে ভারতের ধনীতমদের তালিকায় যাঁরা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন, শিব নাদার তাঁদের মধ্যে প্রথম সারির নাম। HCL (এইচসিএল)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি ভারতীয় IT Wealth Creation (আইটি-নির্ভর সম্পদ সৃষ্টির) এক বড় প্রতীক। এটাই দেখায়, ভারতের ধনকুবের মানচিত্র শুধু পুরনো শিল্পগোষ্ঠীর দখলে নেই; Technology-driven Fortune (প্রযুক্তিচালিত সম্পদ)-এরও বড় জায়গা আছে।

৫) লক্ষ্মী মিত্তল

Global Steel (বিশ্ব ইস্পাত) শিল্পে লক্ষ্মী মিত্তলের প্রভাব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর সম্পদের ভিত্তি Steel And Mining (ইস্পাত ও খনি) খাত। মজার ব্যাপার হল, ২০২৬-এর কিছু বিশ্লেষণে তাঁকেই সবচেয়ে বড় Wealth Gainer (সম্পদ বৃদ্ধি-প্রাপ্ত)দের একজন হিসেবে দেখা হয়েছে। এর মানে, কম চোখে পড়লেও তাঁর ব্যবসায়িক পুনরুত্থান জোরালো।

৬) দিলীপ সাংভি

Sun Pharma (সান ফার্মা)-র প্রতিষ্ঠাতা দিলীপ সাংভি ভারতীয় Pharma Wealth (ফার্মা-ভিত্তিক সম্পদ)-এর সবচেয়ে বড় মুখগুলোর একজন। Healthcare (স্বাস্থ্যসেবা) এবং Pharmaceuticals (ওষুধ শিল্প)-এ ভারত যে বিশ্বস্তরীয় অবস্থান গড়েছে, দিলীপ সাংভির উপস্থিতি সেই গল্পটাই বলে। তাঁর জায়গা Top 10-এ থাকা মোটেই কাকতালীয় নয়।

৭) কুমার মঙ্গলম বিড়লা

Aditya Birla Group (আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী)-এর ব্যবসা এতটাই বিস্তৃত যে এক কথায় তার সারমর্ম ধরা কঠিন—Metals (ধাতু), Cement (সিমেন্ট), Telecom (টেলিকম), Financial Services (আর্থিক পরিষেবা), Retail (খুচরো ব্যবসা) সবই আছে। তাই কুমার মঙ্গলম বিড়লার সম্পদ আসলে একক কোনও ব্যবসার গল্প নয়; বরং Scale, Legacy এবং Diversification (বৈচিত্র্য)-এর গল্প।

৮) সাইরাস পুনাওয়ালা

ভারতে Vaccine Business (টিকা-নির্ভর ব্যবসা) নিয়ে কথা বলতে গেলে সাইরাস পুনাওয়ালাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। Serum Institute Of India (সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া)-র মাধ্যমে তিনি Healthcare Manufacturing (স্বাস্থ্যসেবা উৎপাদন)-কে এমন স্তরে নিয়ে গিয়েছেন, যা শুধু ব্যবসায়িক দিক থেকে নয়, জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক। Top 10-এ তাঁর উপস্থিতি দেখায়, স্বাস্থ্যখাতও ভারতের বড় সম্পদ-স্রষ্টা।

৯) রাধাকিশন দামানি

Retail Success Story (রিটেল সাফল্যের গল্প) বলতে যা বোঝায়, রাধাকিশন দামানি তার নিখুঁত উদাহরণ। D-Mart (ডি-মার্ট)-এর মাধ্যমে তিনি ভারতীয় Organized Retail (সংগঠিত খুচরো বাজার)-এ এক আলাদা মডেল তৈরি করেছেন। চকচকে প্রচার নয়, বরং Efficiency (কার্যকারিতা), Value Pricing (কম দামে মূল্য), আর Disciplined Expansion (নিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ)—এই ত্রয়ীতে দাঁড়িয়ে তাঁর সম্পদ বেড়েছে।

১০) উদয় কোটাক

এবার আসি তালিকার নতুন চমকে। Indian Express-এর মতে, ২০২৬-এর Forbes-ভিত্তিক Top 10-এ নতুন এন্ট্রি হল উদয় কোটাক, আর তাঁর প্রবেশের ফলে Kushal Pal Singh (কুশাল পাল সিং) ১২ নম্বরে নেমে যান। Finance And Investments (অর্থ ও বিনিয়োগ)-কেন্দ্রিক সম্পদ যে এখনও ভারতীয় ধনীতমদের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে, উদয় কোটাক তারই প্রমাণ।

এই তালিকা আমাদের কী বলে?

একটু খেয়াল করলে দেখবেন, ভারতের ধনীতম ১০ জনের তালিকা আসলে দেশের অর্থনীতির একটা সারাংশ। এখানে আছে Energy (জ্বালানি), Infrastructure (পরিকাঠামো), Technology (প্রযুক্তি), Pharma (ফার্মা), Retail (রিটেল), Finance (অর্থ)—অর্থাৎ ভারতের বৃদ্ধির বড় বড় ইঞ্জিনগুলো। এটা শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের তালিকা নয়; বরং কোন খাত এখন শক্তিশালী, কোন Sector (খাত) বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পাচ্ছে, তারও সূচক।

আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। এই Top 10-এ বহু পুরনো Business House (ব্যবসায়িক গোষ্ঠী) যেমন রয়েছে, তেমনই নতুন অর্থনীতির প্রতিনিধিও আছে। অর্থাৎ, ভারতীয় সম্পদের ছবি একমুখী নয়। পুরনো শিল্পভিত্তিক ব্যবসা এখনও প্রবল, কিন্তু Technology, Retail এবং Financial Services-ও সমান জোরে জায়গা নিচ্ছে। সহজ ভাষায়, ভারতের Billionaire Map (বিলিয়নেয়ার মানচিত্র) বদলাচ্ছে—তবে ধীরে, স্তর ধরে।

র‌্যাঙ্কিং বারবার বদলে যায় কেন?

এই প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। অনেকে ভাবেন, একবার কেউ এক নম্বরে উঠে গেলে তিনি যেন স্থায়ীভাবেই সেখানেই থাকবেন। বাস্তবে তা হয় না। কারণ Billionaire Ranking (ধনকুবের র‌্যাঙ্কিং) অনেকটাই Listed Company Shares (তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার)-এর বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। শেয়ারদর উঠলেই সম্পদ বাড়ে, নামলেই কমে। তাই Bloomberg-এর Real-Time Index-এ একদিন যা দেখা যাচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ পর তার ছবি আলাদা হতে পারে।

তার সঙ্গে আছে Currency Movement (মুদ্রার ওঠানামা), Debt Perception (ঋণ নিয়ে বাজারের ধারণা), নতুন Listing (নতুন শেয়ার বাজারে আসা), এবং Sector Sentiment (খাতভিত্তিক বাজার-মনোভাব)। যেমন Infrastructure Rally (পরিকাঠামো খাতের উত্থান) হলে আদানি গোষ্ঠী সুবিধা পেতে পারে, আবার Consumer বা Telecom Narrative (গ্রাহক বা টেলিকম-কেন্দ্রিক বাজার-গল্প) জোরালো হলে আম্বানির সম্পদ দ্রুত বাড়তে পারে। তাই র‌্যাঙ্কিং শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতার বিষয় নয়; এটা বাজারেরও গল্প।

ভারতের অর্থনীতির জন্য এর মানে কী?

দেশের শীর্ষ ধনীদের তালিকা দেখে একটা কথা স্পষ্ট—ভারত এখন বিশাল মাত্রায় সম্পদ তৈরি করছে। Forbes World’s Billionaires 2026 অনুযায়ী, ভারতে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে এবং দেশটি বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্পদ সৃষ্টির বড় কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এর মানে এই নয় যে সাধারণ মানুষের জীবন আর ধনকুবেরদের সম্পদ এক সোজা লাইনে চলে; তবে এটাও সত্যি যে বড় শিল্পগোষ্ঠীর প্রসার, বাজারমূল্য বৃদ্ধি, এবং শিল্পখাতের সম্প্রসারণ ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাহিনিরই অংশ।

তবে হ্যাঁ, শুধু ধনীর তালিকা দেখলেই অর্থনীতির স্বাস্থ্য মাপা যায় না। অসমতা, কর্মসংস্থান, আয়বৃদ্ধি, গ্রামীণ চাহিদা—এসবও সমান জরুরি। কিন্তু ধনীতমদের তালিকা আমাদের অন্তত এটা বোঝায় যে, কোন শিল্পখাতগুলো আজ ভারতের পুঁজিবাজার এবং কর্পোরেট ক্ষমতার কেন্দ্রে আছে। আর সেই কারণেই এই তালিকা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কখনও কমে না।

এই বিষয়টা যদি আপনার আগ্রহের হয়, তাহলে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকা থেকে মুকেশ আম্বানির সরে যাওয়ার খবর পড়ে দেখতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতের বড় অর্থনৈতিক গল্প বুঝতে ভারতকে ঘিরে Manufacturing Growth (উৎপাদন বৃদ্ধির) বিশ্লেষণও কাজে লাগবে।

FAQ: পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন

ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এখন কে?

এই প্রশ্নের উত্তর উৎসভেদে বদলাতে পারে। Bloomberg Billionaires Index-এর ১৭ এপ্রিল ২০২৬ আপডেট অনুযায়ী গৌতম আদানি মুকেশ আম্বানিকে টপকে এগিয়ে যান। তবে Forbes-এর মার্চ ২০২৬ তালিকায় ভারতের এক নম্বরে ছিলেন মুকেশ আম্বানি। তাই “এখন” বলতে আপনি Real-Time Index (রিয়েল-টাইম সূচক) ধরছেন, না বার্ষিক তালিকা ধরছেন—সেটা আগে ঠিক করতে হবে।

ভারতের ধনীতম ১০ জনের তালিকায় একমাত্র মহিলা কে?

সাম্প্রতিক Forbes India কভারেজ অনুযায়ী Top 10-এর একমাত্র মহিলা হলেন সাভিত্রী জিন্দাল। তাঁর সম্পদের মূল উৎস Jindal Group-এর Metals And Mining Business (ধাতু ও খনি ব্যবসা)। ভারতীয় কর্পোরেট পরিসরে তাঁর অবস্থান শুধু প্রতীকী নয়, আর্থিক দিক থেকেও অত্যন্ত শক্তিশালী।

উদয় কোটাক কেন এই তালিকায় বিশেষভাবে আলোচনায়?

কারণ ২০২৬-এর Forbes-ভিত্তিক Top 10-এ তিনি নতুন এন্ট্রি হিসেবে উঠে এসেছেন। Indian Express-এর সংকলন বলছে, তাঁর আগমনে Kushal Pal Singh তালিকার বাইরে, অর্থাৎ ১২ নম্বরে নেমে যান। এর ফলে বোঝা যাচ্ছে, Finance Sector (আর্থিক খাত)-ভিত্তিক সম্পদও আবার শীর্ষ পর্যায়ে ফিরে আসছে।

ধনীদের তালিকা কি শুধু শেয়ারবাজারের ওপর নির্ভর করে?

পুরোটাই নয়, কিন্তু বড় অংশে হ্যাঁ। তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারদর, মুদ্রার মান, বাজারের আস্থা, ঋণ, নতুন ব্যবসা, এবং কখনও পারিবারিক শেয়ারহোল্ডিং-এর পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে মোট সম্পদের হিসাব তৈরি হয়। তাই এক বছরে বড় ওঠানামা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে Real-Time Ranking-এ এই বদল আরও বেশি চোখে পড়ে।

শেষ কথা

সোজা কথায়, “প্রথম দুয়ে আদানি-আম্বানি”—এই শিরোনাম নিছক চমক নয়; এর পেছনে আছে বাজারের বাস্তব ওঠানামা। কিন্তু দেশের সবচেয়ে ধনী ১০ ব্যক্তির পুরো তালিকা দেখলে বোঝা যায়, ভারতের অর্থনীতির শক্তি আজ একাধিক খাতে ছড়িয়ে আছে। কেউ তেল-টেলিকম-রিটেলে, কেউ পরিকাঠামোয়, কেউ প্রযুক্তিতে, কেউ আবার ফার্মা বা ফিনান্সে নিজের সাম্রাজ্য গড়েছেন। তাই এই তালিকা পড়ার আসল মজা শুধু “কে কত নম্বরে” তা জানায় নয়—বরং ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির মানচিত্রটা একটু ভাল করে বুঝে নেওয়ায়।